নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে।

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

করোনা ভাইরাস, তোমরা তোমার রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবেঃ ইতালির প্রধানমন্ত্রী সমাধান খুঁজেন আকাশে !!!

২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:৫৪


সূরা আর রহমান। মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ৫৫ তম সূরা। এর আয়াত অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৭৮ এবং রূকু তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ৩। সূরা আর রহমান মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই সূরায় জ্বীন ও মানব জাতিকে উদ্দেশ্য করে বারবার প্রশ্ন করা হয়েছে, "অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?" এ আয়াতটি ৩১ বার রয়েছে। আল্লাহ এই সূরায় তাঁর বিভিন্ন প্রকার নিয়ামত ও অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রত্যেক নিয়ামত বা কয়েকটি নিয়ামত উল্লেখ করার পর মানব-দানবকে এ কথা জিজ্ঞাসা করেছেন। এমন কি হাশরের মাঠের ভয়াবহতা এবং জাহান্নামের শাস্তির কথা উল্লেখ করার পরও এই জিজ্ঞাসার পুনরাবৃত্তি করেছেন। যার অর্থ এই যে, পরকাল সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেওয়াও অতি বড় নিয়ামত। যাতে পরকালের শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে আগ্রহীরা তা থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার প্রচেষ্টা করে। আমরা নিজের দিকে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবো আমরা কি ছিলাম ? প্রথমে এই বিষয়ে চিন্তা করলেই দেখবো যে, আমরা এক ফোটা নাপাক পানি ছিলাম, তারপর সেটা মায়ের রেহেমে ছিল ক্রমান্বয়ে প্রতি ৪০ দিন অন্তর-অন্তর স্তর পরিবর্তন হয়। সেটা প্রথমে জমাটবদ্ধ রক্তে পরিণত হয়ে এরপরেই গোস্ত পিন্ড, তারপর অস্থি,এরপর গোশত দিয়ে সেই অস্থিকে আবৃত করেছেন। মায়ের রেহেমে দশ মাস দশ দিন এ অবস্থায় ছিলাম , মহান মালিক খাছ অনুগ্রহ করে আমাদেরকে পূর্ণ মানবাকৃতির রূপ দান করেছেন। এরপর নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর আমরা দুনিয়াতে আগমন করলাম। এটাও একটি অশেষ নেয়ামত,ধারাবাহিকভাবে শৈশব থেকে কৈশোরে উপনীত হই। তখন ঐ উপলব্ধি করা যায় যে, মহান আল্লাহ আমাদেরকে কি ধরনের অনুগ্রহ করেছেন । আমাদের মানবদেহকে আল্লাহ উত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। যদি আমরা দেহের প্রতি লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাব অসংখ্য নেয়ামত বিদ্যমান। আমাদের মানবদেহে অবস্থিত সেই নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করে শেষ করা যাবে না। জ্বিনরাও মানুষদের মত আল্লাহর একটি সৃষ্টি। বরং মানুষের পর জ্বিনরাই হল দ্বিতীয় এমন সৃষ্টি, যাদেরকে বিবেক-বুদ্ধি দানে ধন্য করা হয়েছে। আর এর বিনিময়ে তাদের নিকট কেবল এতটুকু চাওয়া হয়েছে যে, তারা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে। তাঁর সাথে যেন অন্য কাউকে অংশীদার স্থাপন না করে।

কিন্তু আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব যদি তার আসল মালিককে ভুলে যায় এবং তাঁর আদেশ-নিষেধ অমান্য করে, নেয়ামতের শুকরিয়া না করে তার নাফরমানি করে বা অবাধ্য হয় তাহলে তার মালিক তার প্রতি শুধু অসন্তুষ্টই হন না, বরং তাকে শাস্তি দিতে বাধ্য হন। তখন তার উপর বালা মুসিবত বা গজব আসে। ইসলামের ভাষ্যমতে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম সৃষ্টি মানুষ যখন আল্লাহকে ভুলে যায়, বেপরোয়া হয়ে ওঠে তখনই আল্লাহর গজব নেমে আসে শান্তির পৃথিবীতে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘ভূমিতে ও পানিতে সব জায়গায়, লোকজন কুকাজে অশান্তি ছড়ায়, যেরূপ কাজ তারা করে থাকে, আল্লাহ চান তার শাস্তি দিতে…….” (সূরা: রূম, আয়াত: ৪১)। দুর্ভিক্ষ, মহানাদ, শীলাবৃষ্টি, মহামারী, পানিতে নিমজ্জন, অগ্নিকান্ড, বন্যা, এডিস মশা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, করোনা ভাইরাস এসব হচ্ছে আল্লাহর গজবের অন্তর্ভুক্ত। এসব আল্লাহর গজব আসে মানুষের লাগামহীন পাপের কারণে। আ’দ, সামুদ, লুত (আ.) এর সম্প্রদায়, শুয়াইব (আ.) এর সম্প্রদায় তাদের নবীদেরকে অস্বীকার করায় এবং লাগামহীন পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহপাক তাদেরকে গজব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন। (সূরা : শু’আরা, আয়াত : ১০৫-২০৯)
গজবের দ্বারা পাপীদের ধ্বংসের কথা পবিত্র কুরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। ব্যক্তিগত, সামাজিকভাবে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে অপকর্ম করার কারণে পূর্ববর্তী জাতিকে যে গজব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে‘এবং আমি সংহার করেছিলাম কারুন, ফিরাউন ও হামামকে। মুসা সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের নিকট এসেছিলো। তখন তারা দেশে দম্ভ করতো। কিন্তু তারা আমার শাস্তি এড়াতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকেই তার অপরাধের জন্য শাস্তি দিয়েছিলাম। তাদের কারো প্রতি প্রেরণ করেছি প্রস্তরসহ প্রচন্ড ঝটিকা, তাদের কাউকে আঘাত করেছিলো মহানাদ, কাউকে আমি প্রোথিত করেছিলাম ভূগর্ভে এবং কাউকে করেছিলাম নিমজ্জিত। আল্লাহ তাদের কারো প্রতি জুলুম করেননি। তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিলো’। (সূরা : আনকাবুত, আয়াত : ৩৯-৪০) পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে ‘তোমাদের যে বিপদ-আপদ ঘটে তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল এবং তিনি তোমাদের অনেক অপরাধ ক্ষমা করে দেন’। (সূরা : শূরা, আয়াত : ৩০) অন্য আয়াতে ইরশাদ হচ্ছে ‘যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের উপর বিপদ-আপদ আসে (মানুষের ব্যক্তিগত বা সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কর্মদোষে সাধারণত বিপদ-আপদ ঘটে) তখন মানুষ হয়ে পড়ে অকৃতজ্ঞ’। (সূরা : শূরা, আয়াত : ৪৮) পবিত্র কুরআনে আরো ইরশাদ হচ্ছে‘কল্যাণ যা তোমার হয় তা আল্লাহর নিকট হতে এবং অকল্যাণ যা তোমাদের হয় তো তোমার নিজের কারণে’। (সূরা : নিসা, আয়াত : ৭৯)
তবে আল্লাহ তাআলা যেহেতু অতিশয় মেহেরবান ও দয়াময়, তাই তিনি তাত্ক্ষণিক শাস্তি প্রয়োগ করেন না। তিনি অবকাশ দেন, বারবার সুযোগ দেন। তা ছাড়া আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ}আল্লাহ তাআলার কাছে এ দোয়া করেছিলেন যে তাঁর উম্মতকে যেন আগেকার উম্মতের মতো শাস্তি তথা মানবাকৃতিকে বানর, শূকর ইত্যাদির আকৃতিতে রূপান্তর, পাথরের বৃষ্টি, ভূমি উল্টিয়ে দেওয়ার মতো কঠিন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিনষ্ট করা না হয়। আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর (রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে) তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ৪২)।
কাজেই যে কোনো বিপদে বান্দা আল্লাহ-মুখী হবে। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে, আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আমার রব এটাই চান। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসা।
আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার কিছু কারণঃ

পাপের সীমা ছাড়িয়ে গেলে
মানুষ পাপ করতে করতে যখন পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়। পাপিষ্ঠ ফেরাউনকে আল্লাহ তাআলা তখনই ধরেছেন, যখন সে নিজেকে আল্লাহ বলে দাবি করেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন : ‘হে মুসা! তুমি ফেরাউনের কাছে যাও, সে অত্যন্ত উদ্ধত হয়ে গেছে।’ (সুরা ত্বাহা : ২৪)
নমরুদকে আল্লাহ তাআলা তখনই শাস্তি দিয়েছেন, যখন সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করেছে। অনুরূপভাবে আদ, সামুদ প্রভৃতি জাতিকে তাদের সীমাহীন পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বনি ইসরাইলরা আল্লাহর কিতাব তাওরাতকে অস্বীকার, উত্তম জিনিস তথা মান্না ও সালওয়ার পরিবর্তে খারাপ জিনিস তথা ভূমির উৎপন্ন জিনিস চাওয়া, আমালেকা সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আল্লাহর অগণিত নিয়ামত ভোগ করেও অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে চির লাঞ্ছনা ও আল্লাহর ক্রোধে পতিত হয়েছে। আগের নবীদের এসব কাহিনী পবিত্র কোরআনে আলোচনা করে আল্লাহ তাআলা এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে যদি উম্মতে মুহাম্মদী (সাঃ)ও তাদের মতো পাপাচারে লিপ্ত হয়, তবে তাদের পরিণতিও অনুরূপ হবে এবং একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।

বিধর্মী কার্যকলাপের ফলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন সরকারি মালকে নিজের মাল মনে করা হয়, আমানতের মালকে নিজের মালের মতো ব্যবহার করা হয়, জাকাতকে জরিমানা মনে করা হয়, ইসলামী আকিদাবর্জিত বিদ্যা শিক্ষা করা হয়, পুরুষ স্ত্রীর অনুগত হয়, মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়, বন্ধুদের আপন মনে করা হয়, বাবাকে পর ভাবা হয়, মসজিদে শোরগোল করা হয়, পাপী লোক গোত্রের নেতা হয়, অসৎ ও নিকৃষ্ট লোক জাতির চালক হয়, ক্ষতির ভয়ে কোনো লোককে সম্মান করা হয়, গায়িকা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রচলন অধিক হয়, মদ্য পানের আধিক্য ঘটে, পরবর্তী সময় লোকেরা পূর্ববর্তী লোকদের বদনাম করে—তখন যেন তারা অপেক্ষা করে লু হাওয়া (গরম বাতাস), ভূমিকম্প, ভূমিধস, মানব আকৃতি বিকৃতি, শিলাবৃষ্টি, রক্তবৃষ্টি ইত্যাদি কঠিন আজাবের, যা একটার পর আরেকটা আসতে থাকবে, যেমন হারের সুতা ছিঁড়ে গেলে মুক্তার দানাগুলো একটার পর একটা পড়তে থাকে। (তিরমিজি)

ব্যভিচার, মাপে কম দেওয়া ইত্যাদি অপকর্মের ফলে
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মুহাজিরদের উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘পাঁচটি মন্দ কাজ এমন আছে, যদি তোমরা তাতে জড়িয়ে পড়ো বা তা তোমাদের মধ্যে বাসা বাঁধে, তবে খুবই খারাপ পরিণতির সম্মুখীন হবে। আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি যেন এ পাঁচটি মন্দ কাজ তোমাদের মধ্যে জন্ম না নেয়।’
ক. ব্যভিচার যদি কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের মধ্যে এমন এমন রোগ দেখা দেবে, যা আগে ছিল না।
খ. ‘মাপে কম দেওয়া।’ এ মন্দ কাজ যদি কোনো জাতির মধ্যে জন্ম নেয়, তবে তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় এবং তারা অত্যাচারী শাসকের শিকারে পরিণত হয়।
গ. ‘জাকাত’ না দেওয়া। এ মন্দ কাজ যাদের মধ্যে দেখা দেয়, তাদের ওপর আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ বন্ধ হয়ে যায়। যদি সে অঞ্চলে পশু বা পাখি না থাকত, তবে আদৌ বৃষ্টি হতো না।
ঘ. আল্লাহ ও রাসুলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা। এ মন্দ কাজ যখন সমাজে দেখা দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অমুসলিমদের আধিপত্য চাপিয়ে দেন। আধিপত্যবাদীরা তখন মুসলমানদের সহায়-সম্পদ কেড়ে নেয়।
ঙ. ‘কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালানো।’ যদি মুসলমান শাসকরা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসনকার্য না চালায়, তবে আল্লাহ তাআলা মুসলিম সমাজে ভাঙন সৃষ্টি করে দেন। তারা নিজেদের মধ্যে পরস্পর লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে এবং সমাজে সন্ত্রাস ও খুন-খারাবি শুরু হয়ে যায়।’ (বায়হাকি, ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১০১৯)
হজরত ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে দ্বীনের কার্যকলাপে শৈথিল্য প্রদর্শন করা হলে সেই সম্প্রদায়ের লোকদের অন্তরে ভয়-ভীতি ঢেলে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে জিনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে তাদের মধ্যে মৃত্যুর হার বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক মাপে কম দিলে তাদের রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, কোনো সম্প্রদায়ে অন্যায়ভাবে বিচার-ফয়সালা করা হলে সে গোত্রে রক্তপাত বৃদ্ধি পায়, কোনো সম্প্রদায়ের লোক অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের মধ্যে শত্রুতা প্রবল করে দেওয়া হয়। (মুয়াত্তা মালেক, মিশকাত : পৃ. ৪৫৯)

অন্যায় কাজে বাধা না দেওয়ার ফলে
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাধা দেওয়া ফরজ। মুমিন এ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারে না। হজরত হুজায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! তোমরা অবশ্যই ন্যায় কাজের আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে (মানুষকে) বিরত রাখবে। অন্যথায় আল্লাহ তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর আজাব পাঠাবেন। অতঃপর তোমাদের পরিত্যাগ করা হবে এবং তোমাদের দোয়াও কবুল করা হবে না।’ (তিরমিজি)

অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে
অন্যায়ভাবে হত্যা করা হারাম। কথিত আছে, হজরত আদম (আ.)-এর পুত্র কাবিল যেদিন হাবিলকে হত্যা করে, সেদিনই পৃথিবীতে প্রথম ভূমিকম্প হয়। কেননা অন্যায়ভাবে হত্যাকাণ্ড আল্লাহ তাআলা পছন্দ করেন না। তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোনো মুমিনকে হত্যা করে, তার শাস্তি হলো জাহান্নাম, সে সদা সেখানে অবস্থান করবে।’ (সুরা নিসা : ৯৩)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে দূরে থাকবে। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন—ইয়া রাসুলুল্লাহ! বিষয়গুলো কী কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন : ১. আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা। ২. জাদুটোনা করা। ৩. যথাযথ কারণ বাদে কাউকে হত্যা করা, যা আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। ৪. সুদ খাওয়া। ৫. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা। ৬. রণক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা। ৭. মুসলিম সরলা নির্দোষ মহিলাদের নামে ব্যভিচারের দুর্নাম রটনা করা। (মিশকাত, প্রথম খণ্ড, বাবুল কাবাইর ওয়া আলামাতুন নিফাক, সহীহ বুখারি, কিতাবুল ওয়াসায়া, হাদিস নম্বর : ২৭৬৬)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) মহানবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন—তিনি বলেন, ‘যদি কোনো ব্যক্তি মুসলমানদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে আবদ্ধ কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৬৮৬, সুনানে নাসাঈ, হাদিস : ২৫)

দুনিয়াপ্রীতি বৃদ্ধি পেলে
মুমিন দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে অধিক ভালোবাসে। সাহাবায়ে কিরাম দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতেন এবং দ্বীনের জন্য মরণকে বেশি পছন্দ করতেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের ওপর এমন দুঃসময় আসবে, যখন অন্যান্য জাতি তোমাদের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়বে যেন ক্ষুুধার্ত মানুষ খাদ্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক হয়েও বন্যার ফেনার মতো ভেসে যাবে। দুশমনদের অন্তর থেকে তোমাদের ভয়ভীতি ও প্রভাব-প্রতিপত্তি উঠে যাবে। তোমাদের অন্তরে ওহান (কাপুরুষতা) সৃষ্টি হবে। একজন সাহাবি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ওহান কী? রাসুল (সা.) বললেন, দুনিয়ার মহব্বত ও মৃত্যুর ভয়। (আবু দাউদ) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চারটি বিষয় ক্ষতিকর : ক. চোখ নষ্ট হওয়া, খ. কলব শক্ত হওয়া, গ. দীর্ঘ আশা করা ও ঘ. পার্থিব লোভ।

ধনীরা কৃপণ হলে
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মধ্যে উত্তম লোকরা তোমাদের নেতা (রাষ্ট্রপ্রধান) হয়, ধনীরা দানশীল হয় এবং রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়, তখন তোমাদের জন্য জমিনের নিম্নভাগ থেকে জমিনের উপরিভাগ উত্তম। আর যখন তোমাদের মধ্যে ধনী লোকরা কৃপণ হয়, কার্যাবলি মহিলাদের নির্দেশমতো চলে, তখন তোমাদের জন্য জমিনের উপরিভাগ থেকে জমিনের নিম্নভাগ উত্তম।’ (তিরমিজি, পৃষ্ঠা : ৪৫৯)

উপসংহারঃ
বিপদাপদ, অসুখ বিসুখ আল্লাহর অনুমতিতেই হয়। মানুষ চক্রান্ত করুক, আর যাই করুক, জগতের সবকিছু আল্লাহর অনুমতিতে ঘটে।
এভাবে আল্লাহ তায়ালা কাউকে পরীক্ষা করেন, কাউকে আজাব দেন। মহামারি তেমনই একটি বিষয়। করোনা ভাইরাস, এটিও একটি মহামারি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যখন কোনো জাতির ওপর আজাব আসে, তখন শুধু পাপীরাই এতে আক্রান্ত হয় না। বরং মহামারি শুরু হলে নেক বান্দারাও আক্রান্ত হয়। দ্বীনি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা, নেক কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে বাঁধা প্রদান করা ছেড়ে দেয়ার কারণে এই আজাব আসে। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব, তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমূহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা জমিনে ফাসাদ করা থেকে নিষেধ করত? এমন লোক কমই ছিল, তাদের আমি বাঁচিয়ে নিয়েছিলাম। জালিমরা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল এবং তারা ছিল অপরাধী।’ (সূরা: হুদ, আয়াত: ১১৬)।
নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারি আকারে প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা আগের লোকদের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। (ইবনে মাজাহ, ৪০১৯)। বিশ্ব বর্তমানে পাপ ও পতনের চরমে পৌঁছেও মানব সভ্যতা প্রতি মুহূর্তে নানান বিপর্যয়ের মুখোমুখী। এইডস, ডেঙ্গু, ইবোলা, নিপা, জিকা, করোনা, কতো নাম-জাতের রোগেই না আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
মহামারি প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি আল্লাহর গজব বা শাস্তি, বনি ইসরাঈলের এক গোষ্ঠীর ওপর এসেছিল, তার বাকি অংশই হচ্ছে মহামারি। অতএব, কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা থেকে চলে এসো না। অন্যদিকে কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সে জায়গায় যেয়ো না। (তিরমিজি শরিফ, হাদিস : ১০৬৫)। তাই আমাদের উচিত, যেখানে এ ধরনের রোগের প্রকোপ দেখা দেবে, সেখানে যাতায়াত থেকে বিরত থাকা।
মহামারি আল্লাহর গজব হলেও এতে আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিকে পাপী-জাহান্নামি মনে করা যাবে না। রাসূল (সা.) এর ভাষায় মহামারিতে মারা যাওয়া ব্যক্তিও শহিদ। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, পাঁচ প্রকার মৃত শহিদ- মহামারিতে মৃত, পেটের পীড়ায় মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়ে মৃত এবং যে আল্লাহর পথে শহিদ হলো। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮২৯)।অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, মহামারিতে মৃত্যু হওয়া প্রতিটি মুসলিমের জন্য শাহাদাত। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৮৩০)।

একথা সবার জানা যে ইতালীএখন লাশের শহর। বাতাসে শুধু লাশের গন্ধ। উৎসবপ্রিয় ইতালিয়ানরা আজ নিজেদের অবরুদ্ধ রেখেছেন যার যার ঘরে। আর লাশের সারি এতোই দীর্ঘ যে লাশ সমাহিত করার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবেই প্রতিদিন শত শত লাশ বের করতে হচ্ছে ইতালির ডাক্তারদের। কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়েও এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি ইতালি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী কণ্টির কণ্ঠে তাই হতাশা ও ভেঙ্গে পড়ার সুর।
জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে তিনি বলেছেন, 'আমরা মহামারীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। আমরা শারীরিক ও মানসিকভাবে মারা গেছি। আর কী করতে হবে তা আমরা জানি না। পৃথিবীর সমস্ত সমাধান শেষ হয়ে গেছে। একমাত্র সমাধান আকাশের কাছে।'
তাঁর এ ভাষণ বিশ্বের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। স্তব্দ হয়ে গেছে পুরো বিশ্ব। করোনাভাইরাসে মৃত্যুর নীরিখে চীনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে ইতালি। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৯৩ জন মারা গিয়েছেন। করোনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত মত্যু, বিশ্বের আর কোনো দেশে হয়নি। করোনাভাইরাসে ইতালির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে লোম্বারদিয়া অঞ্চল।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী কণ্টির হতাশায় কিসের আভাস? করোনা গজব না আশির্বাদ!!
, রোগ-মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির দুটি রূপ রয়েছে। হযরত ইমাম গাযযালী বলেন, ‘যে বিপদ মানুষকে আল্লাহমুখী করে, সেটি তার জন্য রহমত। আর যে বিপদে মানুষ আল্লাহ থেকে দূরে সরে যায় কিংবা আল্লাহ থেকে উদাস ও বেভুল অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে, এটি তার জন্য গজব।’ দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও এমন বিপদ, রোগ-মহামারি এসেছে। হযরত ওমর (রা.)-এর যুগে ৬৩৯ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়ার মহামারিতে গভর্নর আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ শাহাদতবরণ করেন। সাহাবী মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-ও প্লেগ মহামারিতে শহীদ হন। অনেক সাহাবী ও পরবর্তীতে বহু ওলী-আউলিয়া এসবে শাহাদতবরণ করেছেন। তাহলে বিপদকে এককথায় গজব বলা উচিত হবে না। এখানে একই সমস্যা ঈমান ও জীবনবোধের আলোকে দুটি রূপ নিয়ে ধরা দেয়। নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে মহামারিতে মৃত্যুবরণকারীরা শহীদ।’ নবী করিম (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মহামারির সময় ধৈর্য্য সহকারে, সওয়াবের আশায় নিজেকে ঘরে রুদ্ধ রাখে, এ ধারণা নিয়ে যে, আল্লাহ তার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন এর বাইরে কোনো কিছুই ঘটবে না। সে ব্যক্তিও শহীদের সাওয়াব পাবে।’ মহামারিতে তার মৃত্যু হোক বা নাই হোক। ফতহুল বারী, শরহে বুখারী ১৯৪/১০।

হাদিসের আলোকে করোনা থেকে বাঁচতে আমল ও করণীয়
হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার বলবে
‘বিসমিল্লা-হিল্লাজী লা ইয়াদ্বুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদ্বি ওয়ালা ফিস সামা-ই, ওয়াহুয়াস সামী‘উল আলীম’,
অর্থাৎ: ‘আল্লাহর নামে, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না, তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী’;
সকাল হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। আর যে তা সকালে তিনবার বলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনো হঠাৎ বিপদ আসবে না। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮৮)।

এছাড়া নবীজি (সা.) মহামারি থেকে বাঁচতে বেশি বেশি এই দোয়া পড়তে বলেছেন,
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া সাইয়ি ইল আসক্কাম’।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সব দুরারোগ্য ব্যাধি হতে।’ (আবু দাউদ, ১৫৫৪, সহীহ)।
বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করুন
আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর (রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে) তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ৪২)।
কাজেই যে কোনো বিপদে বান্দা আল্লাহ-মুখী হবে। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে, আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আমার রব এটাই চান। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসা।
নিজ এলাকায় থাকুন
বেশির ভাগ মহামারিই সংক্রামক। তাই নবীজি (সা.) বলেন, ‘কোথাও মহামারি দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান করলে সে জায়গা থেকে বের হয়ে যেয়ো না। তদ্রূপ অন্য কোনো এলাকায় মহামারি দেখা দিলে, আর সেখানে তোমরা অবস্থান না করলে সেখানে যেয়ো না।’ (তিরমিযী, ১০৬৫)।
অর্থাৎ মহামারিতে আক্রান্ত এলাকার মানুষ সেখানে অবস্থান করবে, বের হবে না। আর বাহিরের মানুষ সেখানে প্রবেশ করবে না। প্রত্যেকেই আপন আপন ভূমিতে থাকবে।
যদি কেউ এতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তা হলে এর প্রতিদান কী?
নবীজি (সা.) বলেন, অতএব, প্লেগ রোগে কোনো বান্দা যদি ধৈর্য ধরে এবং এ বিশ্বাস নিয়ে আপন শহরে অবস্থান করতে থাকে যে, আল্লাহ তার জন্য যা নির্দিষ্ট করে রেখেছেন তা ছাড়া আর কোনো বিপদ তার ওপর আসবে না; তাহলে সেই বান্দার জন্য থাকবে শহিদের সাওয়াবের সমান সাওয়াব।’ (সহিহ বুখারী, ৫৭৩৪)।
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন
পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ঈমানের অঙ্গ। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, الطَّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ ‘পবিত্র ঈমানের অংশ।’ হাত সর্বদা পরিষ্কার রাখুন। বাহিরে বের হলে মুখে বা নাকে হাত দেবেন না। বাসায় ফিরে হাত ধৌত করে খাবার স্পর্শ করবেন। রাস্তার পশু-পাখি ধরা থেকে বিরত থাকুন।

মুখ ঢেকে হাঁচি দিন
আল্লাহর রাসূল যখন হাঁচি দিতেন, হাত দিয়ে অথবা এক টুকরো কাপড় দিয়ে মুখ চেপে ধরতেন। (তিরমিযী)। এই ছোট্ট কাজটি যদি আমরা সচেতনভাবে পালন করি, তাহলে ধ্বংসাত্মক অনেক সংক্রামক ভাইরাসই প্রতিহত করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ!। বাংলাদেশে সার্বিক প্রস্তুতি দুর্বল। অবশ্য, দ্রুত সিরিয়াস হলে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, সচেতনতা সবই করা সম্ভব। এখানে লোকচুরি কিংবা কূটকৌশলের আশ্রয় না নিয়ে পরিস্থিতি সবাইকে নিয়ে সামাল দেয়া দরকার। গোপন রাখলে বিপদ কমবে না। সর্বস্তরে তওবা, ইস্তেগফার করতে হবে। অন্যায়, দুর্নীতি ও হারাম উপায়ে অর্জিত সম্পদ মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিতে হবে। এই মুসিবতকে উপলব্ধি না করে বড় বড় কথা, পাল্টা চ্যালেঞ্জ কিংবা ঈমান বিধ্বংসী ফালতু কথাবার্তা কমাতে হবে। দায়িত্ব পালন করার ব্যাপারে শেষ বিচারের দিন মহান আল্লাহর দরবারে জবাব দেয়ার চিন্তাটি এখনই তাজা করার মোক্ষম সময়। সবাইকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্যই হয়তো আল্লাহ এই বিপদটি আমাদের পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যাদের হাতে দেশের সব টাকা জমা হয়েছে, তারা জনগণের সেবা করার এই সুযোগটি হেলায় হারাবেন না। আল্লাহ আমাদের নাজাত দান করুন আর নিরাপদ রাখুন। আমিন।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]

মন্তব্য ৪০ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনি করোনার ভয়ে আছেন? ভয় না পেলেও, সম্ভব হলে গ্রামে চলে যান।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২১

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

করোনাকে ভয় করিনা
ভয় করি আল্লাহর গজবকে।
মৃত্যু আর জীবনের সন্ধিক্ষনে
মানুষ। সুতরাং যেখানেই যাই
মৃত্যু পাকড়াও করবেই। তাই
উদ্বিঘ্ন হবার কিছু নাই।

২| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

ইসিয়াক বলেছেন: ভালো থাকুন,সুস্থ থাকুন ভাইয়া।
আপনজন নিয়ে সাবধানে থাকুন।
দোয়া রইলো।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১১

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
বাংলদেশসহ পৃথিবীর সকল
মানুষ করোনা ভাইরাসের
ছোবল খেকে নিরাপদে থাকুক।
সৃষ্টিকর্তা তার বান্দাদের হেফাজত
ও নাজত দান করুন। আমিন।
সতর্ক ও নিরাপদে থাকবেন
পরিবার পরিজনদের নিয়ে
সেই দোয়া করছি।

৩| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

কূকরা বলেছেন: The WW3 has started

২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

Corona virus WAR:
China imposes MAJOR
US ban as tensions boil
over in corona virus blame war

৪| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৩০

নতুন বলেছেন: ধমান্ধের মতন চিন্তাভাবনা।

রোগ ব্যাধী সৃস্টিকতার গজব না।

আপনার শরীরেই কোটি কোটি ব্যাক্টেরিয়া আছে চারপাশে অনেক ভাইরাস আছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নতুন কোন ভাইরাস বা ব্যক্টেরিয়াকে পরাজিত করতে পারেনা বা ওরা মিউটেশন করে বেশি শক্তিশালী হয়ে যায় তখন অনেকেই আক্রান্ত হয়।

প্রথম মানুষ হত্যার সাথে ভুমিকম্পরে কারন মেলানো এক রকমের বোকামী সেটা ভুমিকম্পন কেন হয় তার কারন জানলে যে কেউই বুঝতে পারবে।

আরেকটা কথা যদি এতো এতো দোয়া আছে রোগ থেকে রক্ষা পাবার জন্য সেই গুলি কেন এখন কাজে লাগছে না?

২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
নতুন বলেছেন: ধমান্ধের মতন চিন্তাভাবনা। রোগ ব্যাধী সৃস্টিকতার গজব না।
আরেকটা কথা যদি এতো এতো দোয়া আছে রোগ থেকে রক্ষা পাবার জন্য সেই গুলি কেন এখন কাজে লাগছে না?

কে বলেছে দোয়ায় কাজ হচ্ছেনা। ১৮ কোটি মানুষের মাঝে মাত্র ২ জন মারা গেছে বাংলাদেশে যেখানে ইতালীতে ১ দিনে করোনায় মৃত্যু হলো ৬২৭জন।
যা হোক যার যার বিশ্বাস তার কাছে। আমি যা বিশ্বাস করি তাই লিখেছি আর আপনি যা বিশ্বাস করেন তাই।

৫| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪১

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এ কমপ্লিট পোষ্ট!

দারুন করে গুছিয়ে সুবিন্যস্তভাবে সম্পাদনায় ধন্যবাদ।

বিশ্বাসী মাত্রই আল্লাহ এবং রাসূল সা: এর কথায় পূর্ন ঐক্যমত পোষন করবেন।
অবিশ্বাসীদের চিন্তা চেতনা ভীন্ন হবেই। যা ধর্তব্য নয়। যুগে যুগে তারা ছিল আছে থাকবে।
আলোকে ফোটাতে যমেন অন্ধকার চাই -তেমনি বিশ্বাসের আলো অবিশ্বাসের অন্ধকারেই বেশি উজ্জ্বল হয়।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। দয়া করুন এবং আমাদের এই মহামারী থেকে সুরক্ষিত রাখুন।
বিশ্ব ব্যাপি জুলমাতের অবসান হোক।
ভোগবাদ আর পূজিবাদের বিষ মানুষকে পাপ পূন্য, ন্যায় অন্যায় বোধ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিল,
অর্থই হয়ে গেছে সো কল্ড সাফল্যের মাপকাঠি, মানবতা, মনূষ্যত্বের সুকোমার বৃত্তিগুলৌ কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল,
সত্য বলা, সৎ পথে চলা যেন এক অসম্ভব কাজে পরিণত হচ্ছিল। তাদের মানুষ বোকা বলে উপহাস করতো!
বানিজ্যে অসততাতো বোধকরি সকল সময়েকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল অপকর্মে! ভেজাল, োজনে কম, মানহীন পণ্য,
মিথ্যাচারিতা হয়ে গেছে বানিজ্যের কৌশল!

আমরাই আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তিকে ত্বরান্বিত করেছি নিজেদের অন্যায় অপকর্ম, দূর্নীতির মাধ্যমে।
পূর্ন তাওবা এবং ইস্তিগফারের মাধ্যমে জাতিগত শুদ্ধিতা ফিরে আসুক।
মৃত্যুর ছৌঁয়া না পেয়েই যে ভয়, প্রকৃত মৃত্যু যা অবশ্যম্ভাবী সে চিন্তা এবং পরকালের ভাবনা শুদ্ধ হোক চেতনা।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করো। দয়া করো। এবং শুদ্ধতার পথে পরিচালীত করো।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:০৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ভৃগু দাদা আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার করে
গুছিয়ে মন্তব্য প্রদানের জন্য। আসলে পৃথিবীতে আজ
সত্যের আলো প্রস্ফুটিত হয় না। কুয়াশার চাদড়ে মুড়ে
আছে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস। যার পরিনতি আজকের
এই আযাব বা গজব। শেষ বিচারের দিন, শুধিতে হবে ঋণঘুড়ির লাটাই তাঁর হাতে একথা
বুঝেনা মানুষ।

৬| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:০৮

এ্যাক্সজাবিয়ান বলেছেন: মুরুব্বী আপনে বয়স্ক মানুষ আপনার জন্য ভয় বেশী সাবধান থাকবেন।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:২০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআনে কারীমে ইরশাদ করেন-
প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।
যে কোন প্রাণীই হোক তার উপর মৃত্যু একবার আসবেই। ভালো হোক খারাপ হোক তাকে মরতে হবে।

পৃথিবীতে আসার সিরিয়াল আছে যাবার সিরিয়াল থাকেনা।
সুতরাং কে আগে আর কে পরে তার হিসাব তিনিই রাখেন
যিনি আপনাকে, আমাকে দূনিয়ায় পাঠিয়েছেন। যার জন্য
যে ক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে তার এক সেকেন্ড আগে বা
পরে যাবার কোন সুযোগনাই। তাই মরার আগে মরে লাভ
কি?

৭| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৪০

হাবিব ইমরান বলেছেন:

মাশাআল্লাহ, জাযাকাল্লাহ. ………

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ধন্যবাদ ইমরান হাবিব্
নিরাপদে থাকুন।

৮| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: মুখ লকডাউন করা যায় না?

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩১

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ইতালীর প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করুন
তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছেন পৃথিবিতে
সমাধান নাই।

৯| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:০৬

নেওয়াজ আলি বলেছেন: হে দুনিয়ার মালিক তুমি ক্ষমা করো। বাঁচতে দাও সবাইকে তোমার সুন্দর পৃথিবীতে।

২৩ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৩০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

সুন্দর প্রার্থনা।
আল্লাহ আপনার প্রার্থনা
কবুল করুন। আমিন

১০| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১২:১৪

শামীম আশরাফ বলেছেন: ইয়া মাবুদ আমাদের গুনাহ মাফ করে দিন, আসমানী জমিনী বালা মসিবত থেকে আমাদের রক্ষা করুন, আমিন!!!!!!!

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:২১

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া সাইয়ি ইল আসক্কাম’।

১১| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:২৩

মানবিক_মানব বলেছেন: তিনি তার ধর্মের উপরওয়ালার কথা বলেছেন। তা আপনি আপনার ধর্মের উপরওয়ালার সাথে মিলাচ্ছেন কেন?
উপরওয়ালা তেনাদের রোগমুক্তি দিলে তেনাদের নিজের ধর্মের উপরওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। এখানে আপনার ধর্মের উপরওয়ালার কৃতিত্ব কি রইল?
গজব বলতে আপনি কি বুঝেন? আপনার ধর্মের স্রষ্টা এসব গজব না দিয়ে পৃথিবীর সব মানুষকে একত্রে ঘুম পারিয়ে প্রত্যেককে স্বপ্নে বলতেন যে "এই বিশেষ ধর্মই সত্য & ইহা না মানিলে গজব"
যদিও স্বপ্ন কোন প্রমাণিত সত্য নয় তবুও পৃথিবীর সকল মানুষকে একত্রে একই স্বপ্ন আপনার স্রষ্টা দেখালে সবাই মেনে নিতে বাধ্য হতো।
আর একটা কথা মুরুব্বী,
মানুষ যা খন্ডাতে পারেনা সেটাই ভাগ্য; যেটা মানুষএর পজিটিভ হয় সেটা স্রষ্টার রহমত আর যেটা নেগেটিভ হয় সেটা পাপের ফসল।
যে রোগের প্রতিষেধক আবিষ্কৃত এখনও হয়নি সেটাই গজব ; অতীতে কলেরা বাংলাদেশে গজব ছিলো কিন্তু এখন???
তা এইসব গজব হতে মুক্তির বৈজ্ঞানিক উপায় যেটা আপনি আমি ব্যাবহার করি তাতে আপনার ধর্মের মনিষী বা অনুসারীদের অবদান কতটুকু।
যখন একদল অনুসারী রোগশোক-কে গজব বলে উচ্চকন্ঠে প্রচার করে ধর্মের দোহাই দিয়ে, তখন অপর দল যারা কিনা আপনাদের ভাষায় বিধর্মী তারা নিভৃতে গবেষণা করে মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার্থে।
আর বেলা শেষে ক্রেডিট নেই,
অমুক বিধর্মী/বিজ্ঞানী এই বলেছে ঐ করেছে, এটা আমাদের ধর্মগ্রন্থ হতে চুরি করেছে।
:
পরে এসে বলবে এডাম/ঈভ/যোসেফ/ডেভিড/আব্রাহাম/মোসেজ/জেসাস আমাদের সম্পত্তি,
আর সবশেষে বলবে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার সব মোদের ধর্মগ্রন্থ হতে চুরি।
:
দিন শেষে আশা রাখি,
মানবিক মানবদের অবদানেই হবে অমানবিক স্রষ্টার সমাধি

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:২৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
মানবিক_মানব বলেছেন: তিনি তার ধর্মের উপরওয়ালার কথা বলেছেন। তা আপনি আপনার ধর্মের উপরওয়ালার সাথে মিলাচ্ছেন কেন?

আমি জানিনা আপনি কোন ধর্মে বিশ্বাসী !! তবে আমার ধর্ম শিক্ষা দিয়েছে লা শরিক আল্লাহ।
সব সদ্‌গুণাবলির অধিকারী ও সর্বশক্তির আধার অবশ্যম্ভাবী সত্তা, যিনি অনাদি অনন্ত, যাঁর শুরু নেই, শেষ নেই, লয়-ক্ষয় ও পরিবর্তন নেই, কিছুই ছিল না, তিনি ছিলেন, সবকিছু ফানা হয়ে যাবে, তিনি থাকবেন, তিনি সব সৃষ্টির খালিক ও মালিক, সৃজন, লালন-পালন, সংরক্ষণ ও ধ্বংস সাধন যাঁর এখতিয়ার, সেই অদ্বিতীয় সত্তার নাম ‘আল্লাহ’। কোরআনে কারিমে সুরা ফাতিহার সূচনায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজের পরিচয় ও পরিচিতি প্রদান করেছেন। ‘আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা! যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, যিনি কর্মফল দিবসের মালিক।’ (সুরা-১ ফাতিহা, আয়াত: ১-৩)।

সুতরাং তার স্রষ্টা্ আর আমার শ্রষ্টা আপনার মতে পৃথক হলেও আমি তা মানিনা।
আপনি যা বুঝেন তা আপনার মাঝেই রাখুন আমাকে আমার ধর্মের কথা বলতে দিন।

১২| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:১২

সোহানী বলেছেন: যথেস্ট সম্পদশালী হওয়া সত্বেও আজ ইতালীর এ অবস্থা, আমাদের চিন্তা করে শিউরে উঠি। অবশ্যই সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করতে হবে যেকোন বিপদের সময়। তবে রোগের সাথে ধর্মকে আমি কোনভাবেই এক করতে চাই না।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আামি আমার মনগড়া কোন্ কথা বলছি না। পবিত্র কোরআন আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছে তাই
বয়ান করলাম।
আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি। অতঃপর (রাসূলগণকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে) তাদেরকে অভাব-অনটন ও রোগ-শোক দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা বিনীত হয়।’ (সূরা: আনআম, আয়াত: ৪২)
কাজেই যে কোনো বিপদে বান্দা আল্লাহ-মুখী হবে। তাঁর কাছে ক্ষমা চাইবে, আশ্রয় প্রার্থনা করবে। আমার রব এটাই চান। তাই মহামারি দেখা দিলে মুমিনের প্রধান কাজ হলো নিজের ভুল ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে বিনীত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসে।

১৩| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:২০

রাজীব নুর বলেছেন: করোনাঃ গত বুধবার ঢাকাকে মনে হয়েছিল- বিএনপির হরতাল চলছে। বৃহস্পতিবার মনে হলো ঈদের ছুটিতে রাজধানী, শনিবার ভয়াবহ নিস্তব্ধতা। সামনের দিনগুলো আল্লাহ মালুম

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৩৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত মহা ছুটি যা
ঈদের ছুটিকে হার মানাবে। আলহামদুলিল্লাহ
সকল প্রসংশার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

১৪| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৩৯

পদ্ম পুকুর বলেছেন: ধর্মীয় বিষয় নিয়ে ব্লগে পোস্ট দেওয়া যথেষ্ট সাহসের ব্যাপার। যেহেতু এখানে সবাই মুসলিম নয়, আবার মুসলিম হলেও সবাই ধর্মের অতটা তোয়াক্কা করে না।
বিশ্বাসের বিষয় নিয়েতো কোনো তর্ক চলেনা। আপনার বা আমার বিশ্বাসের বিপরীতে যারা, তাদেরকে উদ্দেশ্য করেই তো বলা হয়েছে 'ফাবিআইয়্যে আলা রব্বিকুমা তুকাজ্জিবান'।

সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৪৭

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ধন্যবাদ পদ্ম পুকুর সাথে থাকার জন্য।
মুসলিম হিসেবে আমার দ্বায়িত্ব যা সত্য বলে যেনেছি এবং মেনেছি তা প্রকাশ করা।
কলম সৃষ্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে তা দিয়ে লেখার কাজ সম্পন্ন করা। ঘড়ি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সময় সম্পর্কে জানা। কিন্তু কলম দিয়ে যদি লেখার কাজ না হয় এবং ঘড়ি দিয়ে সময় নির্ধারণ করা না যায় তবে বুঝতে হবে, এগুলো সৃষ্টির উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে। ঠিক আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতিকেও একটা সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য দিয়েই পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। যদি সে দায়িত্ব যথাযথ পালন না হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে মুসলিম জাতিকে পৃথিবীতে প্রেরণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে।

‘তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকবে যারা (মানুষকে সত্য ও) ন্যায়ের আদেশ দেবে এবং (অসত্য ও) অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে (অতপর যারা এ দলে শামিল হবে) সত্যিকারার্থে তারাই সাফল্যমণ্ডিত হবে। (সুরা ইমরান : আয়াত ১০৪)

সুতরাং সত্য প্রকাশ করুন নির্ভয়ে।

১৫| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: ইতালির প্রধানমন্ত্রীর দুনিয়ায় সমাধান না খুজে আকাশে সমাধান খোজাকে নির্দেশ করে যে তিনিও একজন ভন্ড বকধার্মিক। একজন প্রেসিডেন্টকে দিতে হবে বৈজ্ঞানিক সমাধান , আসমানি সমাধান নয়।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৫২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
মানুষকে হেদায়েত দান করার মালিক এক মাত্র আল্লাহ রব্বুল্ আলামীন।
তিনি যতক্ষননা মানুষকে হেদায়েত দান করবেন ততদিন কারো পক্ষেই
তাকে সত্যের পথে ফিরানো্ সম্বভ নয়। ইতালীর প্রধানমন্ত্রী যদি সত্যের
সন্ধান পেয়ে থাকেন তাতে আশ্চর্য হবার কিছু্ই নাই। নিজাম খুনী আল্লাহর
দয়াতেই নিজাম আউলিয়া হতে পেরেছিলেন। আল্লাহ আমাদের হেদায়েত
দান করুন। আমিন

১৬| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯

নীল আকাশ বলেছেন: সর্ম্পূণ এবং যথাযথ পোস্ট। যারা বিশ্বাস তাদের জন্য যথেষ্ঠ। আর যার অবিশ্বাসী তাদের অন্তরে মোহর গালা করে দেয়া হয়েছে।
বিদ্রোহী ভৃগু ভাইয়ের মন্তব্যও ভালো লেগেছে।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৫৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ধন্যবাদ নীল আকাশ
চমৎকার মন্তব্যে আমাকে
অনুপ্রেরণা ও সাহস যোগাবার জন্য।
সত্যের পথে থাকার জন্য আল্লাহ আপনাকে
যথাযথ পুরস্কৃত করুন। আমিন

১৭| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:০৩

ঢাবিয়ান বলেছেন: আমি একজন বিশ্বাষী। বিশ্বাষকে মনের মাঝে রেখে ধর্মীয় আচার আচরন মেনে চলা ধার্মিকের লক্ষন। একজন প্রকৃত ধার্মিকের পরিচয় তার লেবাস বা কথায় নয়, তার কর্মে। কিন্ত ধর্ম যদি মানুষকে অন্ধ করে দেয় তবে বৃথা ধর্মের প্রকৃত লদ্ধ জ্ঞান। এই দুর্যোগকালীন সময়ে কিছু মোল্লাদের দ্বায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকান্ডই তার প্রমান। এই কিছুদিন আগেই মোল্লাদের আহবানে সাড়া দিয়ে মালয়েসিয়ায় তাব্লীগ জামাতে জমায়েত হয়েছিল বিভিন্ন দেশের প্রচুর মানুষ। সেই জমায়েত থেকেই মালয়েসিয়ায় বৃ্দাকারে ছড়িয়েছে করোনা। ইতালির আজকের এই হালের জন্য দায়ী ইতালির সরকার। কোন প্রকার সতর্কতামুলক ব্যবস্থা নেয়নি পর্যটন নির্ভর এই দেশ। বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকায় পড়ছি তাদের ঘুনে ধরা শাষন ব্যবস্থার অবস্থা। দায় এড়াতে এখন তাদের প্রধানমন্ত্রী আসমানে সমাধান খুজছেন। আমাদের তাহাজ্জুদি প্রধানমন্ত্রীও যদি এই লাইন ধরে তবে আমাদেরো খবরই আছে।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১২:০৩

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
সর্ব অবস্থায় আল্লাহর শোকরগোজার করতে হবে।
বিপদে ধৈর্য্য ধারণ করতে্ হবে। আল্লাহর কাছে
ক্ষমা চাইতে হবে। যা সত্য বলে মানেন তা প্রকাশ
করতে হবে। বিপদে আল্লহর কাছে পানাহ চাইতে হবে।
ঈমানকে মজবুত কবতে হবে।

১৮| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: সরকারের একটি যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত: বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দান।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৪৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তার বয়স বিবেচনায় মানবিক কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে গুলশানে নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা জানিয়েছেন।

বিশ্বজুড়ে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে করোনাভাইরাসে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। সেজন্য ৭৫ বছর বয়সী খালেদা জিয়াকে মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিল বিএনপি।
আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় এবং মানবিক কারণে তার দণ্ডাদেশ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে এসময় তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন। দেশের বাইরে গমন করতে পারবেন না। আর আজকের পরিপ্রেক্ষিতে (কোভিড-১৯ পরিস্থিতি) কাউকে বিদেশে যেতে বলা মানে তাকে সুইসাইড (আত্মহনন) করতে বলা।

বাসায় অসুস্থ হলে তিনি কীভাবে চিকিৎসা নেবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার যদি দরকার হয় তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে মানসম্মত হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) আছেনই। সেখানে তার চিকিৎসা চলছেই। আর ভবিষ্যতে এ বিষয়টি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যাবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত কখন থেকে কার্যকর হবে? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, যখন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে মুক্তি দেবে তখন থেকে।

১৯| ২৪ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৪০

রাজীব নুর বলেছেন: হে উজবু‌কের দল ক‌রোনা কিন্তু ম‌ন্দির মস‌জিদ বো‌ঝে না, সে 'মানুষ' বো‌ঝে। সুতরাং সাবধান হও, স্বাস্থ্য‌বি‌ধি মে‌নে চ‌লো।

২৪ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৫৭

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:


সাবধান!
"তোমরা ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত থাকবে। জেনে রেখো, তোমাদের পূর্ববর্তীগণ এই বাড়াবড়ির কারণেই ধ্বংস হয়ে গেছে।"
—মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)
- (বিদায় হজ্বের ভাষন)

২০| ২৫ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৩৪

নতুন নকিব বলেছেন:



লিখতে থাকুন। ভিন্নমত থাকবেই। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলাই আমাদের কাজ।

ভালো পোস্ট। ধন্যবাদ।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:১৭

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
ভিন্নমতাবলম্বীদের ভিন্নমত থাকবে তা মেনেই নিয়েছি
তাই বলে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েও কোরআন সুন্নাহর
বিরোধীতা করবে ভাবাই যায়না। আল্লাহ সকলকে সুমতি
দান করুন। আমিন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.