| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধীরে ধীরে চারপাশ ভ্যাটে ভ্যাটে ভ্যাটময় হয়ে যাচ্ছে। কোথাও যাবেন, প্রিয়জনকে নিয়ে বসে কিছু খাবেন। মাঝারি মাপের কোনো রেস্তোরায় বসে আস্তে ধীরে পারস্পরিক সংলাপে খাদ্য উদরে পাচারের মাঝে বিল নিয়ে ওয়েটারের আগমনে সব শান্তির অকস্মাৎ বিদায় হবে। কারণ, বিশাল ভ্যাট সমাচার। সরকার নির্ধারিত ভ্যাট বিভিন্ন সামগ্রীর উপর নির্ভর করে বিভিন্ন। ভ্যাট এমন এক অভিশাপ যার বোঝা বইতে হয় সম্পূর্ণ ভোক্তাকে। সরকার নির্ধারিত ভ্যাট বস্তুভেদে বিভিন্ন। ঠিক তেমনি জায়গা এবং ব্রান্ডভেদে ভ্যাটের উঠানামা সুনিশ্চিত।
ভ্যাট নিয়ে মজার ঘটনার শেষ আছে বলে মনে হয়না। তবে সবচেয়ে মুখরোচক ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী। শিক্ষাক্ষেত্রে ভ্যাট বৃদ্ধির এক যুগান্তকারী (ইকনোমিক্সে নোবেল পাওয়ার দাবীদার প্রস্তাব) মতামত দিয়ে তিনি দেশের আপামর স্নাতক ছাত্রসমাজের সাথে নানান বৈবাহিক সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছিলেন। লাগাতার সংগ্রামে অবশ্য পিছু হঠতে সময় লাগেনি মালবাবুর।
হোটেল, রেস্তোরা আর ক্যাফের ভ্যাট আদায় একই সাথে হতাশা, দুঃখ আর হাস্যরসের উদ্রেককারী ঘটনা। মাঝে এনবিআরের মূসক গোয়েন্দারা হোটেল মালিকদের এরূপ অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে এবং ছদ্মবেশে নানা অভিযান জোরদার করায় হোটেল মালিকরা দাবার ছকে এক ভিন্ন চাল নিয়ে হাজির হয়। তারা ইনিয়ে বিনিয়ে বিভিন্নভাবে এই ভ্যাট আদায় করে। চলুন গল্প শুনি। বুমারস ক্যাফেতে একবার আড্ডা দিচ্ছি। বিল দেয়ার পর দেখি পানির বিল ২০ টাকা। বোতলজাত পানি। গায়ের দাম ১৫ টাকা। এনবিআরের নিয়ম অনুসারে বোতলজাত পানি ও পানীয়ের দাম বোতলের গায়ের মূল্য অপেক্ষা বেশি রাখলে ভোক্তা প্রমাণসহ অভিযোগ করলে ঐ মালিকের জরিমানা হবে। জরিমানার এক অংশ অভিযোগকারী পাবে। বেশ বড় অংকের পুরষ্কার। আশায় বুক বেঁধে বিলের দিকে ভালোমত লক্ষ্য করার পর দেখি “Water with paper glass”। জেগে উঠা আশা ধপ করে নিভে যায়।

থাকি তো খুলনায়। এখানেও চলে শুভঙ্করের খেলা। নামী দামী ডিপার্ট্মেন্টাল স্টোর গুলো ১৫% এর উপর আবার আরো ভ্যাট ধার্য করে। কারণ কর্মচারীদের বেতন তারা খুব সম্ভবত আমাদের থেকে নিতে চায়। উদাহরণ, “Safe n Save”। আমার এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এখান থেকে ২০ টাকার জিনিস না দেখে কিনে বাসায় এসে দেখেন ২০ টাকার জিনিসের মূল্য ভ্যাটসহ ২০০ টাকা!! দেশব্যাপী আরো নানা নামীদামি ব্রান্ডের কথা বলে বিরক্তি বাড়াব না।
যে কারণে এই লম্বা গল্প ফেঁদে বসা, গত পড়শু খুলনা শহরে যাচ্ছি ফুলবাড়ীগেট থেকে। বয়রা কলেজ মোড়ে যাবার পরে এক বিশাল বিলবোর্ড চোখে পড়ল। বরাবরই সরকারী বিলবোর্ডে আমার আগ্রহ বেশি। স্তুতির বিচিত্র ভাষ্যে বিনোদন লাভের চেষ্টা চালাই। কিন্তু এখানে এক ভিন্ন চিত্র। দৃশ্যপটে ভ্যাটের আগমন।
“পদ্মাসেতু গড়তে ভাই,
ভ্যাট ছাড়া উপায় নাই”
বেঁচে থাকুক ভ্যাট এবং পদ্মা সেতু!
©somewhere in net ltd.