নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নেগেটিভিটিতে বিশ্বাস করি না; তাই এমন নাম বেছে নিলাম, যা বাস্তব নয়!
ছোট বেলা থেকে দেখেছি আব্বা আমার দাদী ও চাচা-ফুফুদের সমস্যা নিয়ে চিন্তুত থাকতো। তাদের নানান ভাবে সাহায্য করেছেন। যদিও কখনও কখনও তাদের সাহায্য করতে গিয়ে আমাদেরই সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
আমি ঢাকায় মুভ করবার পর লেখাপড়ার শেষের দিকে এসে ছোট একটা ব্যবসা খুলি। একদিন হঠাৎই চাচাতো ভাইয়ের কল পেলাম, সে অনুরোধ করলো আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরী দিতে। সে ডেলিভারী ম্যানের কাজই করতে আগ্রহী!
আমি তাকে অনুরোধ করলাম ঢাকায় না এসে গ্রামেই কোন একটা কাজ শিখতে। বিশেষ করে বিদ্যুতের কাজ শিখতে। আমাদের গ্রামে তখন কেবল ইলেক্ট্রিকের খাম্বা পোতা হচ্ছে, বিদ্যুৎ তখনও আসেনি। বললাম আসতে আসতে বছর খানেক লাগবে। এর আগে তুমি কাজ শিখে ফেলো। আমি তোমাকে ঢাকায় যে বেতন দিতাম, সেই বেতনই আগামী এক বছর দিবো। তুমি কাজ শিখো।
সে কোন ভাবেই তা করলো না। বরং তার এক বন্ধু এই আইডিয়াটা নিয়ে নিলো। প্রথমে তাকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। গ্রামের সবাই বলেছে বিদ্যুৎ নাই, তুমি বিদ্যুতের কাজ শিখা কি করবা? সে শিখে গেছে নিশ্চুপে।
৮/৯ মাস যেতে না যেতই গ্রামে বিদ্যুৎ এসে পড়েছে। গ্রামের মধ্যে হাতে গোনা ১/২ জন কাজ জানে। তাদের সে কি দৌড়াদড়ি। দৌড়াচ্ছে, আর কাজ করছে। আমার চাচাতো ভাই তখনও বসে আছে!
হঠাৎ ঐ ছেলে (চাচাতো ভাইয়ের বন্ধু) ফোন দিলো। সে বললো প্রথম প্রথম তো কাজ থাকবে। ভবিষ্যতে কি করবো? আমি তাকে বললাম তুমি আর তোমার বন্ধু (চাচাতো ভাই) মিলে সোলার প্যানেল আর আইপিএস এর কাজ শিখো। আমার চাচাতো ভাই এবারও বেঁকে বসলো। কিন্তু ঐ ছেলে চালিয়ে গেলো।
ঐ ছেলে তখন গ্রামের হিরো। সবাই তারে তেল দিয়ে কথা বলে; কারণ সে খুব দক্ষ মিস্ত্রী। কখন তাকে কাজে লাগে। উল্টা পাল্টা কথা বলে ক্ষ্যাপায় রাখলে সে যদি কাজে না আসে। আর তখনও আমার চাচাতো ভাই বেকার!
কয়েক বছর পর আমি বিদেশে চলে আসলাম। চাচাতো ভাই আবার ফোন দিলো। সে বিদেশে আসতে চায়। আমার নিজেরই তখন ত্রাহী ত্রাহী অবস্থা। আমি মানা করলাম। এটা নিয়ে বিশাল বিশাল সমস্যা।
যাই হোক। কয়েক বছরের মাথায় সে দুবাই যাওয়ার সুযোগ পেলো; তার মামারা কিছু টাকা দিয়েছে। আমাদেরও দিতে হয় হিসাবে কিছু টাকা ম্যানেজ করে দিলাম। সে আসলো দুবাই। তার বন্ধু তখনও গ্রামে ইলেক্ট্রিকের কাজ করে, তার আন্ডারে আরও দুইটা ছেলে কাজ করে।
চাচাতো ভাই দুবাই এসে কয়েক মাস থাকার পর প্রতিদিন আমাকে একবার, বাড়িতে একবার ফোন দেয়। বলে গরমে থাকতে পারি না। এত কাজ করতে পারি না। আমাকে বললো সৌদীতে নিয়ে আসতে। দুবাই আর সৌদীর যে কোন পার্থক্য নাই সেটা বুঝাতে ব্যর্থ হলাম।
সে দেশে ফিরে গেছে। সে আমাদের গালি দেয় এখনও। তার দাবী আমি যদি তাকে ঢাকায় একটা চাকরী দিতাম, কিংবা সৌদী আরবে আনতাম, তাহলে তার অবস্থা খুব ভালো হতো।
চাচাতো ভাইয়ের ঐ বন্ধু গ্রামে দোতালা বাড়ি করছে। কিছু জায়গা-জমিও কিনেছে। তার সাথে আজকে কথা হলো। সে আগামীতে কি করতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছিলো।
আফসোস, চাচাতো ভাইয়ের কোন উপকারে আসলাম না!
২১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:২৩
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: শিক্ষা-দীক্ষা খুবই কম। তার চাইতে বেশি সমস্যা হচ্ছে অন্যের উপর দোষ চাপানোর মানসিকতা।
২| ২১ শে জুলাই, ২০২২ ভোর ৫:১৯
ইফতেখার ভূইয়া বলেছেন: পৃথিবীতে চিরকালই এই ধরনের কিছু লোক থাকবে, জীবনে ব্যর্থতার জন্য বরাবরই অন্যদের দোষারোপ করবে। চলুক।
২১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:২৫
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: হুমম। কিছু করার নেই। রক্তের সম্পর্কতো, কষ্ট লাগে।
৩| ২১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:০২
কামাল৮০ বলেছেন: অজুহাতই তাদের সম্বল।এরা আয়োডিন যুক্ত লবন কম খেয়েছে।চিন্তা বিকশিত হয় নাই।দুরদর্শী না।
২১ শে জুলাই, ২০২২ সকাল ৭:২৫
ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: হয়ত!
©somewhere in net ltd.
১| ২১ শে জুলাই, ২০২২ রাত ৩:২৮
সোনাগাজী বলেছেন:
চাচাতো ভাইয়ের শিক্ষাদীক্ষা ছিলো না? সহজ ও ভালো উপদেশগুলো কেন বুঝতে পারলো না?