নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইজিপ্টের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের প্রায়ণ

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১১:৫৩


প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতাসীন থাকার পর ২০১১ সালে আরব বসন্তে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক মারা গেলেন আজ। ৯১ বছর বয়সী এই স্বৈরশাসকের মৃত্যুর খবর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। মিসরে গণঅভ্যুত্থানের আগে তিনি প্রায় তিন দশক ১৯৮১ থেকে ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দেশটির রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। কিশোর বয়সেই বায়ুসেনার নাম লিখিয়েছিলেন মুবারক। ১৯৭৩ সালের আরব-ইজরায়েল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন শান্তিচুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৫ সালে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিযুক্ত হন এবং সাদাত নিহত হবার পর ১৯৮১ সালের ১৪ই অক্টোবর মুবারাক মিশরের রাষ্ট্রপতি হন এবং মোহাম্মদ আলীর পর প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক হচ্ছেন মিসরের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক। রাজনীতিতে প্রবেশের পূর্বে মুবারাক মিশরীয় বিমান বাহিনীর একজন কমান্ডার হিসেবে ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি মুবারাকের শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা দেয়। ২০১১ সালে সেনাবাহিনীর হাতে তিনি ক্ষমতা হারান। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই মাস পর ২০১১ সালের এপ্রিলে গ্রেপ্তার হন হোসনি মোবারক। তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দী ছিলেন। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কড়া নিরাপত্তায় সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকেন। পরে দীর্ঘ ছয় বছর কারাগারে রাখার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। শেষ জীবন নিজের হেলওপলিস জেলার বাড়িতেই কাটিয়েছিলেন তিনি। অসুস্থ অবস্থায় কয়েক সপ্তাহ সামরিক হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ঙ্গলবার কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। গত জানুয়ারিতেই অস্ত্রোপচার হয়েছিল মুবারকের। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে ইজিপ্টের প্রশাসন।

১৯২৮ সালের ৪ মে নীলনদ তীরের মনুফিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন হোসনি মুবারক। তার বাবা ছিলেন বিচার মন্ত্রণালয়ের একজন ইন্সপেক্টর। মুবারক মিশরের জাতীয় সামরিক অ্যাকাডেমি, বিমানবাহিনী অ্যাকাডেমি এবং মস্কো-র ফ্রুনযে জেনারেল স্টাফ অ্যাকাডেমিতে শিক্ষালাভ করেন। ১৯৪৯ সালে মিশরের বিমান বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭২ সালে তিনি বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় মুবারক জাতীয় বীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। যুদ্ধের পর ১৯৭৫ সালে তাকে মিশরের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল-সাদাত। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আল-সাদাতের হত্যার পর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট এয়ার চিফ মার্শাল হোসনি মুবারক দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তখন থেকে ৩০ বছর তিনি মিশর শাসন করেন। মুবারকের অধীনে মিশর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে ভূমিকা রাখে। অর্থনৈতিক সমস্যা এবং ইসলামী মৌলবাদের মত অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও মুবারক ইসরায়েল ও আরবরাষ্ট্রগুলির মধ্যকার অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৮ সালে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। ১৯৯০ সালে ইরাক কুয়েত দখল করলে জাতিসংঘের ইরাকের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে মুবারক তা সমর্থন করেন, ইরাকের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরব লীগকে মত দিতে উদ্বুদ্ধ করেন, ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধে প্রায় ৩৯ হাজার সেনা সরবরাহ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে যুদ্ধ-পরবর্তী পদক্ষেপগুলিকে সমর্থন দেন। ১৯৯৩ সালে মুবারাক পুনরায় নির্বাচিত হন। এবার মুবারক মৌলবাদীবিরোধী দলগুলির উপর ধর-পাকড় আরম্ভ করেন। ১৯৯৫ সালের জুন মাসে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে তাকে হত্যার একটি চেষ্টা চালানো হয়, কিন্তু তিনি বেঁচে যান। পাঁচজন আততায়ীকে হত্যা করা হয় এবং বাকীরা সুদানে পালিয়ে যায়। ধারণা করা হয়, সুদান থেকেই হত্যাকাণ্ডটির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মুবারকের উপর ছয়বার হত্যাপ্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। ১৯৯৫ সালের নভেম্বর মাসে সংসদীয় নির্বাচনের ঠিক আগে মুবারক সরকার মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে জঙ্গী ইসলামী দলদের মদদ দেবার অভিযোগ আনেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের বহু নেতাকর্মীকে এর জের ধরে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সমালোচকেরা বলেন যে মুবারাক শান্তিপ্রিয় বিরোধীদেরও নির্মূল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে মুবারকের দলের বিশাল জয় হয় এবং ১৯৯৯ সালে মুবারাক চতুর্থবারের মতো ৬ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হন।

২০০০-এর দশকে মুবারাক চরমপন্থী ইসলামীদের দমনের ধারা অব্যাহত রাখেন এবং কেবল দর্বল বিরোধীদেরই দল গঠনের অনুমতি দেন। তিনি ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার নিন্দা জানান। একই সময়ে দেশের মধ্যপন্থী ইসলামী দলগুলি ইসলামী শরিয় অনুসারে দেশ চালানোর জন্য চাপ দিতে থাকে। ২০০৫ সালে মুবারাকের চতুর্থ মেয়াদ শেষ হয়ে আসলে কিছু দল সংবিধানের সংশোধন কামনা করে। ওই বছরের মে মাসে সংবিধানে সংশোধন আনা হয় এবং মিশরের ইতিহাসে প্রথমবারের মত সরাসরি বহুদলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মুবারাক ৮৫%-এরও বেশি ভোট পেয়ে পঞ্চমবারের মত ছয় বছর মেয়াদের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। কিন্তু বিরোধী প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনেন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে মুবারাকার নিয়ন্ত্রণের ফলে তাদের প্রচারে বিঘ্ন ঘটেছে বলে দাবী করেন। এর পর আরব বসন্তের ধাক্কায় ২০১১ সালে ১৮ দিনের তীব্র আন্দোলনের মুখে মোবারকের ৩০ বছরের কঠোর শাসনের অবসান ঘটে। পুরো আরব বিশ্ব কাঁপিয়ে তোলা ওই গণ-অভ্যুত্থানে গদি হারানো নেতাদের মধ্যে মোবারকই প্রথম, যাকে নানা অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আজ প্রয়াত মিশরের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে হোসনি মুবারকের শরীরে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তারপর থেকেই প্রচণ্ড অসুস্থ ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কায়রোর একটি সামরিক হাসপাতালে ভরতি করা হয়। কিছুক্ষণ বাদে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে দেশজুড়ে। স্বেচ্ছাচারী শাসকের মৃত্যুতে কেউ আনন্দ করছেন তো কেউ তাঁর স্মৃতিতে ফেলছেন চোখের জল।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:০৪

কনফুসিয়াস বলেছেন: ধন্যবাদ। জানলাম।

২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:২৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
জানার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা আপনাকে আমার ব্লগে
আসবার জন্য।

২| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:১৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আরব বসন্তে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক এর
..............................................................................................................
মৃত্যুতে আমার শ্রদ্ধান্জলী

৩| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ভোর ৪:৪২

চাঁদগাজী বলেছেন:


একটি সভ্য জাতিকে ভিক্ষুক বানায়ে রেখেছিলো এই দুষ্ট অলস; এর মুখ ছিলো ওয়াশিংটনে, ওখানে খেয়ে পিরামিডের উপর বজ্য ত্যাগ করতো। এর বদনামের লিষ্ট অনেক বড়।

শেখ হাসিনারও একই ধরণের বদনাম হবে।

৪| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৮:১০

নেওয়াজ আলি বলেছেন: লেখা খুবই ভালো লাগলো।

৫| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: অযোগ্য লোক এই হোসনি মুবারক।

৬| ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:৪৮

পদ্মপুকুর বলেছেন: মিশরীয়রা একটা ঐতিহ্যবাহী জাতি হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে উজ্জল। এ রকম একটা জাতিকে ধ্বংসের জন্য এ রকম একেকটা হোসনী মোবারকই যথেষ্ঠ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.