| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ন্যালা-খ্যাপা
আমার রাত শুরু হয় দিনের আলোতে আর দিন শুরু হয় সোডিয়ামের নিয়ন আধো অন্ধকারে। আমার দিন আর রাতের পার্থক্য শুধু ঘড়ির কাঁটায়। আমি যে শহরের কথা বলছি, সে শহরকে বলা হয় পৃথিবীর অন্যতম ‘নিদ্রাহীন শহর’। এ আমার প্রিয় স্বদেশ নয়, আমার প্রবাস। আমার প্রিয় স্বদেশের সাথে এ শহরের কোন মিল নেই। নেই পরিচিত আপনজন, দুঃসহ যানজট, শব্দ দূষণ, অলস আড্ডা, নেই ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য। তবুও কি যেন নেই এ শহরে যা আমার প্রিয় জন্মভুমি বাংলাদেশে আছে……………
দু'দিন ধরে মনের আকাশে বিষাদ এর মেঘ জমেছে । শত ব্যাস্ততার মাঝেও কেন যেন বিষাদের মেঘ কাটছে না। তাই একটা যন্ত্রণা নিয়েই লিখতে বসা ।
পুরানো সেই দিনের কথা যখন আমরা রুটিন মাফিক আড্ডা মারতাম ।আমার বাসা গোপীবাগ । সকালে বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ঢাকা কলেজ, এর পর নিউ মার্কেট কাঁটাবন হয়ে টি এস সি হাকিম মামার গরম চা আর একটা সিগারেট , এর পর এক রিক্সায় চারজন উঠে সোজা সিদ্বেশরী লাকি ভাই এর সিনে স্টার ভিডিও তে বসে নতুন ছবি দেখতে দেখতে চায়ের আড্ডা। এর পর আনার কলি মার্কেট এ সেলিম মামার হোটেল এ চা পুরি সন্ধ্যার পর বেইলি রোড নাসির মামার ফুস্কা খেয়ে বাসায় ফেরা ।ঘড়ির সময় দেখে বন্ধুরা বুজতো আমরা এখন কোথায় আড্ডা মারছি ।খুব মনে পড়ে সেই সব দিনের কথা ।
একদিন শুক্রবার নামাজ শেষে আনারকলি মার্কেটে আড্ডা মারছি সেলিম মামার চায়ের দোকানের সামনে ভাঙ্গা বেঞ্চে বসে এরই মধ্যে দুজন ভদ্রলোক চায়ের
দোকানে এসে বসতেই আমার বন্ধুরা হাতের সিগারেট লুকালো কিন্তু আমি কোন কিছু না বুঝে সিগারেট এ সুখ টান দিয়েই চলেছি পাশ থেকে আমার এক বন্ধু বললো সিগারেট ফেলে দে উনি পাড়ার মুরব্বী চাষী ভাই । আমি চাষী ভাই কে নামে চিনি কিন্তু কোন দিন উনাকে ছবিতে বা সামনা সামনি দেখিনি এইপ্রথম দেখলাম ।
চাষী ভাই এর বাসা আনারকলি মার্কেটে এর পিছনের গলিতে মাঝে মাঝেই তিনি সেলিম মামার দোকানে এসে চা পানে আড্ডাদেন । এর পর থেকে চাষী ভাই এর সাথে আমাদের এখানে দেখা হত । তিনি প্রায়ই আমাদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবতেন কিন্তু কিছু বলতেন না সেই সময় চাষী ভাই হাঙ্গর নদী গ্রেনেট ছবির স্ক্রীপ্ট নিয়ে অনেক ব্যাস্ত প্রায় দেখতাম নানান ধরনের লোকজন উনার কাছে আসতেন ছবির শুটিং নিয়ে কথা বলতেন ।
কয়েকদিন ধরে এই আনারকলি মার্কেট দখল নিয়ে সিদ্দেশরীর রাসু ভাই ও মালিবাগের আরিফ কমিশনারের দন্ধ চরম পর্যায়ে আমরা তখন দিন রাত এই আনার কলি মার্কেটের সামনে পাহারায় সময় কাটেনা তাই লাকি ভাইয়ের ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে যা মন চায় তাই শুট করি কখনও ফুটবল বা ক্রিকেট খেলি ।আমাদের হাতে ভিডিও ক্যামেরা দেখে চাষী ভাই আমাদের ডাকলেন !আমরা চাষী ভাই এর কাছে এলাম । তিনি আমাদের জন্য চায়ের কথা বলে কি যেন ভেবে আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ
ক্যামেরা চালাতে ভাল লাগে ?
আমি বললাম হ্যা ভালই লাগে ।
এর পর একেক করে সবাই কে জিজ্ঞেস করলেন কে কি করি ? কে কি করতে চাই ? এর পর নানা কথা , অল্প সময়ের মধ্যে আমরা সবাই চাষী ভাইএর ভক্ত বনে গেলাম ।বাইরে থেকে চাষী ভাইকে অনেক রাগী মানুষ মনে হলেও ভিতরের চাষী ভাই এক অন্যরকম ভাল মানুষ ।
একদিন দুপুরে চাষী ভাই আমাদের শুটিং দেখাতে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে ।কি ভাবে শুটিং ডাবিং এডিটিং করে সব আমাদের ঘুরে ঘুরে
দেখালেন । এর পর থেকে আমরা কেমন যেন বদলে গেলাম ! পাড়ার সেই উঠি মাস্তান দল এখন আর পাড়ায় আড্ডা মারেনা ধীরে ধীরে সবাই কেমন যেন বদলে গেল এর পরের গল্প অনেক বড় লিখতে গেলে অনেক পাতা লিখতে হবে । আমাদের সেই বন্ধুদের মধ্যে আমি ছাড়া বাকী সবাই যার যার অবস্থানে বাংলাদেশ মিডিয়ার
জনপ্রিয় উজ্জ্বল নক্ষত্র ।
আমি ভিষন ভাবে কষ্ট পেয়েছি যখন জানলাম চাষী ভাই বেঁচে নাই ।
কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৫৯
ন্যালা-খ্যাপা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ঢাকাবাসী।
২|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:১৪
বিদ্রোহী বাঙালি বলেছেন: গুণী পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। স্পর্শ করে গেলো আপনার স্মৃতিচারণ।
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:০০
ন্যালা-খ্যাপা বলেছেন: স্পর্শ করায় খুশি হয়েছি। আন্তরিক ধন্যবাদ বিদ্রোহী।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৪
ঢাকাবাসী বলেছেন: চাষী ভাইয়ের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা ভালবাসা ভাল লাগল্ ।