নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিউ মার্কেট

নিউ মার্কেট › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমি কী?

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:০১

মরার পর মানুষের কী হয়? কোথায় যায়? লক্ষ বছরের হট টপিক।

১। নাস্তিকি উত্তর – প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যায়।
২। শাহবাগের তরুণ প্রজন্ম বলবে উনি যেখানেই থাকুন ভাল থাকুন।
৩। জাফর ইকবাল বলবেন উনি এখন উপর থেকে আমাদের দেখছেন আর হাসছেন।
৪। আস্তিকরা বলবে তিনি এখন নরক/স্বর্গে নিজেরে নিয়া ব্যস্ত আছেন। কারও দিকে তাকানোর টাইম নাই।

আমি কী বলি? আমি কী? বিশ্বাসী নাকি অবিশ্বাসী? উত্তর কী? দ্বিধায় আছি। আমি চিন্তা করি – আমি বিশ্বাসী নাকি অবিশ্বাসী। তাহলে আমি কি সংশয়বাদী? অস্বীকার করব না সন্দেহ আমার মনে আছে। তবে আমি ধান্দাবাজ নই। ধান্দাবাজী কোনটা? ২ ও ৩ নাম্বার পয়েন্টটা ধান্দাবাজী। বিশ্বাস এবং অবিশ্বাসের মাঝামাঝি যত উক্তি, সবই ধান্দাবাজী। জাফর ইকবাল কি ধান্দাবাজ? শাহবাগের তরুণ প্রজন্ম কি ধান্দাবাজ? সেটা আলোচনা আমার লেখার উদ্দেশ্য নয়। তবে কথাগুলো ধান্দাবাজী। “খুদা ভি যাব তুমহে মেরে পাস দিখতা হোগা,,,,,,,,” – এটা কি কোন আস্তিকের কথা? না। নাস্তিকের কথা? না। তবে? ধান্দাবাজি।

ঈশ্বর আমাকে বিবেক দিয়েছেন। বিবেকের স্বাধীনতা দিয়েছেন। চিন্তা করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সেই বিবেক, মস্তিস্ক দিয়ে আমি স্বাধীনভাবে চিন্তা করি। ঈশ্বরের অস্তিত্ব খুঁজি। অনেকের সাথে আলোচনা করি। কিন্তু তাকে পাইনা। সরাসরি অস্বীকারও করতে পারিনা। অধিকাংশের মতই ছোটকাল থেকেই আমিও বিশ্বাসের জগতে বড় হয়েছি। ঈশ্বরের অপার কৃপায় লালিত পালিত হয়েছি। ঈশ্বরের অপার মহীমা দেখে দেখে বড় হয়েছি। এই বিশ্বাস যাওয়া সহজ নয়। কিন্তু সন্দিঘ্ন মন প্রতিনিয়তই তাকে খুঁজে বেড়াই। কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে তো কোনও রকম সন্দেহ রাখা যাবেনা। আস্তিকতার প্রথম শর্তই বিশ্বাস – সাতটি জিনিসে বিশ্বাস – সন্দেহহীন বিশ্বাস। সাতটির প্রথমটিই ঈশ্বর। তবে কি আমি নাস্তিক? ভাবতে ভয় লাগে। ভাই-বেরাদারদের সাথে আলোচনার সময় তারা অবশ্য আমাকে অবিশ্বাসী ঘোষণা করেন। সাথে এও ঘোঘণা করেন আমি যে বিষয়ে লেখাপড়া করি, তার সবাই নাকি একসময় নাস্তিক হয়ে যায়। বাস্তবে তেমনটা দেখি না। আমার বন্ধু-শিক্ষকদের কেউ অবিশ্বাসী নন। অবিশ্বাসী হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়ন করা লাগেনা। প্রকৃতি নিয়ে যখনই কেউ চিন্তা করতে যাবে, মনে সন্দেহ দানা বেঁধে উঠবে। এজন্যই হয়তো পবিত্র ধর্মগ্রন্হসমূহে আমাদের বেশি চিন্তা করতে নিষেধ করা হয়েছে। একজন পরোক্ষভাবে ভাবে আমাকে ইঙ্গিত করে খোঁচা দিয়েছিলেন আমিও তাঁর উপর না রাগ করার অভিনয় করেছিলাম – যারা অবিশ্বাসী তাদের জন্মের কোনও ঠিক নাই, তাদের মা-বাবারও জন্মের কোনও ঠিক নাই। অবিশ্বাসীর মা-বাবার কী দোষ যার কারণে তাঁদের গালি শুনতে হল, তাঁর কাছ থেকে কোনও উত্তর পাইনি।

তবে কেউই আমাকে সন্তুষ্ট করার মত উত্তর দিতে পারেননি। অনলাইনে আমার বিচরণ বেশ আগে থেকে। অনেক লিঙ্কে গিয়েছি। অনেক আলোচনা পড়েছি। অসম্ভব রকমের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছি তা বলছিনা। তবে সব জায়গায় পড়া যুক্তিগুলো চরম অসহ্য লাগে। হাস্যকর সব যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। বই খুব বেশি পড়েছি তা নয়। তবে যে কয়েকটা পড়েছি, সবই একই রকম।

ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়ার চেষ্টা করাই একধরণের অপরাধ, গুনাহের কাজ। একদিন নবীজী তার জাতিকে একত্রিত করলেন। বললেন – আমি যদি বলি এই পাহাড়ের অপর পাশে বিরাট সৈন্যবাহিনী তোমাদের অক্রমণ করার জন্য অপেক্ষা করছে, তোমরা কি বিশ্বাস করবে? চরম এবং পরম আস্থাভাজন নবীজীকে সবাই হ্যাঁ-সূচক উত্তর দিলেন। তখন তিনি সবাইকে তার কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে বলতে বললেন – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্,,,,,,,,। এটাই ছিল প্রকাশ্যে সর্বপ্রথম দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার ঘটনা। সেদিন তিনি কাউকে ঈশ্বরের প্রমাণ দেননি। শুধুমাত্র বিশ্বাসের কথা বলেছিলেন। অবশ্য কারও প্রমাণ চাওয়ারও কোনও অধিকার ছিলনা। প্রমাণ চাওয়ার অর্থই হচ্ছে সন্দিঘ্ন মন, যা বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক, নাস্তিকতারই নামান্তর। পৃথিবীতে আগত যুগে যুগে কালে কালে নবী রাসূল ধর্মপ্রচারকগণ প্রত্যেকেই বিশ্বাসের কথা বলে গেছেন। কেউ প্রমাণ দেননি। তাঁদের নিকট প্রেরিত ধর্মগ্রন্থগুলোতে কোনও প্রমাণ দেওয়া নেই। তবে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণে ঈশ্বরকে কষ্ট করা লাগেনি। কোনও প্রেরিত পুরুষকেও কষ্ট করা লাগেনি। সাধারণ মানুষই এই দায়িত্ব বিপুল বিক্রমে নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণে রচিত হয়েছে “বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান” জাতীয় অসংখ্য বই। তবে এই বই বিশ্বাসী অবিশ্বাসী সবাইকে পড়তে সাজেস্ট করা হয়েছে। কারণ এই বই ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণের সাথে সাথে কোন ধর্মের ঈশ্বর ‘সত্যি’ তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শুধু মাত্র এই্ বইটারই কেন উল্লেখ করলাম? প্রথমত খুব বেশি বই আমার পড়া নাই। দ্বিতীয়ত বইটা নাকি এই লাইনের খুব বিখ্যাত বই। সম্ভবত ছাত্রশিবিরের সাথী কিংবা সদস্য সিলেবাসেরও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যপাঠ্য বই। তাই আমার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ মনে হলো। লেখক ডা, মরিস বুকাইলি। খৃষ্টান থেকে ধর্মান্তরিত মুসলিম এবং সৌদি রাজপরিবারের ডাক্তার ছিলেন। সৌদি পরিবারের সাথে তাঁর কোন গোপন ব্যাপার-স্যাপার ছিল কিনা আমি জানিনা। রূপান্তরক তৎকালীন ইত্তেফাকের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আখতার-উল-আলম। এখন কে জানি না। যেখানে স্বয়ং নবী রাসূলগণ বিশ্বাসের কথা বলে গেছেন, সেখানে তাঁদের উম্মতগণের প্রমাণ করার চেষ্টা একধরণের অপরাধ।

বারবার ধর্মকে বিজ্ঞানের সাথে মিলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের কোন সম্পর্ক নাই। বিজ্ঞান প্রমাণ চায়। বিজ্ঞান কোন কিছুকে ফাইনাল মনে করে না। কিন্তু ধর্ম মানে বিশ্বাস। সৃষ্টিকর্তা ফাইনাল। ধর্মগ্রন্হ পড়ে কোন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হয়নি। কিন্তু যেকোনও বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পর তার ধর্মীয় ব্যাখ্যা সবসময়ই হাজির হয়েছে।


লেটেস্ট আপডেট। লিঙ্ক - Click This Link । কমেন্টগুলো পড়ুন। আমার লেখার সাপেক্ষে অপ্রাসঙ্গিক কমেন্টগুলো হাইড করা হয়েছে। তবে ইয়ে, কারও বিনোদন প্রয়োজন হতে পারে বলে লাস্টের কমেন্টটা হাইড করিনি।

১৬০০ সালের আগেও মানুষ জানত না পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। কোনও ধর্মগ্রন্থ পড়ে এ তথ্য আবিষ্কৃত হয়নি। অথচ মানব স্বীকৃত সর্বশেষ ধর্মগ্রন্হ তারও প্রায় হাজার বছর আগে বিধাতা থেকে প্রেরিত হয়েছে। বরং অধিকাংশ ধর্মগ্রন্হগুলো উল্টা কথা বলেছে। তার কারণে ‘ধর্মবিরোধিতা’র শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। তবে ইসলাম ধর্মের ধারক বাহকরা খানিকটা উদার। তাঁরা কোরআনের আয়াত দিয়ে দেখাতে চেয়েছেন তথ্যটা কোরআনে আগে থেকেই ছিল। ‘বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান’এ এটা দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে আরও অসংখ্য পুস্তকে। সকল ধর্মের ধারকগণই এই চেষ্টা করেন। এটা শুধু কি ধারকগণের চেষ্টা? নাকি কোরআনেও এর সপক্ষে ‘প্রমাণ’ আছে। প্রমাণলেখকবৃন্দ বিভিন্ন আয়াতকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন এবং এর সাথে কোনও সাংঘর্ষিক আয়াত নেই বলে দাবি করেন। সাংঘর্ষিক আয়াত কিন্তু আসলেই আছে। এ বিষয়ে একজন ‘বিজ্ঞানী’র একটা বইয়ের নাম উল্লেখ করতে চাই। বইয়ে লেখক ‘বিজ্ঞানী’ কোরআনের আয়াত দিয়ে বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমাণ করে ফেলেছেন – পৃথিবী নয়, সূর্যই পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরে।



তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন কেউ যদি কোরআন-হাদিস, বেদ-বাইবেল প্রভৃতি থেকে একটি মাত্র বাক্য, ‘পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে’ অথবা দু’টি মাত্র শব্দ – ‘পৃথিবী ঘুরে’ দেখাতে পারেন, তাহলে তিনি ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার দিবেন। তবে বইটা অনেক আগে প্রকাশিত – ১৯৯৭ সালে। অফারের ভ্যালিডিটি এখনও আছে কিনা জানিনা।

“এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে আয়ত্বাধীন করেছেন, প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময়ে পরিক্রমণ করে থাকে।” (সূরা ফাতির ৩৫ - ১৩)
“নিশ্চয় আল্লাহ আকাশসমূহ ও পৃথিবীকে এমনভাবে ধারণ করেছেন যেন ওরা স্ব-স্ব স্থান হতে নড়াচড়া করতে না পারে।” (সূরা ফাতির ৩৫ - ৪১)

সাংঘর্ষিক কথাবার্তা যেহেতু সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত কোরআনেই আছে, সেহেতু মানব রচিত স্রষ্টার আস্তিত্বের সপক্ষের বইগুলোতেও থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আছেও। ‘বাইবেল, কোরআন ও বিজ্ঞান’এ ফিরে যাই। বইটাতে বারবারেই বলা হয়েছে বাইবেল ভুল, কোরআন ঠিক। বাইবেল যখন বলছে স্রষ্টা ছয় দিনে বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম নিয়েছেন, তখন তাতে লখক ভুল খুঁজে পান। কিন্তু কুরআনের সূরা আ’রাফ ৭ – ৫৪ এ যখন ঈশ্বর বলছেন, “ নিশ্চয় তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমান ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর সমাসীন হন”, তখন লেখক তাতে বৈজ্ঞানিক সত্য খুঁজে পান (পুন মুদ্রণঃ মার্চ, ২০১৪ – পৃষ্ঠা ১৮৪)। একই বইয়ের ৫৪ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “বাইবেলের আদি পুস্তকের ৬, ৭ ও ৮ অধ্যায়ে মহাপ্লাবন-সংক্রান্ত বর্ণনা বিদ্যমান। আসলে বাইবেলে মহাপ্লাবনের দু’টি ভিন্ন বর্ণনা রয়েছে; আর এই দুই বর্ণনা পাশাপাশি স্থান না পেয়ে উপরোক্ত অধ্যায়গুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। তাছাড়া মহাপ্লাবন সংক্রান্ত এসব বর্ণনার প্রতিটি অনুচ্ছেদের পরতে পরতে এসেছে নানা কাহিনী। শুধু তাই নয়, উপরোক্ত তিন চ্যাপ্টারেই মহাপ্লাবনের বর্ণনায় রয়েছে মারাত্মক স্ব-বিরোধিতা।” আবার ১৮৩ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, “কোরআনে বিশ্বসৃষ্টি-সংক্রান্ত বর্ণনায় কোনো ধারাবাহিকতাও অনুপস্থিত। বরং গোটা কোরআনের বিভিন্ন অধ্যায়ে বা সূরায় এসব বর্ণনা রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।” ছড়ানো ছিটানো কথায় তিনি বাইবেলের সমালোচনা করেন কিন্ত প্রশংসা করেন কোরআনের।

কোরআনে বলা আছে-
“তারা কি তাদের উপরস্থিত আসমানের দিকে লক্ষ্য করে না, আমি তা কিরূপে নির্মাণ করেছি এবং তাকে সুশোভিত করেছি, আর তাতে কোনও ছিদ্রও নেই?” (সূরা কাফ ৫০ - ৬)
“তিনি আসমান সৃষ্টি করেছেন স্তম্ভ ব্যতিরেকে, তোমরা তা দেখছ।” (সূরা লুকমান ৩১ - ১০)
“তিনিই আল্লাহ, যিনি আকাশসমূহ দৃশ্যমান খুঁটি ছাড়াই উচ্চে রাখিয়াছেন।” (সূরা রা’দ ১৩ - ২)

অনেক ধর্মগ্রন্হে আসমান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে তা খুঁটির সাহায্যে ধরে রাখা হয়েছে, তা না হলে আসমান মাটির উপরে আছড়ে পড়ত। কিন্তু বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে খুঁটির এরূপ কোনও অস্তিত্ব নাই। সুতরাং লেখক উপরোক্ত আয়াতগুলোর মাধ্যমে কোরআনকে বৈজ্ঞানিক ভাবে সত্য বলে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু তাঁর ধারণাও নাই যে খালি চোখে কিংবা টেলিস্কোপ লাগিয়েও আসমান বলে আমরা কিছু দেখি না। আসমান বলে কোনও কিছুর অস্তিত্ব এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান খুঁজে পায় নি। ভবিষ্যতে পেতেও পারে, অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টা অনেকটা জনবহুল রাস্তার মত। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠের একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মাইলের পর মাইল দুরের প্রান্ত দেখা যায়। কিন্তু জনবহুল হাফ কিলোমিটার রাস্তারও অপর পাশে কী আছে আমরা দেখিনা, লোকজনের ফাঁক দিয়ে দেখা সম্ভবও না। লোকজনগুলো কে যদি গ্রহ-নক্ষত্র হিসেবে ধরে নেই তবে মহাশূণ্য এতটাই জনবহুল তথা তারাবহুল যে সেই কোটি কোটি তারার ফাঁক দিয়ে অপরপ্রান্তে কী আছে আমরা জানি না।



চিত্রের লোকটা কি লাল রেখাটা দেখতে পাবে?

বিবর্তনের মাধ্যমে পৃথিবীতে মানুষের পথচলা এবং এর সপক্ষে যৌক্তিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণও আছে। ধর্মীয় ভাবে কথাটা ভুল। আদম হাওয়াই প্রথম জোড়া মানব। মানবসৃষ্টির উদ্দেশ্য কী? কোরআনে আল্লাহ বলেছেন যে কেবল উনার ইবাদাতের জন্যই তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তাঁর গুণাগুণ গাইবে। কিন্তু মানুষের গুণকীর্তন শুনে আসলে তাঁর কী লাভ? প্রাণ ধারণের মত অসংখ্য গ্রহ মাহাবিশ্বে রয়েছে। নিজের গুণকীর্তন শোনা যদি তাঁর উদ্দেশ্য হয় তবে অন্য কোন গ্রহে তিনি কেন মানুষ পাঠালেন না? তবে একই ভাবে বিজ্ঞানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। প্রাণ যদি আপনাতেই সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে প্রাণধারণযোগ্য অসংখ্য গ্রহের কোনটাতেই কেন প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়া যায় না? প্রকৃতপক্ষে সকল গ্রহেই প্রাণধারণ সম্ভব। কোটি কোটি কিলোমিটার দুরের বরফগ্রহ বৃহঃস্পতি কিংবা সূর্যের অতি নিকটবর্তী উত্তপ্তগ্রহ বুধেও প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব। কেন সেই পরিবেশ উপযোগী প্রাণ গড়ে উঠছে না?

ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতেই পারে। তবে আছে কিনা এ নিয়েও পরস্পর সাংঘর্ষিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা চোখে পড়ে। কেউ বলে সম্ভব কেউ বলে অসম্ভব। তবে প্রকৃত কথা হচ্ছে ভীনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব ধর্ম অনুসারেই সম্ভব নয়। কারণ প্রথম সৃষ্ট মানুষই আদম, যাঁকে ‘পৃথিবী’তে পাঠানো হয়েছিল। আবার শেষ নবীকে পাঠানো হয়েছিল সকল জাতির জন্য। তাঁকে সৃষ্টি করার ইচ্ছা না থাকলে ঈশ্বর আসমান জমিন কিছুই সৃষ্টি করতেন না। অন্য সকল আসমানী কিতাবের কার্যকারিতা ছিল একটা লিমিটেড টাইমের জন্য। কিন্তু তাঁর উপর নাযিলকৃত কোরআন সকল যুগের জন্য, সকল মানুষের জন্য কার্যকরী এবং অবশ্য ফলোনীয়(followনীয়)। নবীজীও এই গ্রহেই ইন্তেকাল করেছেন। মেরাজের ঘটনায়ও তিনি ভীনগ্রহের মানুষদের দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার কোনও কথা উল্লেখ করেননি। ভীনগ্রহে যদি কোনও প্রাণ থেকে থাকে তবে তারা শেষ নবীকে পায়নি এবং তাদের জন্যও প্রযোজ্য মহাগ্রন্থ আল কোরআন পায় নি। সুতরাং ভিন গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব সম্ভব নয়।

বিশ্বাস অবিশ্বাসের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে আমি অন্ধবিশ্বাসের হাতে নিজেকে সঁপে দিতে পারিনা। আবার হুমায়ুন আজাদের ‘বিশ্বাস মাত্রই অপবিশ্বাস’ থিওরীরও সর্বক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্যতা দেখিনা। জগতের কোনও মানুষই প্রমাণিত সৎ নয়, তাদেরকে আমাদের বিশ্বাস করতে হয়। সব বিশ্বাসই অপবিশ্বাস নয়। এখনও আমাকে বিগব্যাঙ থিওরী কেমন যেন উদ্ভট লাগে। হয়তো সেটা বোঝার মত জ্ঞান এখনও আমার হয়নি। কিংবা হয়তো সেই থিওরীটাই ভুল। তবে সেটাকে ভুল বলার অপরাধে নিশ্চয় বিজ্ঞান আমার গর্দান নিবে না। কোনও থিওরীই ফাইনাল নয়। বিগব্যাঙ একদিন ভুল প্রমাণিত হতেই পারে। কিংবা একদিন সেটা আমার বোধগম্যও হয়ে উঠতে পারে।

ধর্মের বইগুলো ঈশ্বরের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা নিজেও কখনও মানুষকে দেখা দেননি। উনাকে প্রমাণ করতে চেয়েছে তাঁর সৃষ্ট তুচ্ছ মানুষ। যেখানে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা তার অস্তিত্বের প্রমাণ দেননি কিংবা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন, সেখানে তাঁরই সৃষ্ট তুচ্ছ নগণ্য মানুষ কী করে তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেওয়ার দুঃসাহস করে। তারা কি আদৌ সফল হবে? এ দুঃসাহস তো কাবিরা গুনাহ।

আমি কি নাস্তিক? চিন্তা করি আমার কি মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে ভয় আছে। দেখি এখনও আমি ভয় করি। তাহলে বলা যায় আমি এখনও আস্তিক। মৃত্যুভয় যতদিন থাকবে ততদিন হয়তো আমাকে আস্তিক বলা যাবে।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৮:৪৪

মারুফ তারেক বলেছেন: ভালো লাগল, প্রশ্নবিদ্ধ অনেক প্রশ্ন
আসীম এক রহস্যে।

ভাল থাকবেন।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ৯:১২

নিউ মার্কেট বলেছেন: ধন্যবাদ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.