| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
'ঋণাত্মক' গল্পটার নাম শুনার সাথে মনে হয় (-) সম্পর্কিত কাহিনী । ঋণাত্মক কথাটি ব্যবহৃত হয় ফ্যাজিক্স ও কেমেস্ট্রিতে । কোন পরমানু বা যৌগ যদি ইলেক্ট্রন গ্রহন রাসয়নিক বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রন গ্রহন করে তখন তার সাথে (-) ঋণাত্মক চিহ্ন যুক্ত হয় । নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় এটা নিয়ে প্রচুর গবেষনা করেছি । সারাজীবন পরে আসলাম গ্রহন করলে বেড়া যায় মানে (+) আর এখানে দেখি (-) । কিন্তু জীবনের ক্ষেত্রে এই (+) ও (-) এর হিসাবতা অনেকটা অংকের মতন । হারালে (-) আর পেলে (+) সবসময় দেখে আসলাম একাউন্টিং আর স্টুডেন্টরা শুধু টাকার হিসাব করতে করতে ক্যালকুলেটার নষ্ট করে ফেলতে । এত টাকা তারা কই রাখল বা এত টাকা তারা আদৌ কোন দিন দেখেছে কিনা জিজ্ঞাস করলে ১০০%না উত্তর পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি । জীবনটা আসলে ঋণাত্মকতায় ভরা । সবাই ঋণাত্মকতার দিকে ছুটছে । সবাই সব কিছুর হাত থেকে মুক্ত হতে পারলেও ঋণাত্মকতার হাত থেকে মুক্ত হতে পারে না । কেউ যদি চাকরি পায় সে তার আনন্দের বহিঃ প্রকাশ ঐ দিনই করে যেদিন সে পায় কিন্তু যদি চাকরি হারিয়ে ফেলে হারানোর বেদনাকে ঘুম থেকে উঠে , খাওয়ার আগে , বাইরে বের হবার আগে , ঘুমানোর আগে সব সময় স্মরণ করে ।
ঋণাত্মক কথাটি ছোট হলেও এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে শেষ করা যাবে না । রাস্তা-ঘাট , স্কুল , কলেজ বিভিন্ন জায়গার দেওয়ালে প্রায় সময় বিভিন্ন ওয়ার্ড সম্বলিত (+) চিহ্ন আকারে লেখা দেখা যায় যেমন (R+P),(K+H),(S+T),(T+F) ইত্যাদি । এই সাংকেতিক চিহ্ন একধরনের প্রেমের বহিঃ প্রকাশ কিন্তু প্রেমে বিচ্ছেদ হলে কেউই পজেটিভ চিহ্নের জাগায় (-) চিহ্ন ব্যবহার করেনা কারন যদি কেউ লেখে তাকে পাগল ছাড়া আর কিছুই ভাবা হবে না । প্রায় সব ভালবাসার শেষ পরিনতি হয় বিচ্ছেদ অর্থাৎ নেগেটিভ । কিন্তু সবাই যেন এটার পিছনেই ছুটছে । বুঝি না মানুষ কি না বুঝে নাকি বুঝেই (-) ঋণাত্মক এর মাঠে (+)কে গোল করানোর চেষ্টা করছে ।
আমরা অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার করি । অনেকের কাছে ফেসবুক ফেকবুক নামে পরিচিত । আমার এক মেয়ে বান্ধবী ফেসবুকে এক ছেলের সাথে পরিচিত হয়ে , দেখাও না করে তার জন্য ঘর ছেড়ে চলে যায় কিন্তু পরে ভুল বুঝতে পেড়ে চলে আসে কিন্তু এর মধ্যে পার হয়ে যায় ২ মাস যার ফলে তার জীবনে নেমে আসে এক অন্ধকার । সামাজিক এই যোগাযোগকে কেন্দ্র করে ফেসবুকই যেন ঋণাত্মকতার আরেকটি অংশ । আমরা আসলে মনের খায়েশ মিটানোর জন্য ছুটি (-) এর দিকে । কাহিনীটা অনেক পরিচিত হলেও অনেকেই কিন্তু এই ভুল করেই চলেছে , আর কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এ থেকে বের হয়ে যাওয়া ।
অনেকেই বলে পূর্ণিমার রাতে নাকি গভীর জঙ্গলে জোছনা ঝরে পরে , জংলিফুলের পাগল করা ঘ্রান এবং রাতের নিস্তব্ধতা নাকি মানুষকে নিয়ে যায় অন্য এক জগতে যদিও আমি এখনও এটা উপলব্ধি করি নি । কিন্তু আমরা যে সমাজে বসবাস করছি প্রতি মুহূর্ত বৃষ্টির মত ঝরে পড়ছে ঋণাত্মক বস্তু যা অন্ধকার করে দিচ্ছে আমাদের সমাজকে , কুলসিত করছে আমাদের মনকে । সায়েন্সে এ যারা পড়েছেন তাদের অবশ্যই ত্রিমাত্রিক সম্পর্কে ধারণা আছে । যে কোন বস্তুরই তিনটা দিক আছে । কখনো ৪টা কিংবা ২টা দিন নেই । আমাদের চলার পথটাও ত্রিমাত্রিক । কখনো স্থির বিন্দুতে বা মূল বিন্দুতে উপস্থিথ হতে আমরা চাই না । দেখা যায় যতই ঘুরি আমার চলে আসি ২য়,৩য়,৪র্থ কোয়ারডেন্টে । প্রথম কোয়ারডেন্টে থাকতে আমরা চাই না ।
কিন্তু রক্তের ক্ষেত্রে এই (-)টা অবশ্য অনেক কমই হয় । মাঝে মাঝে এটা হয়ে যায় আকাশের চাঁদ হাতে পাবার মত অবস্থা । (-) চিহ্ন বিশিষ্ট কোন রক্তের দরকার হলেই টিভিতে চলে আসে বিজ্ঞাপন । শুরু হয় দৌড়াদৌড়ি এই ব্লাড ব্যাংক থেকে আরেক ব্লাড ব্যাংক । উচ্চ মাধ্যমিক প্রানিবিজ্ঞান বইয়ে লেখা আছে O গ্রুপ বিশিষ্ট রক্ত নাকি সকল গ্রুপকে রক্ত দিতে পারে আবার AB গ্রুপ নাকি সকল গ্রুপ থেকে রক্ত নিতে পারে । যদিও কখনো কারো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে কিনা জানি না । কোয়ান্টাম এর একজন রক্ত কালেকশনার এর সাথে একবার কথা বলেছিলাম এই ব্যাপারটা নিয়ে । কথা বলেতো নিজেই লজ্জায় পরে গিয়েছিলাম । যাই হোক এ ধরনের তথ্য বইয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত আমি জানি না ।
ঋণাত্মকতার স্থায়িত্ব অনেক বেশি যেমন কারো মধ্যে ঝগড়া হল , অনেক সময় তা চলতে থাকে বছরের পর বছর কিন্তু হঠাৎ করেই তা মিটে যায় এক কাপ চা কিংবা একটি সিগারেট এক সাথে খাওয়ার বদোলতে । কিন্তু মনের মাঝে যে দাগ আছে তা মিটিয়ে ফেলা অনেকটা কষ্টকর । কারন পৃথিবীটাই যে ঋণাত্মক আধানে ভরপুর । পৃথিবী যেখানে ঋণাত্মক আধানে ভরপুর , ধনাত্মক সেখানে কিভাবে মানুষের মনে জায়গা করে নিবে তা বলা অনেকটা মুশকিল ।
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ঋণাত্মকতার খাত হল সরকারী জায়গা গুলো । টেবিলের নিচ দিয়ে তারা গ্রহন করে ধনাত্মকতা । আর সরকারী দলের লোকেরা খুলে ঋণাত্মক ক্যাম্পাস । দলের নেতা কর্মী একসাথে গান গায়
হন্য পথে
বন্য মোরা
নিয়ে যা তোরা
যে যা পারিস যা
এই স্লোগান দিয়ে তারা চলে আপন মনে । কেউ কিছুই বলে না আর যারা বলে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে নিজের স্বার্থে আঘাত লাগছে বলেই তাদের পিছনে উঠে পরে লেগেছে । অর্থাৎ ধনাত্মক খুব কমই আছে ।
এর থেকে হয়তোবা আমিও বের হতে পারব কিনা জানি না । আমি লেখক , নিজের মনের খায়েশে লিখি । অন্যের জন্য না হোক নিজের জন্যই লিখি । হয়তোবা ধনাত্মক হতে পারি আর নাইবা পারি তবু এই আশা রাখি যে আমরা টিকে আছি , এই সমাজটা টিকে আছে , এই পৃথিবীটা টিকে আছে নিভৃত কিছু ধনাত্মক ব্যাক্তির কারনেই । এর জন্যই পৃথিবীটা এত সুন্দর ।
©somewhere in net ltd.