নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিংবদন্তি অভিনেতা রাজাধিরাজ রাজ্জাকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্বাঞ্জলি

২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:০২


রূপালী জগতের কিংবদন্তি অভিনেতা বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের হিরো নায়করাজ রাজ্জাক। পূর্ববাংলা তথা বাংলাদেশের অভিনেতা হিসেবে রাজ্জাকের সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। তিনি অনেক ধরনের চরিত্রে প্রতিনিয়ত সাবলীল অভিনয় করতে পারতেন। শুধু রোমান্টিক নায়ক নয়, অ্যাকশন ও জীবনের গল্প পাওয়া যায় এমন প্রায় সব বাঙালি চরিত্রের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে তাকে পাওয়া গেছে। চলচ্চিত্রের সোনালী যুগ রাঙিয়েছেন তিনি। জনপ্রিয়তার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলেন বলে ‘নায়করাজ’ উপাধি পেয়েছেন। চিত্রালীর সম্পাদক প্রয়াত আহমদ জামান চৌধুরী নায়ক রাজ্জাককে ‘নায়করাজ’ উপাধি দিয়েছিলেন। কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘অবুঝ মন’, ‘রংবাজ’, ‘আলোর মিছিল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘অভিযান’, ‘মৌচোর’, ‘পাগলা রাজা’সহ প্রায় ৩০০টি বাংলা ও উর্দু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। ‘বেহুলা’য় লখিন্দরের ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। আর তার প্রথম নায়িকা ছিলেন সুচন্দা। তিনি সুচন্দার পর শবনম, কবরী, ববিতা, শাবানাসহ তখনকার প্রায় সব অভিনেত্রীকে নিয়ে একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দেন ঢালিউডকে। আজ নায়ক রাজ রাজ্জাকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী । ২০১৭ সালের এই দিনে ভক্ত-দর্শকদের কাঁদিয়ে চিরবিদায় নেন নায়করাজ। কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্বাঞ্জলি
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩শে জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম আব্দুর রাজ্জাক। তার পিতার নাম আকবর হোসেন ও মাতার নাম নিসারুননেছা। রাজ্জাকরা ছিলেন নাকতলা এলাকার জমিদার। তিনি কলকাতার বাশদ্রোণীর নিকটে খানপুর হাইস্কুলে পড়াশুনা করেন। স্কুলে তিনি অঙ্কে কাঁচা ছিলেন। এ প্রসঙ্গে রাজ্জাকের বাল্যবন্ধু টি দাস বলেন, স্কুলের শিক্ষকেরা তাকে বলতেন, "অঙ্কটা অন্তত ভালো করে শেখ। যোগ বিয়োগ ঠিকঠাক করে না শিখলে পরিবারের এত সম্পত্তি সামলে রাখবি কি করে।" কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রের জন্য বেছে নেন। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহী’তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয় জীবন শুরু।কলেজ জীবনে ‘রতন লাল বাঙালি’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে রাজ্জাকের। অভিনয়ের জন্য ১৮ বছর বয়সে মুম্বইয়েও যান রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সময় পরি বারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন তিনি। এরপর ‘১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন’ দিয়ে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। নায়ক হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ হয় জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে। এতে তার নায়িকা ছিলেন সুচন্দা। তারপর থেকে একাধারে অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গণ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এই কিংবদন্তি। ১৯৭৭ সালে ‘অনন্ত প্রেম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। রাজ্জাক প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। ‘আগুন নিয়ে খেলা’, ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘আলোর মিছিল’, ‘ছুটির ঘণ্টা’সহ মোট ৩০০টির বেশি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তার নিজের হাতে গড়া প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের নাম রাজলক্ষ্মী প্রোডাকশন। সেরা অভিনেতা হিসেবে পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্প-সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে নায়করাজ ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পদক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ‘কার্তুজ’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাককে শেষবার দেখা যায় তাকে।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬২ সালে খায়রুন নেসার সঙ্গে (লক্ষ্মী) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রাজ্জাক। এই দম্পতির ঘরে জন্ম নেন রেজাউল করিম (বাপ্পারাজ), খালিদ হোসেইন (সম্রাট), নাসরিন পাশা শম্পা, রওশন হোসেন বাপ্পি ও আফরিন আলম ময়না। ২০১৭ সালের ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬:১৩ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপতালে সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন মহানায়ক। ২৩শে আগস্ট তাকে বনানী কবরস্থানে করাহয়। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের মতে, রাজ্জাকের মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আজ নায়ক রাজ রাজ্জাকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। কিংবদন্তি অভিনেতা রাজাধিরাজ রাজ্জাকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্বাঞ্জলি।

নূর মোহাম্মদ নূরু
গণমাধ্যমকর্মী
নিউজ চ্যানেল :-& ফেসবুক
[email protected]

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৫৬

ঘরহীন বলেছেন: বাংলা সিনেমার 'রাজা' রাজ্জাক।

২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আপনাকে ধন্যবাদ ঘরহীন
নায়ক রাজের মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধা
জানানোর জন্য।

২| ২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৩০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।
ধন্যবাদ নুরু ভাই আপনাকে।
শুভেচ্ছা নিয়েন।

২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৫

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

ধন্যবাদ দাদা
অভিনেতা রাজ্জাকের মৃত্যুবার্ষিকীতে
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের জন্য।

৩| ২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৪৮

জগতারন বলেছেন:
আমার বাল্য সময়ের নায়ক রাজ্জাক ও নায়ীকা কবরী।
তাদের অভিনয় আজীবন আমার মনে থাকবে।
তাদে্র অভিনিত প্রথম সিনেমা দেখেছিলামঃ "সুয়ো রানী দুয়ো রানী" ১৯৬৮ সালে।

প্রিয় নায়ক-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমার শ্রদ্ধা।

২১ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৩৬

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আপনাকেও ধন্যবাদ জগতারন দাদা
প্রিয় নায়ক-এর স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা
জানানোর জন্য।

৪| ২২ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২৫

রাজীব নুর বলেছেন: রাজ্জাকের সাথে আমার বাপের চেহারার বেশ মিল। উজান কি বুড়ো বয়সে। ব্যাপক মিল।

২২ শে আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৪৮

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:

আপনি উত্তম কুমারের ডুপ্লিকেট আর
আপনার বাবা রাজ্জাকের । দারুন
রূপালী পদৃা তো আপনার ঘরে !!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.