| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাসাটা কেমন যেন ছিমছাম। অন্ধকার একটা ভাব। ভেতর থেকে বাইরে দেখা যায়। তবু কেমন যেন বন্দি মনে হয়। মনে হয়, ভেতরে শত চেঁচামেচি করলেও বাইরে কিছু শোনা যায় না। ঘরগুলো বড় আছে। এই তো, এখানে টেবিল টা মানাবে। জানালার পাশে। রান্না ঘর টাও বড় চাই। তাই আছে। বুঝলাম না, রান্নাঘরে কেন এক বার্নার চুলা ব্যবহার করতে হবে? এক বার্নার এ রান্না হয়? হটাৎ করে একটা ঘর উপরে উঠে গেছে। পরিধিটা ছোট। ডুপ্লেক্স না। একটু উঁচু। কিন্তু সিঁড়ি লাগে না। পা দিয়ে ওঠা যায়। উঠে দেখি। পেছনের দিকে ছোট একটা দরজা। খুলে দিলে দেখি রান্না ঘর। তাও ঠিক নিচে চুলা। রান্নাঘর থেকে এ দরজা টা স্টোররুম মনে হয়। বুঝেছি, আলমারিটা এখানে বসিয়ে দরজা টা বন্ধই করে দিতে হবে। বাসা টা এখনো খালি হয় নি। শেষ রুম টায় একটা ছোট মেয়ে কে দেখলাম বিছানায় বসে আছে। কাজের লোকটা, যে বাসা দেখাচ্ছিল, হটাৎ মেয়েটাকে বলে উঠলো: এই, অন্য ঘর এ যাও। মেয়ে টা অনেক টা গজ গজ করে বললো: এটা আমার বাবার ঘর। তুই যা! আমি অনেকটাই নিলিপ্ত ভাব দেখালাম। একবার শুধু মেয়েটার দিকে তাকাতে মেয়ে টা চোখ বড় করে আমাকে দেখলো। পরক্ষনেই হাসলো। আমি ঘর দেখায় মগ্ন।
:ঠিক আছে। আমি তাহলে পরে সিদ্ধান্ত জানাই। আমি অবশ্যই কাল পরশুর মধ্যেই জানাবো। আর মূল বাড়ি ওয়ালার সাথে আমি কথা বলতে চাই।
: ম্যাডাম কথা কইবো না। ভাড়ার চুক্তিনামা টা নিয়া যান। পরে দেইখেন। সই দিয়া পরে নিয়া আইসেন।
: না , এটা এখন কি দরকার। আমি তো আরও বাসা দেখছি। আমি সিদ্ধান্ত জানাবো।
: ভাইজান, এইটা আমার স্যারের অনেক শখ এর বাসা। অনেক শখ কইরা বানাইসিলো। অফিসে থেইকা প্রতিদিন আইসা আইসা কাজ দেখতো। পারলে তো নিজেই হাত দিয়া বানাইতো। বেশিদিন থাকতে পারে নাই। আল্লাহ নিয়া গেসে।
খারাপ লাগলো, আহা। নিচে নেমে মোবাইল ঘাটছি উবার ডাকবো। পাশে দেখি সিকিউরিটি ড্রেস পড়া গার্ড এসে দাঁড়িয়েছে।
: স্যার কি বাসা দেখলেন?
: হম্ম। তো! মোবাইলে ঘাটছি। একজন ট্রিপ নিয়েছে। কল দেই।
: স্যার, বাসা টায় সমস্যা আসে। বাসার মালিক এর সাথে উনার বউ এর বনতো না। প্রায় ই ঝগড়া ঝাটি হইতো।
: ও ভাই, আপনি যান তো। ঝগড়া দিয়ে আমার কাজ কি?
লোকটি ধমকে কিছুটা দূরে গিয়েও ফিসফিস করে বললো,
: ওই স্যার এ গলায় ফাঁস দিয়ে মোরসে। ওই ঘরটায়।
উপরে দেখাতে দেখতে চলে গেল। আমি শুধু উপরে তাকালাম। মনে মনে এবার চাপা উত্তেজনা আমার। কতো সিনেমায় দেখলাম এসব। এবার নিজেই যদি এমন কিছু পাই। haunted house. কি যেন ছবিটা, conjuring. বন্ধু বান্ধব নিয়ে গল্প জমবে। যাক, কর্মময় অফিস জীবনে একটু উত্তেজনা আর বৈচিত্র্য তো আসবে এটা নিয়ে। নিজের মনেই হাসলাম।
--------
: এই, তোমার ব্যাগ পকেট এ এটা কিসের চুক্তিনামা?
: অফিস এর দেরি হচ্ছে, চুক্তিনামা কোথায় পাচ্ছ। লাঞ্চ টা রেডি করে দাও।
: আরে,দেখো না, এটা তো মনে হয় সেদিন যে বাড়িভাড়া দেখে এলে বলছিলে সেটা। আমরা তো ওটা নিবো না বলছিলাম। তুমি আবার চুক্তিনামা নিয়েছো কেন?
: আমি তো আনি নি। ব্যাগ এ গুঁজে দিয়েছে মনে হয়। দাঁড়াও। ফোন নাম্বার আছে। পরে ফোন দিচ্ছি।
: প্লিজ, এখনই দাও। আমার কেমন যেন লাগছে।
: হ্যালো, আপনাকে না বলা সত্ত্বেও চুক্তিনামা টা ব্যাগ এ কখন ঢুকালেন আপনি? আমি বাসা নিব না। এটা আমি ফেরত দিয়ে যাচ্ছি আজ সন্ধায়।
: স্যার, আমি দেই নাই। আর ভুলেও এইটা ফেরত দিতে আইসেন না। ফেরত দিলে আপনার আব্বা রে মাইরা ফালাবে। পারলে অন্য কাউরে গোছায় দেন কাগজ টা।
সত্যি বুকটা কেঁপে উঠে আমার। ভেবে যাচ্ছি, অন্য কাউকে চুক্তিনামা টা দিয়ে বিপদে ফেলবো, কিভাবে দিবো। নাকি কাগজ টা পোড়াবো, এক বার্নার চুলায়।
২|
১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২১
রাজীব নুর বলেছেন: টুঁটি চেপে ধরো না-শব্দকে স্তব্ধ করা যায় না ,
একবার আওয়াজ উঠে গেলে তা গড়ায় অনেক দূর,
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই নভেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:০৭
শায়মা বলেছেন: যাকে ফোন দিয়েছো ভাইয়া তাকেই গছায় দাও।

আর ভূতের ভয় পেতে হয় না!
ভূতের সাথে লড়তে হয় !