| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গত বৃহস্পতিবার একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বহু লোককে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করার নায়ক দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু রাজাকারের বিরুদ্ধে ফাঁসির আদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সারাদেশে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। নতুন প্রজন্ম, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে যারা অনঢ় তারা যেমন উল্লাসে ফেটে পড়ে, তেমনি দেশের প্রতিটি প্রান্তে, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায়, হাটবাজারে মানুষের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মত। কেউ কেউ এমন রায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নিজেদের অজান্তেই অনেকের চোখ দিয়ে গড়িয়ে পড়তে থাকে জল। আর দেলু রাজাকারের নিজের এলাকা পিরোজপুরের মানুষের মধ্যে বিশেষ করে যারা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্য তারা দীর্ঘ ৪২ বছর ন্যায় বিচার পেয়ে যার পর নাই খুশী হন।
কিন্তু দেশের ১৬ কোটি মানুষের এই খুশী বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেনি। এই আনন্দকে ম্লান করে দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কঠিন পৈশাচিকতায় মেতে উঠে একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, রাজশাহী, নাটোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাপাইনবাবগঞ্জ, নীলফামারী, জয়পুরহাট, দিনাজপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কোথাও প্রকাশ্যে আবার কোথায় চোরাগুপ্তা হামলা চালিয়েছে নিরীহ জনসাধারণের উপর। পুলিশ ফাঁড়ি লুট করেছে। পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে। পুলিশ হত্যা করেছে। মন্দির ভাংচুর করেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে, আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তাদেরকে প্রতিরোধ করতে গেলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।এতে করে পাল্টাপাল্টি হামলায় সারাদেশে প্রথম দিনেই মারা যান পুলিশসহ প্রায় ৩৮ জন। এরপর শুক্র ও শনিবার জামায়াত-শিবিরের এই সন্ত্রাসী তান্ডব চলে অব্যাহতভাবে। যার ফলে গতকাল পর্যন্ত তিন দিনে সারাদেশে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০ জনের মত।এদের মধ্যে সরকারি দলের নেতাকর্মীও রয়েছেন। আছেন সাধারণ মানুষ, রিকশা চালক, দিনমজুর। সর্বশেষ গত রাতে সিলেট শহরের মদীনা মার্কেট এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক জগৎ জ্যোতি তালুকদারকে।
জামায়াত-শিবিরের এই তান্ডব একেবারে পরিস্কার ’৭১ এর যুদ্ধকালীন চিত্রই ফুটিয়ে তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধকালীন নয় মাস সারা দেশে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগি জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ছাত্র সংঘের (বর্তমান ছাত্র শিবির) নেতৃত্বে গড়ে তোলা রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী সারাদেশ জুড়ে এমন হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সেদিন তাদের এই তান্ডব থেকে বাদ যায়নি ছাত্র-শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিক, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। বরং সেদিন বেছে বেছে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগ করেছিল জামায়াতের ইসলামী। আমাদের মা-বোনকে গনিমতের মাল বলে তারা সেদিন ভোগ করেছিল।
আজ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর পুরো জাতি যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে একাট্টা ঠিক তখন জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা একই উম্মাদনায় মেতে উঠেছে।
আশির দশকের শেষের দিকে এদেশে এরশাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ার সুযোগ হয়েছিল। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের শেষ সময়ে ’৯০ এর গণ-অভ্যূত্থানের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজপথে থাকার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু আজ জামায়াত-শিবির যে পৈশাচিকতা শুরু করেছে দেশব্যাপী এরকম দৃশ্য কখনই দেখার সুৃযোগ হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে যে একটানা তান্ডব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির সেই তান্ডবে নতুন করে ঘি ঢাললেন বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবার বিকেলে এক ব্রিফিং এ প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র (জামায়াতের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত আমীর) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বললেন, দেশে গণহত্যা চলছে। এটি একাত্তরকেও ছাড়িয়ে গেছে। তিনি তার ব্রিফিং এ বেশকিছু উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেন। সরকারের গণহত্যার প্রতিবাদে দেশবাসীকে রাস্তায় নেমে আসার আহ্বান জানালেন। শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদী এবং কুচক্রি বলে মন্তব্য করলেন। পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীকে তিরস্কার করলেন। কিন্তু গণহত্যার কোন ব্যাখ্যা দিলেন না। কিভাবে গণহত্যা সংঘঠিত হচ্ছে সেটা বললেন না। তার চেয়েও ভয়াবহ হচ্ছে- তিনি জামায়াত-শিবিরের কোন অপরাধ দেখলেন। পুলিশ ফাঁড়ি লুটের ঘটনা তার নজরে আসেনি। হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির ভাংচুর ও লুট হয়েছে সেটা দেখেননি। তিনি বললেন, দেশে যে এতো মানুষ মারা গেছে সবই পুলিশ আর সরকারি দলের লোকজন পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু শিবিরের হামলায় পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, এমনকি সরকারি দলের নেতাকর্মী যে মারা গেছে সেটা দেখলেন না। তাদের জন্য কোন দুঃখও প্রকাশ করলেন না। উল্টো তিনি জামায়াতের ডাকা রবি ও সোমবারের হরতালের সঙ্গে আরেকদিন যোগ করে মঙ্গলবার সারাদেশে হরতাল ডাকলেন। তার এই কর্মসূচী দিয়ে তিনি পরিস্কার করলেন বিএনপি জামায়াতের একটি লেজুর সংগঠন।
বেগম জিয়া তার বক্তব্যে উস্কানি দিলেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার। ধর্ম নিয়ে তার অনুসারি মাহমুদুর রহমান বিগত কয়েকদিন যেসব খবর তার চটি পত্রিকায় প্রকাশ করলেন সেগুলোকে আমলে নিয়ে আরেকবার সেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন সব কথা বললেন। জামায়াতে ইসলামী বিএনপি শাখার গুলশানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই ব্রিফিং-এর পর পরই জামায়াত-শিবিরের তান্ডব যেন আরো বেড়ে গেল। মরিয়া জামায়াত-শিবির খালেদার বক্তব্যের যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো। সব মিলিয়ে সারাদেশে জামায়াত-শিবির যে পৈশাচিকতা শুরু করেছে তা খুবই ভয়ঙ্কর।
এই তান্ডব এখনই রুখার সময়। আর কোন লাশ নয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে আর কোন হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট নয়, পুলিশ হত্যা কিংবা সাধারণ মানুষকে হত্যা, বাড়িঘর ভাংচুর লুটপাট নয়। যে যে অবস্থায় আছেন তারা সেই অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার মোক্ষম সময় এখন। আইনশৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন একটা শক্ত সামাজিক প্রতিরোধ। জামায়াতী তান্ডব রুখতে এর চেয়ে বড় অস্ত্র আর কিছু হতে পারে না। মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধই এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা করতে পারে আমাদের এই লাল-সবুজের বাংলাদেশটাকে। মনে রাখতে শকুনরা মরণ কামড়ে মেতে উঠেছে। সুযোগ দিলে তারা ছোবল মারতে এতোটুকু দ্বিধা করবে না।
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ২:১৯
নিজামুল১৯৭৫ বলেছেন: চোখ থাকিতে অন্ধ আর কি...
২|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ২:২৫
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ২:২৯
নিজামুল১৯৭৫ বলেছেন: মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে আর কতকাল চলবে...বিদেশী প্রভূরা তো...
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা মার্চ, ২০১৩ রাত ২:০৭
কালবৈশাখীর ঝড় বলেছেন:
পুলিশ ফাঁড়ি লুটের ঘটনা তার নজরে আসেনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর,
মন্দির ভাংচুর ও লুট হয়েছে সেটা দেখেননি।