নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে।

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৭


বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, চিত্রনাট্যকার ও লেখক আমজাদ হোসেন । নিজের তৈরি সিনেমার জন্য বেশ কিছু গান লিখেছেন আমজাদ হোসেন। সেসব গানের মধ্যে রয়েছে;একবার যদি কেউ ভালোবাসতো/আমার নয়ন দুটি জলে ভাসতো আর ভালোবাসতো, জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো/ আর কত বল সইবো,। লেখালেখির মাধ্যমেই তার সৃজনশীল জীবন শুরু। ছড়া দিয়ে সাহিত্যের অঙ্গণে তার প্রবেশ। তার প্রথম কবিতা ছাপা হয় বিখ্যাত দেশ (পত্রিকা) পত্রিকায়। ছোটদের জন্যেও তিনি লিখেছেন বহু গল্প, ছড়া এবং উপন্যাস। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস ও গল্প লিখেছেন।ব্যতিক্রমধর্মী এই চলচ্চিত্র নির্মাতা তার কর্মজীবনে ১২টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং ৬টি বাচসাস পুরস্কার অর্জন করেছেন। সাবিনা ইয়াসমিনের (১৩টি) পর তিনি সর্বাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী। এছাড়া তিনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন এবং এক আয়োজনে পাঁচটি বিভাগে (গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্রের জন্য) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। আমজাদ হোসেন ১৯৬১ সালে তোমার আমার চলচ্চিত্রে অভিনয় দিয়ে চলচ্চিত্রে আগমন করেন। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনায় মনোনিবেশ করেন এবং চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র আগুন নিয়ে খেলা (১৯৬৭)। পরে তিনি নয়নমনি (১৯৭৬), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), ভাত দে (১৯৮৪) দিয়ে প্রশংসিত হন। গোলাপী এখন ট্রেনে ও ভাত দে চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত করে। এছাড়া সাহিত্য রচনার জন্য তিনি ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে দুইবার অগ্রণী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও ২০০৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কার লাভ করেন। আজ কিংবদন্তি এই চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছর এই দিনে তিনি ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আমজাদ হোসেন ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। আমজাদ হোসেন একাধারে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, গল্পকার, অভিনেতা, গীতিকার ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত। আমজাদ হোসেন প্রথম জীবনে অভিনয় করেছেন। পরে চলচ্চিত্র পরিচালনায় মনোনিবেশ করলেও আবার অভিনয় করতে শুরু করেন একটা সময়ে। শুধু চলচ্চিত্রই নয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন গুণী নাট্যনির্মাতা ও অভিনেতা হিসেবেও আছে আমজাদ হোসেনের ছিলেন সমাদৃত। ’৮০-র দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঈদের নাটক বলতে ছিল আমজাদ হোসেনের লেখা, পরিচালনায় ও অভিনয়ে ‘জব্বার আলী’ নাটকটি। যা সেই সময়ে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পায়। আমজাদ হোসেন নিজেই অভিনয় করেছেন জব্বার আলী চরিত্রে। আমজাদ হোসেন ১৯৬১ সালে ‘হারানো দিন’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আসেন। পরে তিনি চিত্রনাট্য রচনা ও নির্মাণে মনোনিবেশ করেন। স্বাধীনপরবর্তী বাংলাদেশের চলচ্চিত্রশিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমজাদ হোসেনের। একে একে তিনি নির্মাণ করেন-বাল্যবন্ধু, পিতাপুত্র, এই নিয়ে পৃথিবী, নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, সুন্দরী, কসাই, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, সখিনার যুদ্ধ, ভাত দে, হীরামতি, প্রাণের মানুষ, সুন্দরী বধূ, কাল সকালে, গোলাপী এখন ঢাকায়, গোলাপী এখন বিলেতে নামের দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্রগুলো।১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ‘আগুন নিয়ে খেলা’ নামে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ‘নয়নমণি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘ভাত দে’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাণ করে বেশ প্রশংসিত হন তিনি।দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি ‘ভাত দে’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’র মতো কালজয়ী অনেক সিনেমা নির্মাণ করেছেন। ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ ও ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক (১৯৯৩) ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে আমজাদ হোসেনের দুই পুত্র সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ও সোহেল আরমান। তার দুজনেই পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার। গতবছর ১৮ নভেম্বর আমজাদ হোসেন ব্রেন স্ট্রোক করলে তাকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইমপালস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন তিনি। এরপর তার চিকিৎসার সব দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নত চিকিৎসার খরচ বাবদ নন্দিত এই নির্মাতার পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকা এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাবদ ২২ লাখ টাকা দেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২৭ নভেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’খ্যাত পরিচালককে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি প্রখ্যাত নিউরোসার্জন টিরা ট্যাংভিরিয়াপাইবুনের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ৭৬ বছর বয়সে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন বরেণ্য চিত্রনির্মাতা আমজাদ হোসেন। ২০শে ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে পৌঁছায় এবং দাফন শেষে জামালপুরের পৌর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আজ কিংবদন্তি এই চলচ্চিত্র নির্মাতার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। ব্যতিক্রমধর্মী চলচ্চিত্র নির্মাতা আমজাদ হোসেনের ১ম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
[email protected]

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৩

মনির হোসেন মমি বলেছেন: শ্রদ্ধার সহিত স্বরণ করছি তার অবদানগুলো। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা সহ লেখায় ভাল লাগা জানিয়ে গেলাম।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:২৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন: '
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ মমি ভাই
কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা
আমজাদ হোসেনের
মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা
জানানোর জন্য।

২| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৪

নজসু বলেছেন:



শ্রদ্ধা।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আপনাকেও ধন্যবাদ সুজন ভাই।
ভালো থাকবেন, শুভেচ্ছা জানবেন।

৩| ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:৫২

রাজীব নুর বলেছেন: উনার সিনেমা আমি দেখেছি।
প্রতি বছর ঈদের সময় উনি একটা করে নাটক বানাতেন। সুন্দর নাটক।
উনার ছেলে এখন মনে হয় আর অভিনয় করেন না।

১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
প্রতি ঈদে "জব্বার আলীর ঈদ'" না দেখলে
ঈদের আনন্দই মাটি হতো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.