| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ধর্ম ব্যবসায়ী জামায়াত-শিবিরের নতুন প্রতারণা...
দু’একটি এলাকা ছাড়া সারাদেশের সিংহভাগ মানুষই তখন গভীর ঘুমে। ভোরের সূর্য তখনও প্রস্ফুটিত হয়নি। আলো ছড়ায়নি। পূর্ব দিগন্তে সূর্য হয়তো বা উঁকিঝুকি দেয়ার চেষ্টায়। ঠিক তখনই দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়া, জয়পুরহাট, পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পূর্বাঞ্চলের জেলা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালি উপজেলায় শুরু হয়ে গেছে জামায়াত-শিবিরের ভয়ঙ্কর সব তান্ডব। এসব জেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে গভীর রাতে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলা হয়েছে। ডেকে আনা হয়েছে রাস্তায়।
ঘড়ির কাঁটায় রাত তখন চারটা। ধর্মীয় উম্মাদনাকে পুঁজি করে একাত্তরের পরাজিত শকুন জামায়াত-শিবির চক্র ধর্মপ্রাণ ও ধর্মভীরু সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে প্রত্যন্ত গ্রামের মসজিদ থেকে প্রচারণা চালিয়েছে এই বলে যে, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে। যারা বিশ্বাস করেন তারা দ্রুত ঘুম থেকে উঠে চাঁদের দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন সাঈদীকে। কি ভয়ঙ্কর মিথ্যাচার। মসজিদ থেকে এমন আহ্বান শুনে হাজার হাজার নারী পুরুষ ঘুম থেকে উঠে নেমে আসেন রাস্তায়। তারপরের ঘটনা সবাই দেখেছেন, শুনেছেন।
হাজার হাজার নারী-পুরুষকে একত্রিত করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এই মানুষগুলো বগুড়ার চারটি পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়, আগুন দেয়, রেল স্টেশন পুড়িয়ে দেয়। বগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বাড়িতে আগুন দেয়। ভাংচুর করে অসংখ্য দোকানপাট, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। বাণিজ্য মেলায় আগুন দেয়। এক কথায় দানবীয় স্টাইলে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানো হয় বগুড়ার বিস্তির্ণ জনপদে। ভয়াবহ এই হামলার এক পর্যায়ে আক্রান্ত পুলিশ নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালায়।
শুধু বগুড়া নয়, একই মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালানো হয় উত্তরের জেলা জয়পুরহাট, নওগা এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালিতে।
কিন্তু কেন এমনটা করা হল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, ধর্মকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে থাকা জামায়াত-শিবির মহানবী (সাঃ) ও আল্লাহর অপমান করা হয়েছে বলে প্রচার করে ইতিপূর্বে দেশেটাকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য হাসিল না হওয়ায় রোববার রাতে তারা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। তারা নতুন পন্থা হিসেবে কুখ্যাত রাজাকার দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেছে বলে প্রচার করতে থাকে। কিন্তু তাদের মিথ্যা বলার এই অস্ত্র হিসেবে চাঁদের প্রসঙ্গটি প্রচার করে মানুষকে ঘরের বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়।
গত ১ মার্চ বিরোধী দলীয় নেত্রী জামায়াতের অঘোষিত আমির বেগম খালেদা জিয়ার বিবৃতির পর পরিস্থিতি আরো ভয়ংকর করে তুলে জামায়াত-শিবির। বিএনপি বিটের একাধিক সংবাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলাম যে, খালেদা জিয়ার ওই বিবৃতিটি জামায়াতকে ধ্বংসাত্মক কাজে আরো ভয়ঙ্কর করে তুলে। তারা তান্ডব চালানোর জন্য বেছে নেয় বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বগুড়া, জয়পুরহাট, গোদাগাড়ীসহ আরো অনেক এলাকাকে।
আরেকটি ভয়ঙ্কর তথ্য হচ্ছে- হাজার মানুষের এসব মিছিলে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নারী ও শিশুদেরকে। যাতে করে পাল্টা আক্রমণ ঠেকানো যায়।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা মার্চ, ২০১৩ রাত ৩:৪৫
এস দেওয়ান বলেছেন: আমাদের সরকারের ব্যর্থতার কারণে জামাতিরা এত খানি এগোতে পারছে । এক দিনেই এই স্বাধীনতা বিরোধী জামাতকে ঠিক করা যায় ।