নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পত্রনবিস এর পাতা

হ য ব র ল

পত্রনবিস

পত্রনবিস › বিস্তারিত পোস্টঃ

এক জামাত প্রেমিকরে কয়েকটা প্রস্নের উত্তর জানতে চাইসিলাম উত্তর পাই নাই কেউ কি আসেন উত্তর টা দিলে ভালা হয়

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:১৮

এক জামাতিরে আইজকা কয়েকটা প্রস্ন করসিলাম তার উত্তর দিতে পারেনাই ওই গুলার উত্তর চাই সামুর ছাগুর কাছে চাই

১.হাদিসে বলা আছে "দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ"...........১৯৭১ সালে আপনাদের দল দেশের সাথে বেইমানি করেছিলো.............ইসলামের চোখে তো ওদের ইমান নাই..................তাহলে কিভাবে ওদেরকে বাংলাদেশের ইসলামের ধারক বলেন..............?কিভাবে ইসলামের দোহাই দিয়ে ওদের মুক্তি দাবী করেন.................?



২.হাদিসে বলা আসে "সকল মানুষ সমান"...........কিন্তু আপনারা কি তা মানেন.........?আপনাদের চোখে তো জামাত-শিবির কর্মী ছাড়া অন্য কেউ মানুষ না............?কারণটা কি............?



৩.হাদিসে আসে "ফিতনা ফ্যাসাদ হত্তা অপেক্ষা জঘন্য"...........কিন্তু আপনারা কি কখন তা মানেন না মানছিলেন..........?আপনারা দিনের পর দিন দেশে অস্থির পরিবেশ সৃষ্টি করছেন.........কারণটা কি..........?



৪.হাসিসে আসে "মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত"..........এই কথাটা কি আপনাদের রাজাকার জামাতিরা মানছিল........?১৯৭১ সালে ওদের নির্দেশে ২ লক্ষ মা বোনকে রেপ করা হয়ছিল..............তখন আপনাদের ইসলামের মূল্যবোধ কই ছিল............?



৫."বাইতুল মকাররম" মসজিদের খতিব হওয়ার জন্য যখন দুই পক্ষ মসজিদের ভিতর জুতো মারামারি করে তখন আপনাদের ইসলামী মূল্যবোধ কই ছিল...........?



৬."বিদায় হজ" এর ভাষণে নবীজি বলেছিলেন,"সবাইকে তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে দাও........কিন্ত আপনারা কি তা করেন.........?"নারঅ্যায়ে তাকবির" বলে কেন পুজাতে হামলা করেন.........?



৭.হাদিসে আসে "নিজের কু প্রবিত্তির সাথে জিহাদ করা সবচে বড় জিহাদ ".........বুকে হাত দিয়ে বলেন তো আপনারা কি তা করেন..........?



৮.পবিত্র কোরআন বুকে রাখার জিনিস..............কিন্তু আপনারা নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য কোরআন নিয়ে রাস্তায় নামেন............এইটা কি ইসলামের কোঁথাও আছে.........?



আসলে আপনারা ইসলামের কিছুই মানেন নাহ ও কিছুই জানেন নাহ..........শুধু ইসলামের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করেন.............মানুষকে ঠকান................কোরআনে কোন এক সূরায় এক যুদ্ধ সম্পর্কে আয়াত আছে,"তোমরা মুনাফিকদের যেখানে পাবে সেখানে হত্যা করবে".........আর আপনারা সবসময় এই আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন...........কেন...........?



দয়া করে যুক্তি দিয়ে উত্তর দিবেন.......গায়ের জোরে না

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:২২

রিওমারে বলেছেন: জামাতের সাথে ইসলামের কোণ সম্পর্ক নেই। ইসলামের নামে এরা বিজনেস করে। এরা ধোকাবাজ প্রতারক। এরা সত্যিকার অর্থে ইসলামের মানেই জানে না।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩৩

পত্রনবিস বলেছেন: সহমত কতখন ফেবু তে একটার লগে এই দা লইয়া কথা কইসিলাম অইদা আমারে কয়ই এদের উপর আমার এত রাগ কে

২| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৩৬

এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল স্বর্ণা বলেছেন:
রিওমারে বলেছেন: জামাতের সাথে ইসলামের কোণ সম্পর্ক নেই। ইসলামের নামে এরা বিজনেস করে। এরা ধোকাবাজ প্রতারক। এরা সত্যিকার অর্থে ইসলামের মানেই জানে না।

৩| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৪৩

খুব সাধারন একজন বলেছেন: রিওমারে বলেছেন: এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল স্বর্ণা বলেছেন: জামাতের সাথে ইসলামের কোণ সম্পর্ক নেই। ইসলামের নামে এরা বিজনেস করে। এরা ধোকাবাজ প্রতারক। এরা সত্যিকার অর্থে ইসলামের মানেই জানে না।

৪| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৪৬

খুব সাধারন একজন বলেছেন: + প্রিয়তে।

৫| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৫১

অয়োময় বলেছেন: দারুন প্রশ্ন হইছে................পিলাছ না দিয়া উপায় নাই***************

৬| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৮:৫৩

বন্ধুবর বলেছেন: ১৯৭১ যুদ্ধের চলাকালীন সময় আমরা ছিলাম পূর্ব পাকিস্তানী, জাময়াত দলীয়ভাবে নয় কিছূ মানুষ ব্যক্তিগত ভাবে এর বিরোধীতা করেছিল ভারতীয়দের নির্যাতন, পিচাশীক আচরণ থেকে এ দেশকে রক্ষার জন্য। যার উদাহরণ সীমান্তে ফেনালীর ঝুলন্ত লাশ এখনও আমাদের দেখতে হয়। স্বাধীনতায় জয়ী হওয়ার পর বাংলাদেশের উদ্ভব-এরপর থেকে জামায়াত দেশের বিরোধীতা করেনি। বরং দেশ বিরোধীকাজ করে ফ্যাসীবাদী আওয়ামীসহ অন্য সব দল। তার অনেক উদাহরণ আছে- বাকশাল তার মধ্যে অন্যতম, সেখানে গণতন্ত্র থেকে স্বেরচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করা, তার কন্যা শেখ হাসিনাও বর্তমানে স্বেরাচারীর সাথে ক্ষমতায় এসেছে; পদ্মা সেতু খেয়েছে, হলমার্ক কেলেংকারী অন্যমত উদাহরণ, শেয়ার মার্কেন চুরী, ছাত্রলীগের নেতা জাঙ্গাহীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষনে সেঞ্চুরী করে মিষ্টি বিরতণ; বিশ্বজিৎকে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা, ২৮ অক্টোবর লাশের উপর নৃত্য করা, ক্ষমতার লোভে জামায়াতের পাযে সালাম করা। স্বাধীনতার সময় দেশের আওয়ামী লীগের দলীয় লোক বেশি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের সাথে তারাই বেশি যুক্ত ছিল- প্রমাণ চান তাহলে দেখুন এবং মনযোগ দিয়ে পড়ুন

.................পড়ার পর বাদবাকী উত্তর দিব...........
আওয়ামী বাম বুদ্ধিজীবিরা একাত্তুরের ‘স্বাধীনতার ইতিহাস’কে খুব সচুতরতার সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বহুল প্রচলিত টার্ম- ‘ইহুদী গণহত্যা’ – ‘হলোকাস্ট’র সাথে এক করে ফেলছে। এই ‘হলোকাস্ট’ বর্তমানে এমনই একটা শব্দ যা নিয়ে কেউ উচ্চবাচ্য করলেই তার বারোটা বাজিয়ে দেয়া হয়। সারা বিশ্বের মিডিয়া একযোগে ইরানী নেতা আহমাদিনেজাদকে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছিল ‘হলোকাস্ট ডিনাইল’ এর অভিযোগ এনে। তিনি দুই বছর আগে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ও ছাত্রদের লক্ষ্য করে এই ব্যাপারে পরিষ্কার করে বলেছিলেন, “অস্বীকার নয়, আমি বলেছি এ নিয়ে রিসার্স হোক। কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই শব্দটা নিয়ে রিসার্চের অনুমোদন নাই, কি করে সভ্য জগত হলোকাস্টের ইতিহাস নিয়ে ছাত্রদের চর্চা করতে নিষেধ করে দিলো?”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এতদিনে ঠিক ওই পর্যায়ে নিয়ে আসছে ইহুদী ঘরানার আওয়ামী বুদ্ধিজীবিরা। তারা যা বলবে তার বাইরে কোন কিছুই বলা যাবেনা। আওয়ামী ভন্ডামী উন্মোচনের যেকোন গবেষণাকে তারা হলোকাস্টের স্টাইলে ‘স্বাধীনতা বিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করে। সত্যি বলতে কি এটিই তাদের একমাত্র ‘ফোর্স’ যা দিয়ে তাদের কর্মীবাহিনীকে সর্বদাই উজ্জীবিত করে রাখে। তারা মনে করে বাংলাদেশটা তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। অন্যরা হবে তাদের দ্বারা চালিত, ঠিক যেমন আমেরিকানরা মনে করে তারাই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি!
মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। এই দলের নেতাদের চরিত্র কেমন ‘ফুলের মতন পবিত্র’ তা জানতে হলে আজকেই তাদের নিয়ে স্টাডি করুন। আপনার আশপাশেই নজর দিলেই তাদের সম্বন্ধে একটা ধারণা পেয়ে যাবেন। ২০১০ এ এসে আওয়ামী লীগ যেমন ‘ধর্ষণ লীগ’, টেন্ডার লীগ’, ‘বাজিকর’, আর ‘চাপাতি লীগ’ বলে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে, ‘৭১ এবং তার আগেও তাদের পরিচিতি এই রকমই ছিল অথবা তার চেয়ে বেশীই ছিল। শেখ মুজিব ছাত্রজীবনে টেন্ডার ছিনতাই করেছেন। তাই দেখে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ধমকও দিয়েছেন। পার্লামেন্টে নিজ হাতে স্পীকারকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন, সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে মুজিব বলেছেন, “কোথায় আজ সিরাজ সিকদার”, চল্লিশ হাজার জাসদ কর্মীকে খুন করে বলেছেন “লাল ঘোড়া দাবড়িয়ে দিমু”। এরকম অসংখ্য কুকীর্তির উদাহরণ একমাত্র এই দলেই রয়েছে। অথচ এগুলো নিয়ে জাতীয়তাবাদী বা ইসলামিস্ট কেউই বাংলাদেশীদের শিক্ষিত করতে পারেনি। তার মানে মিডিয়া বানাতে পারেনি বা প্রচারণা চালানোর কৌশলও তাদের নেই।
সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো আওয়ামী বিরোধীরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও আওয়ামী জাহেলিয়াতের সর্বসাকুল্য খতিয়ান তৈরি করতে মনযোগী হয়নি। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তাদের ভন্ডামী নিয়ে কোন রিসার্সও তারা সরকারীভাবে নথিভুক্ত করেনি। মেজর জলিল, বদরুদ্দীন উমর, আহমদ ছফাদের একাডেমিক গবেষণাগুলোকে তারা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়নি যার ফল এখন তারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের বিস্তারিত তালিকা করলেই বোঝা যেত কতজন আওয়ামী লীগের লোক ছিল। এমনকি শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও করা হয়নি। আওয়ামী নেতারা যে জান বাঁচাতে পগার পার হয়ে ভারতে ছিল সে কথাগুলো মানুষজন চল্লিশ বছর পরে এসে ভুলতে বসেছে। আজকের সবচেয়ে মুখরা মন্ত্রী ও নেতারা যে তখনকার পরিচিত রাজাকার বা পাকিদের পদলেহী ছিল তা এখন কে বিশ্বাস করবে?
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের ৯৯ ভাগ চেয়ারম্যান ছিল আওয়ামী লীগের লোক। পুলিশের এসপি ও চেয়ারম্যানরা মিলে রাজাকার, শান্তিবাহিনী নিয়োগ দিয়েছে। তারা ছিল পাক আনসার এবং পুলিশ বাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়োজিত একটা বাহিনী। এরা আর্মিদের দেখিয়ে দিত কারা মুক্তিযোদ্ধা। সে অনুযায়ীই বর্বর পাক সেনারা বাংলাদেশীদের উপর অত্যাচার করতো। পাকিস্তান আর্মি অ্যাক্টে আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনীকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী বাহিনী হিসেবে ঘোষণা করা আছে।
সেসময় ইসলাম পন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক মাঠে অবস্থান ছিল ‘ছাগলের তিন নম্বরবাচ্চা’র মত। আওয়ামী লীগের ধারে কাছেও ছিল না জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, মুসলিম লীগ। সংগতকারনেই সংখ্যানুপাতে তাদের ভাগে খুব বেশি পড়েনি। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দল ছিল মুসলিম লীগ। এরপর জামাত। সেই জামাতই বলছে, ‘৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে জামায়াতের ৫৫৬ জন রুকন আর মাত্র তিন হাজার কর্মী ছিল।’
১৯৭২ সালের দালাল আইনের অধীনে প্রায় ১ লাখ লোককে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে অভিযোগ আনা হয় ৩৭ হাজার ৪৭১ জনের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৬২৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে কোনো মামলা দায়ের করাই সম্ভব হয়নি। ২ হাজার ৮৪৮ জনকে বিচারের জন্য সোপর্দ করা হয়। বিচারে ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং ২ হাজার ৯৬ জন বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। যে ৭৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাদের মধ্যে ইসলামপন্থী নেতারা কেউ ছিলেন না। এদের ফাঁসাতে না পেরে ১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান শেষমেষ সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
আসুন, এবার আমরা দেখি আওয়ামী লীগের প্রথম সারিতে কারা যুদ্ধাপরাধী।
পুতুলের দাদা শশুর নুরু মিয়া
প্রধানমন্ত্রীর বেয়াই শ্রমমন্ত্রীর পিতা নুরু মিয়া একাত্তুরে শান্তি কমিটির স্থানীয় চেয়ারম্যান ছিলেন। ফরিদপুর জেলায় শান্তি কমিটির সদস্যদের তালিকায় এখন চারটি মাত্র নাম বিদ্যমান- ডা: কাজী ইমদাদুল হক, আজিরুদ্দীন খান, আনিস কাজী ও আদিল উদ্দীন হাওলাদার। বেয়াইর পিতার নামটি মৃত রাজাকারের নাম থেকেও উধাও হয়ে গেছে।
ওদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুতুলের দাদাশ্বশুর রাজাকার হলেও যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না। ফরিদপুর আ’লীগ নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেছেন, দেশে কোনো রাজাকার নেই (আমারদেশ, ২২ এপ্রিল, ২০১০) Click This Link
ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কড়া ভাষায় বলেছেন, দেশে রাজাকার বলে কোনো শব্দ নেই। দেশে কোনো রাজাকার নেই। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের দাদাশ্বশুর ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রয়াত খন্দকার নূরুল হোসেন নূরু মিয়া ফরিদপুরে রাজাকারদের তালিকার ১৪ নম্বর রাজাকার হলেও তিনি যুদ্ধাপরাধী ছিলেন না বলে শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ফরিদপুরের নেতাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন, তার ভাই শেখ সেলিম ফরিদপুরের রাজাকার মুসা বিন শমসের ওরফে নূইলা মুসার সঙ্গে ছেলে বিয়ে দিয়ে আত্মীয়তা করেছেন—এটা কেন তারা কখনও বলেন না; অথচ শেখ হাসিনার মেয়ের দাদাশ্বশুর নূরু মিয়ার নামে সবাই অভিযোগ করেন যে, তিনি রাজাকার ছিলেন। নূরু মিয়া পিস কমিটির সদস্য থাকলেও যুদ্ধের সময় তিনি কোনো অপরাধমূলক কাজকর্ম করেননি বলে শেখ হাসিনা গর্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের মনে করিয়ে দেন।
এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুল হক ভোলা মাস্টার প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, শ্রমমন্ত্রীর বাবা নূরু মিয়া একজন রাজাকার ছিলেন। ফরিদপুরের রাজাকারদের তালিকায় তার অবস্থান ১৪ নম্বরে। ছেলে মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে রাজাকার বাবা নূরু মিয়ার নামে ফরিদপুরের বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। রাজাকারের নামকরণ করা রাস্তা ভেঙে ফেলার জন্য ভোলা মাস্টার দাবি জানান। বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা নূর মোঃ বাবুল বলেন, আমি আপনার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে রাজনীতি করেছি। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি হয়েছি। সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। অথচ আজ ৭৭ বছর বয়সে আমাকে কুপিয়ে আহত করা হলো। আমার শরীর থেকে রক্ত ঝরানো হলো। এই সন্ত্রাসী হামলার জন্য তিনি শ্রমমন্ত্রী ও তার ভাই বাবরকে দায়ী করেন। শ্রমমন্ত্রীর গ্রুপের সন্ত্রাসীদের হাতে আহত জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ আহ্বায়ক শওকত আলী জাহিদের ভাই আবদুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য তাদের পরিবার সারা জীবন যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার প্রতিদান হিসেবে আজ তার ভাইকে একটি পা হারাতে হলো। প্রধানমন্ত্রী সবার বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে ফরিদপুর জেলা নেতাদের বিদায় করেন।
শেখ সেলিমের বেয়াইমুসা বিন শমসের
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায়, তখন দৈনিক জনকন্ঠে ‘তুই রাজাকার’ শীর্ষক এক ধারাবাহিক সিরিজে ফরিদপুরের কুখ্যাত রাজাকার মুসা বিন শমশেরের একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে লোমহর্ষক কাহিনী ছাপা হলে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। জনকন্ঠের সাংবাদিক প্রবীর সিকদারের ওপর নারকীয় হামলা চালায় মুসা বিন শমশেরের ভাড়াটে গুন্ডারা। পরে গুরুতর আহত ওই সাংবাদিকের পা কেটে ফেলতে হয়েছিল। শুরু হয় তার পঙ্গুজীবন। আরো পরে শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও আওয়ামী লীগ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ছেলের সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিয়ে আলোচনায় আসে মুসা বিন শমশের। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা লন্ডনের হ্যামারস্মিথ এলাকায় সুখে শান্তিতে বসবাস করছেন।
মুসা বিন শমসের ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার আকরাম কোরায়শী ও আরো অনেক সৈন্য নিয়ে যখন ফরিদপুরের মহিম স্কুল সংলগ্ন ধর্মশালায় ঢুকে তার কেয়ারটেকার কেষ্টমন্ডলকে হত্যা করে মন্ডলের চার কন্যা ননী, সোহাগী, বেলী ও লতাকে ধর্ষনের পর ধর্ষন করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। ওই হানাদার আর্মি অফিসার ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার মদন গোপাল আঙিনা এলাকার মেয়ে কমলা ঘোষকে ধর্ষন করে বীরত্বের বুক ফুলিয়ে চলে গিয়েছিল।
ননী ও বেলীকে পাকিস্তানী আর্মিরা তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই চার বোন আর তাদের মা মাখন বালার স্থান হয় ফরিদপুরের পতিতা পল্লীতে। ওদিকে কমলা ঘোষেরস্বামী জানতে পারে তার স্ত্রী’র লাঞ্চিত ও নির্যাতিত হবার ঘটনা । স্বভাবতই এই স্বামী বঙ্গ জননী কমলাকে আর ঘরে নেয় নি । ফলশ্রুতিতে কমলা দেশের বাইরে আশ্রয় নেয় সময়ের পরিক্রমা। এখন তিনি দেশের বাইরে বেঁচে আছেন একা হয়ে ।
ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তালিকায় ফরিদপুর জেলার প্রধান ১৩ জন রাজাকারের মধ্যে তার নাম আছে শুরুর দিকেই। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ঘৃন্য রাজাকার মুসা বিন শমশের ওরফে নুলা মুসা নিজেকে রীতিমতো ‘মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক’ হিসেবে দাবি করে বসে আছে! ‘ওয়ার ক্রাইম ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি’র আহ্বায়ক ডা. এমএ হাসান আওয়ামী লীগে যুদ্ধাপরাধী খোঁজার বিষয়ে বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো, দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ন ও নিষ্কলুষ করার জন্য নিজেদের উদ্যোগেই জরুরি ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি করা উচিত।’ (আমাদের সময়, ২৮ এপ্রিল, ২০১০)
১৯৭১ সালের আগে এই নুলা মুসা ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে মাইকিং করেছিলো । ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনেও তার ভুমিকা ছিলো বলে কথিত রয়েছে । ২১ শে এপ্রিল যখন ফরিদপুরে পাক সেনারা ঢোকে তখন এই নুলা মুসাই পাক আর্মিদের স্বাগত জানিয়েছিলো । ২২ শে এপ্রিল ১৯৭১ সালে এই আকরাম কোরায়শীর সাথে এক বৈঠকে এই নুলা মুসাকে দেখা যায় ।এই ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী ছিলেন ফরিদপুরের মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম আবু ইউসুফ সিদ্দীক পাখি । (কৃতজ্ঞতায়ঃ নাগরিক ব্লগ)
বাংলাদেশের ধনাঢ্যব্যবসায়ী ড. মুসা বিন শমসেরের ৭ বিলিয়ন ডলারের একাউন্ট ফ্রিজ করেছিল সুইস ব্যাংক। গতবছরের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনিয়মিত লেনদেনের অভিযোগ এনে এ হিসাব জব্দ করে সুইস কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তার লন্ডনস্থ আইনজীবিরা। এবিশাল অর্থ তিনি গড়ে তুলেছেন আন্তর্জাতিক অস্ত্র, তেল ও ক্ষমতার দালালী (পাওয়ার ব্রোকারেজ) করে। বাংলাদেশে তার ড্যাটকো নামে জনশক্তি রফতানির একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ড. মুসা ১৯৯৪ সালে সর্বপ্রথম তার বন্ধু ব্রিটেনের বিরোধী দলীয় নেতা (পরে প্রধানমন্ত্রী) টনিব্লেয়ারের নির্বাচনী ফান্ডে ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বিশ্ব দরবারে আলোচনায় উঠে আসেন। একজন বিদেশী নাগরিক হওয়ায় টনিব্লেয়ার অবশ্য সে অনুদান গ্রহণ করেননি। তার পরে নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ ব্যবসায়ী মাঝে মধ্যেই বিশ্ব মিডিয়ার আলোচনা বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছেন। লোক মুখে আছে তার বিচিত্র ও বর্ণাঢ্য জীবনের অনেক চমকপ্রদ কাহিনী। ১৯৯৭ সালে ড. মুসা বিন শমসের তার ইউরোপিয়ান সদর দপ্তর হিসেবে একবার আয়ারল্যান্ডের কালকিনি দুর্গ কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি।
“সুইস ব্যাংকে আটকা ৫১ হাজার কোটি টাকা ফিরিয়ে আনতে প্রিন্স মুসার লবিং” গত ২০ ডিসেম্বর ২০১০ এর মানবজমিন প্রধান শিরোনাম এটি। এক্সক্লুসিভ সংবাদটি করেছে নাশরাত চৌধুরী। প্রিন্সমুসা বাংলাদেশী নাগরিক। তার জীবনের সাফল্যের কাহিনী তুলে ধরেছেন নাশরাত। মুসা বর্তমান বাস করছেন গুলশানে অবস্থিত তার প্রাসাদোপম বাড়িতে। এ বাড়িতে প্রায় প্রতিদিনই পার্টি থাকে। সেখানে সবসময় তার দেশি বেদেশি হাইপ্রোফাইল মেহমানরা উপস্থিত থাকেন। পার্টিতে খাবার পরিবেশনের জন্য রয়েছে প্রশিক্ষিত কয়েক ডজন সেফ। এরা সবাই রান্না-বান্না ও পরিবেশনার উপর উচ্চ ডিগ্রিধারী।
আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম রাজাকার পরিবারের সদস্য
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বড় ভাই হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য তার নেতৃত্বেই ঢাকায় প্রথম শান্তি কমিটি গঠিত হয়। একই সঙ্গে তিনি রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনীর সঙ্গে লিয়াজোঁ রক্ষা করতেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসই স্বাধীনতাবিরোধী কাজে বড় ভাইকে সার্বিক সহযোগিতা করেন। পাক আর্মিদের কাছ থেকে গুলি এনে রাজাকারদের সাপ্লাইয়ের কাজ করতেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকায় তার রাজাকার ভাইয়ের মালিকানাধীন প্রিন্টিং প্রেসে তিনি ম্যানেজার হিসেবেও চাকরি করেন। অ্যাডভোকেট কামরুল ১৯৯৪ সাল থেকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
২৭ মে, ২০১০ এ দৈনিক আমারদেশ এই নিয়ে একটি ব্যাপক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করে। পত্রিকাটি লেখে, নেজামে ইসলাম পার্টি ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইউনানী চিকিত্সক ও ঢাকা তিব্বিয়া হাবিবিয়া ইউনানী কলেজের অধ্যক্ষ হাকিম খুরশিদুল ইসলামের চার ছেলে। তারা হচ্ছেন যথাক্রমে হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম ও মোরশেদুল ইসলাম। ১৯৫৭ সালে হাকিম খুরশিদুল ইসলামের মৃত্যুর পর বড় ছেলে হাকিম হাফেজ আজিজুল ইসলাম এ কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পর্যায়ক্রমে তিনি এ কলেজের অধ্যক্ষ হন। একই সঙ্গে তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। পরে তিনি তত্কালীন পাকিস্তান নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক হন। ১৯৬৯ সালে এ দেশে পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলন জোরদার হলে নেজামে ইসলাম পার্টির পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষায় প্রচারণা চালানোর জন্য ‘নেজামে ইসলাম’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। হাকিম আজিজুল ইসলাম এ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানসহ পাকিস্তানবিরোধী আন্দোলনকারীদের নিয়ে তিনি এ পত্রিকায় ‘ইবলিশের দিনলিপি’ নামে প্রতি সপ্তাহে একটি বিশেষ সম্পাদকীয় লেখেন।
মাত্র ৭ বছর বয়সে পিতাকে হারিয়ে কামরুল ইসলাম বড় ভাই হাকিম আজিজুল ইসলাম ও ভাবী ফয়জুন নেছা রানুর স্নেহাশীষে বড় হতে থাকেন। বেগম ফয়জুন নেছা অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সম্পর্কে আমার দেশকে বলেন, ১৯৬১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আমি তাদের পরিবারে আসি। এ সময় কামরুল ছিল ১০-১১ বছরের কিশোর। আমার স্বামীই তার ভাই-বোন নিয়ে ১৩-১৪ জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। ছোট ভাই-বোনদের পড়ালেখার খরচ জোগাতেন তিনিই। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় কামরুলের বয়স ছিল ২১ বছর। ওই সময় আমরা সবাই এক বাসাতেই ছিলাম। যুদ্ধে তার স্বামী হাকিম আজিজুল ইসলাম ও দেবর অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অতকিছু বলতে পারব না এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যায়- এমন সত্য প্রকাশ উচিত হবে না। তবে এতটুকু বলতে পারি, স্বাধীনতার পরপরই বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের একজন এমপির নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী আমাদের বাসায় হামলা করে এবং আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে হামলাকারী মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের সবাইকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকিও দিয়ে যায়। এর একদিন পরেই মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা আমার স্বামীর পরিধেয় বস্ত্র ও চশমা আমার কাছে পাঠায়। পরে আমার দেবর কামরুল ইসলাম ও মামুন নামে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বহু খোঁজাখুঁজির পর একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আমার স্বামীকে উদ্ধার করেন।
পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকার ৪৮/১, আজগর লেনে অবস্থিত অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বাড়ির আশপাশের লোকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের পুরো ৯ মাসই বড় ভাই হাকিম আজিজুল ইসলামের সঙ্গে ছিলেন। আজিজুল ইসলাম ২০০৫ সালে মারা যান। পিতা হাকিম খুরশিদুল ইসলামের রেখে যাওয়া জায়গায় তারা ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৫ তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে এ বাড়িটি ইসলামী ব্যাংকের কাছে দায়বদ্ধ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে আমি শিশুকাল থেকেই চিনি। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বড় ভাইয়ের সঙ্গেই থাকতেন এবং তার কাজে সহযোগিতা করতেন। ১৯৯৪ সালে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এর আগে ১৯৮৫ সালে এলএলবি পাস করে আইন ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৬৪ নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত পার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। এ নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী কামালউদ্দিন কাবুলের কাছে পরাজিত হন।
তিব্বিয়া হাবিবিয়া কলেজে হাকিম আজিজুল ইসলামের এক সময়ের সহকর্মী জানান, আজিজুল ইসলাম সাহেব ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। কলেজে যোগ দেয়ার আগে তিনি নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রেস ব্যবসা করতেন এবং একটি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। হাকিম আজিজুল ইসলামের প্রেসেই কামরুল ইসলাম ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
এ বিষয়ে আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আমার দেশকে তিনি বলেন, আমার ভাই মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেননি। তিনি রাজাকার কিংবা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী ছিলেন—এ ধরনের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধে তার নিজের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম।
“ইসলামী ব্যাংকের টাকায় আইন প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি” নামে আরও একটি ইন্টারেস্টিং নিউজ প্রকাশ করে দৈনিক আমারদেশ জুন২, ২০১০।
আশিকুর রহমান :
আওয়ামী লীগের বর্তমানকোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলের এডিসি ছিলেন। এই এডিসিরাই রাজাকার, শান্তিবাহিনী নিয়োগ দিত। টাংগাইলের মুক্তিযোদ্ধারা আশিকুরের রাজাকারী চরিত্র সম্মন্ধে সম্যক অবহিত। মার্চ ৩১, ২০১০ এর এক সমাবেশে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী আশিকুর রহমানের যুদ্ধকালীন সময়ের বিভিন্নকর্মকান্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে অনেক যুদ্ধাপরাধী আজ নেতৃত্বের আসনে সমাসীন।
মোসলেম উদ্দিন, এম, পি
আওয়ামী লীগের এম পি মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট ছেপেছে আওয়ামী এমপি সাবের হোসেনের পত্রিকা ভোরের কাগজ , ৮ এপ্রিল ২০১০।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ মহাজোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলাটি হয়েছে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও জোড়বাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলী মণ্ডলের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা জালাল উদ্দিন বাদী হয়ে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি আইনের ১০৯/১১৪/১১৩/১৩(ক)৩০২/২০১/৪৩৬/৩৭৯/৩৪ ধারায় অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন।
মামলার এজাহারে অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিনসহ বিবাদীরা স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, দালাল, যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গি, দেশদ্রোহী ও আইন অমান্যকারী লোক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি করার পর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান শিশির মামলাটি গ্রহণ করে ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ১৯৭১ সালের ২৭ জুন দুপুর ২টায় সব বিবাদী পাকবাহিনীসহ মামলার বাদী জালাল উদ্দিনের বাড়ি লুণ্ঠন করে অগি্নসংযোগ করে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আবদুস সালাম, আবদুল মান্নানের বাড়িসহ আরও ৪-৫টি বাড়ি ভস্মীভূত করা হয়।
নোয়াখালীর ওবায়দুলল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ অধ্যাপক শামসুল হক
নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের ‘এমএনএ’ (জাতীয় পরিষদ) মো. ওবায়দুলল্লাহ মজুমদার ও চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ (প্রাদেশিক পরিষদ) অধ্যাপক শামসুল হক দু’জনই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর তৈরি এমএ মালেকের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তারা দুজনই পরলোকগত।
এসব নিয়ে আমাদের সময়, ২৮ ও ২৯ এপ্রিল ২০১০ এ “আওয়ামী লীগেও ছিল যুদ্ধাপরাধী! সেই তালিকা তৈরি করছে জামায়াত” এবং “নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েও আওয়ামী লীগের ২৫ নেতা পাক হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মেলান” নামে চমৎকার দুইটা রিপোর্ট প্রকশিত হয়। সেগুলোর উপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে নিম্নোক্ত প্রতিবেদন।
তালিকাভুক্ত অপর আওয়ামী লীগ নেতারা হচ্ছেন-
চট্টগ্রামের প্রাদেশিক আসন ২৪ থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মুজিবুর রহমান তালুকদার, যশোর থেকে নির্বাচিত ‘এমপিএ’ মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী, খুলনার ‘এমপিএ’ হাবিবুর রহমান খান, বগুড়া থেকে নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্য মো. হাবিবুর রহমান, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচিত ‘এমএনএ’ জহির উদ্দিন, লে. কর্নেল একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (খুলনা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, একে ফায়জুল হক (বরিশাল), এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), আমজাদ হোসেন খান (ফরিদপুর), মো. নুরুল ইসলাম (ঢাকা), আখতারুজ্জামান (ময়মনসিংহ), সৈয়দ বদরুজ্জামান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ), ডা. আবুল হাসেম (সিলেট)।
উল্লেখিত ২০ নেতার প্রত্যেকে জাতীয় পরিষদ অথবা প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। দৈনিক পাকিস্তানও আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এসব নেতার স্বাধীনতাবিরোধী বিবৃতি প্রকাশ হয়। তালিকাভুক্ত এসব আওয়ামী লীগ নেতারা মুক্তিযুদ্ধের সময় কেবল বক্তৃতা বিবৃতি দিয়ে ইয়াহিয়া সরকারের পক্ষই নেননি, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করেন বলেও তাতে উল্লেখখ আছে। যে কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়েই সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কিছু গণপরিষদ সদস্যের সদস্য পদ বাতিল করা হয়। অনেকের নাগরিকত্বও বাতিল করা হয়েছিল। উলেস্নখিতদের অনেকেই ইতোমধ্যে মারা গেছেন।
‘৭১ সালের ৩ জুলাই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানকে খণ্ডবিখণ্ড করার জন্য জনগণ আমাকে ভোট দেয় নাই।’
৬ জুলাই মুজিবুর রহমান তালুকদার পৃথক বিবৃতিতে ‘পাকিস্তানকে খণ্ড-বিখণ্ড করার জন্য আওয়ামী লীগের মতলব সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না’ বলে মন্তব্য করেন।
হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘পাকিস্তানএক ও অবিচ্ছেদ্য। পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে পারে এমন কোনো শক্তি পৃথিবীতে নেই।’
সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মাওলানা নুরুল ইসলাম
একাত্তর সালে তিনি জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। তখন ঢাকার কেরাণীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন, টাঙ্গাইলের সাবেক আওয়ামী লীগ এমপিএ খোদাবক্স মুক্তার, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মো. ফিরোজুর রহমান, ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুস শুকুর মিয়া, ফরিদপুর আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল মিয়া মোক্তার, অ্যাডভোকেট কাজী খলিলুর রহমান, অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন মিয়া, চট্টগ্রাম সদর মহকুমা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল বাশার, নেত্রকোণার আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম খান, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, মহকুমা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি চাঁদবক্স পাটওয়ারী মোক্তার, নেত্রকোণার বায়লাতি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি ডা. গিয়াসউদ্দিন আহমদ, নেত্রকোণা শহর আওয়ামী লীগ সদস্য সোহরাব হোসেন, নেত্রকোণা মহকুমা আওয়ামী লীগ সদস্য এমদাদুল হক, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী মোক্তার, চাঁদপুর রেডক্রস সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফজলুল হক, চাঁদপুর মহকুমা আওয়ামী লীগের কার্যকরি সদস্য খুরশিদ আলম চৌধুরী, মহকুমা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ বজলুর রহমান শেখ, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও তরপারচান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান মৃধা, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজ শেখ পাটওয়ারী, চাঁদপুর আওয়ামী লীগ সদস্য ও ঠিকাদার মোফাজ্জল হোসেন, ফরিদগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. নুরুল ইসলাম, রাজশাহীর সোহরাওয়ার্দী আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবুর রহমান, যশোর আওয়ামী লীগ নেতা মীর তৈয়ব, মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বিক্রমপুরী।
নেত্রকোনা শহর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। তিনি মুসলমানদের চিরশত্রু ভারতের সমর্থনপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী দুষ্কৃতকারীদের উৎখাতকল্পে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জনপ্রতিনিধি হয়েও আওয়ামী লীগের পঁচিশ নেতা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। তারা কেউ ছিলেন এমএনএ (জাতীয় পরিষদ সদস্য) আবার কেউ ছিলেন এমপিএ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)। হানাদার বাহিনীকে তারা সবধরনের সহযোগিতা দিয়েছেন। দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গেও তাদের কয়েকজন যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি ও দলীয় সিদ্ধন্তে ‘৭১ ও ‘৭২ সালেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
মুজিব নগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ, বঙ্গবন্ধু সরকার আমলের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্তপ্রকাশিত কিছু গ্রন্থ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। এই পঁচিশ জনের মধ্যে কয়েকজন পরবর্তীকালে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে মন্ত্রীও হন।
এরকম পঁচিশ জনের মধ্যে সাতজন ‘৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতা করে মুক্তি পান এবং পাকবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেন।
তারা হচ্ছেন_ একেএম মাহবুবুল ইসলাম (পাবনা), একে ফায়জুল হক (বরিশাল), অধ্যাপক শামসুল হক (চট্টগ্রাম), অংশু প্রু চৌধুরী (পার্বত্য চট্টগ্রাম), ডা. আজাহার উদ্দিন (ভোলা), একেএম মাহবুবুল ইসলাম (সিরাজগঞ্জ) ও আহমদ সাগির হোসেন।
এছাড়া তৎকালীন আওয়ামী লীগ থেকে আরো যেসব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন তারা হচ্ছেন_ আবু সোলায়মান মণ্ডল (পীরগঞ্জ, রংপুর), আজিজুর রহমান (গাইবান্ধা), নুরুল হক (রংপুর), এনসান আলী মুক্তার (টাঙ্গাইল) একেএম মোশাররফ হোসেন (ময়মনসিংহ), আফজাল হোসেন (নারায়ণগঞ্জ), ওবায়দুলস্না মজুমদার (নোয়াখালী), সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (চট্টগ্রাম), মো. মঈনুদ্দীন মিয়াজী (যশোর), হাবিবুর রহমান খান (খুলনা), মো. হাবিবুর রহমান (বগুড়া), জহির উদ্দিন (মোহাম্মদপুর, ঢাকা), সৈয়দ হোসেইন মনসুর (পাবনা), মো. আবদুল গাফফার (সাতক্ষীরা), মো. সাঈদ (খুলনা), মোশাররফ হোসেন শাহজাহান (ভোলা) এবিএম নুরুল ইসলাম (ফরিদপুর), সৈয়দ বদরুজ্জান ওরফে এসবি জামান (ময়মনসিংহ)। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময়ে তাদের অনেকের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগে সম্পৃক্ত মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীদের তালিকা
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের তালিকাভূক্ত ব্যক্তিরা _
১. মুক্তিবাহিনী, তাদের সমর্থক এবং সহানূভূতিজ্ঞাপনকারীদের বিরূদ্ধে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর সদস্যদের কুমন্ত্রণা দিত,
২. অপহরণ, বন্দী এবং পরিশেষে হত্যা করতে পাকবাহিনীকে তারা সহায়তা দিত
৩. দলীয় কর্মীদের সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধা ও দেশের নিরীহ মানুষকে বিভিন্ন ক্যাম্পে বা হত্যা কেন্দ্রে প্রেরণ করত,
৪. মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক নিরপরাধ সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিত এবং অবাধ লুটতরাজ করত
৫. হাজার হাজার বাঙ্গালী নারীদের অপরহন করে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন করত।
৬. পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কাছেও তারা নিপীড়নের জন্য বাঙ্গালী নারীদের তুলে দিত।
৭. তাদের মদতে বা সক্রিয় অংশ গ্রহণে দুই লাখ নিরাপরাধ নারী যৌননিপীড়নের শিকার হয়।
তাদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের পাকিস্তানী সেনা বাহিনীকে সহায়তা, গণহত্যা, লুন্ঠন, অগিড়ব সংযোগ ও নারীদের ধর্ষণের ক্ষেত্রেপাকিস্তানী গণ পরিষদের ১৬ জন নির্বাচিত সদস্য, যারা আওয়ামী লীগের গুরূত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ, গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যুদ্ধাপরাধ ও

৭| ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:০০

পত্রনবিস বলেছেন: আলিগ, বিএনপি , ছুদাছুদি কইরা মরুক রাজাকার জেই হক তারে ফাসি দিতে হইবে । শাহবাগে আলিগ নেতাদের কিন্তু বোতল ছুইরা মারছে ভুইলেন্না ।কিন্তু উত্তরের কি হইব?

৮| ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৪৩

ত্যাড়া ব্যাকা বলেছেন: প্লাস্টিকের বোতল ছুড়লে তাতে কি হয়? যে বোতলে লাকী আক্তারকে বারডেমে পাঠানো হইছে - সেরকম বোতল ছোড়া উচিত

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.