নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে।

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী মহাশ্বেতা দেবীর ৯৪তম জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৮


বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও সমাজকর্মী মহাশ্বেতা দেবী। ‘হাজার চুরাশির মা’ নামের কালজয়ী উপন্যাসটির লেখক হিসেবে যিনি পাঠকমহলে বেশি পরিচিত। এছাড়াও তার লেখা শতাধিক উপন্যাসের মধ্যে অগ্নিগর্ভ, অরণ্যের অধিকার, চোট্টি মুণ্ডা এবং তার জীবন, তিতুমীর, আঁধারমানিক, সাম্প্রতিক, কৃষ্ণা দ্বাদশী, গণেশ মহিমা, শালগিরার ডাকে, নীলছবি, বেনেবৌ, উনত্রিশ নম্বর ধারার আসামীসহ অনেকগুলো বাংলাদেশের পাঠকমহলেও বেশ আলোচিত। তাঁর লেখা উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে ‘রুদালি’র মতো বহু নন্দিত সিনেমাও। তাঁর উপন্যাস ইংরেজি, জার্মান, ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী হিসেবে মহাশ্বেতা দেবী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীসগঢ় রাজ্যের আদিবাসী উপজাতিগুলির (বিশেষত লোধা ও শবর উপজাতি) অধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার (বাংলায়), জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার সহ একাধিক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের চতুর্থ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান যথাক্রমে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণে ভূষিত করেছিল। আজ এই লেখিকার ৯৪তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের আজকের দিনে তিনি আমাদের দেশের রাজধানী ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। দেশভাগের পর তাঁরা চলে যান কলকাতায়। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী মহাশ্বেতা দেবীর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা। কম

মহাশ্বেতা দেবী ১৯২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মণীশ ঘটক ছিলেন কল্লোল যুগের সাহিত্যিক। মা ধরিত্রী দেবীও ছিলেন একাধারে লেখিকা ও সমাজসেবী। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক তাঁর কাকা। তাঁর ভাইয়েরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে খ্যাতিমান ছিলেন। যেমন, শঙ্খ চৌধুরী ছিলেন বিশিষ্ট ভাস্কর এবং শচীন চৌধুরী ছিলেন দি ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিক্যাল উইকলি অফ ইন্ডিয়া পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। তাঁর পৈতৃক বাড়ি পাবনায়। মহাশ্বেতা দেবীর শৈশব কেটেছে ঢাকার লক্ষ্মীবাজার ও জিন্দাবাহার রোডে। স্কুলের পড়াশোনাও ঢাকায়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজনের পর তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন। এরপর তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠভবনে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
কর্মজীবনে ১৯৬৪ সালে মহাশ্বেতা দেবী বিজয়গড় কলেজে (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক অনুমোদিত কলেজ) শিক্ষকতা শুরু করেন। সেই সময় বিজয়গড় কলেজ ছিল শ্রমিক শ্রেণির ছাত্রীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই সময় মহাশ্বেতা দেবী একজন সাংবাদিক ও একজন সৃজনশীল লেখক হিসেবেও কাজ চালিয়ে যান। তিনি পশ্চিমবঙ্গের লোধা ও শবর উপজাতি, নারী ও দলিতদের নিয়ে পড়াশোনা করেন।
মুণ্ডা বিদ্রোহের পটভূমি নিয়ে লেখা মহাশ্বেতা দেবীর উপন্যাস ‘অরণ্যের অধিকার’ ১৯৭৯ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পায়। তাঁর উপন্যাস ইংরেজি, জার্মান, ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। উত্তর-ঔপনিবেশিক গবেষক গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক মহাশ্বেতা দেবীর ছোটোগল্পগুলি ইংরেজিতে অনুবাদ করে তিনটি গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন। এগুলি হল ইম্যাজিনারি ম্যাপস (১৯৯৫, রুটলেজ), ওল্ড ওম্যান (১৯৯৭, সিগাল) ও দ্য ব্রেস্ট স্টোরিজ (১৯৯৭, সিগাল)।
সাহিত্যে অবদানের জন্য ভারত সরকার ২০০৬ সালে তাঁকে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাগরিক পুরস্কার পদ্মবিভূষণে ভূষিত করে। এ ছাড়া পদ্মশ্রী পুরস্কার, র‌্যামন ম্যাগসেসাই অ্যাওয়ার্ড, জ্ঞানপীঠ অ্যাওয়ার্ড, বঙ্গবিভূষণ, সার্ক সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন প্রখ্যাত এই সাহিত্যিক।

মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী মহাশ্বেতা দেবী বহুবার ভারতের উপজাতি মানুষদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। বিগত ছয় দশক ধরে সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি সমানে লড়াই চালিয়ে গেছেন সামাজিক অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে। অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষদের জন্য তাঁর লড়াই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কখনো আইনের লড়াই, কখনো মিটিং, মিছিল, কখনো বা সাহসী চিঠি বা লেখনী। তাঁর অনমনীয়, আপোষহীন কলম বারে বারে প্রতিবাদ জানিয়েছে মানব সভ্যতার শত্রুদের বিরুদ্ধে। ব্রিটিশরা লোধা, শবরদের অপরাধপ্রবন জাতি ঘোষণা করেছিল। স্বাধীন ভারতে যাতে সেই তকমা টা তুলে ফেলা যায় তার জন্যে মহাশ্বেতা লড়াই শুরু করেন। মিশে গেছিলেন তাদের জীবনের সাথে। তাঁর সেই লড়াই আমরা আবার দেখেছি সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়ের আমলে বিনা বিচারে আটকে রাখা রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য। ধারাবাহিক ভাবে লড়াই করেছেন ভূমিদাস প্রথা, গুজরাত হত্যাকাণ্ড, নর্মদা বাঁধ, এমন কি সিঙ্গুর–নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়। অসংখ্য সংগঠনের সঙ্গে তিনি সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন যার মধ্যে দিনমজুর, রিক্সা, বিড়ি শ্রমিক, সাইকেল চালক, মিষ্টি বিক্রেতা, বাউল গায়ক, ইট ভাটা মজদুর, মৃৎশিল্পী সংগঠন ও ছিল। ২০১৬ সালের জুন মাসে মহাশ্বেতা দেবীর আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ঝাড়খণ্ড সরকার বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা বিরসা মুন্ডার একটি মূর্তিকে শৃঙ্খলামুক্ত করে। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের শাসনকালে গৃহীত শৃঙ্খলিত বিরসা মুন্ডার একটি আলোকচিত্রের ভিত্তিতে মূর্তিটি নির্মিত হয়েছিল। এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) (সিপিআই(এম))-নেতৃত্বাধীন সরকারের শিল্পনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। বিশেষত, তিনি কৃষকদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণ করে তা অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে শিল্পপতিদের দিয়ে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন। ২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন। এই নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সিপিআই(এম)-এর ৩৪ বছর ব্যাপী শাসনকালের অবসান ঘটেছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনে তিনি প্রথম জীবনে কয়েক বছর অতিবাহিত করেছিলেন। সেই শান্তিনিকেতনের বাণিজ্যিককরণের বিরোধিতা করেছিলেন মহাশ্বেতা দেবী। নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের বিতর্কিত জমি অধিগ্রহণ নীতির বিরুদ্ধে বহুসংখ্যক বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, লেখক ও নাট্যকর্মীকে একত্রিত করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে মহাশ্বেতা দেবী ১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্যকে বিবাহ করেন। বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন ভারতীয় গণনাট্য সংঘ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা পথপ্রদর্শক। ১৯৪৮ সালে তাঁদের পুত্র নবারুণ ভট্টাচার্যের জন্ম হয়। নবারুণ ভট্টাচার্য পরবর্তীকালে ঔপন্যাসিক ও রাজনৈতিক সমালোচক হয়েছিলেন। মহাশ্বেতা দেবী একটি ডাকঘরেও চাকরি গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কমিউনিস্ট মনোভাবের জন্য তাঁকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয়। এরপর তিনি জীবিকা নির্বাহের জন্য সাবান বিক্রয় এবং নিরক্ষরদের জন্য ইংরেজিতে চিঠি লিখে দেওয়ার মতো কাজও করেছেন। এরপর তাঁর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তাঁদের সংসার-জীবন পনেরো বছরের বেশি টেকেনি। কিন্তু মহাশ্বেতা দেবী নিজেই পরবর্তীকালে বিজন ভট্টাচার্য সম্পর্কে বলেন - ‘Bijan has shaped my talent and given it permanent form. He has made me into what I am today.’ সংসার ভেঙে গেলেও ছেলের জন্য খুব ভেঙে পড়েছিলেন। সে-সময় তিনি অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করতেও গিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের চেষ্টায় বেঁচে যান। হাজার চুরাশির মা উপন্যাসে তিনি ছেলে থেকে বিচ্ছিন্ন হবার যন্ত্রণার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন বলে জানান। এরপর তিনি অসিত গুপ্তকে বিয়ে করেন ১৯৬৫ সালে, কিন্তু সেই সংসারও ১৯৭৬ সালে ভেঙে যায়। নিঃস্বঙ্গ জীবন, বিচ্ছেদ-বিরহ-বেদনায় তিনি নিজেকে সঁপে দেন লেখা এবং শিক্ষার ব্রতে। তিনি আদিবাসীদের নিয়ে প্রচুর ছোটগল্পও লিখেছেন, গল্পগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখ্য - শালগিরার ডাকে (১৯৮২), ইটের পরে ইট (১৯৮২), হরিরাম মাহাতো (১৯৮২), সিধু কানুর ডাকে (১৯৮৫) প্রভৃতি। এই সব গল্প-উপন্যাসে তিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সামরিক নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে যেমন আদিবাসী প্রতিবাদী চরিত্র চিত্রিত করেছেন, তেমনি এদেশীয় সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার শোষণের প্রতি প্রতিবাদ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরে তুলে ধরেছেন। বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে বহুমাত্রিকতা ও দেশজ আখ্যানের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য মহাশ্বেতা দেবী স্বতন্ত্র ঘরানার লেখক হিসেবে বরেণ্য। উপমহাদেশসহ সারাবিশ্বের নানা ভাষায় তার সাহিত্যকর্ম পঠিত ও আলোচিত হয়েছে।

২০১৬ সালের ২৩ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহাশ্বেতা দেবী কলকাতার বেল ভিউ ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেই বছরই ২৮ জুলাই একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে। তিনি মধুমেহ, সেপ্টিসেমিয়া ও মূত্র সংক্রমণ রোগেও ভুগছিলেন। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় প্রয়াত সাহিত্যিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে বহুমাত্রিকতা ও দেশজ আখ্যানের অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য মহাশ্বেতা দেবী স্বতন্ত্র ঘরানার লেখক হিসেবে বরেণ্য। শুধু সাহিত্যিক এ পরিচয়ের মধ্যেই আটকে থাকেননি মহাশ্বেতা দেবী। দলিত, আদিবাসী নারীদের অধিকারের দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের পিছিয়ে থাকা লোধা ও শবরদের নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছেন। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয় বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ের আদিবাসী নারীদের অধিকারের দাবিতেও লড়াই করেছেন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত এই সাহিত্যিক। শুধু ম্যাগসাইসাই নয়, পদ্মবিভূষণ, পদ্মশ্রী, জ্ঞানপীঠ, সাহিত্য আকাদেমি, বঙ্গবিভূষণসহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই সাহিত্যিক। তবে তার সবচেয়ে বড় পুরস্কার_ তিনি প্রান্তিক মানুষ আদিবাসী, শবর ও লোধা জনগোষ্ঠীর আপন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন।সহানুভূতি, সাম্য ও ন্যায়বিচারের এক কণ্ঠস্বর মহাশ্বেতা দেবীর ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী মহাশ্বেতা দেবীর জন্মবার্ষিকীতে ফুলেল শুভেচ্ছা।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল
ফেসবুক লিংক
[email protected]

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৩২

রাজীব নুর বলেছেন: মহাশ্বেতা দেবী আর নবনীতা সেনকে আমি গুলিয়ে ফেলি।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:২৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
এবার থেকে আলাদা করার চেষ্টা করবেন।

২| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৪৯

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
আমাদের এই বাংলাদেশেই জন্ম নেয়া এক বাংগালী শক্তিমান লেখিকা মহাশ্বতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লেখাটি পাঠ করলাম ।
তার জীবনের উল্লেখযোগ্য দিকগুলি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন । পোষ্টটি প্রিয়তে গেল ।

তাঁর লেখার কারণ ও অনুপ্রেরণা ছিল সমাজের সেই মানুষগুলো যাদের পদদলিত করা হয় এবং ব্যবহার করা হয় কায়েমী স্বার্থের জন্য, অথচ যারা কখনো হার মানেনা ।মহাশ্বেতার মতে এই অত্যাচারিতরাই হলো আশ্চর্য মহত ব্যক্তি । তাঁর কথার প্রতিফলন পাওয়া যায় তাঁর লেখায় , প্রসঙ্গক্রমে এখানে তাঁর লেখা ‘অরণ্যের অধিকার’ উপন্যাসটির কথা বলা যায় । উপন্যাসটি আমি একসময় পড়েছি। উপন্যাসটি শুরুই হয়েছিল একটি জেলখানার মধ্যে মুমূর্ষু একজন ব্যক্তি বীরসার আর্তনাদে আর্তস্বরের মাধ্যমে । যার জীবন শুরু অরণ্যে থেকে এরপর শিক্ষা লাভের নিমিত্ত মিশনে ভর্তী , সেখান হতে ধীরে ধীরে বিপ্লবী ও বিদ্রোহী হয়ে উঠা, চূড়ান্ত পর্যায়ে ভগবানে রূপ নেয়া । এরপর বীরসার ফাঁসির হুকুম ।সব মিলিয়ে রিমান্ডে বীরসার মৃত্যু ।উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দু অরণ্য । অরণ্যে বসবাস এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দিকু শ্রেণীর ( প্রভাবশালী) মধ্যে মুন্ডা জনগোষ্ঠির যে প্রতিবাদ ও সংগ্রাম সে সকল দৃশ্যই তুলে ধরেছেন মহাশ্বেতা দেবী।

প্রকৃতির বুকে বিচরণকারী স্বাধীন মুন্ডার মানুষগুলো বংশানুক্রমিক দাসে পরিণত হত স্থানীয় জমিদারের অত্যাচারে ।
সেই অবস্থায় জমি, গরুবাছুর বিক্রি করে তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পিতৃপুরুষের গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যেত। নতুন কোনো স্থানে জঙ্গল কেটে বসত করত। আরো ছিল শ্রমিকের দালাল, যারা নানা ভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আদিবাসীদের চা-বাগানের কুলি হিসেবে অনেককে নিয়ে যেত। সেখানে যারা যেত, তারা পরিচয় হারিয়ে আর কখনো ফিরে আসতে পারত না। আরদিকে খ্রিস্টান মিশনারিরা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে স্কুল খুলে ধর্ম প্রচারের কাজও চালাচ্ছিল। যারা খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হত, তাদের অনেকেই নিজেদের প্রাচীন রীতিনীতিকে অবজ্ঞা করতে আরম্ভ করছিল। মিশন তাদের শুধু ধর্ম শিখাত আর সামান্য কিছু খাবার যোগাত, কিন্তু অত্যাচারের কোনো প্রতিকার করতে সাহায্য করত না।

মুন্ডা জনগোষ্ঠির লোকজন ধর্মান্তরিত হয়েছে পেটের ক্ষুধার দায়ে, কিন্তু পরিনামে তাদের কোন লাভ হয়নি । কারণ তারা যে বিদ্রোহটা করতে চেয়েছিল এবং যে অধিকার লাভের জন্য তাদের চিরদিনের পীড়ন সেটা পরিপুর্ণতা লাভ করেনি । তাই তারা আবার নীজের ধর্মে ,নীজ সংস্কৃতিতে ফিরে এসেছে ।কেননা স্বভাষায় স্বজাতীয় সংস্কৃতিতে যে কোন বিষয় যতটা না গভীরে ও যৌক্তিকভাবে ফুটিয়ে তোলা যায় সেটা অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে অন্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না ।

মহাশ্বেতা দেবী এই প্রতিবাদী ,সংগ্রামী বিপ্লবীদের কথাই তুলে ধরেছেন তাঁর উপন্যাসে । যাদের কথা কেও বলেনা ,যাদের হয়ে কেও কাজ করেনা করতে চায় না তাদের হয়েই মহশ্বেতা দেবী কলম তুলে নিয়েছন হাতে ।তাঁর কলমে উঠে এসেছে কাহিনীর নায়ক বীরসার জবানীতে বিপ্লব ও বিদ্রোহের প্রতিচ্ছবি । বীরসার কন্ঠে ধ্বনিত হয়েছে – আমি তাদের দুলাই না ভুলাই না , তাদের বাচতে শিখাব ,মরতে শিখাব ,আবার মারতেওশিখাব । বীরসার এই বিপ্লবের চেতনা ছড়িয়ে পরেছিল সমগ্র মুন্ডা জনগোষ্ঠির মধ্যে।

উল্লেখ্য যে মুন্ডা বিদ্রোহ ছিলো ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে উনিশ শতকের প্রথমাংশে সংঘটিত একটি আদিবাসী কৃষক বিদ্রোহ। বিরসা মুন্ডার নেতৃত্বে ১৮৯৯-১৯০০ সালে এই বিদ্রোহ সংগঠিত হয়। রাঁচির দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্ট এই বিদ্রোহকে মুন্ডারি ভাষায় বলা হয় ‘উলগুলান’ যার অর্থ 'প্রবল বিক্ষোভ'।এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য ছিল মুন্ডা রাজ ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা।

এই গুণী লেখিকার প্রতি রইল শ্রদ্ধাঞ্জলী ।

আপনার প্রতি রইল শুভেচ্ছা ।

৩| ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলী ভাই আপনাকে
অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার মন্তব্যে এবং
উদ্ধৃতিতে আমার লেখাটি সমৃদ্ধ করার জন্য।
আপনার সুচিন্তিত মন্তব্য এবং সংযুক্ত তথ্য
আমাকে আরো অনুপ্রানিত করেছে গুনীজনদের
নিয়ে লেখার জন্য। ভালো থাকবেন। শুভেচ্ছা জানবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.