| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অমি রহমান পিয়াল
বন্ধুত্বে উদার, শত্রুতায় নির্মম : কিছু করার নাই, রাশির দোষ ........................ জামাতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র শিবির সম্পর্কে মহানবীর (দঃ) সতর্কবাণী : শেষ জমানায় কিছু প্রতারক সৃষ্টি হবে। তারা ধর্মের নামে দুনিয়া শিকার করবে। তারা মানুষের নিকট নিজেদের সাধুতা প্রকাশ ও মানুষকে প্রভাবিত করার জন্য ভেড়ার চামড়ার পোষাক পড়বে (মানুষের কল্যাণকারী সাজবে)। তাদের রসনা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি। কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ের হৃদয়ের মতো হিংস্র। (তিরমিজী)
![]()
প্রচলিত গুজব, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ভারতে বন্দী ছিলেন। গুজবটা যারই সৃষ্টি হোক, বা যারাই (পড়ুন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি) এর ফায়দা লুটুক, খোদ ভাসানীও কখনই এই দাবী করেননি। বরং এই প্রসঙ্গে জাতিসংঘে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে লেখা চিঠিতে লিখেছেন : আমার শেষ জীবনের শেষ কাজ স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠাকল্পে যতদূর পারি ক্ষুদ্রশক্তিতে কাজ করিতেছি। হিন্দুস্তান সরকার আমাকে কারাগারে বা অন্তরীণ রাখিয়াছে ইহা মোটেই সত্য নহে। আমি যখন যেখানে থাকি খুব গোপনে অবস্থান করি। প্রকাশ্য ঘোরাফেরা বা সাক্ষাত করা আমার পক্ষে এই অবস্থায় মোটেই সম্ভব নহে।
তবে এই পোস্টের আলোচ্য বিষয় ঠিক এই চিঠি নিয়ে নয়। আর সেই প্রসঙ্গে আসার আগে মুক্তিযুদ্ধকালে ভাসানীর অবস্থান নিয়ে কিছু তথ্য অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। স্বাধীনতা সংগ্রামের শুরু থেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি দাবি এবং কর্মসূচীর প্রতি আকণ্ঠ সমর্থন জুগিয়ে গেছেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির প্রধান যার আরেক নাম রেড মাওলানা (সমাজতান্ত্রিক অর্থে)। যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিরাপদ থাকলেও এপ্রিলে বাধ্য হন শরণার্থী হতে। ৪ এপ্রিল ‘কাফের ভাসানী’র খোঁজে সন্তোষে হামলা চালায় পাক বাহিনী। ভাসানী পালান এবং নানা কৌশলে পাকিদের নজর এড়িয়ে শেষ পর্যন্ত একটি কোষা নৌকায় করে ১০ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ পৌঁছান। ১৫ এপ্রিল সীমান্ত পাড়ি দেন তিনি এবং আসামের গোয়ালপাড়া জেলার শিশুমারীতে আশ্রয় নেন। আসামের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মইনুল হক চৌধুরীর মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে তার আসার এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাহায্য চান। ১৭ এপ্রিল একটি বিমানে করে ভাসানী কলকাতায় যান। শুরুতে পার্ক সার্কাসের পার্ক স্ট্রিটের কোহিনুর প্যালেসের পাঁচ তালায় ভাসানী ও তার সহকর্মীদের থাকতে দেওয়া হয়। একই ভবনে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের পরিবারও থাকতেন।
২১ এপ্রিল চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং, প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছে ভাসানী চিঠি লেখেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এসব চিঠিতে বাংলাদেশে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পাকিস্তানকে সব ধরণের সহায়তা থেকে বিরত থাকার আবেদন ছিল। ৯ সেপ্টেম্বর গঠিত মুজিব নগর সরকারের ৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ছিলেন ভাসানী। কলকাতায় কিছুদিন থাকার পর তিনি আসামে যাওয়ার ইচ্ছে জানান। সেখানে চর ভাসানে তার অনেক মুরীদান। আসামে যাওয়ার আগে কুচবিহারের পুন্ডিবাড়ি এবং রাণীক্ষেতে কিছুদিন থাকেন। এরপর দেরাদুনে থাকতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে দিল্লীর অল ইন্ডিয়া ইনস্টটিউট অব মেডিকেল হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেরে ওঠার পর যমুনা নদীর তীরে এক বাংলোয় বিশ্রামে থাকেন ভাসানী। ২২ জানুয়ারি দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত এখানেই ছিলেন। ![]()
এবার আসা যাক আলোচ্য চিঠিতে। চিঠি এখানে একটি নয় দুটি। একটি ভাসানীর নিজের হাতে লেখা, অন্যটি তার ডিকটেশনে লিখেছেন ব্যক্তিগত সচিব সাইফুল ইসলাম। প্রথমটি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এবং অন্যটি অক্টোবরের শুরুতে। দুটো চিঠিই পুরো পড়ার পর পাঠকের মনে নানা প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। মওলানা আসামের মানুষ, তিনি ইন্দিরার অনুগ্রহে শেষ জীবনটা জন্মস্থানে কাটানোর ইচ্ছে জানাতেই পারেন। কিন্তু ভারতের সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠনের ব্যাপারটা আমার মাথায় একদমই ঢোকেনি। প্রবাসী মুজিব নগর সরকারের তরফে এমন কোন প্রস্তাবনার কথা কখনোই শোনা যায়নি। বরং স্বাধীনতার পর মওলানার ‘হক কথা’, জাসদের ‘গণমুক্তি’ কিংবা এনায়েতুল্লাহ খানের ‘হলিডে’ পত্রিকায় ভারতের কাছে দেশ বিক্রি এবং তাজউদ্দিন সরকারের ৭ দফা চুক্তির অপপ্রচার ছিল। এ প্রসঙ্গে তাজউদ্দিন বলেছিলেন ‘কেউ প্রমাণ দিতে পারলে আমি ফাঁসিতে চড়বো’ আর মুজিবের উক্তি ছিল ‘আমার দেশের মানুষ খেতে পায় না, ব্যাংকে কোন টাকা নাই, কিন্তু আপনাদের পত্রিকা বের করার খরচটা কে জোগায় এটা যদি সাহস করে বলতেন। আমরা জানি কিন্তু আপনাদের মুখে শুনতে চাই।’
দ্বিতীয় চিঠিতে এটা অবশ্য পরিষ্কার যুদ্ধাকালীন পরিকল্পনাদিতে আওয়ামী লীগ তার থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় রুষ্ট ছিলেন তিনি। পুরা ব্যাপারটায় ইন্দিরার হস্তক্ষেপের আকুতিও স্পষ্ট। প্রসঙ্গত বলতে হয় ৩০ ও ৩১ মে কলকাতার বেলেঘাটায় প্রবাসী বামপন্থীদের দু’দিনব্যাপী সম্মেলন হয় কমরেড বরদা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে। আটটি বাম দলের এই সম্মেলনে ১ জুন ‘বাংলাদেশ জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয় যার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয় মওলানা ভাসানীর নাম। কিন্তু এই কমিটির কোন বৈঠক কিংবা কার্যক্রমে ভাসানী অংশ নেননি, সমর্থনও জানাননি। এবার চিঠিতে আসা যাক। সাধুভাষায় লিখিত এই চিঠিটির মূল খসড়া মওলানার নিজের।
প্রিয় শ্রীমতী ইন্দিরা দেবী,
প্রধানমন্ত্রী
আমার আন্তরিক আশীর্বাদ ও ভালবাসা জানিবেন। আমার পত্রের উত্তর মি. কাউলের মেসেজে বিস্তারিত অবগত হইয়া যারপরনাই খুশি হইলাম।
আমার বাল্যজীবনের আদর্শ ৮৯ বছর যাবত অটুট রাখিয়াছিলাম। স্বৈরাচার এহিয়া সরকারের অমানুষিক অত্যাচারে উহা লঙ্ঘন করিতে হইল। বর্তমানের রাজনীতিবিদ কংগ্রেসের কর্মীদেরকে যে যাহাই বলুক কিন্তু তাহাদের মত বিলাসিতাশূন্য জীবনযাপন ও নির্মল চরিত্র অনেকেরই নাই। আমি চিরদিন সাধারণ গৃহে সাধারণভাবে নির্জন পল্লীতে থাকিয়া দেশের সেবা করিয়াছি। কিন্তু এবারই তাহার ব্যতিক্রম হইল। গত ৭ মাস শহরে প্যালেসেস সার্কিট হাউস বাস-আহারাদি বিলাসপূর্ণ। তাই আমার মৃত্যুকাল পর্যন্ত যাহাতে বাল্যজীবনের আদর্শ বহাল থাকে তাহারই জন্য ৫ একর জমি ও সাধারণ ধরনের ৪ খানা ঘরের ব্যবস্থা করিয়া দিবেন। আমার প্রথম পুত্রের মৃত্যু হয় ধুবড়ীর গ্রামে। তাই আমার বৃদ্ধা স্ত্রীর আশা তাহার শেষ দাফন ধুবড়ীর কোন গ্রামে হয়। আমার শেষ সংগ্রাম বাংলাদেশকে স্বাধীন করা, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, ভারতের সহিত কনফেডারেশন। এই তিন কাজের সাধন ইনশাল্লাহ আমার জীবিতকালে দেখার প্রবল ইচ্ছা অন্তরে পোষন করি।
বাধা যতই আসুক, আমার আন্তরিক আশা ও বিশ্বাস আপনাদের আশীর্বাদে অবশ্যই পূর্ণ হইবে। আমার আন্তরিক আশীর্বাদ আপনার আদর্শানুযায়ী সমাজতন্ত্র শুধু ভারতে নহে এশিয়া আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় অবশ্যই প্রতিষ্ঠিত হইবে। যখন দরকার মনে করেন দিল্লীতে ডাকাইলেই হাজির হইব।
আপনার বিশ্বস্ত
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
৩ অক্টোবর দেরাদুন থেকে যে চিঠিটি মওলানা লিখেছেন তার মুসাবিদা সাইফুল ইসলামের। হুবহু তা তুলে ধরা হলো :
আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নিকট হতে:
ক্যাম্প দেরাদুন
বরাবর
মিসেস ইন্দিরা গান্ধী,
প্রধানমন্ত্রী,
ভারত সরকার,
নতুন দিল্লী।
তারিখ ৩ অক্টোবর ১৯৭১
সম্মানীয়া মহাদয়া,
আপনার জন্য আমার অশেষ ভালোবাসা ও আশীর্বাদ গ্রহন করবেন। পুনরায় আপনার অমূল্য সময় হতে কয়েক মিনিট অপচয় করার কারণে আশা করি আপনি নিজ গুণে ক্ষমা করবেন।
আপনার সরকার সাধ্যমতো উত্তম চিকিৎসা করা স্বত্বেও পুরানো জ্বালাটা অনুভব করছি। কয়মাস পেরিয়ে গেছে আমি আমার স্ত্রী এবং নাতনিদের কোন সংবাদ জানি না। তাদের কোন প্রকার খবরাখবর না জানায় আমার বেদনাদায়ক অনুভব আপনি বুঝতে পারছেন- এ সম্পর্কে আমি নিশ্চিত।
বাংলাদেশের প্রথম কাতারের নেতারা যারা স্বাধীনতার জন্য কাজ করছেন তাদেরও সততা সম্পর্কে আল্লাহই জানেন। আমি পুনরায় ওয়াদা দিচ্ছি আওয়ামী লীগ যতক্ষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লড়বে আমি তাদের সমর্থন দিয়ে যাব।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমি যখন কলকাতায় ছিলাম তখন কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা আপনার বরাবরে একটি লেখা টাইপ করে নিয়ে এসেছিলেন যে, অসুস্থতার দরুন আমি আপনার সাথে দেখা করতে সক্ষম হব না। চিঠির পুঙ্খানুপুঙ্খ না পড়ে কেবলমাত্র বিশ্বাসে তাতে সই দিয়েছিলাম। ওর পিছনে কি মতলব আছে আমি তা জানি না। তারা ওয়াদা করেছিলেন যে, ঐ চিঠির কপি আমাকে দেবেন। কিন্তু তারা কথা রক্ষা করেননি। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি ১১ বছর যাবত আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলাম এবং স্বাধীনতাউত্তরকালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে ৮ বছর যাবত তার সভাপতি ছিলাম এবং আমি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও কৃষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই পদে গত ১২ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘকাল এই রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতির কাজে আমার পরিচালনায় কম করে হলেও ১৬ জন সেক্রেটারি কাজ করেছেন। কিন্তু আমি গ্রামেই বাস করি। ফলে জরুরী রাজনৈতিক চাহিদা মোকাবেলা করার জন্য আমার সাদা প্যাডে বহু সই তাদেরকে দিয়েছি। এসব আমি ভালোভাবে উপলব্ধি করছি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে আমার সরল বিশ্বাসের বহু মওকা গ্রহণ করেছে। ফলে আমার রাজনৈতিক সহযোগিতার উপর আমার বিশ্বাস চলে গেছে। এই কারণে আমার মানবিক বেদনার জন্যই এইসব অবান্তর কথা আপনাকে লিখছি।
বিশ্বশান্তি, নিপীড়িত মানুষের মুক্তি এবং আল্লায় বিশ্বাসীসহ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপনার মহৎ সংগ্রাম আপনি অব্যহত রাখবেন বলে আমি আশা ও বিশ্বাস করি। এবং আমি খোলামনে আপনার প্রতি সকল বিশ্বাসের স্বীকারোক্তি করছি। যদি কোন বিষয়ে আপনার সাথে দ্বিমত পোষণ করি তবে ব্যক্তিগতভাবে আপনার সাথে সাক্ষাত করে সেই পয়েন্ট আলোচনা করব। আপনার মূল্যবান উপদেশ ব্যতীত আমি কোন সিদ্ধান্ত নেব না কোন কাজ করব না। যদি আমার বিরুদ্ধে আপনার কাছে কোন রিপোর্ট পেশ হয়ে থাকে তবে বিশ্বাস করুন আমি জীবনে কাউকে ঠকাইনি। এবং শেষ জীবনেও ঠকাব না। আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত আছি। আপনি যদি আমাকে সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন তবে আমি সুখী ও আনন্দিত হব। বৃদ্ধ বয়সের জন্য অনুগ্রহ করে আমাকে অবহেলা করবেন না। যদি কাজ করার এই আজীবন অভ্যাস হতে দূরে রাখা হয় তবে আশঙ্কা করছি তা আমার স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের স্বপক্ষে জনমত সৃষ্টির জন্য কিছুদিন পূর্বে মি. ডিপি ধরের নিকট কিছু লেখা পাঠিয়ে তা ইংরেজি, বাংলায়, চীনা, আরবি, উর্দু, ফরাসি, রাশিয়ান, জার্মান প্রভৃতি ভাষায় ছাপিয়ে এ সকল দেশে বিতরণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলাম। অনুরোধ মোতাবেক কাজ হলে আমি সুখি হব। রমজান মাসে আমি পশ্চিমবঙ্গ অথবা আসামের কোন স্থানে থাকতে চাই। পবিত্র মাস শেষে আমি আবার এখানে ফিরে আসতে চাই।
আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন এবং ভারতের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠন করার লক্ষ্যে আমি আমার সংগ্রাম অক্ষুন্ন রাখব।
এই বুড়ো বয়সে স্ত্রী ও নাতনিদেরকে নিয়ে আসামের ধুবড়ী মহকুমার যে কোন স্থানে বাস করার জন্য যদি আপনি পাঁচ একর জমিসহ ক’টি টিনের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে এই বদান্যতার জন্য আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞ থাকব। আসামের আভ্যন্তরীন রাজনীতিতে আমি কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করব না। আপনার এবং আসাম সরকারের নিকট আমি এই প্রতিজ্ঞা করছি। ছয়মাস যাবত আমার থাকা, খাওয়া, পরার জন্য আপনার উপর নির্ভরশীলতার দরুন অত্যন্ত লজ্জাবোধ করছি। যদি ধুবড়ী থাকতে আমাকে অনুমতি দেয়া হয় তাহলে সরকারী তহবিল হতে আমার জন্য অর্থ খরচের দরকার পড়বে না। যেই আমাকে প্রো-চাইনিজ বলে আপনার কাছে চিহ্নিত করতে অপচেষ্টা করুন, ইনশাল্লাহ আমি ভারত ও আপনার অবাধ্য হবো না।
সর্বাধিক সম্মান সহকারে,
আপনার বিশ্বস্ত
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
তথ্যসূত্র :
সাইফুল ইসলাম : স্বাধীনতা-ভাসানী-ভারত
সৈয়দ আবুল মকসুদ : মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
সিরাজউদ্দীন আহমেদ : মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৮
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: হাসির কিছু নাই, উনার বয়স তখন ৮৯ বছর, এটা তিনি করতেই পারেন
২|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৪
আমি এবং আঁধার বলেছেন: সৈয়দ আবুল মকসুদ : মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বই থেকে পাওয়া সূত্রের পৃষ্ঠাসংখ্যাটি দয়া করে জানাবেন কি?
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ৪৬১-৪৬২
৩|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৫
মইন বলেছেন: শোকেসে রইল।
তবে চিঠিগুলোর কোন স্ক্যান বা ছবি থাকলে ভালো হতো।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: নিশ্চয়ই ভালো হতো, আমাকে এত কষ্ট করে টাইপ করতে হতো না।
৪|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১০
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: সেইসব বিশ্বাসীদের (পড়ুন স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি) ভিত্তিমূলে একের পর এক আঘাত যেমনে চালাচ্ছেন, তাতে তো ওরা কুব শীগগিরই পথে বসবো
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ![]()
৫|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১২
স্বপ্নকথক বলেছেন: পাঁচ একর জমিসহ ক’টি টিনের ঘরের ব্যবস্থা ভিক্ষা???? ছিঃ শেষে মাওলানা ভাসানী ভিক্ষা চেয়েছিলেন????? এই আমাদের মজলুম জননেতা??
হায়!! এদের চেহারা কত নোংরা!!! থুঃ!
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আজিব লোক দেখি তুমি। এইটা নিয়া আমার কোনো আপত্তি নাই, তুমি ভারতের সঙ্গে মওলানার কনফেডারেশনের ধরণটা নিয়া কি ভাবতেছো সেইটা বলো
৬|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৬
অচন্দ্রচেতন বলেছেন: আপনার পোস্ট মানেই নতুন কিছু জানা, নতুন কিছু শেখা। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি
৭|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৭
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: পিয়াল ভাই.. একটা বিষয় চিন্তা করে তাড়িয়ে তাড়িয়ে মজা উপভোগ করছি,..৮৯ বছরের একজন মানুষের পক্ষে সাড়ে তিনহাত জায়গা চাওয়াটা শোভনীয়। আত্নীয় পরিজন সহ হৈলে চাওয়াটা হৈতে পারে, "ঠিক আছে আপনের মর্জি মতো দিয়েন-টাইপ"....উনি ৫ একর জমি চাইলেন কি মনো কৈরা! কমও না বেশিও না...
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: চাষাবাসের জন্য
৮|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩২
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: যাই বলেন, উনার সমসাময়িক কালে বিশ্বে কনফেডারেশন গঠনের ধারনা কিন্তু কম পপুলার ছিলোনা!
তার কনফেডারেশন কেমন হৈতো সেইটা তো উনি চিঠির লাষ্ট লাইনে প্রস্তাবই করছে......"যেই আমাকে প্রো-চাইনিজ বলে আপনার কাছে চিহ্নিত করতে অপচেষ্টা করুন, ইনশাল্লাহ আমি ভারত ও আপনার অবাধ্য হবো না।"
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: কথাটা মারাত্মক সন্দেহ নাই, যদিও স্বাধীনতার পর কথা রাখেন নাই মওলানা। সেইটার পিছনে জমি না পাওয়ার ক্ষোভ কাজ করছে কিনা আমি জানি না।
৯|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪২
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: বস,
মাওলানা ভাসানী ৭২-৭৫এ সরকারী দলের বিরোধিতা করেছেন, যৌক্তিক/অযৌক্তিক সমালোচনা করেছেন, আজীবন সমাজতান্ত্রিক রূপরেখায় শাসনব্যবস্থা দেখতে চেয়েছেন, বাকশালের বিরোধিতা করেছেন, তার নামের ভাসানী নভোথিয়েটার ২য়বার পালটানো হয়েছে বলে কি তার ইমেজ নষ্ট করার জন্য এরকম পোস্ট দিতে হবে?
এই কাজটা এহহামিদা টাইপের কেউ করলে এত মন খারাপ করতাম না, পোস্টেও আসতাম না, কিন্তু আপনি কেন??
১৯৭১ কি খুবই সরলরৈখিক কিছু? হু আ এর গল্পের মতন?? ভাসানীর মতন আপসহীন নেতার এরকম চিঠি লেখাই কি প্রমাণ করেনা বা ভাবায় না যে তাকে কি পরিমাণ চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিলো তখন ভারত সরকারের দ্বারা?? তখন কি তিনি জানতেন যুদ্ধ কবে শেষ হবে? মরার আগে জন্মএলাকায় থাকতে চাওয়া কি খুবই ন্যাক্কারজনক ছিলো?
তখন সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে নকশাল আন্দোলন দাউ দাউ করে সবকিছু জ্বলছে, এরকম সময় ভাসানীকে মুক্তভাবে, মনিটরিং না করে কাজ করতে দেওয়া হয়েছিলো!! সরি, ভারত সরকার এত বেবুঝ তা মানতে পারলাম না। আর ভারতপ্রেমী ভাসানী কেন ৭২-৭৫ এ ভারতবিরোধী হলেন, ফারাক্কা আন্দোলন করলেন তাও কিছুতেই ক্লিয়ার হলোনা।
রাজনীতি মানেই কৌশল, শেখ মুজিব ৭ই মার্চ এ ভাষণের শেষে জয় পাকিস্তান/জীয়ে পাকিস্তান/পাকিস্তান জিন্দাবাদ বলেছিলেন(দয়া করে রেফারেন্স চাইবেন না, এটা কেন পাওয়া যাবেনা তা আমি/আপনি ভালো করেই জানি-), তারপরেও কি সেটা ঠিক ছিলো না? হ্যাঁ, ঠিক ছিলো, কারণ-
১. শেখ মুজিব তখন ফ্রেবুয়ারীর শেষ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর সাথে নিয়মিত ফরমাল আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
২. শেখ মুজিব লীগাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে অনুষ্টিত ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে আহুত নির্বাচনে আইনীভাবে নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ও বাই ডিফল্ট প্রধানমন্ত্রী, যাকে বলে Priminister Elect তিনি। নির্বাচনের সরকারী ফলাফল ঘোষণা হয়ে গেছে, কেবল শপথ নেবার অভিষেক, আনুষ্ঠানিকতা বাকি।
৩. আমরা সেই ১৯৬৯ থেকেই আন্দোলন আইনী পথে অর্থাৎ মাস-মুভমেন্ট, সশস্ত্র আন্দোলনের পথে নয় - এই লাইনে আগাচ্ছিলাম; মাঝের নির্বাচন ওটাও সেই গণআন্দোলনের অংশ। এটাই, শেখ মুজিব যে আইনী বৈধতায় বাংলার একছত্র, অবিস্মাদিত নির্বাচিত প্রতিনিধি - তা আইনী প্রমাণ করে রাখা গেছিল। ফলে এই আইনী লাইনের গণঅভ্যূত্থান, আন্দোলনের সুযোগের সর্বশেষ ধাপের পৌছানোর আগে, আলোচনা তিনি চান না অথবা তিনি পাকিস্তাই মানেন না - এটা তিনি বলতে - মুখে কখনই ফরমালি বলতে পারেন না। এটা আত্মঘাতি হত।
৪. সব খেলার একটা নিয়ম থাকে। আইনী লাইনের গণঅভ্যূত্থান, আন্দোলনের খেলার নিয়ম হলো, যদিও সব পক্ষ, জনগণ সবাই জানে পাকিস্তান আর নাই - কিন্তু এটা শেষ হবে কী করে এটা গুরুত্ত্বপূর্ণ প্রশ্ন। শেখ মুজিব "পাকিস্তান মানেন না" একথা তিনি নিজে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করলেও আইনী কারণ, খেলার নিয়মের কারণে, বলা যাবে না; এটা বলা মানে আত্মঘাতি; কারণ এটা বলার পরদিন তিনি আবার ঐ রাষ্ট্রের প্রধানের সাথে কোন আলাপ আলোচনায় যেতে পারেন না। আলোচনার জন্য ভাব ধরা সমস্ত খোলা পথ শেখ মুজিবই বন্ধ করে দিলেন এই অজুহাত, দায় সবই তাঁর উপর আসবে; শেখ মুজিব মানে আমরা সবাই, যার আঙ্গুলের ডগায় জনগণের ইচ্ছার সম্মিলিত প্রকাশ ঘটে গেছে। তাঁকে গ্রেফতার, এমনকী ফাঁসিতে লটকে দেবার আইনী সুযোগ ইয়াহিয়ার হাতে আমরা তুলে দিতে পারি না।
৫. এইজন্য বেষ্ট পথ হলো ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। ঐ ঘোষণা একদিকে স্বাধীনতার ডাক, আলাদা হবার ডাক - যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাপিয়ে পড়া, প্রতিরোধ গড়ার ডাক - সবই আছে। আবার আইনী দিক থেকে দেখলে শেষে "পাকিস্তান জিন্দাবাদ" বলার কারণে এই বক্তৃতা লিগালী কাভার্ড; তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদের অভিযোগে উপস্হিত পাকিস্তান আইনে গ্রেফতার, ফাঁসী দেবার - এসব প্রক্রিয়ার কোন সুযোগ নাই। আবার ইতিহাসে প্রমাণ হয়ে থাকল আলাপ আলোচনার পথে সমাধানের পথ exhaust করার শেষ পর্যন্ত সুযোগ তিনি রেখেছিলেন। এএক দূর্দান্ত দূরদর্শী ঐতিহাসিক ভাষণ।
৬. এক কথায় ৭ই মার্চের ভাষণ ঐসময়েরই উপস্হিত রিয়েলিটিরই প্রতিচ্ছবি। ২৫ মার্চের রাতে নির্মম আক্রমণের পর ঐ লীগাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার (LFO) - এই আইনী খেলার নিয়ম ভাঙ্গার দায়দায়িত্ত্ব ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর কাঁধে বর্তায়। আইনী খেলার নিয়মের পরিসমাপ্তি ছিল ওটা। ভগ্ন দূর্দশাগ্রস্হ নিপীড়ক পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতি আমাদেরও কোন আইনী, রাজনৈতিক দায় থাকল না। সত্যিকার অর্থেই আমরা তখন সেদিন থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। যদিও এর জন্য আমাদের অপরিসীম মূল্য চুকাতে হয়েছিল। অসংখ্য সাধারণ মানুষ, পিলখানার বিডিআর, সেনা ইপিআর ইউনিট, পুলিশ ব্যারাকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অত্যাচার নৃশংসতা, নির্মমতা, হত্যায় আমাদের মানুষকে বলি হয়ে গিয়ে সে মূল্য চুকাতে হয়েছিল।
৭. গণ-আন্দোলন সংগ্রামের বিপরীতে সশস্ত্র আন্দোলনের পথে আগানোর পথ সম্পূর্ণ ভিন্ন - যে খেলার যে নিয়ম। এই পথে হাতে অস্ত্র তুলে নেবার সময় থেকেই ঘোষণা দিয়ে বলা যায় এবং বলা উচিতও যে উপস্হিত রাষ্ট্র, সরকার সেনাবাহিনী আমি মানি না। অর্থাৎ এখানে রাষ্ট্র ভাঙ্গার ঘোষণা আগে দিয়েই আন্দোলন শুরু করা সম্ভব এবং তাই করা হয়।
৮. আন্দোলনের যে দুই পথের কথা বললাম - এটা ভাবা বেকুবি হবে যদি ভাবি কোন পথ বেশি ভাল। এটা ভাল মন্দের প্রশ্ন নয়; স্রেফ বাস্তবতা বিবেচনা ও আন্দোলনের কৌশল বা ষ্ট্রাটেজির প্রশ্ন। উপস্হিত বাস্তবতায় কোন পথে ফল বেশী, লক্ষ্যে পৌছানো সহজ, সম্ভব - তার সুচারু বিবেচনা কৌশল। তবে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ কিছু ভুল ত্রুটি, বড় বড় খামতি সেখানে অবশ্যই সাথে আছে, তা থাকা সত্ত্বেও এর একটা ইউনিক বৈশিষ্ট হলো, এখানে দুই পথকেই পরিমিত পরিমাণে ও সঠিক সময়ে ব্যবহার করে সফলতায় নেয়া গিয়েছিল।(পি মুন্সি)
কাজেই শুধু দুইটা চিঠি না উঠিয়ে দিয়ে, সেই সময়ের অবস্থা, ভারতীয়দের ভূমিকা, ভাসানীর তৎকালীন অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সাথে মিলিয়ে দেখুন, মুজিবের জয় পাকিস্তান আর ভাসানীর ভারতীয় কনফেডারেশন কেন কৌশ্লগতভাবে সঠিক(৭১ এর আলোকে।)
শেষ কথা, মুজিবকে নিয়ে লেবু কচলে কচলে যেমন বিষ বানানো হয়েছে, তা থেকে ভাসানীকে আমরা বাদ দিতে পারিনা? এই বুড়ো মানুষটা দেশের জন্য যা কিছু করেছেন তার জন্য আমরা কি এটুকু করতে পারিনা? উনিতো আর তার নামে নভোথিয়েটার চান নাই, যেহেতু পাল্টানোই হয়ে গেছে, আসুন বেচারাকে শান্তিতে থাকতে দেই।
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: দীর্ঘ মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণে পাকিস্তান জিন্দাবাদ, জিয়ে পাকিস্তানের ব্যাপারে আমি অবশ্যই রেফারেন্স চাইবো। দিতে না পারলো আমার বিশ্বাসে অটুট থাকবো যে এটা অপপ্রচার। কারণ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয় বাংলা... এই কথা বলার পর কোনোভাবেই মুজিবের মুখ থেকে পাকিস্তান জিন্দাবাদ বা জিয়ে পাকিস্তান কথাটা আসে না। আপনার অনেকগুলো বক্তব্যই এই একটি হাওয়াই কথার উপর নির্ভরশীল। রেফারেন্স ছাড়া আমি অবজ্ঞা করতে বাধ্য।
আসা যাক মওলানার কৌশলগত দিক নিয়ে। ব্যাপারটা আলোকপাত করলে নিশ্চয়ই খুশী হবো।
অত্যন্ত হাস্যকর ঠেকলো ভাসানীর ইমেজ নষ্ট করার জন্য এই পোস্টের অবতারনা এমন কথা বলায়। ইতিহাস লুকানোর বিষয় না, ইতিহাস উঠে আসে। আমি না তুললেও আজ থেকে ৫০ বছর পর কেউ না কেউ নিশ্চয়ই তুলতো। আমার পোস্টের কারণে ভাসানীর মুরীদদের কারোই ঈমান নষ্ট হবে না। কলবের মোহর অন্য জিনিস, আমার যেমন মুজিবের ব্যাপারে তা কখনোই কাটে না। রেফারেন্স নিয়ে আসেন আলোচনা করি। নাইলে স্যরি। মন্তব্যের জন্য আবারও ধন্যবাদ
১০|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৮
শয়তান বলেছেন: তারিখ ৩ অক্টোবর ১৯৭১
জয়ের এতো কাছাকাছি এসে এরকম নতজানুতা অবাক ঠেকলো । আবার ভাসানীর মতলোকের কাছ থেকে
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৩৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: নাহ জয়ের এত কাছাকাছি এখন মনে হয়। তখন প্রতিটি মুহূর্ত ছিলো এক একটি দিনের মতো, একেকটি দিন একেকটি বছর। অক্টোবরে আমাদের অফেন্স অনেক শক্তিশালী হয়েছে, দুর্বল হয়েছে পাকিদের রক্ষণ, কিন্তু জয়ের কাছাকাছি আমরা ছিলাম এটা বলার মতো নিশ্চয়তা সে সময় কেউ দিতে পারেনি। খোদ তাজউদ্দিন বা ওসমানীও না। ভাসানী তো পরের ব্যাপার
১১|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৩
স্বপ্নকথক বলেছেন: ভারতের সাথে কনফেডারেশন?
যা বুঝলাম তাতে তিনি ইন্দিরার সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছিলেন...টোপ হিসেবে কনফেডারেশন গঠনের লোভ দেখিয়েছেন। কিন্তু আমার কথা হলো থাকার স্থান কেন চাইলেন? তারমানে কি উনি বাংলাদেশে আর ফিরে আসতে চাননি? ভারতের ছায়াতলে থেকে জীবন কাটাতে চেয়েছেন?
হতে পারে কনফেডারেশন গঠন তখন "হলেও হতে পারে স্বাধীন বাংলাদেশের" জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার এপ্রোচ ভালো লাগে নাই। কেমন যেন জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর ভাব!!
এখন দেখেন এন্টি আওয়ামীরা কি বলে...হয়তো বলবে দেশ বেচে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিলেন ভাসানী!
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: চিঠির বক্তব্য তাই বলে যে আসামেই শেষ জীবনটা কাটানোর ইচ্ছে ছিলো ভাসানীর। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই হয়তো জীবদ্দশায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা দেখে যেতে পারবেন এই আত্মবিশ্বাসটুকু হারিয়েছিলেন তিনি। এখানে মনে রাখতে হবে আসাম তার জন্মস্থান, ছেলেবেলা, সংসার জীবনের শুরুটাও সেখানে, তার বিশাল মুরিদানও চর ভাসানে (যার নামে তার নাম ভাসানী)। এই কনফেডারেশনের কনসেপ্টটা আমার নিজের কাছেই পরিষ্কার না, সেজন্যই তো চিঠি দুটো তুলে দিলাম
১২|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৬
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: এক্কেবারে নতুন তথ্য।
এত অন্যরকম জানতাম। বিশেষ করে, চিকিৎসার নাম করে তাঁকে অন্তরীন করে রাখার ব্যাপারটা সর্বজন বিদিত।
আরেকটু খতিয়ে দেখি।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: নিশ্চয়ই। কি পেলেন জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো। সর্বজনবিদিত ব্যাপারটার পেছনেও কাহিনী আছে। বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রাম কমিটির যে সম্মেলনের কথা বলেছি পোস্টে তার একটি প্রস্তুতি সভা হয়েছিল সে মাসের মাঝামাঝি, শিয়ালদহ স্টেশনের টাওয়ার হোটেলে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভাসানী ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান (পরে বিএনপির মন্ত্রী)। মশিউর রহমান ভাসানীর সঙ্গে অনেকবার দেখা করার চেষ্টা করেও অনুমতি পাননি। ২৪ মে ভারত থেকে পালান মশিউর, কারণ তাকে চীনাদের এজেন্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল এবং গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। মশিউর সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর কাছে সারেন্ডার করেন এবং রাজনৈতিক দালাল হিসেবে প্রমাণিত ও চিহ্নিত হন।
সেসময় মুজিবনগর সরকারের উচ্চপদস্থ প্রত্যেক সদস্য ছাড়াও সেখানে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের প্রাণনাশের সংশয় ছিলো, কারণ এমন খবর ছিল যে পাকিস্তান এই উদ্দেশ্যে সে দেশে ঘাতক পাঠিয়েছে। আর ভাসানীকে ফুসলিয়ে পাকিস্তানে নিয়ে তার মুখ দিয়ে উল্টা কথা বলানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে আশঙ্কায় ছিল তাজউদ্দিন সরকার। তবে গোটা মুক্তিযুদ্ধকালে গৃহবন্দী থাকার উদাহরণ একজনেরই, খন্দকার মোশতাক আহমেদ। মার্কিন দুতাবাসের মাধ্যমে পক্ষ বদলানোর তার ষড়যন্ত্রটি জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেয় ভারত সরকার। আর তাজউদ্দিন স্রেফ প্রোপগান্ডার ভয়ে তার মন্ত্রীত্ব কেড়ে নেননি। ততদিনে অবশ্য যুদ্ধও শেষ হয়ে এসেছে।
প্রাণনাশের সেই সংশয় থেকেই নেতাদের অবস্থান এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা ছিলো ভারত সরকারের। ভাসানী তো সেই হিসেবে হাইপ্রোফাইলদের একজন। গুজবটা রটে লন্ডন থেকে বারবারা হক ও দেবী প্রসাদ ভারতে এসে ভাসানীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চেয়েও ব্যর্থ হন। গুজবটা তারপরই রটে, কারণ তারাই ভাসানী বন্দী তার মুক্তি চাই জাতীয় বক্তব্য দেন।
১৩|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪০
দূর্ভাষী বলেছেন: এতটা জানা ছিলনা, ধন্যবাদ প্রিয় লেখক বিষয়টি রেফারেন্সসহ তুলে ধরার জন্য।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে
১৪|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৩
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: বস,
লিখিত রেফারেন্স বললে জ্যোস্না ও জননীর গল্পের ভূমিকায় হু আ এর কথা, শামসুর রাহমানের আত্মজীবনীতে (জনকন্ঠে ধারাবাহিকভাবে দেয়ার সময় পড়েছিলাম, পরে প্রকাশিত হওয়ার সময় আছে কিনা জানিনা।)। আর কোথাও গরুখোঁজা খুঁজেও লিখিত পাইনি। হয়তো পাওয়া যেতেও পারে।
মৌখিকভাবে অসংখ্য লোকের কাছে শুনেছি, তবে তা যে গ্রহণযোগ্য হবেনা সেটা আমিও মানি।
কৌশল নিয়ে বলতে গেলেতো তখনকার বামপন্থী ভূমিকা নিয়ে বিশাল আলোচনা হয়ে যাবে, চীন-মস্কোপন্থী, নকশাল, জেনারেল উবানের আন্ডারে দেরাদুনে বিশেষ প্রশিক্ষিত মুজিব বাহিনী এরকম আরো অনেক প্রসংগ আসবে।
এই সবকিছু বাদ দিয়েও যদি এই প্রশ্নটি করি যে এত বিশ্বস্ত চিঠি লেখার পরেও তিনি কেন এত ভারতবিরোধী হলেন, ফারাক্কা আন্দোলন করলেন??? শুধু জমি না পাওয়ার লোভে???
মানা যাচ্ছেনা যে??
আপনাকে ধন্যবাদ।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আলোচনায় আপত্তি নেই, স্বাগতম। আমি তৈরি। তবে ফিকশন জাতীয় উপন্যাসকে আমার রেফারেন্স হিসেবে মানতে আপত্তি আছে, জনকণ্ঠে শামসুর রাহমান যদি লিখেই থাকেন এটলিস্ট একজন হলেও সেটা তুলে ধরতে পারতো, কারণ এই বিষয়ে নিরলস শ্রমে ব্যা.না হুদাকেও ছাড়িয়ে যেতে কিছু ব্লগার চেষ্টায় থাকেন।
১৫|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৭
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: লোভে=ক্ষোভে
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ওই অংশটির জবাবের জন্য চলুন '৭২-৭৫ ভাসানীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করি। তার রাজনৈতিক বক্তৃতা কিংবা বয়ান এবং সামরিক সরকারের সময় তার ভূমিকা। জাসদ তাজউদ্দিনকেও তাদের নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কথা হচ্ছে ভাসানি শেখ মুজিবেরও সিনিয়র রাজনীতিতে, তার জনসমর্থন ঠিক কতটুকু ছিলো যে তা পার্লামেন্ট পর্যন্ত পৌছল না, বরং স্বাধীনতা পরবর্তী অরাজকতায় (যার নেপথ্যে কারা ছিলো এখন তা প্রকাশিত) তার কথাগুলো আরো ফেনিয়ে ব্যবহার করে গেল এবং এখন তাকে মুক্তিযুদ্ধে মুজিবের প্যারালালি দাড় করানোর অপচেষ্টাও চলে।
১৬|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৯
পদ্মাচরের লাঠিয়াল বলেছেন: বস,
ভূমিকায় সূত্র হিসেবেও হু আ শামসুর রাহমানের কথাই রেফারেন্স হিসেবে দেখিয়েছেন।
খুবই বিজি আছি এখন। ২/৩ দিন পরে এইটা নিয়ে বসি?? কিছু রেফারেন্স ঝালিয়েও নিতে হবে, আপত্তি নেইতো?
ধন্যবাদ।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৮
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: নিশ্চয়ই কোনো আপত্তি নেই। আসলে এইসব বিষয়ে এই ব্লগে মনজুরুল হক ভাই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন, ইনফ্যাক্ট আমার ধারণা তিনি যোগ্যতম লোক।
তবে ভাসানী সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কিছু অবজারভেশন শেয়ার করি। মওলানার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক সিদ্ধান্তই বিতর্কিত। আর সেসব অনেকখানিই তাকে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করা বামদের কাজ। তাকে সাইনবোর্ড তারা এইজন্য ব্যবহার করতো যে পাকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ ছিলো, ন্যাপ তাদের আশ্রয়। আর কমিউনিস্ট মানেই যারা নাস্তিক মনে করে তাদের জন্য একজন মাওলানার চেয়ে দারুণ বিজ্ঞাপন আর কি হতে পারে! মোটের উপর যেদিকে হাল সেদিকে পাল টাইপের মনোভাব ভাসানীর গোটা রাজনৈতিক জীবনে অনেকবার দেখা গেছে। স্বাধীনতার পরও সেটা শেষ হয়নি
১৭|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৪
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: ১. কেউ কেউ দেখলাম ৫ একর জমি আর টিনের ঘরের ব্যাপারটায় লোভের চেহারা দেখতে পাচ্ছেন---আমার কাছে মোটেও সেটা মনে হয়নি।
২. পদ্মাচরের লাঠিয়ালের সাথে একমত, যে, কেউ কেউ এই কনফেডারশনের ব্যাপারটাকে সরলরৈখিক ভাবে ধরে নিয়ে ভাসানীর বদনামে কাজে লাগাবে, তবে, এইটুকু বুঝি, যে, ইতিহাস পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে, খুব বেশী করেই। তাই, আলোচনা চলুক।
৩. আরেকটি জিনিস মাথয় রাখা যায়----সেপ্টেম্বরেও কিন্তু বাংলাদেশের ভবিষ্যত কী হবে, সেটা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছিলনা। জাতিসংঘ, সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব (ভারত জড়ানোর পর), আমেরিকা-রাশিয়া সম্পর্কের বিভিন্ন ডাইমেনশন ইত্যাদি। তাই অনেকেই বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার চান্স উড়িয়ে দেয়া যায় না।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ১. বিষয়টা আমি হাইলাইট করিনি, চিঠিতে প্রসঙ্গক্রমে এসেছে।
২. বদনাম বা সুনামের বিষয়ের চেয়ে এই চিঠি দুটোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব কতখানি বলে আপনার মনে হয়? অন্য কেউ এই চিঠি লিখে ভাসানীর নামে চালিয়ে দিচ্ছে? নাকি ভাসানী রাজনৈতিক কারণে ইন্দিরার কাছে বেশী গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কনফেডারেশনের জন্য সংগ্রামের উল্লেখ করেছেন। একই প্রস্তাব তো ভুট্টোও মুজিবকে দিয়েছেন, দিচ্ছিলেন। আমি আগেই স্বীকার করেছি কনফেডারেশনের বিষয়টা সম্পর্কে আমি পুরো ধোয়াশা অবস্থায় আছি। রাজনৈতিক ফায়দা লোটা পরের কথা, ওই সময় ভাসানীর মনোভাবটা অবশ্যই বিশ্লেষণের দাবি রাখে
১৮|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১৭
শয়তান বলেছেন: তায়েফ আহমাদকে দেয়া রিপ্লাইটা ইন্টারেসটিং । ঘটনা ঐখানেই প্যাঁচ খাইসে বোঝা যায়
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: খানিকটা তো বটেই। পরে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এইটারে বেশ হাইলাইট করছে, তবে ভাসানী মরার পরে, আগে না।
১৯|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৪
ত্রিভুজ বলেছেন: ভাসানীর নামে আওয়ামীলীগারদের এই অপপ্রচার দুঃখজনক। ভবিষ্যতে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য 'প্রিয় পো্স্টে' যুক্ত করে রাখলাম এবং নিন্দা জানাইলাম।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: উরে খাইছে, নিশ্চয়ই, আপনারও একটা পোস্ট আমার প্রিয় পোস্টে আছে যা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করি ছাগলামী কত প্রকার ও কি কি তা মানুষকে দেখাইতে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আপনার কাছে আমি ভীষণরকম কৃতজ্ঞ, আপনার মতো আবাল না থাকলে আমি মনে হয় না এই বিষয়টা নিয়া লেখালেখিতে আগ্রহ দেখাইতাম, গল্প-কবিতা-গান-খেলা নিয়াই থাকতাম। আপনার নিন্দা আমার কাছে প্রশংসা, আশীর্বাদের মতো। দোয়া করবেন এই ধারা যেন ধইরা রাখতে পারি আর আপনার মতো যত ছাগল বাংলাদেশে আছে তাগো ছাগলামী যেন বন্ধ করতে পারি।
২০|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৯
ত্রিভুজ বলেছেন: @লেখক
৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিব 'জিয়ে পাকিস্থান' বলেছিলেন এটা অন্য রেফারেন্স বাদ দিলেও আওয়ামীলীগের প্রবীন নেতারাই স্বীকার করেছেন। চ্যানেল আই এর বেশ কয়েকটা টক শোতে আওয়ামীলীগের পুরানো বেশ কয়েকজন নেতা এই 'জিয়ে পাকিস্থান' বলার পেছনের কারণ বর্ননা করতে গিয়ে ঘাম ছুটিয়ে ফেলেছিলেন। ইতিহাস জানার চেষ্টা করুন.. পরিচিত কোন আওয়ামী লীডার থাকলে ফোন করে জেনে নিন... বা প্রবীন কোন সাংবাদিককেও ফোন করতে পারেন।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: জ্বি, আমি যখন টিভি ছাড়ি তখন তাদের ছোটানো ঘামে গোটা মনিটর আর মাইক্রোফন ভিজা জবজবে হইয়া ঘোলা এবং অকেজো হইয়া গেছিলো, তাই শোনা হয় নাই। ইতিহাস জানার চেষ্টা করতেছি। আওয়ামী লীগের কোনো পরিচিত লিডার নাই আমার, যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তিনি মৃত। আর কাউরে চিনি না, চিনার দরকারও নাই। আর আমি আওয়ামী লীগের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শিখতে চাই না। যেমন চাই না এই বিষয়ে আপনার পরামর্শ। আমি চাই আপনি আপনার ছাগলামী চালাইয়া যান, এতে আমার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাটা অটুট থাকবে। ধন্যবাদ আপনাকে দুইবার লাদানোর জন্য
২১|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৮
দি ফিউরিয়াস ওয়ান বলেছেন: @ ত্রিভুজ: ঠিক কোন অংশটারে অপপ্রচার বললেন? কোট কইরা দেখান।
@লেখক: আমার ১৭নং এর কমেন্টের ২ নাম্বার পয়েন্টের সাথে আরেকটা কথা যোগ করে নেন: "কেউ কেউ কিছু না বুঝেই সরলরৈখিক সমীকরণ ব্যবহার করে ভাসানীর মান গেল বলে চ্যাঁচাবে।"
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: তাতো বটেই. দুই পক্ষেই ব্যাপারটা নিয়া জাত গেলো রব উঠছে। কিন্তু দুই নাম্বার চিঠিতে এইটাতো পরিষ্কার ভাসানী আওয়ামী লীগ নেতাদের বিশ্বাস করতে পারতেছিলেন না, তার সম্পর্কে মিথ্যাচারের আশঙ্কা করতেছিলেন। সুবাদেই তার ব্যক্তিগত অর্জন এবং কিছু ইচ্ছার কথাও বলছেন।
২২|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪০
ত্রিভুজ বলেছেন: আমার একটা সমস্যা হলো লেখা পড়ার সময় লেখকের নামের দিকে লক্ষ্য করি না... মন্তব্য করার পর দেখলাম পোস্টটা আপনার। আপনার সাথে আলোচনা অর্থহীন.... খামোখা সময় নষ্ট করে মন্তব্য করলাম। গুড বাই। বেশি করে অপপ্রচার করতে থাকেন... ইতিহাস ছাই চাপা আগুনের মত... একদিন না একদিন সঠিক ইতিহাস বের হয়ে আসবেই।
(অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম মাওলানা ভাসানীর হক কথা নিয়ে একটা ধারাবাহিক করার কথা। সেই ইচ্ছেটা চাঙা হলো। সময় বের করে ঐ সিরিজ করলে একটা ধন্যবাদ পাওনা থাকবেন। )
গুড বাই।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: হোহোহোহো, তুমি আসলেই চরম বিনোদন মিয়া। গুড বাই।
২৩|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩০
শাহেরীন বলেছেন: আমি কিছু বলার আগেই বলে নিচ্ছি, তা কেবলই আমার ব্যক্তিগত ধারণা।।
আমার কাছে চিঠি দু'টো পড়ে মনে হয়েছে,
১। তিনি সহসাই স্বাধীন বাংলাদেশ দেখে যেতে পারবেন তা ভাবেননি।
২। তিনি সমগ্র পৃথিবীতে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন স্বপ্ন দেখতেন, হয়ত ভেবেছিলেন ভারতেও সমাজতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, যেহেতু তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের বেশ ভালই প্রভাব ছিল ভারতে। তাই হয়ত ভেবেছিলেন বাংলাদেশ-ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের আদলে কনফেডারেশন গঠন করবে।
৩। তিনি তাঁর জন্মস্থানে বাকী জীবন অতিবাহিত করার জন্য ইন্দিরা গান্ধির সহানুভুতি আদায় করতে চেয়েছিলেন।
ধন্যবাদ আপনাকে চিঠিগুলোর জন্য।।
প্রিয়তে নিলাম।।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৪৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: পড়ার জন্য ধন্যবাদ
২৪|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২০
মনজুরুল হক বলেছেন:
খোন্দকার ইলিয়াস সায়েবের "ভাসানী যখন ইউরোপে" বইখানা খুলে দেখতে হবে। কাল দেখি পারি কি-না।
রেফারেন্স পাই বা না পাই, মাওলানা যে মাঝে মাঝে ট্যুইস্ট খেলত সেটা জানা আছে। ছটি মির্জা(নূরুল হক) আর হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর কাছে দাদুর ম্যালা গপ্প শুনছি।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: বস বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। কিছু গল্প শেয়ার করেন। আমার ব্লগে একই পোস্টে কুলদা রায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ও ভারতীয় সাংবাদিক পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বই থিকা তিনটা উদ্ধৃতি দিছেন যা তুইলা ধরলাম নিচে :
ভাসানী বিষয়ে তিনটি উদ্ধৃতি--
..আইয়ুবের কারাগার থেকে সোহরাওয়ার্দীর মুক্তিলাভের অল্পকাল পড়ে মওলানা ভাসানীরও কারমুক্তি ঘটে। যদিও তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দাবী করেছিলেন, কিন্তু আন্দোলন গড়ে তোলার ব্যাপারে তেমন সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন নি এবং এক্ষেত্রে সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে একযোগে কাজ করতেও সম্মত হন নি। পরে--সোহরাওয়ার্দীর জীবদ্দশায়ই--তিনি আইয়ুব খানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাৎ করেন, এক প্রতিনিধিদলের নেতা হিসাবে চীন সফর করেন, এবং ফিরে এসে--মূলত পররাষ্ট্রনীতির দোহাই দিয়ে --আইয়ুব খানের প্রতি সমর্থনজ্ঞাপনের আহ্বান জানান।
১৯৬২ সালে চীন-ভারত সীমান্ত-সংঘর্ষ অভাবিতভাবে যুদ্ধের রূপ নিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পক্ষ নেয়। ভারত-বিরোধিতার নীতি থেকেই আইয়ুব চীনের সঙ্গে সদভাব-স্থাপনে উদযোগী হন। তাতেই মওলানার চোখে আইয়ুব গ্রহণযোগ্র হয়ে ওঠেন।
--কাল নিরবধি/ আনিসুজ্জামান।
মওলানা ভাসানী ভারত সরকারের কাছে দাবী করেছিলেন, সন্তোষে তার বাড়িটি যেন ভারত সরকার মেরামত করে দেয় এবং একখানা দোতলা বাড়ি করে দেয়। ভারত সরকার বলেছিল, এটার জন্য মওলানার উচিত বাংলাদেশের সরকারের কাছে অর্থ সাহায্য চাওয়া।
--পার্থ চট্টোপাধ্যায়/ সাংবাদিকের ডায়েরি)
১৯৬৮ সালে ন্যাপ ভেঙে দু'টুকরো হয়ে পড়ে। মওলানা ভাসানী সমাজতন্ত্রের পক্ষে বলতে গিয়ে হঠাৎ করে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীন বাংলা গঠনের বিরুদ্ধে উচ্চাবাচ্য করেন।
কাল নিরবধি/ আনিসুজ্জামান।
২৫|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৩০
মনজুরুল হক বলেছেন:
পাহাড়ি নিয়া দাবড়ানির উপ্রে আছি! আমার দেখতেছি এখন বুকে-পিঠে ঢাল বাইন্দা ঘুরতে হইব!
ঠিক আছে। কাল দেখি কি কি উদ্ধার করতে পারি.....
পার্থ চট্টোপাধ্যায়/ সাংবাদিকের ডায়েরি) এইটা আগেও পড়ছি/শুনছি।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: থ্যাঙ্কস বস, প্রত্যাশা রইলো। আপনার উপস্থিতি পোস্টটারে সমৃদ্ধ করবে আর আমারও যদি কোনো বোঝার ভুল থাকে সেটা কেটে যাবে
২৬|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:০৪
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম।
জ্ঞান বাড়ল।
আসলে বয়স বোধহয় মানুষকে দুর্বল করে দেয়।
এখানে কিছু ব্যাপার চোখে পড়ল।
শেষদিকেও বিলাস বহুল জীবন চান নাই।
পাঁচ একর জমি চাইছেন ঠিকই, কিন্তু শহরে না, গ্রামে।
উনার ধারণা ছিল পুরা দুনিয়াতে সমাজতন্ত্র কায়েম হবে।
আরেকটা ব্যাপার মনে হল, উনার ধারণা ছিল উনি মারা যেতে পারেন কয়েকদিন পরেই। তাহলে তার মৃত্যুর পরে এই ৫ একর জমি তাকে যদি দেয়া হত, তাহলে সেটার মালিক কে হত? সরকার নাকি তার পরিবার? এ ব্যাপারে স্পষ্ট উল্লেখ করে যান নাই। মানে, যেহেতু সরকার জমি দিতে গড়িমসি করছিল, তাই বলতে পারতেন যে, অল্প কয়েক বছর বাঁচা পর্যন্ত জমিটা দেন। কিন্তু মনে হল, ফ্যামিলির জন্যেও একটা উপায় রেখে যেতে চাইছিলেন।
তবে, হুজুর হুজুর ভাবটা একটু চোখে লাগল।
(আপনি এত কিছু পান কোথায়? বস, আপনার কী এসবের উপর সিরিয়াসলি কোন বই বের হইছে?)
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: উনি আসলে গ্রামের মানুষ শহুরে বিলাসিতায় অভ্যস্ত না এইটা বুঝাইছেন, আর সেই ভিত্তিতেই তার শেষ বয়সটা জন্মস্থানে থাকার জন্য আবেদন করছেন। কারণ এক হিসাবে মওলানাও দেশত্যাগ করা রিফিউজিদের একজন। '৭১ সালে সন্তোষে তার আস্তানা জ্বালাইয়া পোড়াইয়া মাটিতে মিশায়া দিছিলো পাক বাহিনী।
আর হুজুর হুজুর ভাবের পিছনে মওলানার কি দোষ, দোষ হইলো আমাগো ব্রিটিশ উপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার যেখানে আবেদন পত্র লিখার সময় ইউর ওবিডিয়েন্ট সারভেন্ট ভাবটা বজায় রাখা শেখানো হইছে।
পাই কারণ খোজে থাকি, যার খোজে থাকি, তা নিশ্চয়ই পাওয়া যায়। এখনও বই বের হয় নাই।
২৭|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১৭
শয়তান বলেছেন: আকাশ_পাগলা মনে হয় ভাসানীর পীর পরিচয়টা জানেন না .
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৯
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: জামাত শিবিরও জানে না, নয়তো জাইনাও শুধু স্বার্থের জন্যই ভাসানীরে ব্যবহার করে
২৮|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৪৭
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: পিয়াল ভাই, চিঠি দুইটার কোন মূল কপি কি স্ক্যান বা অন্য কোন ভাবে পাওয়া সম্ভব?
অটঃ অন্য এক প্রসঙ্গে আপনার লেখার অপেক্ষা করে আছি। তবে অপেক্ষা যত দীর্ঘ হয়, পাওয়ার আনন্দ নাকি ততই বেশী হয়!!
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আপনি আমারে যতটুকুই চিনেন তাতে আপনার কি ধারণা এটা সম্ভব হইলে আমি সেই চেষ্টা করতাম না? অন্য প্রসঙ্গে লেখাটাও রেডি। দিয়ে দিব
২৯|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৩
স্বপ্নকথক বলেছেন: হা হা হা...চীফ নাকি নাম দেখে নাই! চাইর চক্ষু দিয়াও রাডারে ধরা খাইলো না? হো হো হো, হে হে হে...চিপায় পইড়া দিছে দৌড়!
হা হা খা থে প গে!!
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১২
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ও কইছে আর তুমি বিশ্বাস করলা
ও যে কতবড় মিথ্যুক আর চাপাবাজ সেটা না জানলে বিশ্বাসও করবা না। এইসব ওর ভুংচাং। কারণ আলোচনার এলেম ওর পেটে নাই। পারে শুধু সোগাটা বাড়ায়া দিতে
৩০|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৭
আহমেদ রাকিব বলেছেন: খুব ভালো লাগলো। অনেক নতুন তথ্য পেলাম। ধন্যবাদ পিয়াল ভাই।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ
৩১|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৬
সপ্ন পুরন বলেছেন: ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ঠিকাছে
৩২|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৬
ভন্ডপি২ বলেছেন: দারুন!
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ধন্যবাদ
৩৩|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৩
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: সেইটা আমি লেখার সময়ই ভাবছি। কিন্তু যে বইয়ের রেফারেন্স দিছেন, তার লেখকের কাছে এই চিঠির অথেন্টিসিটি নিয়ে কি প্রমান আছে সেটা ভেবেই এ প্রশ্ন।
ইতিহাস নিয়ে এত টুইস্টিং লেখা আছে যে যেকোন কিছু পড়লেই মনে প্রশ্ন চলে আসে।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: হক কথা, এ নিয়া সিরাজউদ্দিন আহমদের লেখা প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ বইয়েও উল্লেখ আছে, ভাসানীকে নিয়ে সেখানে চ্যাপ্টার আছে একটা যেখানে তার পিএস সাইফুল ইসলামের জবানীতে বলা হয়েছে :
মওলানা সাহেবের নিজ হাতে লেখা এই খসড়া বার বার পড়লাম। এই মুহূর্তে মওলানা ভাসানীকে রহস্যময় মনে হলো। রাণীক্ষেতে তিনি নিজ হাতে এই ধরণের আর একটি খসড়া দাঁড় করিয়ে আমাকে দিয়েছিলেন অনুবাদ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠিয়ে দিতে। আসামেও আমাকে দিয়ে এ ধরণের একটি খসড়া দাড় করিয়েছিলেন। রাণীক্ষেত ও আসামের খসড়ায় তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে এ নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন, তাকে আসামে থাকতে দিলে তিনি আসাম ও ভারতের আভ্যন্তরীন রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামাবেন না এবং ভারত সরকারকে তার খরচ বহন করতে হবে না। অবশ্য এ দুটো চিঠিতে ভারতের সাথে বাংলাদেশের কনফেডারেশনের কথা উল্লেখ করেছিলেন (পৃ. ৩৬১-৩৬২)
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: সাইফুল ইসলাম নিজেও স্বাধীনতা-ভাসানী-ভারত বইটির লেখক। চিঠি দুটোর সঙ্গে জড়িত। এখন দেখি তার ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট জোগাড় করা যায় কিনা, মওলানার ক্যারেক্টার বাচাইতে এইটা জোগাড় করা আসলেই জরুরী
৩৪|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৮
পরিবর্তন বলেছেন: আমার একেবারেই ব্যাক্তিগত কিছু মতামত দেইঃ
১। এই লেখাটি উনি যখন লিখেছিলেন তখন তার বয়স ৯১ এর কাছাকাছি। সারাজীবন মাটির কাছাকাছি থেকে উনি রাজনীতি করেছেন। আসলে পাননি কিছুই। তার উপরে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে দুরত্ব হয়তোবা তাকে হতাশ করে তুলেছিল। ওই বয়সের একজন মানুষের মধ্যে কতটুকু বিচক্ষনতা বাকী থাকে সেটা বলাই বাহুল্য।
২। আজীবন ত্যাগ করতে করতে তার শেষ বয়সে হয়ত একটু ভোগ এর লোভ হয়েছিল। হয়তোবা উনি মনে করেছিলেন যে, অস্থায়ী সরকারের সাথে দুরত্বটা তার পরবর্তী জীবনে সমস্যার কারণ হবে। তারপর ও দেখুন তার ব্যাক্তিগত চাহিদা কত কমঃ "গত ৭ মাস শহরে প্যালেসেস সার্কিট হাউস বাস-আহারাদি বিলাসপূর্ণ। তাই আমার মৃত্যুকাল পর্যন্ত যাহাতে বাল্যজীবনের আদর্শ বহাল থাকে তাহারই জন্য ৫ একর জমি ও সাধারণ ধরনের ৪ খানা ঘরের ব্যবস্থা করিয়া দিবেন। " একটু ভেবে দেখুন তো, এখনকার কোনো নেতা কি পারবেন এত অল্পে সন্তুষ্ট থাকতে?
৩। "সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমি যখন কলকাতায় ছিলাম তখন কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতা আপনার বরাবরে একটি লেখা টাইপ করে নিয়ে এসেছিলেন যে, অসুস্থতার দরুন আমি আপনার সাথে দেখা করতে সক্ষম হব না। চিঠির পুঙ্খানুপুঙ্খ না পড়ে কেবলমাত্র বিশ্বাসে তাতে সই দিয়েছিলাম। ওর পিছনে কি মতলব আছে আমি তা জানি না। তারা ওয়াদা করেছিলেন যে, ঐ চিঠির কপি আমাকে দেবেন। কিন্তু তারা কথা রক্ষা করেননি। আমার রাজনৈতিক জীবনে আমি ১১ বছর যাবত আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলাম এবং স্বাধীনতাউত্তরকালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করে ৮ বছর যাবত তার সভাপতি ছিলাম এবং আমি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও কৃষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এই পদে গত ১২ বছর যাবত কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘকাল এই রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন সংগঠনের সভাপতির কাজে আমার পরিচালনায় কম করে হলেও ১৬ জন সেক্রেটারি কাজ করেছেন। কিন্তু আমি গ্রামেই বাস করি। ফলে জরুরী রাজনৈতিক চাহিদা মোকাবেলা করার জন্য আমার সাদা প্যাডে বহু সই তাদেরকে দিয়েছি। এসব আমি ভালোভাবে উপলব্ধি করছি তারা বিশ্বাসঘাতকতা করে আমার সরল বিশ্বাসের বহু মওকা গ্রহণ করেছে। ফলে আমার রাজনৈতিক সহযোগিতার উপর আমার বিশ্বাস চলে গেছে। এই কারণে আমার মানবিক বেদনার জন্যই এইসব অবান্তর কথা আপনাকে লিখছি।"-- তার এই বক্তব্য যদি আংশিক ও সত্যি হয়, তাহলে তার fraustated হয়ে যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক, তাই না? হয়তো শেষ বয়সে তার চাওয়া পাওয়া এর হিসাবটা প্রবল হয়ে উঠেছিলো!
তবে যত যাই হোক,
"আমি আপনাকে নিশ্চয়তা দিতে পারি যে, বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জন এবং ভারতের সাথে স্বাধীন বাংলাদেশের কনফেডারেশন গঠন করার লক্ষ্যে আমি আমার সংগ্রাম অক্ষুন্ন রাখব।"
এটা কখনই জাস্টিফাইড হতে পারে না। এমনকি সে যদি নিজেকে নন-প্রো-চাইনিজ হিসাবে প্রমান করতে চাইলেও না। জানি না তার মাথায় কোন ভুত ভর করেছিল, অথবা এই সাইফুল ইসলাম এর বিশ্বাসযোগ্যতা কতখানি। অবশ্যই যাচাই এর দাবী রাখে।
আমার দুর্বলতা এটাই, যে আমি মানুষের ভাল দিকটাই দেখতে পছন্দ করি (ছাগু বাদে!)। আর বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্রান্তিলগ্নে যারা হাল ধরেছেন তাদেরকে সম্মান করতে ভালবাসি।
চমৎকার লেখার জন্য প্লাস।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ২ নম্বর পয়েন্টে লোভের অংশটুকু বাদে বাকি সমস্ত বক্তব্যে আমি একমত পোষণ করছি, আমার ধারণাও ঠিক তাই। আর লোভ যদি ভাসানীর থেকেই থাকে সেটুকু খ্যাতির বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার যা সহজেই উপেক্ষা করা যায়। আর বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে এটুকুই বলা যায় সাইফুল ইসলাম বা কেউই ভাসানীকে এই দুটো চিঠি দিয়ে বিচার করেননি। আমার কাছে চিঠি দুটোর ভাষা ব্যতিক্রমী ঠেকেছে ভাসানীর পরবর্তী রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। পাঠকের সঙ্গে শেয়ার করা সেজন্যই।
৩৫|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:১৪
নাজনীন১ বলেছেন: ইন্টারেস্টিং পোস্ট, সে সাথে কিছু হতাশ হলাম যে শব্দগুলো নিয়ে আপনিও ধোঁয়াশায় আছেন।
তবে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে উনি ইউনিক এ কারণে---
"বিশ্বশান্তি, নিপীড়িত মানুষের মুক্তি এবং আল্লায় বিশ্বাসীসহ সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়........."
উনার কোন আর্টিক্যাল বা বক্তৃতার কোন লিঙ্ক বা রেফারেন্স দিতে পারেন? উনি আল্লাহ্ই বিশ্বাসী হয়ে সমাজতন্ত্রের কথাগুলো কেমনভাবে রপ্ত করতেন, কি বলতেন, কি ভাবতেন? উনার ব্যাপারে শিরোনামমূলক কিছু কথা জানি, বিস্তারিতভাবে উনার চিন্তা-ভাবনা, ধ্যান-ধারণা, আদর্শ, দর্শন কেমন ছিল, এ ব্যাপারে জানতে আগ্রহী। কোন বই বা অন্য কিছু রেফার করতে পারেন কাইন্ডলী?
উপরে যে তিনটা বই-এর রেফারেন্স দিলেন, সেখানে কি উনার বিশ্বাস এবং কর্মকান্ডের ব্যাপারে বিস্তারিত আছে?
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৫
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: জ্বি তিনটি বইয়েই বিস্তারিত আছে
৩৬|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৫
সালমান সিদ্দিকী বলেছেন: আকবর হায়াদার খান রনো এর বইতে ভাসানির রাজনীতি নিয়ে অনেক কথা উঠে এসেছে তার মতে ভাসানী সুবক্তা ছিলেন, গণমানুষের সাথে খুব সহজেই মিশতেন কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হল কখনও গুছিয়ে রাজনীতি করেননি মানে ধাপে ধাপে রাজনীতিক আন্দোলনকে একটা সুনির্দিষ্ট দিকে ধাবিত করার প্রচেষ্টা কোন কালেই ছিল না তার
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ভিলেজ পলিটিশিয়ান হিসেবে মওলানা যতখানি সফল ততটাই ব্যর্থ জাতীয় রাজনীতিতে
৩৭|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৩
শাহ্ আসাদুজ্জামান বলেছেন: আপনার লেখা বরাবরের মতই তথ্যপূর্ণ আর অনুসন্ধানী।
সমকালীন প্রসঙ্গ বিচার করেই চিঠিদুটো, বিশেষ করে আপনার হাইলাইট করা বক্তব্যটাকে বিচার করতে হবে।
চিঠির শেষভাগে (আগে কোন ব্যাখ্যা ছাড়া) বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং কনফেডারেশনের কথা যেভাবে অবলীলায় এসেছে, তাতে এটা ধারণা করা অসঙ্গত নয় যে সমকালীন আলোচনায় এবং ভারতকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে রাজী করানোর কূটনীতিতে এই প্রসঙ্গটি অনেক মহলেই যথেষ্ট আলোচিত হয়েছে।
সে হিসাবে আপনার এই চিঠি নিয়ে গবেষণা, মওলানার ব্যক্তিগত অবস্থান শুধু নয়, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সামগ্রিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটা দিকের ওপরও আলোকপাত করবে এবং সেপ্রসঙ্গে আরো অনুসন্ধানে আমাদের উৎসাহী করবে।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এখানে দুটো কথা বলে রাখি। মওলানা ভাসানী কিন্তু শুরু থেকেই ইন্দিরাকে চাপ দিয়েছেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যা ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে করা হবে বলে এড়িয়ে গেছেন। আবার তাজউদ্দিনের স্বাধীনতা পরবর্তী অনেক বক্তৃতায় একটি প্রসঙ্গ বারবার উনি এনেছেন যে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগে ভারতের কাছে বাংলাদেশের স্বীকৃতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তার, 'আমরা চেয়েছে ভারত আমাদের বন্ধু হিসেবেই আমাদের মাটিতে পা রাখুক।' যদিও তারিখের ফারাকটা এখানে লক্ষণীয়। পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করে ৩ ডিসেম্বর। লড়াই শুরু হয়ে যায় আর বাংলাদেশের স্বীকৃতি মেলে ৬ ডিসেম্বর।
চিঠি দুটোর প্রেক্ষাপট বিচারে এটুকু বলতে পারি ভাসানী মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ডেসপারেট হয়ে পড়েছিলেন। অবদান বলতে পলিসি মেকিংয়ে সরাসরি সম্পৃক্তি যা উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি করতেই পারতেন কিন্তু পারছিলেন না। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময় শেষ কথা ছিল তাজউদ্দিনেরই।
আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত আছি। আপনি যদি আমাকে সক্রিয়ভাবে কাজের সাথে জড়িত রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন তবে আমি সুখী ও আনন্দিত হব। বৃদ্ধ বয়সের জন্য অনুগ্রহ করে আমাকে অবহেলা করবেন না। যদি কাজ করার এই আজীবন অভ্যাস হতে দূরে রাখা হয় তবে আশঙ্কা করছি তা আমার স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া করবে। লাইনগুলোর মানে কিন্তু এই নয় যে ভাসানী আবার বিয়ে করতে চাইছেন বরং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অবদান রাখার সুযোগ চাইছেন এবং বয়সের কারণে তাকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে বলে হতাশা জানাচ্ছেন।
৩৮|
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৫
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: আমার মনে হয় কনফেডারেশন বা জোট শব্দটা তেমন আশ্চর্যজনক কিছুনা ... এটা বলতে ভাসানী বাংলাদেশ যে স্বাধীন হলে ভারত/সোভিয়েত ব্লককে সাপোর্ট দেবে এরকম নিশ্চয়তাই দিয়েছেন ... আফটার অল তখন কোল্ড ওয়ারের যুগ ... সত্য বলতে, এরকম একটা অলিখিত বোঝাপড়া তো ছিলোই; এটা ছাড়া কি ভারত এমনি এমনিই হাত বাড়াতো? ... ভাসানী সম্ভব্তঃ সেরকম কনফেডারেশনে তাঁর নিজের সম্মতির নিশ্চয়তাই দিয়েছেন শুধু ... খেয়াল করুন, চিঠিতে পরিস্কারভাবে "স্বাধীন বাংলাদেশ" শব্দেরও ব্যবহার করেছেন ... এটা কিন্তু কোনভাবেই ভারতকে বাংলাদেশের ওপর মাতব্বরী করার অনুমতি দেয়না, যেজন্য পরবর্তীতে তাঁর ভারত-বিরোধী রাজনীতির সাথে এই চিঠি কোন কনট্রাডিকশন করেনা বলেই আমার অভিমত
ভারতে আসলে ভাসানী কতটা অনিশ্চয়তার (চীন বিষয়ে প্রশাসনের সন্দেহের নজরে পড়ার) মধ্যে ছিলেন, সেটা না জেনে এ চিঠির মর্তবা বোঝা যাবেনা ... আপনার সূত্রের বইগুলোতে এই চিঠির ব্যাপারে লেখকরা কি মন্তব্য করেছেন সেটা জানার আগ্রহ থাকলো
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। ভাসানীর জীবন আলেখ্যে চিঠি দুটোর উল্লেখ করা হয়েছে স্রেফ রেকর্ড হিসেবেই, আর আমি তুলে দিয়েছি একটা নির্দিষ্ট সময়ে তার মানসিক অবস্থা তুলে ধরতে। চীন বিষয়ক অনিশ্চয়তা ছাড়াও আওয়ামী লীগের একক নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ব্যাপারটা নিশ্চয়ই তাকে পীড়িত করেছে। বৃহৎ প্রেক্ষাপটে এরকম ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনা গুরুত্বহীন হলেও ঠিক মতো ফোকাস করতে পারলে হয়তো অনেক কিছুই বেরিয়ে আসে। আমি ঠিক সেটাই চেয়েছি। যাহোক আবারও ধন্যবাদ
৩৯|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৯
আফরোজাশফিক বলেছেন:
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ
৪০|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১৪
রোহান বলেছেন: বরাবরের মতোই ইন্টারেষ্টিং... +
ছিফের বিনুদন দেইখা বিমোহিত হইলাম। হের কুথায় আপত্তি লাগলো বুঝা গেলোনা আফসুস...
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: চীফের পায়ুতন্ত্র বরাবরের মতো উত্তেজিত হইছিলো, তবে সাময়িক, যথাযথ চিকিৎসায় সামলানো হইছে
৪১|
২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৬
আশীফ এন্তাজ রবি বলেছেন: কনফেডারেশনের বিষয়টি ব্যাপক কৌতুহলের উদ্রেক করে .... ভাবনার খোরাক পেলাম....আপনে পারেনও ....আপনারে ধন্যবাদ।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ১২:২৭
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: তোমারেও অনেক ধন্যবাদ। আর তোমার সঙ্গে আড্ডা আমার কাছে দারুণ একটা স্মৃতি।
৪২|
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ২:০১
মনির হাসান বলেছেন: অর্ধেক পড়লাম । সময় নিয়ে পুরোটা শেষ করবো ।
শোকেইসড্ & থাম্বস আপ এগেইন ।
০১ লা মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৪০
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: থ্যাঙ্কস, পইড়া জানাইও তোমার মতামত
৪৩|
১০ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১২:৪৪
দাসত্ব বলেছেন: হ্যা ভাই , শেখ মুজিব কে আরেকটু ফকফকা করছেন ।
এখন সোহরওয়ার্দির আমলে Tea Board chairman , পরবরর্তীতে শিল্প মণ্ত্রী , আইয়ুব খান এর তাশখন্দ চুক্তির "ofcourse correct , nothing wrong " সমথর্ক শেখ মুজিব কে খুব ব্রাইট লাগতেছে।
আর মাটির ঘরে ঘুমানো (ইহ জগৎ / পরজগৎ) ভাসানি কে ভালো মতো ঘষা মাজা করে পাতিলের তলা বানায়া দিসেন।
এই জন্যই বলে "কানার দল" আওয়ামী লীগ শেখ মুজিব এর রাজনৈতিক পিতা ভাসানি কেও ইজ্জত দিতে জানেনা।
যেই সব বাল ছালের রেফারেন্স দিলেন ঐসব মুজিববাদী দের রেফারেন্স আগে দেন..
বেনসন , মালবোরো টাইনা ভাসানিরে নিয়া হিস্টোরী লেখেন .
পোস্ট এ মাইনাস
১১ ই মার্চ, ২০১০ রাত ১২:১৯
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: বেকুব
৪৪|
১১ ই মার্চ, ২০১০ রাত ২:০১
দাসত্ব বলেছেন: আপনি যে কতো বড় "আকুব" সেইটা বুঝতে পারসি ।
তা হঠাৎ ভাসানি কার কাছে ঘরবাড়ী চায়া চিঠি লিখছে এইটা নিয়া উঠেপড়ে লাগছেন কেন?
যতোই " Investigation" দেখাও , " পিতা" ভক্তির ল্যান্জা লুকাইতে পারবানা ।
আর কয়দিন পরে ভাসানির ফারাক্কা আন্দোলন নিয়া নতুন চটকদার "পিয়ালীয়" ইতিহাসের টাইম গুনতেসি।
মাইনষে যে কয় শেখ মুজিব হিন্দুর পোলা , মার নাম বলাকা না গৌরিবালা এই টাইপ সাবজেক্ট নিয়া "Investigation" করতে ইছ্ছা হয়না ?
২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৮:২৪
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: এখন তোমার বাপও তো পাকিস্তানী কোনো সিপাই হইতে পারে, এইসব খুচরা ব্যাপার নিয়া ইনভেস্টিগেশনের টাইম আছে? পাবলিক কইলেই আমি ফাল দিমু? ফারাক্কা না, তোমাগো আরেক বাপ জিয়ারে নিয়া আসতেছে এইবার আরো চটকদার ইতিহাস। দিন গুনতে থাকো
৪৫|
২২ শে মার্চ, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫
সুবিদ্ বলেছেন: এইটা সত্যিই ইন্টারেস্টিং.........
সৈয়দ আবুল মকসুদের বইটা পড়তে হবে দ্রুত........কারা প্রকাশ করেছেন বলতে পারবেন??? চিঠিটা কি বাংলায়ই লেখা??? ইন্দিরা গান্ধীর কাছে নিশ্চয়ই এর ইংরেজি ভার্সনটা পৌছেছিল.......তার কোন জবাব দিয়েছিলেন কি উনি???
এই বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকলে লেখাটা সম্পূর্ণতা পেত.........
আর চিঠি ২টার কোন কপি কি দেয়া হইছে বইগুলোতে???
২২ শে মার্চ, ২০১০ রাত ৮:২১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: চিঠির বিষয় আবুল মকসুদের বইয়ে নাই, আছে সাইফুল ইসলাম আর সিরাজউদ্দীন আহমদের বইয়ে
৪৬|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সকাল ৭:০৮
ডিটেকটিভ বলেছেন: যে লোকগুলা এই বই লিখছে তারা কি রাজনৈতিক দিক থেকে নিরপেক্ষ ? চিঠিটার কোন স্ক্যান কপি পোস্টে দিতে পারেন ?
৪৭|
২৮ শে এপ্রিল, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১২
মেক্সবিডি বলেছেন: See the Character Certificate of this (রহমান পিয়াল) blogger.
৪৮|
২৯ শে এপ্রিল, ২০১০ রাত ১২:০৩
কানু বলেছেন: আশ্রম মামা, ভাসানী আসামের লূক এইটা কৈ পাইছেন? তার জন্ম সিরাজগঞ্জের ধনপাড়ায়। আর তার ভাসানী নামের কারণ আসামের ভাসানচরে কৃষকগো বন্যার কবল থিকা রক্ষা করতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটা বাধ বানাইতে উদ্বুদ্ধ করছিলেন। তখন মৌলানা কংগ্রেস করতেন। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মিস করছেন। যেই সাইফুল ইসলামের কথা বল্লেন, তিনি তো মোজাফফর ন্যাপের নেতা। এন্টি পার্টির লুকরে পিএস বানাইয়া দিছে, ব্যাপারটা কেমনু সন্দেহজনক না?
৪৯|
০২ রা মে, ২০১০ রাত ১:১৫
ডিটেকটিভ বলেছেন: @ কানু: ভাসানীর নামের সাথে কেমনে ভাসানী আসলো সেটা জানানোর জন্য ধন্যবাদ। দাসত্বের একটা ব্লগ পড়লাম আওয়ামী লীগের নাম কেমনে আওয়ামী লীগ হইলো ঐটা নিয়া । সেখানেও লেখা আছে ভাসানী নাকি আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলো।
৫০|
১১ ই ডিসেম্বর, ২০১১ বিকাল ৪:১৯
অস্তিত্বহীন বলেছেন: @কানুঃ ভাই আপনার comments অন্য সবার চেয়ে একটু আলাদা লাগলো। লেখক কে বলব আপনি কানু ভাই এর কথা কি সমর্থন করেন?
৫১|
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:১৫
যাযাবরমন বলেছেন: ২১ এপ্রিল চীনের চেয়ারম্যান মাও সেতুং, প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছে ভাসানী চিঠি লেখেন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এসব চিঠিতে বাংলাদেশে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি পাকিস্তানকে সব ধরণের সহায়তা থেকে বিরত থাকার আবেদন ছিল। ৯ সেপ্টেম্বর গঠিত মুজিব নগর সরকারের ৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি ছিলেন ভাসানী।
মাঝখানের সময়টুকু ভাসানী কি করেছেন? এই সময়টুকু টিনি কিছুই করেন নাই? নাকিকরতে দেয়া হয় নাই? কমন সেন্স থাকলে যে কেউ বুঝবে ভাসানী বন্দি ছিলেন।
৫২|
০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৩ দুপুর ১:৩৪
মোনায়েম বলেছেন: বই ঘেঁটে লিখেছেন ,
ভাসানী যেখানে বড় হয়েছেন সেখানে এসেছেন কোনদিন?
যারা ভাসানীর সাথে থাকতেন তাদের থেকে কি শুনেছেন ভাসানি সম্পর্কে?
আমি সন্তোষ থেকে বলছি যেখানে ভাসানির কবর, যেখানে তিনি বড় হয়েছেন।
তার এত ভক্ত যে তিনি এখানে ভার্সিটি স্থাপনের কথা বলতেই ভক্তরা জমি টাকা সব কিছুর খরচ বহন করতে রাজি হয়ে গেল,
তিনি বাংলা ভারত যে কোন জায়গায় থাকতেন ভক্তরা তার চারপাশ ঘিরে থাকত।
আর কয়েক খণ্ড জমির জন্য ভারতের কাছে ধরনা দেবেন???
অবিশ্বাস্য
কয়েক খণ্ড জমির জন্য ভারতের কাছে জমি ভিক্ষা চেয়েছিলেন??????
হাস্যকর
এই বানোয়াট চিঠি পেলেন কোথায়।
ভাসানি জাদুঘরে এসেছে কোনদিন?
এসে দেখেছেন ভাসানি সম্পর্কে সত্য কাহিনী।
আপনি যে তিনটা বইয়ের রেফারেন্স দিলেন তারা ভাসানি বিরোধী,তা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য।
বিরোধীরাকি কখনো ভাসানি নিয়ে সত্য বলবে।
তারা যে ভাসানী নিয়ে সত্য তথ্য দিবে তার নিশ্চয়তা কি????
শেখ মুজিব নিয়ে বিএনপি জামাত বই বের করে না?
তার সব কি আপনি বিশ্বাস করেন?
ভাসানি নিয়ে মিথ্যা ও যুক্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ করুন।
উইকি পিডিয়ার ভাসানি নিয়ে লেখাটা একবার পড়ুন।
তাকে ভারতে গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল নাকি তা বোঝতে পারবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০২
হাসান বায়েজীদ বলেছেন: এই বুড়ো বয়সে স্ত্রী ও নাতনিদেরকে নিয়ে আসামের ধুবড়ী মহকুমার যে কোন স্থানে বাস করার জন্য যদি আপনি পাঁচ একর জমিসহ ক’টি টিনের ঘরের ব্যবস্থা করে দেন তাহলে এই বদান্যতার জন্য আমি আপনার নিকট কৃতজ্ঞ থাকব। ....হাসতে হাসতে শ্যাষ..