| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মৌমাছি মৌমাছি কোথায় যাউ নাচি নাচি
দারাও না একবার ভাই
ঐ ফুল ফুটে বনে
যাই মধু আহরনে
দারাবার সময়তো নাই ।
মৌমাছি আমাদের সমাজে অতি পরিচিত একটি প্রাণী । এটি একটি পতঙ্গ বিশিষ্ট প্রাণী । মৌমাছি সারাদিন একফুল থেকে আরেকফুলে ঘুরে ঘুরে বেড়ায় আর মধু সংরহ করে । মৌমাছির মধু যেমন সবার প্রিয় ঠিক তেমনি মৌচাক দেখলে ভয় লাগেনা এরকম খুব কম লোকই আছে কারন মৌমাছির আছে বিষাক্ত হুল । কখন কামড় দিয়ে বসে তাই সবাই সতর্ক থাকে ।
মৌমাছি পালন একটি লাভজনক ব্যবসা । আমাদের দেশের অনেক মানুষ এই ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করে । প্রতিবছর সুন্দরবন থেকে বিপুল পরিমানে মধু আহরিত হয় । মধু বাহিরেও রপ্তানি করে আয় হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা ।
আমাদের দেশে বিভিন্ন প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায় । এগুলো হল
• রক বী বা পাথুরে মৌমাছি (এপিস ডর্সাটা): এরা ভালো মধু সংগ্রাহক এবং এদের প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ৫০-৮০ কেজি ফলন পাওয়া যায়৷
• লিটল বী বা ক্ষুদে মৌমাছি : (এপিস ফ্লোরিয়া): এরা খুব কম মধু উপন্ন করে এবং প্রতি উপনিবেশ থেকে প্রায় ২০০-৯০০ গ্রাম মধু পাওয়া যায়৷
• ইণ্ডিয়ান বী বা ভারতীয় মৌমাছি (এপিস সেরানা ইণ্ডিকা): এরা বছরে প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ৬-৮ কেজি মধু দেয়৷
• ইউরোপিয়ান বী বা ইউরোপিয় মৌমাছি (এপিস মেলিফ্লেরা): প্রতি উপনিবেশ থেকে গড়ে ২৫-৪০ কেজি মধু পাওয়া যায়৷
মৌমাছির প্রজনন ক্ষমতা অনেক বেশি । একদিনে একটি রানী মৌমাছি ২৫০০ ডিম পাড়ার ক্ষমতা রাখে ।
ভেক্টর গণিতজ্ঞ মৌমাছি
• প্রতিদিন সকালে বেরিয়ে পড়ে অনুসন্ধানী (scout) মৌমাছি, উড়ে বেড়ায় এক ফুল থেকে আরেক ফুলে, যতক্ষণ না পর্যন্ত চমৎকার মানসম্পন্ন মধুর খোঁজ পায়। কাঙ্ক্ষিত ফুলের সন্ধান পাওয়ার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে সে ফিরে আসে মৌচাকে, অন্যদেরকে জানায় তার আবিষ্কারের কথা। প্রথমে সে বয়ে আনা মকরন্দটি (nectar) তাকে গোল হয়ে ঘিরে ধরা কর্মী মৌমাছিদের মুখের কাছে নিয়ে নিয়ে স্বাদ দেয়, এতে তারা বুঝতে পারে মধুর গুণাগুণ। মধুর গুণের ব্যাপারে অন্যদের আস্থা জন্মানোর পর, মধুর উৎসের সন্ধান দেয় সে, অদ্ভুত এক উপায়ে, যা দেখে অন্যরা (recruit) উৎসের দিকে তাদের অভিযান শুরু করে।
• কোন পথে উৎসটি বিদ্যমান এটি জানানোর জন্য স্পন্দন নৃত্য (Waggle Dance) নামে এক ধরণের নাচ শুরু করে স্কাউট মৌমাছিটি। এতে মৌচাকের একটি স্থান থেকে শুরু করে, প্রথমে শরীর কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে নির্দিষ্ট দিকে সোজা একটু দূরত্ব অতিক্রম করে সে, তারপর অর্ধবৃত্তাকার পথে সূচনা বিন্দুতে ফিরে আসে, আবার সোজা পথে শরীর কাঁপিয়ে কাঁপিয়ে পূর্বের দূরত্ব অতিক্রম করে, এবং অবশেষে বিপরীত দিক থেকে অর্ধবৃত্তাকার পথে ফিরে আসে—এভাবে বাংলা ৪-এর মত দেখতে বর্তনীপথ তৈরি করে। সঙ্গীদেরকে কয়েকবার সে এভাবে বর্তনী তৈরি করে দেখায়।
মৌ চাষ : মৌমাছি চাষ করে আমাদের দেশের অনের বেকার লোক জীবিকা নির্বাহ করছে । নিন্মে মৌচাষ সম্পর্কে লেখা হল
মৌ-বাক্স
আম, জাম, কাঁঠাল বা কেরোসিন কাঠ দিয়ে মৌ-বাক্স তৈরি করতে হবে। সিজন করা কাঁঠাল কাঠ দিয়ে মৌ-বাক্স তৈরি করলে কাঠ শুকিয়ে বাঁকা হয়ে যায়না এবং ঘুন ধরে না। মৌ-বাক্সের বিভিন্ন অংশের বর্ণনা নিচে দেয়া হলো :
পাটাতন
• পাটাতন বা কাঠের উপর সম্পূর্ণ বাক্সটি বসাতে হবে।
• এর সামনের অংশ কিছুটা বাড়ানো থাকবে যেখানে মৌমাছির জন্য চিনিগোলা খাবার রাখতে হবে।
• পাটাতন মৌ-কলোনির তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করবে।
আতুর বা বাচ্চা ঘর
• আতুর ঘরে মৌমাছিদের চাক তৈরি করার জন্য ৭টি খোপ থাকবে।
• এক খোপ থেকে আরেক খোপের মাঝে ৮ মিলিমিটার ফাঁক রাখতে হবে।
• খোপগুলোতে কাঠের ফ্রেম বসাতে হবে। এই ফ্রেমের চাকে রানী মৌমাছি ডিম পাড়ে ও বংশবৃদ্ধি করে। শ্রমিক মৌমাছিরা আতুর ঘরের ফ্রেমের চাকে ফুলের রেণু জমা রাখে।
মধুঘর
• আতুর ঘরের ঠিক উপরের অংশ মধুঘর। সেখানে ৭টি খোপ থাকবে।
• আতুর ঘরের তুলনায় মধুঘরের উচ্চতা কিছুটা ছোট হবে।
• মধু ঘরটি আতুর ঘরের উপরে সমান করে বসাতে হবে।
• মধু ঘরের একটি ফ্রেমে ২৫০ গ্রাম পর্যন্ত মধু জমা হতে পারে। ৭টি ফ্রেমের মৌচাকে ১.৭৫ বা পৌনে ২ কেজি মধু উৎপন্ন হতে পারে।
মৌমাছি পালনের বিবেচ্য বিষয়
• মৌমাছি পালনের জন্য এমন এলাকা বেছে নিতে হবে যেখানে সব ঋতুতেই কোন না কোন গাছে ফুল থাকে।
• আশ্বিন মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত এই ৯ মাস মৌমাছি পালনের উপযু্ক্ত সময়।
• মৌমাছি পালন এলাকায় সরিষা, ধনিয়া, তিল, কলাই, ছোলা, পাট ও অন্যান্য ফসল ছাড়াও আম, জাম, লিচু, তেঁতুল, কলা, পেঁপে, নারিকেল, বরই/কুল, পেয়ারাসহ অন্যান্য ফলের গাছ থাকতে হবে।
• নিরাপদ জায়গায় মৌ-বাক্স রাখতে হবে, যাতে মৌমাছিরা সহজে কাউকে আক্রমণ করতে না পারে।
• এমনভাবে মৌ-বাক্স তৈরি করতে হবে, যেন মৌচাক থেকে মধু নিষ্কাশন যন্ত্রের সাহায্যে মধু বের করা যায়।
মধু
বাংলাদেশ মধু বোর্ড এর সংজ্ঞা অনুযায়ী “ মধু হল একটি বিসুদ্ধ পদারথ যাতে পানি বা মিস্তিকার পদারথ মিস্রিত থাকে না । মধু চিনি হইতে অনেক মিস্তিকর । তরল মধু নষ্ট হয় না কারন এতে চিনির ঘনত্তের কারনে প্লাজমলাইচিস প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া মারা যায় । প্রাকৃতিক বায়ুবাহিতি ইস্ট এতে সক্রিয় হয় না কারন আদ্রতা অনেক কম থাকে । মধুতে আরদতার পরিমাণ থাকে ১৪%-১৮% “
মৌমাছি ও মধুর উপকারিতা
১ ) মৌমাছি বা ভীমরুলের হুল ফুটানো বিষ খুবই যন্ত্রণাদায়ক। মানুষ এমনিক অন্য প্রানিরাও মৌমাছি বা ভীমরুলের
চাক এড়িয়ে চেলে, কিন্তু মৌমাছি ও ভীমরুলের দল থেকে সংগৃহীত বিষ যে রোগ নিরামেয়র উপাদান হিসাবে কাজ করেত পারে তা অনেনেকরই অজানা। নিউজিল্যান্ডের একটি কম্পানি থেকে আমরা সেই বাণী শুনেছি ।
নেলসন হানি অ্যান্ড মার্কেটিং নামের এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছ গেঁটে বাত জিনত ব্যথা নিরামেয় প্রদাহ নিরোধক হিসাবে কাজ কের মৌমাছির বিষ। প্রতিদিন দুইচা চামচ পরিমাণ মধুর সাথে সামান্য পরিমাণ
মৌমাছির বিষ মিশিয়ে সেবন করেল বাত রোগের উপসম হয় ।
২) মধু সর্দি, কাশি, জ্বর, হাপানি, হৃদরোগ, পুরনো আমাশয় এবং পেটের পীড়া নিরাময়সহ নানাবিধ জটিল রোগের উপকার করে থাকে। এছাড়া মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য।
৩) মধুতে বিভিন্ন সূক্ষ্ম পুষ্টি উপাদান ও ভেষজ গুণ রয়েছে।
৪) মৌমাছি ফুলের পরাগায়নে সাহায্য করে শস্য উৎপাদন বাড়ায়।
৫) মৌচাক থেকে যে মোম পাওয়া যায় তা বিভিন্ন শিল্পজাত দ্রব্য যেমন- লোশন, সাবান, কৃম ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
৬) রূপচর্চার বিভিন্ন কাজে মধু ব্যবহার করা হয়।
৭) দাঁত ও ত্বকের সাধারণ অসুখ-বিসুখ হতে শুরু করে হৃৎযন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, কোলেস্টরনের আধিক্য প্রভৃতি রোগ নিরাময়ে মধু সত্যই এক মহৌষধ ।
নতুন বিবাহিতদের জন্য মধু মারাত্মক উপকারি জিনিস । মধুতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টজ ও গ্লুকোজ যা যকৃতে গ্লাইক্লজেন এর রিজার্ভ গড়ে তুলে । মধু খেলে মস্তিষ্কের ক্রিয়া ক্ষমতা ভালো থাকে । অনেকের ধারণা হ্যানিমুন শব্দটি মধুর ইংরেজি শব্দ হ্যানি থেকে উৎপত্তি ।
২|
২২ শে জুলাই, ২০১৩ বিকাল ৩:০৯
এযুগের মানুষ বলেছেন: প্রথম বারের মত লিখলাম । ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:৫১
শ।মসীর বলেছেন: ভাল লাগল মৌমাছি ইতিবৃত্ত । ।