নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বিশ্বজোড়া পাঠশালাতে সবাই ছাত্র-ছাত্রী, নিত্য নতুন শিখছি মোরা সদাই দিবা-রাত্রী!

নীল আকাশ

এই ব্লগের সমস্ত লেখা সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। আমার অনুমতি ছাড়া এই ব্লগের লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ করা যাবে না।

নীল আকাশ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (পর্ব দুই)

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮



ওফাতকালীন ঘটনার ধারাবাহিকতা বুঝার জন্য পড়ে আসুনঃ
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতকালীন ঘটনাসমূহ (প্রথম পর্ব)

সকল প্রশংসা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম দীনের অনুসারী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উম্মত হওয়ার তৌফিক দান করেছেন। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ ইব‌ন আব্দুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপর, যিনি আমাদেরকে কল্যাণকর সকল পথ বাতলে দিয়েছেন ও সকল প্রকার অনিষ্ট থেকে সতর্ক করেছেন। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবারবর্গ (আহলুল বাইয়াত) এবং উনার সাথীদের উপর, যারা তার আনীত দ্বীন ও আদর্শকে পরবর্তী উম্মতের নিকট যথাযথ ভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত যারা তাদের অনুসরণ করবে তাদের সবার উপর।


মৃত্যুর চারদিন পূর্বেঃ
মৃত্যুর চারদিন পূর্বে শেষ বৃহস্পতিবার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রোগযন্ত্রণা আরও বেড়ে গেল। যন্ত্রণা খুব বৃদ্ধি পেলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলে ওঠেনঃ
هَلُمُّوا أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لاَ تَضِلُّوْا بَعْدَهُ ‘কাগজ-কলম নিয়ে এসো! আমি তোমাদের লিখে দিই। যাতে তোমরা পরে আর পথভ্রষ্ট না হও’। উপস্থিত লোকদের মধ্যে হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) উনার এই খারাপ শারীরিক অবস্থা দেখে বললেনঃ قَدْ غَلَبَهُ الْوَجَعُ وَعِنْدَكُمُ الْقُرْآنُ، حَسْبُنَا كِتَابُ اللهِ ‘তাঁর উপরে এখন রোগ যন্ত্রণা বেড়ে গেছে। তোমাদের নিকটে কুরআন রয়েছে। তোমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট’।

উনার এই কথা শোনার পর উপস্থিত সবার মাঝে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুটা কনফিউশন সৃষ্টি হলো। কেউ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ মোতাবেক কাগজ কলম আনতে চাইলেন আবার কেউ হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) কথার মর্মাথ বুঝতে পেরে বাকিদের’কে কাগজ কলম আনতে নিষেধ করলেন। কিছুক্ষণ এভাবেই সিদ্ধান্তহীনতায় সময় কেটে গেল। একপর্যায়ে এই বিষয় নিয়ে কিছুটা তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। ফলে এক পর্যায়ে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ قُوْمُوْا عَنِّىْ ‘তোমরা এখান থেকে চলে যাও’। এরপর সবাই সেখান থেকে চলে আসলো।

(*) বিশেষ এই ঘটনার ব্যাখ্যাঃ এই ঘটনা’কে কেন্দ্র করে ইসলামের নামে বহু কুৎসা রটনা করা হয়েছে ইচ্ছাকৃতভাবে। শিয়া’রা অযথাই এই বিষয়টাকে বির্তকের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। অনেকেই পুরো বিষয়টা না জেনে, না বুঝে বির্তক সৃষ্টি করেন। পুরো ঘটনা’কে এভাবে বিশ্লেষন করা যায়-
১। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস - অসিয়ত লিখে দেবার জন্য কাগজ কলম আনতে বলা।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যদি অসিয়ত লিখে যেতেন সেটা হতো সমগ্র মুসলিম উম্মাহের জন্য। উনার মৃত্যুর পর কে খলিফা হবেন? কে এই নতুন ইসলামিক রাষ্ট্র চালাবেন? ইত্যাদি।
উনার মৃত্যুর পর কে খলিফা হবেন? এটা তো সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।
(১) সহী হাদিসে হযরত ইবন উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছেঃ “আমরা রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে সাহাবীগনের পারস্পরিক মর্যাদা নির্ণয় করতাম। আমরা সর্বাপেক্ষা মর্যাদা দিতাম আবু বকর সিদ্দীক (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে, তারপর উমর ইবন খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে, অতঃপর হযরত উসমান ইবন আফফান (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে”। (সহী বুখারী হাদিস নাম্বার ৩৬৫৫, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৫৯৭)
(২) আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মৃত্যুকালীন রোগশয্যায় আমাকে বললেন, তোমার পিতা আবুবকর ও তোমার ভাই (আব্দুর রহমান)’কে আমার কাছে ডেকে আনো। আমি তাদেরকে বিশেষ একটি লেখা লিখিয়ে দেব। কেননা আমার ভয় হচ্ছে, কোন উচ্চাভিলাষী (খেলাফতের) উচ্চাকাংখা পোষণ করতে পারে এবং কোন ব্যক্তি দাবী করতে পারে যে, আমিই (খেলাফতের) অধিক হকদার। অথচ সে তার হকদার নয়। না, আল্লাহ ও ঈমানদারগণ আবুবকর ব্যতীত অন্য কাউকে (খলীফা হিসাবে) মেনে নিবে না’। (সহী মুসলিম, মিশকাত হাদিস ৬০১২, হাদিস ৫৭৬৭ ‘আবুবকরের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ)

আরেকটা সহী হাদিস দেয়া আছে, আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর পরিবর্তে উমর (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে দিয়ে ইমামতি করার অনুরোধ করলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেটাও প্রত্যাখ্যান করেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্পষ্টভাবেই বলে গেছেন উনি উনার বন্ধু হিসেবে আল্লাহ’কে বেছে নিয়েছেন। সেটা না নিলে উনি একমাত্র আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা)’কেই নিজের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতেন।

এখন নিজেই চিন্তা করুন, উনার পর কাকে উনি অসিয়ত করে যেতেন!
(এই একই বিষয় আরেকটা জায়গায় আরও বিস্তারিতভাবে পরে আবার আলোচলা করা হবে।)

২। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর নিষেধ - সমসাময়িক পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত গ্রহন।
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর শারীরিক অবস্থা তখন ভালো নয়। প্রচন্ড যন্ত্রণায় উনি ছটফট করছিলেন। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) সেখানকার অবস্থা বুঝেই এই উপস্থিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজেই তো বলে গেছেনঃ “আর জেনে রাখ, আমি তোমাদের মাঝে ছেড়ে যাচ্ছি এমন এক বস্ত্ত, যা মজবুতভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। আর সেটি হলো আল্লাহর কিতাব”। (মুসলিম হাদীস নাম্বারঃ ১২১৮, মিশকাত হাদীস নাম্বারঃ ২৫৫৫)। উনি এই সহী শুদ্ধ হাদিস’কেই আবার সবার সামনে বলেছেন। উনি নতুন কিছুই বলেন নি। এতে ভুল বুঝাবুঝির কিছুই নেই। অযথা বির্তকের কোন মানেই হয় না।

৩। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর হাদিস - সবাই’কে চলে যেতে বলা।
এই ঘটনার সাথে একটা বিষয় সবাইকে বুঝতে হবে যেটা হলো তাকরীরী হাদীস কাকে বলে। সাহাবীগণের যেসব কথা বা কাজ মহানবী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সেই ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়তের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব, যে হাদীসে এই ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাঁকে তাকরীরী বা বাংলায় সমর্থনমূলক হাদীস বলে।
হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) যখন সবাই’কে নিষেধ করলেন কাগজ কলম আনতে সেটা কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সামনেই করেছেন এবং সেটা উনি সমর্থন করেই আর কিছু বলেন নি। অর্থাৎ সাহাবী হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) কথা’কে উনি চুপ থেকে সমর্থনই করেছেন। এটাকেই তাকরীরী হাদীস বলে।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) এর কথা’কে সমর্থন করে চুপ থাকার পরও যখন এই নিয়ে অযথাই কথাবার্তা হচ্ছিল, উনি তখন বিরক্ত হয়ে সেখান থেকে সবাই’কে চলে যেতে বললেন।

সর্বশেষ ইমামতিঃ
এদিন বৃহস্পতিবার মাগরিবের সালাতের ইমামতিই ছিল তাঁর জীবনের সর্বশেষ ইমামতি। অসুখ সত্ত্বেও তিনি এখন পর্যন্ত প্রতি ওয়াক্ত সালাতে ইমামতি করেছেন। মৃত্যুর চারদিন পূর্বে সর্বশেষ এই ইমামতিতে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূরা মুরসালাত পাঠ করেন। যার সর্বশেষ আয়াত ছিল فَبِأَيِّ حَدِيْثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُوْنَ ‘এর পরে কোন বাণীর উপরে তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করবে’? (সূরা মুরসালাত ৭৭/৫০)। অর্থাৎ কুরআনের পরে তোমরা আর কোন কালামের উপরে ঈমান আনবে? এর দ্বারা যেন এদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, আল্লাহ পাকের আহবানের সাথে সাথে উম্মতে মুহাম্মাদীর প্রতি উনার জীবনের সর্বশেষ অসিয়ত হ’ল, সর্বাবস্থায় তোমরা কুরআনের বিধান মেনে চলবে। কোন অবস্থাতেই কুরআন’কে হাতছাড়া করবে না।

ঈশার ছালাতের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনবার ওযূ করেন ও তিনবার অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে ইমামতি করার নির্দেশ পাঠান। এরপর থেকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মৃত্যু পর্যন্ত আবুবকর (রাদিআল্লাহু আনহু) একটানা ১৭ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করেন। লোকেরা খারাপ ধারণা করবে মনে করে আয়েশা (রাদিআল্লাহু আনহা) তিনবার তার পিতার ইমামতির ব্যাপারে আপত্তি তুলে অন্যকে ইমামতির দায়িত্ব প্রদানের অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রতিবারই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উক্ত অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, إِنَّكُنَّ صَوَاحِبُ يُوْسُفَ، مُرُوْا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ ‘*তোমরা ইউসুফের সহচরীদের মত হয়ে গেছ। আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে বলে দাও যেন সেই সালাতে ইমামতি করে। অতঃপর একজন সংবাদদাতা আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’কে এই সংবাদ জানালে তিনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর জীবদ্দশাতেই লোকদের সঙ্গে নিয়ে সালাত আদায় করেন’। [*অর্থাৎ যুলায়খা ও তার সহচরী মহিলারা যেভাবে ইউসুফকে অন্যায় কাজে প্রলুব্ধ করতে চেয়েছিল, তোমরাও তেমনি আমাকে আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহা)’কে বাদ দিয়ে অন্যকে ইমামতি করার মত অন্যায় নির্দেশ দানে প্ররোচিত করতে চাও?] (সহী বুখারী হাদিস নাম্বার ৬৭৮, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৩২৫)
এখানেই সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে উনার মৃত্যুর পর উনি কাকে খিলাফতের দায়িত্বে দেখতে চান। হযরত উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) সেটা বেশ ভালোভাবেই জানতেন, আর তাই প্রথমেই খলীফা হিসাবে হযরত আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নাম প্রস্তাব করেছিলেন এবং সাথে সাথেই সেটা সর্বসম্মতভাবে তা গৃহীত হয়। (এই ব্যাপারে আরও পরে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অতুলনীয় ব্যক্তিত্বের ধারেকাছেও আর কেউ উম্মতের মধ্যে তখন ছিল না।

মৃত্যুর দুই বা একদিন পূর্বেঃ
শনি অথবা রবিবারে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছুটা হালকা বোধ করেন। এমতাবস্থায় তিনি হযরত আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও হযরত আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর কাঁধে ভর করে মসজিদে আগমন করেন। তখন আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)’র ইমামতিতে যোহরের সালাত কেবলই শুরু হয়েছিল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমন টের পেয়ে হযরত আবুবকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পিছিয়ে আসার উদ্যোগ নিতেই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ইঙ্গিতে নিষেধ করলেন। অতঃপর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বামপাশে বসিয়ে দেওয়া হলো। তিনি তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ইক্বতেদা করতে থাকেন এবং লোকদেরকে তাকবীর শুনাতে থাকেন’। (মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হাদিস ১১৪০)

মৃত্যুর একদিন পূর্বেঃ
মৃত্যুর পূর্বদিন রবিবার ঘরে তখন মাত্র কয়েকটি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। তিনি তার সবই সাদাকা করে দিলেন। অথচ ঐদিন সন্ধ্যায় আয়িশাহহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর গৃহে বাতি জ্বালানোর মত তৈল ছিল না। ফলে প্রতিবেশীর নিকট থেকে তৈল ধার করে আনতে হয়। (আহমাদ, ত্বাবারাণী, ইবনু হিববান, সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৬৫৩) ঐসময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর লৌহবর্মটি এক ইহুদীর নিকটে ৩০ ছা‘ (৭৫ কেজি) যবের বিনিময়ে বন্ধক ছিল। (বুখারী হাদিস ২৯১৬, মিশকাত হাদিস ২৮৮৫ ‘বন্ধক’ অনুচ্ছেদ)

জীবনের শেষ দিনঃ
এরপর সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রানপ্রিয় কন্যা ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা)’কে ডাকেন। তিনি এসে বাবার পাশে বসলে তার কানে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু কথা বলেন। প্রথমবার তিনি কাঁদতে থাকেন। পরে তাকে আবার ডাকেন এবং কানে কানে আবার কিছু কথা বলেন। এবার তিনি হেসে ওঠেন। হযরত আয়িশাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তাকে কি বলা হয়েছে জিজ্ঞেস করা হলে ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা) উনার বাবার জীবিত অবস্থায় সেটা বলতে রাজি হলেন না কিন্তু রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের পর ঠিকই সেটা বলে দেন। প্রথমবারে তার বাবা তাকে বলেন যে, এই অসুখেই আমার মৃত্যু ঘটবে। এটা শোনার পর তিনি কাঁদতে লাগলেন। দ্বিতীয়বারে তাকে আবার বলা হলো যে, পরিবারের মধ্যে তুমিই প্রথম আমার সাথে মিলিত হবে (অর্থাৎ তোমার মৃত্যু হবে)। এবার তিনি হেসে ফেলেছিলেন। (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬১২৯; তার বাবার মৃত্যুর মাত্র ছয়মাস পরে ১১ হিজরী ৩রা রামাযান মঙ্গলবার ফাতেমা (রাদিআল্লাহু আনহা) মৃত্যুবরণ করেন) এই সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে سَيِّدَةُ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ ”জান্নাতী মহিলাদের নেত্রী” হবার সুসংবাদ দান করেন। [বুখারী হা/৩৬২৪; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৬১২৯] এই সময় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর রোগ-যন্ত্রণার কষ্ট দেখে ফাতেমা (রাঃ) বলে ওঠেন, وَاكَرْبَاهُ ‘হায় কষ্ট’! রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন,لَيْسَ عَلَى أَبِيْكِ كَرْبٌ بَعْدَ الْيَوْمِ ‘আজকের দিনের পরে তোমার পিতার আর কষ্ট নেই’। [বুখারী হা/৪৪৬২; মিশকাত হা/৫৯৬১।]

অতঃপর তিনি হাসান (রাদিআল্লাহু আনহু) ও হোসেইন (রাদিআল্লাহু আনহু)’কে ডাকেন। তাদেরকে আদর করে চুমু দেন ও তাদেরকে সদুপদেশ দেন। উভয়ের বয়স তখন যথাক্রমে ৮ ও ৭ বছর। এরপর স্ত্রীগণকে ডাকলেন ও তাদেরকে বিভিন্ন উপদেশ দেন। এ সময় তাঁর রোগ-যন্ত্রণা তীব্র আকার ধারণ করে। তিনি আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে আয়িশাহহ! খায়বরে যে বিষমিশ্রিত খাদ্য আমি খেয়েছিলাম, সেই বিষের প্রভাবে আমার শিরা-উপশিরা যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে’। (বুখারী, মিশকাত হা/৫৯৬৫)

(*) বিশেষ এই ঘটনার ব্যাখ্যাঃ
আসল ঘটনা কী ঘটছেঃ ৭ম হিজরীর মুহাররম মাসে খায়বর বিজয়কালে ইহুদী বনু নাযীর নেতা সাল্লাম বিন মিশকামের স্ত্রী যয়নব বিনতুল হারেছ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে দাওয়াত দিয়ে বকরীর ভুনা রানের বিষমিশ্রিত গোশত খেতে দেয়। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই গোশত মুখে দিয়ে বুঝার সাথেসাথেই ফেলে দেন (فَلَمْ يُسِغْهَا، وَلَفَظَهَا) এবং বলেন, এই এতে বিষ মিশানো আছে’। উনার সাথে আরেকজন সাহাবী ছিলেন যিনি এই গোশত খেয়ে ফেলেছিলেন এবং এই বিষক্রিয়ার ফলে তার মৃত্যু হয়। ইহুদী এই মহিলা’কে জিজ্ঞেস করে জানা গেল উনি রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে মেরে ফেলার জন্যই এই ভয়ংকর বিষ মিশ্রিত করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই মহিলা’কে ক্ষমা করে দিলেও সেই সাহাবী’র পরিবার নায্যবিচার দাবী করলে সেই মহিলাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। (সীরাতে ইবনে হিশাম ২/৩৩৭-৩৮; আলবানী, ফিক্বহুস সীরাহ ৩৪৭ পৃষ্ঠা) অতঃপর তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেন, الصَّلاَةُ الصَّلاَةُ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ ‘সালাত সালাত এবং তোমাদের দাস-দাসী’ অর্থাৎ সালাত ও স্ত্রীজাতির বিষয়ে তোমরা সর্বাধিক খেয়াল রেখো’। আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, এই কথাটি তিনি বারবার পুনরাবৃত্তি করেন’। আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, এটাই ছিল রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সর্বশেষ অসিয়ত’। (ইবনু মাজাহ হা/২৬৯৭; আহমাদ, বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৩৩৫৬)

ঠিক এই হাদিস’কেই বিকৃত করে শিয়া’রা দাবী করে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’কে মৃত্যুর আগে বিষ খেতে দেয়া হয়েছিল এবং উনি সেই বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন। আর এই কাজ করেছিলেন উম্মুল মূমেনীনা হযরত আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) এবং উম্মুল মূমেনীনা হযরত হাফ’সা (রাদিআল্লাহু আনহা) - নাউজুবিল্লাহ। তাদের এই ভয়ংকর দাবীর পিছনে যুক্তি হলো এর ফলে নাকি আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’র বাবা আবু বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) এবং হাফ’সা (রাদিআল্লাহু আনহা)’র বাবা উমর (রাদিআল্লাহু আনহু) দ্রুতই শাষন ক্ষমতা দখল করে খিলাফত পাবেন। রাসূলে করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বীয় অনুপস্থিতিতে আবুবকর (রাদিআল্লাহু আনহু)'কে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছিলেন (বুখারী হা/৭১৩, মুসলিম হা/৪১৮; মিশকাত হা/১১৪০)। এছাড়াও আরেক জায়গায় আছে, হজরত আনাস (রাদিআল্লাহু আনহু) বলেন, রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, 'আবু বকর ও উমর নবী-রাসুলগণ ছাড়া সব উম্মতের বয়ষ্ক জান্নাতবাসীদের সর্দার হবে' (সুনানে তিরমিজি হাদিস ৩৬৬৩)

এখন সুপ্রিয় পাঠক, আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন যারা শেষনবীকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছেন তারা কিভাবে বেহেস্তে যাবেন, জান্নাতবাসীদের সর্দার হবার কথা তো বাদই দিলাম?

সবাই’কে একটা বিষয় সুস্পষ্টভাবে স্মরণ করে দিতে চাই, এই দুইজন মহিলা সাহাবী রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্মানিতা স্ত্রী, পরিবারের অংশ এবং আহলুল বায়াতের অন্তর্গত। সহী হাদিসে বর্ণিত আছে, যারা এই আহলুল বায়াতের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন না, ভালোবাসবেন না, রোজ হাসরের দিন তার জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সুপারিশও করবেন না। যারা এই ধরণের বিভ্রান্তি মূলক এবং বানোয়াট কাহিনী নিজে বিশ্বাস করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বলে বেড়ান তাদের জন্য শিয়াদের সূত্র নীচে দিয়ে দিলামঃ

Muhammad Ibn Massoud al-Ayashi related:
(১) Imam al-Sadiq (Peace be upon him) was sitting with a group of his followers, and asked them: "Do you know whether the Prophet died a natural death or was murdered? Allah the Almighty says: "if then he died or is killed". The truth is that the Prophet was poisoned in his last days before he died. Aisha and Hafsa administered poison in his food. Upon hearing this, Imam Sadiq's followers said that they (Aisha, Hafsa) and their fathers were among the worst villains ever created by Allah."
(Source: Tafseer al-Ayashi, Vol 1, Page 200; Bihar-ul-Anwar, by Allama Al-Majlisi, Vol 22, Page 516)

(২) Narrated Ali ibn Ibrahim: "The Prophet said to Hafsa: I will tell you a secret. If you divulge it, Allah, His Angels and people will curse you. So, what is it? wondered Hafsa. The Prophet said: Abu Bakr will be able to seize the Caliphate and power after me, and will be succeeded by your father, Omar. Hafsa wondered: Who informed you of this?. (the prophet answered ) Allah, the Omnipresent, the Omniscient informed me. On the same day, Hafsa divulged the secret to her friend, Ayesha. In turn, Ayesha divulged the secret to her father, Abu Bakr. So, Abu Bakr came to Omar and said: My daughter Ayesha told me a secret reported by Hafsa, but I cannot always trust what Ayesha says. So, you ask your daughter Hafsa, make sure and tell me. Omar went over to Hafsa, and asked her. In the beginning, she was startled and denied it. But, Omar said to her: If you have indeed heard this secret, then, tell us so we can immediately seize power and get rid of Muhammad”. So, Hafsa said, yes, he told me that. At this point, those four got together and conspired to poison the Prophet"
(Source: Tafseer al- Qommi, Vol 2, Page 367, Bihar-ul- Anwar by Allama al-Majlisi, Vol 22, Page 239)

According to historic accounts Rasul Allah (s.a.w.a.) pointed to his assassins several times whilst the poison took effect. Therefore as soon as Ayesha and Hafsah had executed the plot to assassinate him, Abu Bakr’s party went into hiding to prevent possible exposure and humiliation. Abu Bakr himself retreated to an area outside the city called Sonh where he remained until Rasul Allah’s (s.a.w.a.) death, and Umar hid in Medina waiting for Rasul Allah’s (s.a.w.a.) death.
Behaarul Anwaar vol. 28, page 111.
Behaarul Anwaar vol. 22, page 466.
Behaarul Anwaar vol. 22, page 490:

(৩) sixth Caliph Imam Sadiq (a.s.) once told his loyal students:
“…Rasul Allah (s.a.w.a.) was given poison before his death. Most assuredly the two women -forcefully- gave it to him.
Students: The two women and their fathers are the worst of god’s creatures[42].)).
On another occasion he told some of his students:
“After Abu Bakr and Umar and their daughters were foretold that Abu Bakr and Umar will usurp Rasul Allah’s (s.a.w.a.) Caliphate after his death, they decided to bring forward his death by giving poison to him.
Hal Eghteelan Nabi… / Shaikh Nejaah Taa’e = page 133 to 137, from well-known Bakri references.
Behaarul Anwaar / Majlesi = vol. 28, page 20.
Behaarol Anwaar / Majlesi = vol. 22, page 239.

শিয়া’রা প্রতিনিয়তই এইধরণের জঘণ্য মিথ্যাচার করে বেড়ায়। অজ্ঞতা এবং স্বল্পজ্ঞানের কারণে সাধারন সুন্নী মুসলিমরা এদের ধোঁকায় পড়ে এইসব মিথ্যাচার বিশ্বাস করে এবং প্রচার করে বেড়ায়। যাদের এই বিষয়ে আরও জানার ইচ্ছে তাদের জন্যঃ
(সূত্রঃ Click This Link)

মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু :
এরপরই রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মৃত্যুযন্ত্রণা শুরু হ’ল। এমতাবস্থায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহু)’র বুকে ও কাঁধে ঠেস দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন পাশে রাখা পাত্র থেকে নিজ হাতে পানি উঠিয়ে মুখে দিচ্ছিলেন আর বলছিলেন, لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ، إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٍ ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। নিশ্চয়ই মৃত্যুর রয়েছে কঠিন যন্ত্রণা সমূহ’ (বুখারী হা/৪৪৪৯; মিশকাত হা/৫৯৫৯)। ঠিক এমনসময় আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা)’র ভাই আব্দুর রহমান (রাদিআল্লাহু আনহু) সেখানে উপস্থিত হলেন, তার হাতে একটা মিসওয়াক দেখে সেদিকে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেদিকে তাকিয়ে রইলেন। আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, আমি তাঁর আগ্রহ বুঝতে পেরে তার অনুমতি নিয়ে মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে তাঁকে দিলাম। তখন তিনি সুন্দরভাবে মিসওয়াক করলেন ও পাশে রাখা পাত্রে হাত ডুবিয়ে মুখ ধৌত করলেন।

এমন সময় তিনি ঘরের ছাদের দিকে দৃষ্টি উঠিয়ে এবং হাত উঁচু করে বলতে থাকলেন,
مَعَ الَّذِيْنَ أَنْعَمَ اللهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِيْنَ وَحَسُنَ أُولَئِكَ رَفِيْقًا، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِىْ وَارْحَمْنِىْ وَأَلْحِقْنِىْ بِالرَّفِيْقِ الأَعْلَى-
‘হে আল্লাহ! নবীগণ, ছিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং নেককার ব্যক্তিগণ যাদের তুমি পুরস্কৃত করেছ, আমাকে তাদের সাথী করে নাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা কর ও দয়া কর এবং আমাকে আমার সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে মিলিত কর। হে আল্লাহ! আমার সর্বোচ্চ বন্ধু!’ আয়িশাহহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, শেষের কথাটি তিনি তিনবার বলেন। অতঃপর তাঁর হাত এলিয়ে পড়ল, দৃষ্টি নিথর হয়ে গেল’। তিনি তার সর্বোচ্চ বন্ধুর সাথে মিলিত হ’লেন। (বুখারী হা/৪৫৮৬, ৫৬৭৪, মিশকাত হা/৫৯৫৯-৬০; ঐ, বঙ্গানুবাদ হা/৫৭০৭-০৮)
আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বলেন, আমার উপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার ঘরে, আমার পালার দিন এবং আমার বুক ও গলার মধ্যে হেলান দেওয়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। আর তাঁর মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আল্লাহ আমার মুখের লালার সাথে তাঁর মুখের লালা মিলিয়ে দিয়েছেন। (বুখারী, মিশকাত হা/৫৯৫৯; হা/৫৭০৭)

নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুস্থ অবস্থায় বলতেন যে, কোন নবীরই (জান) কবজ করা হয় না, যতক্ষণ না তাঁকে জান্নাতে তার স্থান দেখানো হয়, আর তাঁকে (জীবন অথবা মৃত্যুর) যে কোন একটিকে বেছে নেয়ার অধিকার না দেয়া হয়। কাজেই যখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুকাল আসন্ন হল, তখন তাঁর মাথা আমার রানের উপর ছিল, তখন কিছুক্ষণের জন্য তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন। চেতনা ফেরার পর তিনি উপরে ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ ‘আল্লাহুম্মার রাফীকাল আলা’ (ইয়া আল্লাহ্! তুমিই আমার পরম বন্ধু)। ‘আয়িশাহ (রাদিআল্লাহু আনহা) বর্ণনা করেন, তখনই আমি (মনে মনে) বললাম যে, তিনি এখন আমাদেরকে পছন্দ করবেন না। আর আমি বুঝলাম যে, এটাই সেই কথা, যা তিনি ইতোপূর্বে বর্ণনা করতেন এবং এটাই ছিল তাঁর শেষ কথা, যা তিনি উচ্চারণ করেছেনঃ اللهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى ‘‘হে আল্লাহ্! উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বন্ধুর সঙ্গে করে নিন।’’ (সহী বুখারী হাদিস ৪৪৩৫, আধুনিক প্রকাশনী- ৬০৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৬০৬৫, মুত্তাফাক্ব আলাইহি, মিশকাত হা/৫৯৬৪; দারেমী, মিশকাত হা/৫৯৬৮)

এই পর্ব এখানেই শেষ। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওফাতের ঘটনাগুলি নিয়ে অনেক অজানা অনেক বিষয় আছে দেখে বেশ বিস্তারিত ভাবেই লিখেছি। যেখানে কিছু ব্যাখ্যা দরকার সহী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সেটার ব্যাখ্যা দেবার সর্বোচ্চ চেষ্টাও করেছি। লেখার জন্য প্রয়োজনীয় সহী সূত্রসমূহ যেখানে দরকার সেখানেই উল্লেখ করেছি। বাদ বাকি অংশগুলি মূলত তিনটা বই থেকেই বঙ্গানুবাদ করে লেখা হয়েছেঃ
১) Sirat Ibn Hisham: Biography of the Prophet (SAW) by Ibn Hisham
২) The Life of Muhammad (SAW) by Ibn Ishaq (Author), A. Guillaume (Translator)
৩) The Life of The Prophet Muhammad (Al-Sira Al-Nabawiyya) by Ibn Kathir


সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা রইল।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত @ নীল আকাশ, ফেব্রুয়ারী ২০২০

মন্তব্য ৪৭ টি রেটিং +১৬/-০

মন্তব্য (৪৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: আল্লাহকে পেতে হলে আগে আমাদের নবিজি (সঃ) কে পেতে হবে।
তাই নবিজির দেখানো পথে আমাদের চলতে হবে। সোজা কথা।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৬

নীল আকাশ বলেছেন: রাজীব ভাই,
প্রথম মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যা বলেছেন সেটা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। কুরআন, হাদিস এবং সুন্নাহ।

২| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: নবী মুহাম্মদের (স. ) দুটি চরিত্র: ১। ধর্মীয় ২। রাজনৈতিক। তাহার মৃত্যুকালীন ঘটনা ধর্ম এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিহিত ছিলো। যেহেতু সে সময় ইসলামী নারী নেতৃত্ব অপ্রচলিত ছিলো এবং মুহাম্মদ (সা: ) এর কোন ছেলে ওয়ারিশান ছিলোনা সেহেতু পরবর্তী সদ্য প্রতিষ্ঠিত মদিনা সাম্রাজ্যের উত্তরসূরি নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে পূর্ব থেকেই আকাঙ্খা, জল্পনা কল্পনা ছিলো। মদিনা কেন্দ্রিক ক্ষমতালাভের ঘটনা প্রবাহ নবীর মৃত্যুর পর টের পাওয়া যায়।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:২২

নীল আকাশ বলেছেন: প্রথমেই পড়া এবং সুন্দর একটা মন্তব্যের জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো।।
ওফাতের ঠিক সেই মুহুর্তগুলি ছিল ইসলামের জন্য মারাত্মক ক্রিটিকাল সময়। পরের পর্ব'তে আমি এই জিনিস নিয়েই বড় আলোচনা করবো। অনেক জঘণ্য রটনা আর মিথ্যা এর সাথে জড়ানো হয়েছে ইচ্ছেকৃত ভাবেই।
ইসলামে নারী নেতৃত্ব পুরোপুরি হারাম।
১ম পর্বটাও দেখে আসার অনুরোধ রইলো।
ধন্যবাদ।

৩| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪২

শের শায়রী বলেছেন: দারুন লেখা প্রিয় ভাই, আপনার লেখা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। প্রায় ব্যাপারগুলোই আমি ইদানিং জানছি, আগে অনেক কিছু জানতাম না। এখনো পড়াশুনা করছি, সুতারাং বলা চলে এখনো জানতে আছি।

পাঠে মুগ্ধতা।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:১৭

নীল আকাশ বলেছেন: প্রিয় ভাই,
আমি ধর্মীয় বিষয় নিয়েই বেশি পড়াশোনা করি। আমার খুব পছন্দের সাবজেক্ট এটা।
অনেকেই না জেনে শুধু শুধু অনেক ভুল জিনিস ইসলাম আর সাহাবীদের নামে চাপিয়ে দেয়। অথচ সেইগুলি ডাহা মিথ্যা কথা। এই সিরিজে আমি এর সাথে সর্ম্পকিত বিভিন্ন মিথ্যাগুলি নিয়ে সবার ভুল ভেঙ্গে দেবার চেষ্টা করে যাবো।
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

৪| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:০৮

নিভৃতা বলেছেন: আমার কমেন্টে কোনভাবে ইমোটিকন চলে গেছে। দয়া করে কমেন্টটা ডিলিট করুন। আমি এডিট করে আবার কমেন্ট করছি।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৯

নীল আকাশ বলেছেন: ধন্যবাদ। ইতিমধ্যেই করে দিয়েছি।

৫| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:০৯

নিভৃতা বলেছেন: হজরত মুহাম্মদ (সা) এর সবচেয়ে কাছের মানুষ হিসেবে আবুবকর (রা) হবেন পরবর্তী উত্তরসূরী, এই সহজ ব্যাপারটা কেন সাহাবিরা বুঝতে পারলেন না কে জানে।

মুহাম্মদ (সা) কে সত্যিই কি বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল?

অসাধারণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। অনেক অজানা বিষয় জানা হলো।
পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৮

নীল আকাশ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। শুধু হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা.) যে নবী করীম (সা.) ও সেই সময়ের মুসলিম উম্মাহের পছন্দ ছিল সেটা নিয়েই এত বড় পোস্ট দেয়া যেত। কিন্তু এটা পোস্টের বিষয়বস্তু নয় দেখে আমি এখানে ছোট করে লিখেছি।
এই পর্বে ২টা ভুল/মিথ্যা নিয়ে কাজ করেছি যা আমি আগের পোস্ট বলেছিলাম। সামনে আরও আসবে এইধরণের ভুলের ব্যাখ্যা নিয়ে। এই ব্যাখ্যাগুলি লেখার জন্যই এই পোস্ট লেখা শুরু করেছি আমি
অফটপিকঃ বিসর্গ ঃঃ ব্যবহার করবেন না। তারচেয়ে ফুলস্টপ. ব্যবহার করুন।
ধন্যবাদ।

৬| ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩৮

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: রাজীব ভাই,
প্রথম মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আপনি যা বলেছেন সেটা ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। কুরআন, হাদিস এবং সুন্নাহ।
এবং যারা কোরআন হাদীসের দেখা ও পথে চলে নাই, তারা মৃত্যুর পর কঠিন আজাব ভোগ করবে। কোনো মাফ নাই।

২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৪

নীল আকাশ বলেছেন: রাজীব ভাই, আপনার কথার সাথে আমি পূর্ণ সহমত পোষন করছি।
শুভ কামনা রইলো।

৭| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:৩৭

সোহানী বলেছেন: আমি স্বীকার করছি আমার ধর্ম বিষয়ে জ্ঞান খুবই সীমিত। (অবশ্য সব বিষয়েই একই কথা প্রযোজ্য)। তাই ধর্ম নিয়ে সহজে কমেন্ট করি না । আপাতত: পড়ে গেলাম, হয়তো ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:১৫

নীল আকাশ বলেছেন: এইসব বিষয় নিয়ে লেখা খুব কঠিন। ঠিক তেমনি কোন মন্তব্য করা। আমি এই সিরিজটাই লিখছি শুধু মানুষের মাঝে প্রচলিত সব ভুল ধারণা ভেঙ্গে দেয়ার জন্য।
পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা রইলো।

৮| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:২৮

জোছনাস্নাত রাত্রি বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন। ১ম পর্বও পড়ে দেখতে হবে।
ধন্যবাদ।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:১৩

নীল আকাশ বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

৯| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৩৪

করুণাধারা বলেছেন: আগের পর্বের মতোই অসাধারণ হয়েছে, অনেক কিছু জানা গেল।

অ ট: মন্তব্য করতে দেরি হলো কিছুটা হতাশায় আক্রান্ত হওয়ায়। বুঝতে পারছি, আপনার প্রেডিকশন ঠিক ছিল। এদেশে কোনরকম নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না- দুঃখিত হলেও মেনে নিলাম।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:১৪

নীল আকাশ বলেছেন: আপু, আমি আপনাকে আমি আগেই বলেছিলাম যে এইরকম হবে। খবর তো আমাদের কাছেও আসে। সারা বাংলাদেশে একমাত্র আমাদের কেন্দ্রতেই সুষ্ঠু ভোট হয়েছে। আমি বহু বছর পর শুধু একটা ভোট দেবার জন্য গিয়েছিলাম। উনি আমাদের কেন্দ্রে খুব পপুলার। আমার বসের রিলেটিভ।
ইলেকশনের আশা এই দেশে ছেড়ে দিন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ। এই সিরিজের সাথেই থাকুন।
ধন্যবাদ।

১০| ২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৫৭

মেটালক্সাইড বলেছেন: মহান আল্লাহ্‌ সুবহানুতায়ালা আপনার প্রচেষ্ঠা গ্রহণ করুক।
একটি জায়গায় একটু বিস্তারিত বর্ণনার প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছি। ওফাতের কিছুদিন পূর্বে ইমামতি প্রসঙ্গে---
এটির বিস্তারিত সহীহ হাদীসে উল্লেখ আছে। ক্ষমা করবেন হাদীস নম্বরগুলো জানা নেই।
আমি শুধু সঃক্ষিপ্ত বলছি, নামাজের ইমামতির জন্য সাহাবাদের সম্মতি ও আবুবকর রাঃ এর সম্মতির পর(আবুবকর রাঃ ব্যস্ত ছিলেন আর নিকটে ছিলেন না) ঊমর রাঃ নামাজের ইমামতি করলেন তা রাসূলুল্লাহ ঘরের মধ্য থেকে বুঝতে পেরেছিলেন এবং পর্দা সরিয়ে তা দেখেছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ অসন্তুষ্ট হলেন, কারণ আল্লাহর কাছে ওই নামাজ গ্রহণযোগ্য হয়নি। তিনি বলেছিলেন, আবুবকর রাঃ ইমামতির কথা। এ কথায় স্বয়ং ঊমর রাঃ সহ সমস্ত সাহাবারা ভীত হয়ে গেলেন এবং আবুবকর রাঃ এ ডেকে নিয়ে আসলেন। সেই থেকে আবুবকর রাঃ তার ইন্তেকাল পূর্ব পর্যন্ত ইমামতি করেছেন এবং পরে সেটি সমস্ত সাহাবাদের সম্মতিক্রমে উমর রাঃ কে নির্ধারণ করে দিয়ে যান।
এই বিশেষ বর্ণনারটুকুর গুরুত্ব ও উপলব্ধিতা সুদূরপ্রসারী।
এই ছোট ঘটনাই বিরাট শিক্ষা রয়েছে মুসলিমদের জন্য, কেউ কিছু বুঝল আর সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল তা হবে না বরং সমস্ত উম্মতকে জমায়েতবদ্ধ(শুধু নামাজের জন্য নয়) অবস্থায় থাকতে হবে আর সবকিছু কুরয়ান, রাসূলের সুন্নাহ ও সাহবাদের কর্মপদ্ধতি অনুসারে হতে হবে।
আর এটাকেই প্রখ্যাত আলেমগণ "সিরাতুল মুস্তাকিমের" পথ বলে অভিহিত করেছেন, যার অকাট্য প্রমাণ সহীহ হাদীসে উল্লেখিত।
মহান আল্লাহ্‌ সুবহানুতায়ালা আমাদের সবাইকে ক্ষমা করুন আর আপনার ঊদ্দীপনাকে আরো উত্তম করে দিক।

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:০২

নীল আকাশ বলেছেন: ভাই,
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য। এই সহী হাদিস আমি খুব ভালো করেই জানি। এটা আব্দুল্লাহ ইবন আবু বকর থেকে বুখারি শরীফে বর্ণিত আছে। আমি এটা ইচ্ছে করেই দেই নি। এর পরের পর্বে ১ম খলিফা নির্বাচনে আবু বকর (রা.) কেন একমাত্র ক্যান্ডিডেট সেটা লেখার জন্য এটা লাগবে এবং তখন এটা আমি সেখানে ব্যবহার করবো। আপনি কিছুটা হাদিস মুল ভাষা পরিবর্তন করে ফেলেছেন। পরের পর্বে আমি অরিজিনাল হাদিস দিবো, দেখে নিবেন।
এই সিরিজের সাথেই থাকুন।
শুভ কামনা রইলো।

০২ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১০:৪৬

নীল আকাশ বলেছেন: দুঃখিত ভাই, আমি সাহাবীর ভুল নাম বলেছি। এটার আসল সূত্র হলো -
এটা আব্দুল্লাহ ইবন যামাহ (রাদিআল্লাহ আনহু) থেকে বুখারি শরীফে বর্ণিত আছে। (সূত্রঃ সিরাত ইবন হিসাম, পৃষ্ঠা ২৮৫, ইংরেজি ভার্সন)।
ধন্যবাদ।

১১| ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ২:৪৮

নূর আলম হিরণ বলেছেন: নবীজী যে এত যন্ত্রনা পেয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন এটা অনেকেই জানে না। আমাদের হুজুরেরা আমাদের বলেছেন নবীজী কোন মৃত্যু যন্ত্রনা ভোগ করেন নাই। উনি নাকি শিশু মায়ের কোলে যেভাবে থাকে সেভাবে উনার মৃত্যু হয়েছিল। আমাদের হুজুরেরা কি ইচ্ছে করেই এমন বলেছিল নাকি না জেনে বলেছিল।

২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:২৪

নীল আকাশ বলেছেন: প্রতিটা মানুষ'কে মৃত্যু ভোগ করতে হবে। কে কী বলেছে তাকে সত্য বদলাবে না। এর পরের পর্বে আমি এই অংশটাই নিয়ে লিখবো। সনদ এবং সহী হাদিসের সূত্র নিয়ে।
এই সিরিজের সাথেই থাকুন।
শুভ কামনা রইলো।

১২| ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:২৩

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: কোরআনে যা আছে তা বস্তবে চর্চা শুধু আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছিলেন।

০১ লা মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৩৭

নীল আকাশ বলেছেন: হাক ভাই।
আপনার এই কথার সাথে আমি একমত হতে পারলাম না। বেশি না মাত্র একটা উদাহরণ দিচ্ছি-
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِيْ إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الأَعْمَشِ قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَا تَسُبُّوْا أَصْحَابِيْ فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيْفَهُ تَابَعَهُ جَرِيْرٌ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ دَاوُدَ وَأَبُوْ مُعَاوِيَةَ وَمُحَاضِرٌ عَنْ الأَعْمَشِ
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালমন্দ কর না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমান সোনা আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় কর, তবুও তাদের এক মুদ বা অর্ধ মুদ-এর সমপরিমাণ সওয়াব হবে না। জারীর আবদুল্লাহ ইবনু দাউদ, আবূ মু’আবিয়াহ ও মুহাযির (রহঃ) আ’মাশ (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় শুবা (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন।
(সহী বুখারী শরীফ - আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৩৯৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৪০৫)

১৩| ২৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩০

মনিরা সুলতানা বলেছেন: জাজাক আল্লাহ খায়রান !

০১ লা মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪০

নীল আকাশ বলেছেন: আপু,
জাজাক আল্লাহ খায়রান!
এই পর্বে ২টা ভুল নিয়ে কাজ করেছি। পরের পর্বে আরেকটা বড় ভুল নিয়ে কাজ করবো। পরের পর্বে ১ম খলিফা নির্বাচনে হযরত আবু বকর (রা.) কেন একমাত্র ক্যান্ডিডেট ছিলেন আর এটা নিয়ে কেন কোন বির্তক নেই সেটা নিয়ে লিখবো।
পড়ার অগ্রীম দাওয়াত দিয়ে গেলাম।
শুভ কামনা রইলো।

১৪| ০১ লা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:১৯

স্বপ্নবাজ সৌরভ বলেছেন:

চমৎকার পোস্ট। অনেক কিছু জানলাম।
মহানবীর পরবর্তী সময়টা আমার কাছে খুব ধোঁয়াটে লাগে। অনেক বিষয় মিলাতে পারিনা। আপনি এবং প্রিয় শের শায়েরি ভাই হয়তো এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারবেন।

ভালো থাকবেন। প্রিয় ভাই / ব্লগার / শিক্ষক।

০১ লা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩৪

নীল আকাশ বলেছেন: মহানবীর পরবর্তী সময়টা আমার কাছে খুব ধোঁয়াটে লাগে। অনেক বিষয় মিলাতে পারিনা।
আমার পরের পর্বই হবে এইসব ধোয়াটে বিষয়গুলি নিয়ে যে যে ভুল তথ্যগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে সেইগুলি দেখিয়ে দেয়া এবং সত্য'কে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া। পরের পর্ব খুব যত্ন নিয়ে লিখছি। পড়ার অগ্রীম আমন্ত্রণ দিলাম।
শুভ কামনা রইলো।

১৫| ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১২:২৯

নতুন বলেছেন: রাসুল সা: এর মৃত্যুর কারন কি?

তাকে কি বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিলো? যদিও খাইবারের যুদ্ধের পরে যে বিষ মিশ্রিত খাবার উনি খেয়েছিলেন তার ফলে তিনি মারা যান নি কারন সেটা বেশ আগে ঘটেছিলো।

যদি শিয়ারা আয়শা রা: এবং হাফসা রা: , আবু বকর রা: এবং ওমর রা: এর নামে বলে সেটা বিশ্বাস যোগ্য না কারন এদের আচরনে আগে এবং পরে কখনোই নেতিবাচক কিছু নেই।

রাসুল সা: এর মৃত্যুর কারন কি মেনিনজাইটিস হতে পারে?

০২ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০২

নীল আকাশ বলেছেন: নতুন ভাই,
আপনি প্রশ্ন করার পর আমি আবার যেয়ে ভালো মতো চেক করে দেখলাম। আমি কিছুটা ছোট করে লিখেছি। এখানে আরও বিস্তারিতভাবে দিলাম -

খায়বর যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বিষ প্রদান করা হয়। সালাম ইবন মাশকাম নামক ইয়াহুদির স্ত্রী জয়নব বিনতে হারিছ বিষমিশ্রিত একটি ভুনা বকরি তোহফা হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে পেশ করে। সে প্রথমেই জিজ্ঞেস করে, বকরির কোন অংশ তার বেশি প্রিয়? তিনি বলেছিলেন, রান। এতে সে রানের অংশে বেশি করে বিষ মিশিয়েছিল। তিনি যখন রানের থেকে কিছু অংশ ভেঙে খেতে শুরু করেন তখন ওই গোশতের টুকরোই তাকে অবহিত করে যে, এতে বিষ মিশ্রিত রয়েছে। তিনি তৎক্ষণাৎ তা উগরে ফেলে দেন।
এরপর তিনি ইয়াহুদিদের সমবেত করে তাদেরকে বলেন: আমি যদি তোমাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করি তোমরা কি তার ঠিক জওয়াব দেবে? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বললেন : তোমরা কি এই বকরিতে বিষ মিশিয়েছিলে? তারা স্বীকার করল যে, হ্যাঁ, তারা বিষ মিশিয়েছে। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন: কিসে তোমাদেরকে এতে প্ররোচিত করেছিল? উত্তরে তারা জানায়; আমরা ভেবেছিলাম, আপনি যদি (না’উযুবিল্লাহ) মিথ্যাবাদী হন, তাহলে আমরা আপনার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাব। আর আপনি যদি সত্যি সত্যি নবী হন তাহলে বিষ আপনার ওপর কোনো ক্রিয়াই করবে না। এরপর ওই মহিলাকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে হাজির করা হলো। সেও তার অপরাধ স্বীকার করল এবং বলল : আমি আপনাকে জানে মারার ইচ্ছা করেছিলাম। তিনি বললেন : আল্লাহতায়ালা তোমাকে আমার ওপর জয়ী হতে দিতে পারেন না। অতঃপর সাহাবায়ে কিরাম (রা.) অনুমতি চাইলেন মহিলাটিকে তার এই ঘৃণ্য অপরাধের দরুন হত্যা করতে কিন্তু তিনি বললেন : না, তা হয় না। এ সময় তিনি এ ব্যাপারে মহিলাটিকে আর কিছু বলেননি এবং তাকে কোনো প্রকার শাস্তিও দেননি, হত্যা করার অনুমতি তো দূরে থাক। কিন্তু পরে যখন তার বিষমিশ্রিত খাবার গ্রহণের ফলে বিশর ইবনু’ল-বারাআ ইবন মা’রূর (রা.) নামক সাহাবির ইনতিকাল হলো তখন কিসাস হিসেবে মহিলাটিকে হত্যা করা হয়। (নবীয়ে রহমতঃ ৩২৭-২৮)

হযরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেনঃ যেই রোগে তিনি ইনতিকাল করেন সেই রোগে আক্রান্ত থাকা অবস্থায় এ কথা বলতেন: আয়েশা! সেই খাবারের কষ্ট এখন অনুভব করছি যা আমি খায়বারে খেয়েছিলাম। সেই বিষক্রিয়া এখন আমার শিরা (আবহুর) কেটে টুকরো টুকরো করে দিচ্ছে। (ইবনে হিশাম ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৬৩৪)। আবহুর সেই শিরাকে বলা হয় যা পৃষ্ঠদেশ হতে বহির্গত হয়ে হৃৎপিন্ডে গিয়ে মিলিত হয়। এটি ছিড়ে কিংবা কেটে গেলে মানুষ মারা যায়। (নবীয়ে রহমত : ৪১৯)। এতে বোঝা যায় যে, রাসূলে মুকাররাম (সা.)-এর স্বাভাবিক মৃত্যুর পাশাপাশি জয়নব বিনতে হারিছ প্রদত্ত বিষ মিশ্রিত খাদ্যের বিষক্রিয়ার ফলে উনার মৃত্যু হয়।

প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুর কারণ লাগে। কোথায় যেন পড়েছিলাম, এটার জন্যই আজরাইল ফেরেস্তা'কে কেউ সরাসরি দোষারোপ করে না।

যদি শিয়ারা আয়শা রা: এবং হাফসা রা: , আবু বকর রা: এবং ওমর রা: এর নামে বলে সেটা বিশ্বাস যোগ্য না কারন এদের আচরনে আগে এবং পরে কখনোই নেতিবাচক কিছু নেই। একদম ঠিক কথা বলেছেন ভাই। এটা পুরোপুরি মিথ্যে কথা।

রাসুল সা: এর মৃত্যুর কারন কি মেনিনজাইটিস হতে পারে? আমার কোন ধারণাই নেই এই ব্যাপারে। আসলে এতদিন পরে এসে এটা বলা খুব কঠিন। তবে সাধারণত নবী রাসূলদের সহজে কোন অসুখ হয় না। এটা তাদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে রহমত আর নিয়ামত।

ধন্যবাদ।

১৬| ০২ রা মার্চ, ২০২০ রাত ১:০৬

নিভৃতা বলেছেন: উপরে নতুন ভাই যা বললেন সেই প্রশ্ন আমারও। উনার মৃত্যুর প্রায় চার বছর আগে উনাকে বিষ দেয়া হয়েছিল। তখন উনার মৃত্যু হয়নি। চার বছর পর কী করে সেই বিষের প্রতিক্রিয়া থাকে! আর কেনই বা সবাই বলে বিষের কারণে নবী করিম (সা: ) এর মৃত্যু হয়েছিল। এই বিষয়টা নিয়ে ইসলামবিরোধীরা নানা কথা বলে।

০২ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১১

নীল আকাশ বলেছেন: নিভৃতা,
উপরে নতুন ভাই'কে দেয়া উত্তর আগে পড়ে আসুন।
অবশ্যই বিষের কারণে নবী করিম (সা: ) এর মৃত্যু হয়েছিল।
সেটা তো সহী হাদিসেই উম্মুল মূমেনিনা হযরত আইশাহ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি বর্ণিত।
বিশেষ এই ঘটনার ব্যাখ্যা তো পোস্টেই দিয়ে দিয়েছি, তাও আবার বোল্ড করে। আবার পোস্ট পড়ে দেখুন।
ধন্যবাদ।

১৭| ০২ রা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৪৪

নিভৃতা বলেছেন: আসলে এই ব্যাপারটা নিয়ে আমি একটু কনফিউজ আছি। তাই নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম। তিন চার বছর পরেও কীভাবে বিষের প্রতিক্রিয়া থাকে। আপনি এই ব্যাপারটা নিয়ে আরেকটু রিসার্চ করবেন দয়া করে।

০২ রা মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:০২

নীল আকাশ বলেছেন: আমি এই ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি। তেমন কিছু নেই। আমি আপনাকে একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি। এর বেশি কিছু কোথাও পাবেন না-
খায়বারের ঘটনার সময় উনি ধর্ম প্রচারকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। জয়নব বিনতে হারিছ প্রদত্ত বিষ মিশ্রিত খাদ্যের বিষ যদিও উনার দেহে প্রবেশ করেছিল, কিন্তু আল্লাহ রহমতে ঐসময়ে কিছু হয় নি। কারণ ঐ সময়ে উনার বেঁচে থাকাটা খুব দরকারী ছিল। কিন্তু সূরা নছর এবং সূরা মায়ীদাহ'তে স্পষ্ট ভাবেই উনার কাজ শেষ হয়েছে বলে ওহী আসে। তার মানে উনার ধর্ম প্রচারকের দায়িত্ব পালন শেষ। উনাকে এই দুনিয়া এবং আল্লাহর সান্নিধ্য এর মধ্যে যেকোন একটা বেছে নিতে সুযোগ দিলে উনি আল্লাহর সান্নিধ্য বেছে নেন। উনি একজন মানুষ। প্রত্যেক মানুষের মৃত্যুর একটা কারণ লাগে। এটার জন্যই আজরাইল ফেরেস্তা'কে কেউ সরাসরি দোষারোপ করে না। আর সেই জন্যই একদম শেষ সময়ে এসে এই বিষ আবার কাজ করতে শুরু করে যার ফলে উনার মৃত্যু হয়।
ধন্যবাদ।

১৮| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:১১

মুক্তা নীল বলেছেন:
নীল আকাশ ভাই ,
আমাদের নবীজির ওফাতকালীন ঘটনা সমূহ আপনি যেভাবে ধারাবাহিকভাবে লিখছেন সেজন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও দোয়া রইলো । কিছু ঘটনা আগেও জেনেছিলাম আবার নতুন করে শুদ্ধরূপে অনেক কিছু জানতে পারলাম । আর সমস্ত লেখাগুলো একবার নয় বারবার পড়তে ভালই লাগে । ইনশাল্লাহ পরের পর্বগুলো পড়বো আশা রাখি ।

অ ট : শবনম বই হাতে পেয়ে কি যে আনন্দ লাগছে তা বুঝাতে পারবো না। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা ,
"কিছু কথা'য়" যা লিখেছেন , এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার ভাষা আমার জানা নেই। শবনম বইটি ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পাক এই প্রত্যাশা ও দোয়া করি ।

০৪ ঠা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৭

নীল আকাশ বলেছেন: মুক্তা আপু,
কৃতজ্ঞতা জানাতেই ফিরে আসলাম এই পোস্টে।
'শবনম' এর কিছু কথায় আমি যা যা লিখেছি সেটা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। একজন লেখকের জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরী হলো পাঠকের সহযোগিতা। যা আমি এই ব্লগে প্রতিটা গল্পেই পেয়ে থাকি। আপনি আমার শবনম এবং মিথিলা এই দুইটা চরিত্র নিয়ে যত সার্পোট দিয়ে গেছেন, তার তুলনায় আমি প্রায় কিছুই লিখি নি। আপনি জেনে খুশি হবেন, প্রকাশকের লিস্টে এটা সর্বোচ্চ বিক্রিত বইয়ের তালিকায় উঠে এসেছে। এর পরেরবার আপনার অত্যন্ত প্রিয় মিথিলা'কে নিয়ে কিছু করা যায় নাকি ভাববো।

পোস্টের সিরিজের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

১৯| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:২৯

রানার ব্লগ বলেছেন: বুখারি শরীফ কবে লিপিবদ্ধ হয়েছিলো ?

০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৪৬

নীল আকাশ বলেছেন: সহীহ বুখারী (আরবি: صحيح البخاري‎‎) একটি প্রসিদ্ধ হাদীস বিষয়ক গ্রন্থ। এর আসল ও পুরো নাম, الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم وسننه وأيامه সুন্নী ইসলাম মতে, এটি কুতুব আল-সিত্তাহ অর্থাৎ হাদীস বিষয়ক প্রধান ছয়টি গ্রন্থের অন্তর্গত একটি গ্রন্থ। পারস্যের স্বনামধন্য মুসলিম চিন্তাবিদ ইমাম বুখারী ইসলামের নবী মুহাম্মাদ-এর বানীর এই গ্রন্থটি সংকলন করেছেন।[১] এই গ্রন্থটিকে আল-কোরআনের পর সবচাইতে প্রামাণ্য গ্রন্থ হিসেবে ধরা হয়।[২]

ইমাম বুখারী স্বীয় শিক্ষক ইসহাক বিন রাহওয়াইহ থেকে এই গ্রন্থ রচনার প্রেরণা লাভ করেন।একদিন ইসহাক একটি এমন গ্রন্থের আশা প্রকাশ করেন,যাতে লিপিবদ্ধ থাকবে শুধু সহিহ হাদীস। ছাত্রদের মাঝে ইমাম বুখারী তখন এই কঠিন কাজে অগ্রসর হন।২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কার হারাম শরীফে এই গ্রন্থের সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়। বুখারী শরীফের সংকলনকালে তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন এবং প্রতিটি হাদীস গ্রন্থ সন্নিবেশিত করার আগে গোসল করে দু' রাকাত নফল নামাজ আদায় করে মুরাকাবা ও ধ্যানের মাধ্যমে হাদীসের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতেন।

স্বয়ং ইমাম বুখারী বলেছেন, আমি আমার সহিহ বুখারি সঙ্গে নিয়ে বসরা শহরে ৫ বছর অবস্থান করেছি এবং আমার কিতাব প্রণয়ের কাজ শেষ করি। আর প্রতি বছরই হজ্ব পালন করি এবং মক্কা হতে বসরাতে ফিরে আসি।তিনি ৬ লাখ হাদিস হতে যাচাই বাছাই করে সর্বসাকুলে ১৬ বছর নিরলস সাধনা করে এ প্রসিধ্য গ্রন্থখানি প্রণয়ন করেন।

সহীহ বুখারী রচনার পর থেকে এ পর্যন্ত তার বহু ব্যাখ্যা গ্রন্থ লেখা হয়েছে। এর মাঝে অন্যতম হলো আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাতহুল বারী এবং ইমাম বদরুদ্দীন আল-আইনি রচিত উমদাতুল ক্বারী।
নিচে সহীহ বুখারীর উল্লেখযোগ্য ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা দেয়া হলো:
১। আল-কিরমানী রচিত আল-কাউয়াকিব আল-দারারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
২। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রচিত ফাত্‌হ আল-বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
৩। ইমাম বদরুদ্দীন আইনি রচিত উ'মদাতুল ক্বারী ফী শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
৪। আল্লামা ক্বাসতাল্লানী রচিত ইরশাদ আল-সারী লি শারহি সাহীহ্ আল-বুখারী
৫। আলাউদ্দীন মুগলতায়ী রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ

সূত্রঃ
১। Mabadi Tadabbur-i-Hadith, Amin Ahsan Islahi
২। The Canonization of Al-Bukhari and Muslim: The Formation and Function of the Sunni Hadith Canon by Jonathan Brown, BRILL, 2007

ধন্যবাদ।

২০| ০৩ রা মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৫৩

রানার ব্লগ বলেছেন: ২১৭ হিজরী সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিনি মক্কার হারাম শরীফে এই গ্রন্থের সংকলন শুরু করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২৩৩ হিজরী সনে এর সংকলনের কাজ সমাপ্ত হয়।

হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর মৃত্যুর ২০০ অথবা ১৫০ বছর পরে হাদিস শরিফ সংকলনের এই কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। ওই সময় কোন সাহাবি সম্ভাবত বেঁচে ছিলেন না। তাবে তাবেইনদের মুখে শুনে এই হাদিস সংকলিত হয়েছে। শুদ্ধতা নিয়ে আমি সংকিত। কারন একটা কথা বিভিন্ন লোকের মুখে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তিত হয়।

০৩ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০০

নীল আকাশ বলেছেন: জানি আমি আপনি এই প্রশ্ন তুলবেন। আর তাই উনি প্রতিটা হাদিস লেখার আগে কী করতেন সেটা আগেই বলেছি। হাদিস সংগ্রহ কারীরা একটা হাদিস গ্রহণ করার মানদন্ড বানিয়েছেন। এটা বেশ বড়। এখানে দেয়া যাবে না। ছোট একটা ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

যে কোন হাদিসের দু’টি প্রধান অংশ থাকে। সনদ বলা হয় রাসুল সা. থেকে লেখক/ মুহাদ্দিস পর্যন্ত হাদিসটি যে সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এই বর্ণনা সূত্রকে। আর বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত মূল কথা টুকু হল মতন। উদাহরণ : এখানে উদাহরণসরূপ বুখারি শরীফের একটি হাদিস সনদ ও মতন সহ পেশ করা হল : حدثنا عبد الله بن يوسف قال أخبرنا مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال : لولا أن أشق على أمتي أو على الناس لأمرتهم بالسواك مع كل صلاة- এ হাদিস ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন। এখানে ইমাম বুখারির (১৯৪-২৫৬হি.) উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ (২১৮হি.), তার উস্তাদ মালিক (৮৯-১৭৯হি.), তার উস্তাদ আবুয যিনাদ (৬৫-১৩১হি.), তার উস্তাদ আ‘রাজ (১১৭হি.), তার উস্তাদ আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু (৫৭হি.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি আমার উম্মতের উপর কষ্ট না হত, অথবা [বলেছেন] মানুষের উপর, তাহলে আমি অবশ্যই তাদেরকে প্রত্যেক সালাতের সাথে মিসওয়াকের নির্দেশ দিতাম”। বিশ্লেষণ : এ হাদিসে ইমাম বুখারির উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ থেকে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু পর্যন্ত অংশকে سَنَد ‘সনদ’ বলা হয়। নবি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসের অবশিষ্ট অংশকে مَتْن ‘মতন’ বলা হয়। হাদিসের মতন ও সনদ একটির সাথে অপরটি ওতপ্রোত জড়িত। সনদ ব্যতীত মতন হয় না, মতন থাকলে অবশ্যই তার সনদ আছে।

এখন হাদিস কার কার কাছে শুদ্ধ ভাবে পাওয়া যাবে সেটারও একটা মানদণ্ড আছে। সনদ থাকলেই হবে না। যার তার কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ করা হয় না। এই পুরো বিষয়টা আপনাকে জানাতে হবে এবং বুঝতে হবে। একই হাদিসের সনদ ভিন্ন হলেও হাদিস নাম্বারও ভিন্ন হবে।

একটা কথা, বিভিন্ন লোকের মুখে বিভিন্ন ভাবে পরিবর্তিত হয়। তবে এর অর্থ যদি পরিবর্তন না হয় সেক্ষেত্রে সমস্যা কী? কাছাকাছি সব হাদিস এক জায়গায় দেয়া থাকে। যে কোন হাদিস গ্রন্থ টপিকের (বিষয়বস্তুর) উপর সাজানো থাকে।

শুদ্ধতা নিয়ে আমি সংকিত। সিহা সিত্তার হাদিস নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে কিন্তু বিশেষ করে বুখারী এবং মুসলিমের হাদিস নিয়ে আজও কেউ ভুল বা শুদ্ধ নয় প্রমাণ করতে পারে নি। সংশয় থাকলে আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কোন হাদিস বুখারি বললেই যে সেটা শুদ্ধ তা নয়। আপনাকে হাদিস নাম্বার দেখে সেটা বুখারী শরীফ থেকে কনর্ফাম হতে হবে।

ধন্যবাদ আপনাকে।

০৩ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:১৩

নীল আকাশ বলেছেন: বুখারী শরীফে নিয়ে সন্দেহ করেছেন তো এটা পড়ে দেখুন, উনি নিজে কী বলেছেন?

হাদীসের বিশুদ্ধতা রক্ষার বিষয়ে তাঁর কঠোরতার কারণে তিনি হাদীস শ্রবণের সময় থেকে বর্ণনার সময় পর্যন্ত পুরোপুরি মুখস্থ রাখাকে হাদীস বর্ণনার বৈধতার শর্ত বলে গণ্য করতেন। তিনি বলেন:
لا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يُحَدِّثَ مِنْ الْحَدِيثِ إلا بِمَا يَحْفَظُهُ يَوْمَ سَمِعَهُ إلَى يَوْمِ يُحَدِّثُ بِهِ
‘‘যে হাদীস শ্রবণের দিন থেকে বর্ণনার দিন পর্যন্ত মুখস্থ আছে সে হাদীস ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করা কোনো মানুষের জন্য সঠিক নয়।’’(২)
শুধুই সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীসের উপর নির্ভর করার বিষয়ে তিনি বলেন:
إذا جاء الحديث الصحيح الاسناد عن النبي ﷺ عن الثقات أخذنا به فإذا جاء عن أصحابه لم نخرج عن أقاويلهم فإذا جاء عن التابعين زاحمتهم
‘‘যখন নির্ভরযোগ্য রাবীদের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কোনো হাদীস সহীহ সনদে আমাদের কাছে আসে তখন আমরা তা গ্রহণ করি। যখন এরূপ কথা সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত হয় তখন আমরা তাঁদের কথার বাইরে যাই না। আর যখন তাবিয়ীগণের কথা বর্ণিত হয় তখন আমরা তাঁদের সাথে ভীড়ের মধ্যে প্রবেশ করি।’’(৩)
তিনি দুর্বল মুহাদ্দিস বা রাবীদের শুধু বর্জনই করতেন না, উপরন্তু তাদের মিথ্যাচার বা দুর্বলতা প্রকাশ করে হাদীসের বিশুদ্ধতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন করতেন। কয়েকজন দুর্বল রাবী সম্পর্কে তিনি বলেন:
ما رأيت فيمن رأيت أفضل من عطاء وما لقيت فيمن لقيت أكذب من جابر الجعفي ما أتبته قط بشئ من رأي الا جاءني فيه بحديث وزعم ان عنده كذا وكذا ألف حديث عن رسول الله ﷺ لم يظهرها...
‘‘আমি যাদেরকে দেখেছি তাদের মধ্যে আতা ইবন আবী রাবাহের চেয়ে উত্তম কাউকে দেখি নি এবং জাবির জুফীর চেয়ে অধিক মিথ্যাবাদী আর কাউকে দেখি নি। আমি যে কোনো কিয়াসী মাসআলা তাকে বললেই সে তার পক্ষে একটি হাদীস বলে দিত। সে দাবী করত যে, তার কাছে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এত হাজার হাদীস রয়েছে, যা সে এখনো প্রকাশ করে নি।’’ (৪)

সূত্রঃ
২ - ইবন আবিদীন, হাশিয়াতু রাদ্দিল মুহতার ১/১৫২; কুরাশী, তাবাকাতুল হানাফিয়্যাহ, পৃ. ২৫৭।
৩ - সাইমারী, আখবারু আবী হানীফা, পৃ. ৭৪; ইবন আব্দুল বার, আল-ইনতিকা পৃ. ১৪৪।
৪ - আইনী, মাগানীল আখইয়ার ৩/৩৬৯; ইবন আদী, আল-কামিল ২/১১৩; ইবন হাজার, তাহযীব ২০/৮০; তিরমিযী, আস-সুনান ১২/৪৯২।

২১| ০৪ ঠা মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৫১

নতুন বলেছেন: শুদ্ধতা নিয়ে আমি সংকিত। সিহা সিত্তার হাদিস নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে কিন্তু বিশেষ করে বুখারী এবং মুসলিমের হাদিস নিয়ে আজও কেউ ভুল বা শুদ্ধ নয় প্রমাণ করতে পারে নি। সংশয় থাকলে আপনিও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কোন হাদিস বুখারি বললেই যে সেটা শুদ্ধ তা নয়। আপনাকে হাদিস নাম্বার দেখে সেটা বুখারী শরীফ থেকে কনর্ফাম হতে হবে।

লেখক বলেছেন: বুখারী শরীফে নিয়ে সন্দেহ করেছেন তো এটা পড়ে দেখুন, উনি নিজে কী বলেছেন?

হাদীসের বিশুদ্ধতা রক্ষার বিষয়ে তাঁর কঠোরতার কারণে তিনি হাদীস শ্রবণের সময় থেকে বর্ণনার সময় পর্যন্ত পুরোপুরি মুখস্থ রাখাকে হাদীস বর্ণনার বৈধতার শর্ত বলে গণ্য করতেন। তিনি বলেন:
لا يَنْبَغِي لِلرَّجُلِ أَنْ يُحَدِّثَ مِنْ الْحَدِيثِ إلا بِمَا يَحْفَظُهُ يَوْمَ سَمِعَهُ إلَى يَوْمِ يُحَدِّثُ بِهِ
‘‘যে হাদীস শ্রবণের দিন থেকে বর্ণনার দিন পর্যন্ত মুখস্থ আছে সে হাদীস ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করা কোনো মানুষের জন্য সঠিক নয়।’’(২)


মানুষ পছন্দের জিনিসকে অতিরন্জিত করতে পছন্দ করে, হাদীসের বিশুদ্দতার কথায় নানান কাহিনি আছে যাতে সহী বুখারীর বিশুদ্ধতা ১০০% এর উপরে বলে মানুষের মনে হবে।

কিন্তু মানুষ ভুলে যায় যেই ২০০ বছর পরে হাদিস গুলি সংগ্রহ করা হয়েছে সেই ২০০ বছরে মুসলমানেরা কি কি করেছে...

* রাসুল সা: এর ২ নাতীকে হত্যা করেছে
* রাসুল সা: এর ৩ খলিফাকে হত্যা করেছে
* রাসুল সা: এর কন্যার বাড়ীতে আক্রমন করেছে
* রাসুল সা: কন্যার জানাজা তে খলিফাকে ডাকেনাই। এবং কবরটিও একা দেওয়া হয়েছে।
* রাসুল সা: এর স্ত্রীর সাথে রাসুল সা: এর জামাতার যুদ্ধে ৩০০০ এর মতন মানুষ মারা গেছেন, দুই দলে ২০ এবং ৩০ হাজারের মতন যোদ্ধা ছিলো।
* অনেক ভন্ড নবী দাবী করেছিলো।

এমন অনেক ঘটনা পাড়ি দিয়েছিলো এই ২০০ বছরে... তাই হাদীসের বিশুদ্ধতা অবশ্যই প্রশ্নবিধ্য... বিশ্বাসীরা চায় বিশ্বাস করতে... কিন্তু সত্য আলাদা হতেই পারে।

২২| ২০ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪৩

যুবায়ের আলিফ বলেছেন: লিখাটি বড় হলেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ধন্যবাদ।

২২ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:০৭

নীল আকাশ বলেছেন: লেখাটা পড়ার এবং সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.