নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Md Faha

Md Faha › বিস্তারিত পোস্টঃ

কেমন আমাদের স্রষ্টা? তার বৈশিষ্ট্য কি? দেখুন তো বুঝতে পারেন কি না?

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪৮

স্রষ্টা কেমন? অচিন্তনীয় অতুলনীয় ক্ষমতার অধিকারি এই স্বত্বার বৈশিষ্ট্য কি? মানব মস্তিষ্কের মত একটি জটিল সৃষ্টি যার কাছে কিছুই না, বরং প্রশ্ন করেন "আদমকে সৃষ্টি করা কঠিন না কি এই বিশ্বজগত কে?" যিনি সব কিছু জানেন দেখেন শুনেন, যিনি তার সৃষ্টির প্রতি 'বিন্দুমাত্র' যুলুম/অবিচার করেন না।
আমার অতি প্রিয় এক ব্যাক্তিত্ব হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ) তার 'ফিকহুল আকবর' গ্রন্থে আল কোরাআন ও সুন্নাহ বিশ্লেষন করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এর বিশেষন তথা তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কিছু কথা লিখেছেন। এর অনেক কিছুই আমি এখনো বুঝার চেষ্টায় আছি। দেখুন ত আপনি এর সবটুকু বুঝতে পারেন কি না?

আল ফিকহুল আকবর:

তার সৃষ্টির মধ্যে কোন কিছু তার সাথে তুলনীয় নয়। তিনি তার কোন সৃষ্টির মত নন। তিনি অনাদি থেকে অনন্তকাল বিদ্যমান।
 তার নামসমূহ এবং তার স্বত্বিয় ও কর্মক বিশেষণ সমুহ।
তার স্বত্বজাত বিশেষণ সমুহ: হায়াত, কুদরত, ইলম, কালাম, সাম, বাসার ও ইরাদা- (জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান, কথা, শ্রবন ও ইচ্ছা।)
আর তার কর্মী বিশেষণ সমুহের মধ্যে রয়েছে: সৃষ্টি করা, রিযিক প্রদান করা,নবসৃষ্টি করা, উদ্ভাবন করা, তৈরি করা এবং অন্যান্য কর্মমূলক বিশেষণ। তিনি তার গুনাবলি ও নাম সমুহ সহ অনাদি রুপে বিদ্যমান।তার নাম বা বিশেষনের মধ্যে কোন নতুনত্ব বা পরিবর্তন ঘটে নি। তিনি অনাদিকাল থেকেই তার জ্ঞানে জ্ঞানী এবং জ্ঞান অনাদিকাল থেকেই তার বিশেষন। তিনি অনাদিকাল থেকেই ক্ষমতাবান এবং ক্ষমতা অনাদিকাল থেকেই তার বিশেষন। তিনি অনাদিকাল থেকেই তার কথায় কথা বলেন এবং কথা অনাদিকাল থেকেই তার বিশেষন। তিনি অনাদিকাল থেকেই সৃষ্টিকর্তা এবং সৃষ্টি করা অনাদিকাল থেকেই তার বিশেষন। তিনি অনাদিকাল থেকেই তার কর্মে কর্মী এবং কর্ম অনাদিকাল থেকেই তার বিশেষন।
আল্লাহ তার কর্ম দিয়ে যা সৃষ্টি করেন তা সৃষ্ট; কিন্তু আল্লাহর কর্ম সৃষ্ট নয়। তার বিশেষননাবলি অনাদি, কোন বিশেষনই নতুন বা সৃষ্ট নয়। যে ব্যাক্তি বলে যে, আল্লাহর কোন সিফাত বা বিশেষন সৃষ্ট অথবা নতুন, অথবা এ বিষয়ে সে কিছু বলতে অস্বীকার করে, অথবা এ বিষয়ে সে সন্দেহ পোষন করে, তবে সে আল্লাহর প্রতি ইমান বিহিন (অবিশ্বাসী)কাফির (সত্য অস্বিকারকারি)।

কোরআন আল্লাহ তায়ালার কালাম, মুসহাফ গুলোর মধ্যে লিপিবদ্ধ, হৃদয় গুলোর মধ্যে সংরক্ষিত, জিহ্বা সমুহ দ্বারা পঠিত এবং মুহাম্মদ (সা) এর উপর অবতির্ণ। কোরআন পাঠে আমাদের জিহ্বার উচ্চারণ সৃষ্ট, কোরআন এর জন্য আমাদের লিখনি সৃষ্ট, আমাদের পাঠ সৃষ্ট কিন্তু কোরআন সৃষ্ট নয়। মহান আল্লাহ কোরআন এর মধ্যে মুসা আ: ও অন্নান্য নবী আ: থেকে এবং ফিরাউন ও ইবলিশ থেকে যা উদ্ধৃতি করেছেন তা সবই আল্লাহর কালাম(কথা), তাদের বিষয়ে সংবাদ হিসেবে। আল্লাহর কথা সৃষ্ট নয়, মুসা আ: ও অন্য সকল মাখলুকের কথা সৃষ্ট। কোরআন আল্লাহর কথা কাজেই তা অনাদি, মাখলুক গনের কথা সেরুপ নয়। মুসা আ: আল্লাহর কথা শুনেছিলেন, যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেছেন " মুসার সাথে আল্লাহ প্রকৃত বাক্যালাপ করেছিলেন।" মুসা আ: এর সাথে কথা বলার আগে ও - অনাদিকাল থেকে- মহান আল্লাহ তার কালাম বা কথার বিশেষন এ বিশেষিত ছিলেন, যেমন সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার পুর্বেই -অনাদিকাল থেকেই তিনি সৃষ্টিকর্তার বিশেষন এ বিশেষিত ছিলেন। "কোন কিছুই তার সাথে তুলনীয় নয়, তিনি সর্বশ্রোতা সর্বদ্রষ্টা।" যখন তিনি মুসার আ: সাথে কথা বলেন তখন তিনি তার সেই অনাদি বিশেষন কথার বিশেষন দ্বারা কথা বলেন।
তার সকল বিশেষনই সৃষ্ট মাখলুকের বা প্রাণীদের বিশেষন এর ব্যতিক্রম। তিনি জানেন, তবে তার জানা আমাদের জানার মত নয়। তিনি ক্ষমতা রাখেন, তবে তার ক্ষমতা আমাদের ক্ষমতার মত নয়। তিনি দেখেন, তবে তার দেখা আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি কথা বলেন, তবে তার কথা বলা আমাদের কথা বলার মতো নয়।তিনি শ্রবন করেন, তবে তা আমাদের শ্রবন এর মত নয়। আমরা বাগযন্ত্র ও অক্ষরের মাধ্যমে কথা বলি, আর মহান আল্লাহ বাগযন্ত্র ও অক্ষর ছাড়াই কথা বলেন।অক্ষরগুলি সৃষ্ট, আর আল্লাহর কালাম বা কথা সৃষ্ট নয়।

তিনি শাইউন: 'বস্তু' বা 'বিদ্যমান অস্তিত্ব', তবে অন্য কোন বস্তু বা বিদ্যমান বিষয়ের মত তিনি নন। তার 'শাইউন'- 'বস্তু' হওয়ার অর্থ তিনি বিদ্যমান অস্তিত্ব, কোন দেহ, কোন জাওহর(মৌল উপাদান)এবং কোন আরায (অমৌল উপাদান)ব্যাতিতই।তার কোন সীমা নেই, সমকক্ষ নেই, বিপরীত নেই, তুলনা নেই। " অতএব তোমারা কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানাবে না।" তার হস্ত আছে, মুখমণ্ডল আছে, স্বত্বা আছে কারন আল্লাহ কোরআন এ এগুলো উল্লেখ করেছেন।কোরআন এ আল্লাহ যা কিছু উল্লেখ করেছেন যেমন হাত,মুখমণ্ডল, নফস ইত্যাদি সবই তার বিশেষন, কোন স্বরুপ বা প্রকৃতি নির্ণয় ব্যাতিরেকে। একথা বলা যাবেনা যে, তার হাত অর্থ তার ক্ষমতা অথবা নিয়ামত। কারন এরুপ ব্যাখ্যা করার অর্থ আল্লাহর বিশেষন বাতিল করা। এরুপ ব্যাখ্যা করা কাদারিয়া ও মুতাযিলা সম্প্রদায় এর রীতি।বরং তার হাত তার বিশেষন, কোন স্বরুপ নির্ণয় ব্যাতিরেকে। তার ক্রোধ এবং তার সন্তুষ্টি তার দুটি বিশেষন, তার অন্যান্য বিশেষন এর মতই, কোন কাইফ বা কিভাবে প্রশ্ন করা ছাড়াই।
মহান আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন, অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্ব প্রদান করেছেন,সকল কিছু সৃষ্টির আগেই অনাদিকাল থেকে তিনি এগুলোর বিষয়ে অবগত ছিলেন, সকল কিছুই তিনি নির্ধারণ করেছেন এবং বিধান দিয়েছেন। দুনিয়ায় ও আখিরাতে কোন কিছুই তার ইচ্ছা, জ্ঞান, বিধান, নির্ধারণ ও লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করন ছাড়া। তার লিখনি বর্ণনামূলক, নির্দেশমূলক নয়। বিধান প্রদান, নির্ধারণ ও ইচ্ছা তার অনাদি বিশেষন, কোন স্বরুপ, কিরূপ বা কিভাবে অনুসন্ধান ছাড়া। সিদ্ধান্ত, নির্ধারণ ও ইচ্ছা তার অনাদি-অনন্ত বিশেষন, কোন স্বরুপ জিজ্ঞাসা ছাড়া।

মহান আল্লাহ অস্তিত্বহীন বিষয়কে অস্তিত্বহীন অবস্থায় অস্তিত্বহীন হিসেবে জানেন, এবং তিনি জানেন যে তিনি তাকে অস্তিত্ব দিলে তা কিরূপ হবে। আল্লাহ অস্তিত্বশীল বিষয়কে তার অস্তিত্বশীল অবস্তায় জানেন এবং তিনি জানেন যে তা কিভাবে বিলোপ লাভ করবে।আল্লাহ দন্ডায়মানকে দন্ডায়মান অবস্থায় দন্ডায়মান রুপে জানেন।এবং যখন সে উপবিষ্ট হয় তখন তিনি তাকে উপবিষ্ট অবস্থায় উপবিষ্ট জানেন।এরূপ জানায় তার জ্ঞানের মধ্যে কোনরূপ পরিবর্তিন হয় না বা তার জ্ঞানভাণ্ডারে কোন নতুনত্ব সংযোজিত হয় না। পরিবর্তিন ও নতুনত্ব সবই সৃষ্টিজীব এর অবস্থার মধ্যে।
মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগৎ সৃষ্টি করেছেন ইমান ও কুফর থেকে বিমুক্ত অবস্থায়। অতঃপর তিনি তাদেরকে সম্বোধন করেছেন এবং আদেশ ও নিষেধ প্রধান করেছেন। যে ব্যাক্তি কুফরি করেছে সে নিজের কর্ম দ্বারা অস্বীকার করে, সত্যকে অমান্য করে এবং আল্লাহর সাহায্য, রহমত ও তাওফিক থেকে বঞ্চিত হয়ে কুফরি করেছে।আর যে ব্যাক্তি ইমান এনেছে সে তার কর্ম দ্বারা, স্বীকৃতি দ্বারা, সত্য বলে ঘোষনা করে এবং আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্য লাভের মাধ্যমে ইমান এনেছে।
তিনি আদমের পিঠ থেকে তার বংশধরদেরকে পরমানুর আকৃতিতে বের করে তাদের বোধশক্তি প্রদান করেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করেন " আমি কি তোমাদের রব (স্রষ্টা, রিযিকদাতা, প্রতিপালক, রক্ষনাবেক্ষনকারি ইত্যাদি  )নই? তারা বলে: হ্যা।" তিনি তাদেরকে ইমানের নির্দেশ দেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করেন। তারা তাঁর রবূবিয়্যাত এর স্বীকৃতি দিয়েছে। এ ছিলো তাদের পক্ষ থেকে ঈমান।আদম সন্তানগন এই ফিতরাতের উপরেই জন্মলাভ করে। এরপর যে কুফরি করে সে নিজেকে পরিবর্তন ও বিকৃত করে। আর যে ইমান আনে ও সত্যতার ঘোষনা দেয় সে তার সহজাত ঈমানের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।
তিনি তার সৃষ্টির কাউকে কুফরি করতে বাধ্য করেন নি এবং ঈমান আনতেও বাধ্য করেন নি। তিনি কাউকে মুমিনরূপে বা কাফিররূপে সৃষ্টি করেন নি। তিনি তাদের কে ব্যাক্তিরূপে সৃষ্টি করেছেন। ঈমান ও কুফর বান্দাদের কর্ম। কাফিরকে আল্লাহ  তার কুফরি অবস্থায় কাফির হিসেবে জানেন। এরপর সে যখন ঈমান আনয়ন করে তখন আল্লাহ তাকে তার ঈমানে অবস্থায় মুমিন হিসেবে জানেন এবং ভালোবাসেন। আর এতে আল্লাহর জ্ঞান ও বিশেষন এ কোন পরিবর্তন হয় না।
বান্দার কর্ম ও নিষ্কর্মতা - অবস্থান ও সঞ্চালন সবই প্রকৃত অর্থেই তাদের উপার্জন, আল্লাহ তায়ালা সে সবের স্রষ্টা। এ সবই তার জ্ঞানে, ইচ্ছায়, ফয়সালা ও নির্ধারণ অনুসারে। সকল পাপকর্ম আল্লাহর জ্ঞান, ফয়সালা, নির্ধারণ ও ইচ্ছার মধ্যে সংঘটিত, তবে তা আল্লাহর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে সংঘটিত নয়। 

লেখক:
ইমাম আবু হানিফা(রহ)।

বঙ্গানুবাদক:
ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.