নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আসল নাম নাহিদ হোসেন, একাউন্ট খুলতে গিয়ে কিভাবে যে নাম টা এরকম বিদঘুটে একটা বানান ধারন করলো তা মনে নাই। তবে এখন আর নতুন করে একাউন্ট খুলতে ইচ্ছে করছে না।

নাহিদ০৯

ভালোবাসি বাংলা

নাহিদ০৯ › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাসুমা মায়মুর এর কমলাকান্ত

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৯

জ্যাম আর ছুটিতে চাহে না। ওদিকে নিয়মিত ভেজাল খাইয়া বৎসর তিনেক ধরিয়া বহুমূত্র রোগে ভুগিতেছি। এই জ্যাম না ছুটিলে আমার পরিধেয় ধুতির ভবিষ্যত অন্ধকার। বিপদে পড়িয়া ইতিউতি তাকাইতেছিলাম। হঠাৎ রাস্তার ডানপার্শ্বের একটা সাইনবোর্ড আমার মনোযোগ আকর্ষণ করিল।



বর্তমানে দেশের বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ নিত্য নতুন এতো আইডিয়া বাহির করিতে পারে তাহা বাংলাদেশে না আসিলে আসলে জানিতে পারিতাম না।

প্রস্রাব পাঁচটাকা। পায়... দশটাকা।
বাহ! উভয় পক্ষের লাভ।

নিরীহ পথচারিরা তাহাদের বর্জ্য ত্যাগ করিয়া কার্যভেদে পাঁচটাকা দশটাকা আয় করিতে পারিল। আবার এই ব্যবসায়ের মালিক ছোট ছোট লটে 'মাল' কিনিয়া সরকারের নিটক পাইকারি বিক্রয় করিয়া অনেক টাকা মুনাফা করিল। সরকার ইহা দ্বারা দেশ হইতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাইতে পারিল।

আমিও দেশে ফিরয়া এরুপ একটি ব্যবসায়ে মন দিবো বলিয়া ভাবিলাম। শুধু ত্যাগ করিয়ে আর কী উপার্জন হইবে! তাহার উপর ডায়াবেটিস হইবার পরে খাওয়া দাওয়াও কমিয়া গিয়াছে।

একটি জমি ক্রয় করিয়া তাহাতে পাবলিক টয়লেট স্থাপন করিয়ে বেশ হইবে!



ইহা তরতিরকারির দোকান নহে যে মানুষের নিত্য আসিলেও চলিবে। বাপু, আসিতেই হইবেক!
আমি যেরুপ যাইতেছি।

কিন্তু আমি তো দুটি কাজেরই প্রয়োজন বোধ করিতেছি। টাকার লোভে কি না জানি না! কিন্তু এক কামরায় প্রবেশ করিয়া দুইটি কার্য করিলে 'বিনিয়োগের' তুলনায় আমার 'মুনাফা' কম হইতে পারে এই আশঙ্কায় প্রথমে ছোট কাজে মন দিলাম। ছোট কাজ শেষ করিয়া বড় কাজের জন্য নির্ধারিত কামরায় প্রবেশ কালে এই স্থলের আড়তদার কেমন করিয়া যেন আমার দিকে চাহিল।

বাপু, হে... আমার জালাকিটি ধরিতে পারিতেছো না বুঝি!
আমি আমার কার্য সম্পাদন করিয়ে তাহার কাউন্টারে দাঁড়াইলাম।
পনেরো টাকা পাইবো। একদিনে এরুপ তিন চারিবার ব্যবসা করিতে পারিলে ইয়াবার মূল্য লাইয়া আমাকে আর ভাবিতে হইবে না।

'হাগছুইন দশ ট্যাহা... মুতছুইন পাঁচ ট্যাহা.... মোটা হনরো ট্যাহা দিবেন।'

রাম রাম! বলে কী ছোঁকরা। প্রসন্ন গোয়ালিনীর ন্যায় আমার নিকট মূল্য চাহিতেছে!

ব্যবসায়ি আমাকে আশ্বস্ত করিল। এই স্থলে এরুপই নিয়ম।

পকেট হইতে তাহাকে পনের টাকা গণিয়া দিবার সময়ে নিজেকে কেন জানি কন্যাদায়গ্রস্থ পিতা মনে হইতেছিল।
আমারই জিনিস। আমি তাহাকে সম্প্রদান করিলাম। আমারই নিকট চড়া মূল্য চাহিতেছে!

পাষন্ড!


-------------

লিখাটি উন্মাদের ২০১৯ জানুয়ারী সংখ্যায় প্রকাশিক কমলাকান্ত যদি বাঁচিয়া থাকিতেন শিরোনামের একটা স্যাটায়ার গল্প এর অংশ মাত্র। লিখার এই অংশ পড়ে জোরে শব্দ করে মিনিট দশেক হেঁসেছি। কলিকালে এরকম লিখা চোখে পড়ে না তাই বিশাল এক ধন্যবাদনামা মনে মনে ঠিক করে লেখকিা মাসুমা মায়মুর এর প্রোফাইল গুগল করতে লাগলাম। কিন্তু লেখিকার কোন ডিজিটাল প্রোফাইল খুঁজে পেলাম না। এই লিখা কোথাও আগে বা পরে প্রকাশিত হয়নি তাই সার্চ রেজাল্ট এ কোন স্বস্তির ফলাফল পেলাম না।

মনস্থির করলাম পুরোটাই যদি টাইপ করে ফেলি ব্লগারদের জন্য। তারপরে মনে হলো এটা ঘোর অন্যায় হবে। বরং কিছু অংশ শেয়ার করা যায়। যার যার ভালো লাগবে উন্মাদ এর ৩৪১ তম সংখ্যা কিনে পড়ে ফেলতে পারেন। ৩০ টাকা গচ্চা যাবে না আশা করি।

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৫

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: :D

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

নাহিদ০৯ বলেছেন: :)

২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯

ম্যাড ফর সামু বলেছেন: সত্যিই সুন্দর! আগে উন্মাদ/যায় যায় দিন এর নিয়মিত পাঠক ছিলাম। আর বিশেষ বিশেষ সংখ্যাগুলোতে কখনও কখনও লেখক হয়ে উঠতাম। কিন্তু এখন রুটি-রুজির তাগিদে সেখান থেকে একদমই ১০০ হাত দূরে চলে আসতে হয়েছে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

নাহিদ০৯ বলেছেন: জেনে ভালো লাগলো। রুটি-রুজির তাগিদ কি এতটাই কঠিন? মনে করতেই ভয় লাগে, তার উপরে ব্যস্ততা দেখলে আরো আতঙ্কিত হয়ে যাই। এখনো সাহস করে তাই কোথাও লাগতে পারিনি।

৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৯

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন:
হাসলুম অনেকক্ষণ ;) =p~

পরে কথা হচ্ছে...


১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩৮

নাহিদ০৯ বলেছেন: এই গল্পের আগে পিছে আরো অনেক বড় অংশ আছে। আমি কেটে কুটে শুধু অংশ বিশেষ শেয়ার করেছি। পড়ে ফেলতে পারেন পুরোটা।

৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



আমি ভাবছি, আমার হাসি এলো না কেন?

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৭

নাহিদ০৯ বলেছেন: দ্বিতীয়বার পড়েন। আপনি মনে হয় কমলাকান্তের ব্যবসা টা ঠিক মতো ধরতে পারেননি।

তাছাড়া পুরো লিখা টা আলাদা একটা আবহে লিখা। কমলাকান্তের জবানবন্দি পড়ে থাকলে এই যুগে কমলাকান্ত কে দেখে বেশ মজা পাওয়ার কথা। আমি তো বেশ মজা পেয়েছি। আপনাকে এমবি ফেরত দিতে হবে কি না বুঝছি না। :|

৫| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: মজার।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:২৩

নাহিদ০৯ বলেছেন: পুরো গল্প টা আরো মজার। পড়ে দেখতে পারেন। এই নতুন যুগের ঢাকায় কমলাকান্তকে দেখতে পাবেন।

৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:১৮

সনেট কবি বলেছেন: না হেসে পারলাম না।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৪২

নাহিদ০৯ বলেছেন: লিখা টা পুরো অংশ পড়লে আরো বেশি ভালো লাগবে। কমলাকান্ত কে এই ডিজিটাল যুগে দেখে একটুও মেকি মনে হয়নি। সেই পাঞ্চ লাইন, সেই সারকাজম।

৭| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৮

সৈয়দ তাজুল ইসলাম বলেছেন: দ্রুত একটা মেইল করুন তো প্রিয় ;)
syedtajulislam@yahoo.com


একজন লেখক আপনাকে খোঁজছেন।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

নাহিদ০৯ বলেছেন: দ্রুত করতে পারিনি। এখুনি করলাম। চেক করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.