নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে।

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

শহীদ বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ আতাউর রহমান খান খাদিমের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

২৬ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৪৪


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আতাউর রহমান খান খাদিম। খাদিম ইলেকট্রনিকস বিদ্যায় যেমন ছিলেন দক্ষ, তেমনি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায়ও ছিলেন সমান পারঙ্গম। একজনের দুই বিষয়ে পাণ্ডিত্য থাকা নিঃসন্দেহে একটি বিরাট ঘটনা। খান খাদিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পদার্থ বিজ্ঞানে ১৯৫৩ সালে বি.এসসি (অনার্স) এবং ১৯৫৪ সালে এম.এসসি. ডিগ্রি লাভ করেন এবং পশ্চিম জার্মানীর গোটিনজেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোয়ান্টাম থিওরী বিষয়ে পি.এইচ.ডি. করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভগে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যার সূত্র ধরে ২৬ মার্চ সকালে পাকিস্তানী বাহিনী আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ‌ হলে এবং হত্যা করে শহীদুল্লাহ্‌ হলের তৎকালীন মেধাবী এই আবাসিক শিক্ষককে। উল্লেখ্য, খান খাদিম ছাড়া শহীদুল্লাহ্‌ হলের আরও একজন আবাসিক শিক্ষক সেদিন পাক-বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়েছিলেন। তিনি গণিত বিভাগের শরাফত আলী। আজ আতাউর রহমান খান খাদিমের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ আতাউর রহমান খান মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

আতাউর রহমান খান খাদিম ১৯৩৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি ভারতের ত্রিপুরার খড়গপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম দৌলত আহমদ খাদিম এবং মাতার নাম আঞ্জুমান নিসা। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় আগ্রহী খান খাদিম ১৯৪৮ ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র জর্জ এইচ স্কুল থেকে প্রথম শ্রেণীতে মেট্রিকুলেশন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা কলেজ হতে ঢাকা বোর্ড হতে প্রথম শ্রেণীতে ১১তম স্থান নিয়ে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন। এর পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন সম্মান শ্রেনীতে। ছাত্রাবস্থায় খান খাদিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। ১৯৫৩ সালে তিনি বিএসসি(সম্মান) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন প্রথম শ্রেণীতে ২য় স্থান লাভ করে। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ১৯৫৪ সালে এম.এস.সি পাশ করেন ২য় শ্রেণীতে ১ম স্থান লাভের মাধ্যমে। কর্মজীবনে তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞান, বিশেষ করে কোয়ান্টাম ফিজিক্স এর উপর আগ্রহ থাকায় খান খাদিম কোয়ান্টাম থিওরীর উপর পি.এইচ.ডি. করতে যান পশ্চিম জার্মানির গোটেনজেন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ১৯৬০ সালে ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বীয় পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৫১ থেকে ৩০ জুন,১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের ফিলিপস ইলেক্ট্রিক্যাল কোম্পানিতে এক্স-রে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে খান খাদিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ১৯৬৩ সালের ২০ অগাস্টে অস্থায়ী প্রভাষক পদে যোগ দেন। একই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর একই বিভাগে বিভাগীয় ফেলো হিসেবে যোগদান করেন।পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্থায়ী প্রভাষক হিসেবে তিনি তার কর্মজীবন শুরু করেন। প্রথমদিকে বি.এস.সি. ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাশ নিতেন খান খাদিম ।

শিক্ষক থাকাকালীন অবস্থায় খান খাদিম থাকতেন তৎকালীন ঢাকা হলের (বর্তমান শহীদুল্লাহ্ হল) ওয়েস্ট হাউজের বাবুর্চি খানার উপর ২য় তলায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতেও তিনি একই ভবনে অবস্থান করছিলেন।প্রতক্ষ্যদর্শীর ভাষ্যমতে,২৬ মার্চ সকালে যখন পাকিস্তানী বাহিনী চানখাঁর-পুল এলাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঢুকতে চায়, তখন প্রথম প্রতিরোধটি আসে শহীদুল্লাহ হল থেকেই। এতে পাক-হানাদার বাহিনী সরাসরি আক্রমণ চালায় শহীদুল্লাহ্ হলের অভ্যন্তরে। মুহূর্তেই মারা যায় শহীদুল্লাহ্ হলের নাম না জানা অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এবং দুজন আবাসিক শিক্ষক। সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে হানাদার বাহিনীর গুলিতে মারা যান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অকৃতদার এই শিক্ষক আতাউর রহমান খান খাদিম। এছাড়াও শহীদ হন গণিত বিভাগের শিক্ষক শরাফত আলী। ১০-১১ দিন লাশ একই অবস্থায় পড়ে থাকার পর গলিত,পচে যাওয়া লাশ নিয়ে যাওয়া হয় দাফনের জন্য। খান খাদিমের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ২টাকা মূল্যের স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের মাইনর ল্যাবটির নামকরণ করা হয় “খান খাদিম ল্যাবরেটরী”, যেখানে প্রথম তিনি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পাঠদান শুরু করেন। এছাড়া, শহীদুল্লাহ্‌ হলের আবাসিক এই শিক্ষকের স্মরণে শহীদুল্লাহ্‌ হল ডিবেটিং ক্লাব খান খাদিমের নামকরণে প্রতি বছর আয়োজন করে "খান খাদিম অন্তঃহল বিতর্ক প্রতিযোগিতা"। এছাড়া শহীদুল্লাহ্‌ হলের ওয়েস্ট হাউজের কাছাকাছি ২৫ মার্চ রাতের শহিদ শহীদুল্লাহ্‌ হলের আবাসিক শিক্ষকদের একটি নামফলক থাকলেও ২০০৭ সালে তা সংস্কারের নামে সরিয়ে ফেলা হয়, যা পরবর্তীতে আর পুনঃস্থাপন করা হয় নি। আজ আতাউর রহমান খান খাদিমের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ আতাউর রহমান খান মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক লিংক
[email protected]

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অশেষ শ্রদ্ধা ।

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আপনাকে ধন্যবাদ আলি ভাই
সতর্ক থাকুন, করোনা মুক্ত থাকুন।
নিরাপদে থাকুন্ পরিবার পরিজন নিয়ে।

২| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



আক্রমণ আসন্ন বুঝার পরও ততকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের লোকজন ইউনিভার্সিটিরলোকজনকে সরে যাবার জন্য হুশিয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছিলো।
আওয়ামী লীগে সব সময় বেকুবের সংখ্যা ছিলো বেশী

২৬ শে মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক জ্ঞানীগুনী
বুদ্ধিজীবী নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ
করেছেন। আবার অনেক পাগল
বোকা হাবলারা দিব্যি বেঁচাঁ আছেন।
এর মানে কি দাড়ায়! যার যার মৃত্যু
সৃষ্টিকর্তা লিখে রেখেছেন সে ভাবেই
হয়েছে এবং হবে। অস্বীকার করতে পারেন?

৩| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৮:৫৪

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক বলেছেন, "
স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক জ্ঞানীগুনী
বুদ্ধিজীবী নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ
করেছেন। আবার অনেক পাগল
বোকা হাবলারা দিব্যি বেঁচাঁ আছেন।
এর মানে কি দাড়ায়! যার যার মৃত্যু
সৃষ্টিকর্তা লিখে রেখেছেন সে ভাবেই
হয়েছে এবং হবে। অস্বীকার করতে পারেন? "

-সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে আপনি যেভাবে কথা বলছেন, সেটা সঠিক হচ্ছে না; একজন শিক্ষকের মৃত্যু কেন একজন অত্যাচারীর হাতে হবে; এগুলো লজিক্যাল কথা নয়।

৪| ২৬ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: শ্রদ্ধা জানাই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.