নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের (বরিশাল স্টীমারঘাটের সৌন্দর্য্য দেখে বিমোহিত হয়েছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বলেছিলেন, বরিশাল হচ্ছে প্রাচ্যের ভেনিস) উজিরপুর ধানাধীন সাতলা গ্রামে। পিতা প্রাইম

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভাস্কর-মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৬ ই মার্চ, ২০১৯ সকাল ৮:৩৮


বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। কপালে বড় লাল টিপ, চোখে গাঢ় কাজল, গলায় কাঠ, মাটি কিংবা পাথরের গয়না, শান্ত, সৌম্য চেহারা যেখানে তাকালেই এক সতত জননীর রূপ ধরা পড়ে, তিনি ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। যুদ্ধ শেষ হয়েছে। স্বাধীন হয়েছে গোটা একটি দেশ। অনেক প্রাণ আর সম্মানের বিনিময়ে কেনা এই স্বাধীন দেশে পুরস্কৃত হয়েছেন অনেক বীর যোদ্ধা। কেউ বা ইতিহাসের অতলে হারিয়ে গেছেন। কেউ মনে রাখেনি তাদের। কিন্তু যে বিশাল সংখ্যক নারী যুদ্ধ শেষেও নিজের সাথে যুদ্ধ করে গেছেন, নিজের পরিবার, সমাজের ভয়ে সেই অন্ধকার দিনগুলোর কথা মুখ ফুটে কাউকে বলতে পারেননি, তাদের যুদ্ধটা কিন্তু একেবারেই ভিন্ন ছিল। তাদেরই একজন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। মুক্তিযুদ্ধে পাক সেনাদের নির্যাতনের শিকার একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন ভাস্কর, একজন হার না মানা লড়াকু মানবী। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত ভাস্কর। তার শিল্পকর্ম বেশ জনপ্রিয়। মূলত ঘর সাজানো এবং নিজেকে সাজানোর জন্য দামী জিনিসের পরিবর্তে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে কিভাবে সাজানো যায় তার সন্ধান করা থেকেই তার শিল্পচর্চার শুরু। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কিভাবে অল্প খরচে সুন্দরভাবে ঘর সাজাতে পারে সে বিষয়গুলো তিনি দেখিয়েছেন। ঝরা পাতা, মরা ডাল, গাছের গুড়ি দিয়েই মূলত তিনি গৃহের নানা শিল্প কর্মে তৈরি করতেন। তাঁর শিল্পকর্ম বেশ জনপ্রিয়। মূলত ঘর সাজানো এবং নিজেকে সাজানোর জন্য দামী জিনিসের পরিবর্তে সহজলভ্য জিনিস দিয়ে কিভাবে সাজানো যায় তার সন্ধান করা থেকেই তাঁর শিল্পচর্চার শুরু। নিম্ন আয়ের মানুষেরা কিভাবে অল্প খরচে সুন্দরভাবে ঘর সাজাতে পারে সে বিষয়গুলো তিনি দেখিয়েছেন। ঝরা পাতা, মরা ডাল, গাছের গুড়ি দিয়েই মূলত তিনি গৃহের নানা শিল্প কর্মে তৈরি করতেন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। ২০১০ সালে তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক পান। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের (২০১৮) আজকের দিনে তিনি রাজধানী ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। ভাস্কর-মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী ১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, খুলনায় নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং মায়ের নাম রওশন হাসিনা। বাবা-মায়ের ১১ সন্তানের মধ্যে প্রিয়ভাষিণী সবার বড়। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর নানা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম কংগ্রেস করতেন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের শাসনকালে স্পিকার হয়েছিলেন তিনি। ১৯৫২ সালে তার নানা সুপ্রিম কোর্টে কাজ করার জন্য ঢাকা চলে আসেন। প্রিয়ভাষিণীও নানার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় আসেন। ভর্তি হন টিকাটুলির নারী শিক্ষা মন্দিরে। পরবর্তীতে নানা মিন্টু রোডের বাসায় চলে এলে প্রিয়ভাষিণী ভর্তি হন সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুলে। তখন শহীদ জাহানারা ইমাম ছিলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। তিনি খুলনার পাইওনিয়ার গার্লস স্কুল থেকে এসএসসি এবং খুলনা গার্লস স্কুল থেকে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস করেন। কর্মজীবনে ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। মাঝে কিছুদিন স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তিনি ইউএনডিপি, ইউএনআইসিইএফ, এফএও, কানাডিয়ান দূতাবাস প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। শেষ বয়সে এসে নানা শিল্পকর্ম সৃষ্টিতে মনোনিবেশ করেন এবং তা অবিরামভাবে অব্যাহত রাখেন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জীবনের সাথে মিশে আছে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস, মিশে আছে বীরাঙ্গনাদের দুর্বিষহ জীবন কাহিনী। মুুক্তিযুদ্ধের সময় পাকসেনাদের হাতে ধরা পড়লেন প্রিয়ভাষণী। পরবর্তী সাত মাস তাঁকে অসহনীয় যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি একাত্তরের ভয়াবহ ধর্ষণ সম্পর্কে একমাত্র জবানবন্দি-দানকারী। ট্রাইব্যুনালে রাজাকার ও তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জীবনের সাথে মিশে আছে আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের ইতিহাস, মিশে আছে বীরাঙ্গনাদের দুর্বিষহ জীবন কাহিনী। তিনি একাত্তরের ভয়াবহ ধর্ষণ সম্পর্কে একমাত্র জবানবন্দি-দানকারী। ট্রাইব্যুনালে রাজাকার ও তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। যুদ্ধশেষে শুরু হলো তার একার লড়াই। বঙ্গবন্ধু নির্যাতিত নারীদের ‘বীরাঙ্গনা’ বলে সম্মান দিয়েছিলেন। কিন্তু যে জাতি নিজে জাতির পিতাকে খুন করতে পারে, তারা বীরাঙ্গনাকে সম্মান দেবে এটা বোধহয় একটু বেশিই চাওয়া। জীবনের এতো ক্লেদ, এতো নিষ্ঠুরতার পরেও উঠে দাঁড়িয়েছেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। মানুষের কাছ থেকে এতো পাশবিক আচরণ পেয়েও ফিরে গেছেন আবারো মানুষের কাছেই, জীবনের কাছেই। তার জীবনের শত নিষ্ঠুর নির্মমতাই পরবর্তীতে তার জীবনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠে। শিল্পকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১০ সালে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মাননা পান। প্রতিবার পুরস্কার পাওয়ার মুহূর্তে শিশুর মত উচ্ছ্বসিত হতেন আনন্দে। দেশে-বিদেশে ভাস্কর হিসেবে নন্দিত হয়েছেন বারবার। তার শিল্পের সাথে জড়িয়ে আছে তার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। ক্ষয়ে যাওয়া কাঠ যেভাবে সুন্দর হয়ে ওঠে, তার জীবনটাও যেন তেমনি। ২০১০ সালে সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পদক পান। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। ২০১৮ সালের জানুয়ারি,‘সুলতান স্বর্ণপদক’ পান ভাস্কর শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬৩ সালে প্রথম বিয়ে করেন এবং ১৯৭১ সালে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর। ১৯৭২ সালে তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। তাঁর দ্বিতীয় স্বামী আহসান উল্লাহ আহমেদ ছিলেন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। তার ছয় সন্তান কারু তিতাস, কাজী মহম্মদ নাসের, কাজী মহম্মদ শাকের (তূর্য্য), তিন মেয়ে-রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী, রত্নেশ্বরী প্রিয়দর্শিনী ও ফুলেশ্বরী প্রিয়নন্দিনী। বেশ কয়েক বছর ধরেই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা চলছিল তাঁর। গত বছরের নভেম্বর থেকে বেশ কয়বার বাড়ি-হাসপাতাল করার পর সর্বশেষ ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন ধরে নানান শারীরিক জটিলতায় ভোগার পর ৬ মার্চ, ২০১৮, রোজ মঙ্গলবার, বেলা পৌনে ১টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালের সিসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ভাস্কর-মুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ১:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: একজন গ্রেট নারী। স্যলুট জানাই।

২| ০৬ ই মার্চ, ২০১৯ বিকাল ৩:০১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: ভাই,আপনি যে মানুষের জীবনী নিয়ে লিখালিখি করেন এটা সত্যিই খুব প্রশংসনীয়। এতে অন্যরা শিখবে,জানবে,অনুপ্রানীত হবে।
স্যালুট আপনাকে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.