নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

pramanik99

আমার স্কুল জীবনের স্মৃতিগুলো বার বার মনে পড়ে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই দিনগুলোতে।

প্রামানিক

শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

প্রামানিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলা ভাষার দুর্দশা ও কিছু কথা

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:০৯



আমি তখন অসুস্থ্য, মাত্র পাঁচদিন আগে বুকে পেসমেকার লাগানো হয়েছে। বুকে কাঁটা ছেঁড়ার ব্যাথা নিয়েই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আমার ছোট ছেলের সাথে ভারতের বেঙ্গালরের হৃদয়েলা হাসপাতালের অদূরেই একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে গেলাম। তিন তলা বিশাল ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, নাম ”ডি মার্ট”।

স্টোরে ঢোকার জন্য তিনটি গেট কিন্তু তিনটি গেটেই স্ক্যানার লাগানো। যেহেতু আমার বুকে পেসমেকার লাগানো তাই স্ক্যানারের ভিতর দিয়ে যাতায়াত করা বারণ। গেটের দারোয়ানকে আমার সমস্যার কথা বলে কোন লাভ হলো না। সে হিন্দিও বুঝে না ইংরাজিও বুঝে না বাংলা তো বুঝেই না। অবশেষ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এসে স্ক্যান ছাড়া আমাকে ভিতরে ঢোকার ব্যাবস্থা করে দিল। ভিতরে গিয়ে দেখি অফার চলছে, একটা কিনলে একটা ফ্রি, দুইটা কিনলে তিনটা ফ্রি আরো কত কি।

হালকা পাতলা কিছু ক্রয় করার পর মনে করলাম এতো আগে কেনাকাটা না করে বাড়ি যাওয়ার আগে আগে পুরো কেনাকাটা করবো। ক্যাশিয়ারকে বিল দেয়ার সময় হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলাম, “ইয়ে অফার কাব তক চলেগা”। ক্যাশিয়ার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, পরে ইংলিশে বললাম, তখনো দেখি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, এরপর বাংলায় বললাম, অফার কয়দিন চলবে, সে তখনো আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ সে লোক হিন্দি বোঝে না বাংলা বোঝার তো প্রশ্নই আসে না। আমার কথা বুঝতে না পেরে কর্নাটকের ভাষায় কিছু একটা বলল তবে আমি কিছুই বুঝতে পেলাম না কারণ আমি তো কর্নাটকের ভাষা জানি না। তার কথা আমি বুঝি না আমার কথা সে বুঝে না, পড়লাম মহাবিপদে। সে বুঝতে না পেরে তার পাশের ক্যাশিয়ারকে ডেকে আনল সেও হিন্দি বোঝে না, সে তার পাশের ক্যাশিয়ারকে ডাকল সেও বোঝে না এইরকম পরপর পাঁচজন এসেও যখন হিন্দি বাংলা ইংরেজি কিছুই বুঝল না তখন বাধ্য হয়ে হাত ইশারায় বললাম আর কাউকে ডাকার দরকার নাই, হাতের ইশারা দিয়েই বাই বাই করে চলে এলাম।

এই ঘটনাটি বললাম এই জন্য কর্নাটকের মানুষ তাদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় কথা বলা পছন্দ করে না এবং বলার চেষ্টাও করে না অথচ পশ্চিম বঙ্গের কোলকাতায় পুরো উল্টো, হিন্দি আর উর্দু ভাষার দাপটে পশ্চিম বঙ্গের বাঙালিদের বাঙলা ভাষা ভুলে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। বেঙ্গালোরে অন্যরাষ্ট্রের লোকজন কাজে গেলেও তাদেরকে কর্নাটকের ভাষা না শিখে কাজ করা সম্ভব হয় না অথচ কোলকাতায় বিভিন্ন রাজ্যের লোকজন কাজ করলেও তারা বাংলা না শিখে উল্টো বাঙালিদেরকেই হিন্দি বলতে বাধ্য করে। বাংলা ভাষাকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহৎ ভাষা বলা হয়। প্রায় ৩৪কোটি লোক বাংলায় কথা বলে, সেই জনবহুল ভাষা পাকিস্তান আমলে উর্দু ভাষার জাতাকলে পড়েছিল বর্তমানে পশ্চিম বঙ্গে হিন্দি ভাষার যাতাকলে পড়েছে।

মন্তব্য ৪৬ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৪৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:২৮

বিজন রয় বলেছেন: প্রামানিক ভাই ভালো আছেন?
অনেক দিন পর আপনার পোস্টে এলাম।

বড়টা সবসময় ছোটটাকে গিলে ফেলতে চায়, ভাষাও এর ব্যতিক্রম নয়।
১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে বাংলাভাষার কি হতো কি জানি?

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৮

প্রামানিক বলেছেন: জি ভাই ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন? ভাই কি আর বলবো, কোলকাতায় গিয়ে যতনা বাঙালি পেয়েছি তার চেয়ে বেশি পেয়েছি বিহারী, দোকানদারও হিন্দি বলে, রিক্সাওয়ালাও হিন্দি বলে, টেক্সির ড্রােইভারও হিন্দি বলে হিন্দির ঠেলায় আমি কোলকাতায় আছি না বিহারে আছি বোঝা মুশকিল।

২| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৪৩

শাহ আজিজ বলেছেন: প্রামানিক , শরীর ভাল বোঝাই যাচ্ছে । লেখা চলুক , ভাল্লাগছে ।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৯

প্রামানিক বলেছেন: জী আজিজ ভাই মোটামুটি ভালো আছি, আপনি কেমন আছেন?

৩| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৬:৫৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভারতীয় বাঙ্গালীরা মূলতঃ আত্মসন্মানহীন এবং নির্লজ্জ প্রকৃতির। বাংলার প্রতি এদের কোন ভালোবাসা নাই। কোলকাতায় দেখেছি, হিন্দিতে কথা বলতে পারাটাকে এরা বিশাল কিছু একটা মনে করে। ভাষার প্রতি অপমানের কঠিন জবাব দিয়েছিলাম আমরা, বাংলাদেশের বাঙ্গালীরা। আর এরা দিল্লীর পা চাটতে চাটতেই গলা শুকিয়ে ফেলে। ভবিষ্যতে দেখবেন, বাংলা ভাষা শুধুমাত্র বাংলাদেশেই টিকে থাকবে। ওরা আস্তে আস্তে পুরাই হিন্দিভাষী হয়ে যাবে।

আপনার লেখাটা দু'বার এসেছে। ঠিক করে দিবেন।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:০৮

প্রামানিক বলেছেন: পশ্চিম বঙ্গের বাঙালিরা বাংলা ভাষা নিয়ে অনেকটা হাবুডবু খাচ্ছে, ওদের মাতৃভাষা ওদের পক্ষে ধরে রাখা খুব কঠিন। ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যখন বাঙালি খেদাও আন্দোলন শুরু হয়েছে, কথায় কথায় মার খাচ্ছে তখন পশ্চিম বঙ্গের লোকজন বাংলাভাষা রক্ষার জন্য একটু নড়াচড়ার চেষ্টা করছে। এই সতর্কটা ওদের আগেই হওয়া উচিৎ ছিল।

৪| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:২৫

রাজীব নুর বলেছেন:



ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষায় ও পেশায়, কোন বাংলার লোকেরা এগিয়ে আছে?

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪০

প্রামানিক বলেছেন: পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে

৫| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৩২

সৈয়দ কুতুব বলেছেন: পড়ে ভালো লাগলো।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪০

প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

৬| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৩৬

কামাল১৮ বলেছেন: এর মূল কারণ হলো অর্থনৈতিক।অন্যের ভাষা শিখে অর্থনৈতিক কারণে,নিজের ভাষা ভুলে যায় সেটাও অর্থনৈতিক কারনে।অর্থনৈতিক কারণই সব কিছু নির্নয় করে।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪২

প্রামানিক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, তবে কোলকাতার বিষয়টি একটু আলাদা, তারা হিন্দি ভাষাকে কোলকাতায় এতো গুরুত্ব না দিলে বাংলা ভাষার এই দুর্দশা হতো না।

৭| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪২

নজসু বলেছেন:


ভাষা হারালে সংস্কৃতি হারায়, আর সংস্কৃতি হারালে পরিচয় হারায়।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৩৯

প্রামানিক বলেছেন: কথা ঠিক, ভাষার সাথে সংস্কৃতি জড়িত।

৮| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৪৮

শেরজা তপন বলেছেন: অন্য ভাষা একেবারে না জানাটা ঠিক পছন্দ হয় না আমার। বাইরের লোককে নিজের ভাষা শেখা বাধ্য করতে গেলে তো সমস্যা- স্বভাবতই তারা পর্যটক হারাবে।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৪৫

প্রামানিক বলেছেন: কোলকাতার বিষয়টি পর্যটক সমস্যা নয়, তাদের রাজ্য ভিত্তিক আভ্যান্তরিণ সমস্যা। অন্য রাজ্যের লোকজন এসে এই রাজ্যকে এমনভাবে গ্রাস করেছে তারা বাংলা শিখবে না বরঞ্চ বাঙালিদেরকেই তাদের ভাষা শিখতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় অনেক ঘটনায় দেখা যায় বাঙালিরা তাদের সাথে হিন্দিতে কথা না বললে অপমানসহ নাজেহাল করে ছাড়ে।

৯| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫২

কামাল১৮ বলেছেন: কলকাতার বেশির ভাগ ব্যবসাই নিয়ন্ত্রন করে অবাঙালিরা।বাঙ্গালীরা করে ছোট ব্যবসা।তাদের বেশিরইভাগই চাকুরিজীবী।

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৪৮

প্রামানিক বলেছেন: আপনি ঠিক বলেছেন। কোলকাতার ব্যাবসা এবং চাকুরির অর্ধেকটাই বিহারীদের হাতে। আর এই বিহারীরা অনেকটা উগ্র স্বভাবের। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশের বিহারীরা যেমন বাঙালিদের উপর চোটপাট নিত কোলকাতাতেও এখন একই অবস্থা।

১০| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫৫

রাজীব নুর বলেছেন:



লেখক বলেছেন: পশ্চিম বাংলা আর বাংলাদেশের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে।

-ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা ও পেশায়, কোন বাংলার লোকেরা এগিয়ে আছে?

১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:৫৩

প্রামানিক বলেছেন: ভাষা, সাহিত্য, শিক্ষা এবং পেশায় বাংলাদেশকেই আগানো মনে হয়। কারণ তাদের রাষ্ট্রিয় ভাষা হিন্দি আর আমাদের রাষ্ট্রিয় ভাষা বাংলা, আমরা অফিস আদালতসহ সব জায়গায় বাংলা চর্চা করি কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের লোকজনকে বাংলার চেয়ে হিন্দি চর্চা বেশি করতে হয়।

১১| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৯:২৬

রাজীব নুর বলেছেন:



ওদের দেশে ১৪টি বড় ভাষা আছে; সেখানকার বাংগালীরা ৩ ভাষা ( বাংলা, হিন্দি, উর্দু ) ব্যবহার করছে; ওরা ইংরেজীতে বাংলাদেশের থেকে ভালো; ওরা সাহিত্যে আমাদের চেয়ে ভালো; ওরা ভালো প্রফেশানেল, ওরা শিক্ষায় ভালো।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:০৬

প্রামানিক বলেছেন: শিক্ষার মান ওদের অনেকটাই ভালো এটা স্বীকার করতে হয়, আমাদের দেশের শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক নেতারা।

১২| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:০৮

মেঠোপথ২৩ বলেছেন: কোলকাতাবাসীদের কথা নাহয় বাদই দিলাম , আফটারল তারা ভারতীয় । বাংলাদেশীরা কি করে? বাংলাদেশীরাতো ইন্ডিয়ান দেখলেই হিন্দি কথা বলা শুরু করে। হিন্দি ভাষায় পারদর্শিতা দেখাতে গর্ববোধ করে।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:১১

প্রামানিক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, আমি প্রথম যখন কোলকাতা গেলাম ইমিগ্রেশনে সমস্যায় পড়েছিলাম, হিন্দি না জানার কারণে দশ মিনিট আমাকে আটকিয়ে রেখেছিল, বাংলাদেশের বর্ডার হলেও ইমিগ্রেশনে সব হিন্দিভাষী। যে কারণেই বাংলাদেশের লোকজন ভারত গিয়ে ঝামেলা এড়ানোর জন্যই হিন্দি শেখার চেষ্টা করে।

১৩| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২০

আহমেদ রুহুল আমিন বলেছেন: ওদের দৃষ্টিকোন থেকে বাংলাভাষা একমাত্র বাংলাদেশীদের ভাষা। অবশ্য এই দুর্দশার জন্য কোলকাতার বাংলা ভাষীরা অনেকাংশে দায়ী। কেননা, বর্তমান প্রজন্মের কাছে ওদের হিন্দীভাষাটাই পছন্দনীয় বাঙালি হযেও ওরা বাংলা গান পছন্দ করেনা।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:১৩

প্রামানিক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, বর্তমানে বাঙলা ভাষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা সোচ্চার হলেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে তারা মার খাচ্ছে।

১৪| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:৫৬

গোবিন্দলগোবেচারা বলেছেন: @রাজিব নূর - আপনি তো দেখা যাচ্ছে আপনার অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড গার্বেজ কাকুর কাছে ভাড়া খাটাচ্ছেন।
তা আপনার রেট কত?
মানে আমিও আপনাকে ভাড়া করতে চাচ্ছিলাম। চাটগায়ের লোকের মতো অতো সুখ দিতে পারব না, তবে পয়সা দিয়ে পোষায় দিব। বাড়তি হিসেবে আমার ফেসবুকের লাস্ট পোস্টটা আপনাকে এই ব্লগ বা অন্য যেকোনো জায়গায় বিনা বাধায় কপি পেস্ট করতে দেব।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:১৪

প্রামানিক বলেছেন: সব্বনাশ

১৫| ১১ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১১:১২

অপু তানভীর বলেছেন: ভাষা নিয়ে আমার এই আদিখ্যেতা কেন জানি ভাল লাগে না।
আমি আমার মাতৃভাষাকে পছন্দ করি। লিখতে পড়তে বলার ক্ষেত্রে বাংলাদের থেকে পছন্দের আর কিছু নেই। কোন ইংরেজি বই পড়ার আগে আমি খোজ করে দেখি বইটার বাংলা অনুবাদ আছে কিনা। অনুবাদ যতই খারাপ হোক না কেন আমি অনুবাদটাই পড়তে চাই।
কিন্তু তার মানে এই না যে আমি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা পছন্দ করবোই না, শিখবো না। আমি যদি ইন্ডিয়াতে যাই, বা হিন্দি ভাষী কারো সাথে কথা বলতে হয়, তখন আমার হিন্দিতে কথা বলতে কোন সসম্যা নেই, কারণ এটা আমি ভাল করেই জানি। এতে আমার বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা কিভাবে হয় সেটা আমার আজও বোধগম্য নয়।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:২০

প্রামানিক বলেছেন: বিভিন্ন ভাষা শিক্ষা করাটাও গর্বের ব্যাপার, সুযোগের অভাবে হয়তো অনেকের পক্ষে মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা শেখা সম্ভব হয় না তবে পশ্চিম বঙ্গের বিষয়টি আলাদা, তারা হিন্দী ভাষীদের প্রশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেরাই বিপদে পড়েছে।

১৬| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১০:২৪

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: বর্তমান সময়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার মত কয়েকটি ভাষা জানা বুঝা প্রয়োজন।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:২২

প্রামানিক বলেছেন: অবশ্যই বিভিন্ন ভাষা শেখা প্রয়োজন, তবে পশ্চিম বঙ্গে হিন্দি ভাষার চাপে পড়ে বাঙলা ভাষার ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা।

১৭| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১০:৫৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:



প্যারিসে গেলেও একই অবস্থা হতে পারে আপনার।
খোদ বিলেতের মানুষ যে ইংরেজী বলে সেটা বুঝতেই আমার দম বের হয়ে যাচেছ।
আমি এখন ম্যানচেস্টারে থাকি।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:০৪

প্রামানিক বলেছেন: যেখানে যাবেন সেই দেশের মাতৃভাষা না জানলে চলতে ফিরতে সমস্যা হয় কিন্তু পশ্চিম বঙ্গেই শুধু উল্টো হিন্দীওয়ালারা বাংলা তো বলেই না উল্টো বাঙালিদেরকেই হিন্দি বলতে বাধ্য করে

১৮| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:৫২

কিরকুট বলেছেন: আপনার সুস্থতা কামনা করি । আমরা বাঙ্গালীদের রক্তে জলের মিশ্রন আছে । এটাই সমস্যা ।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:০০

প্রামানিক বলেছেন: ঠিক বলেছেন, ধন্যবাদ আপনাকে

১৯| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:২২

কিরকুট বলেছেন: অপু তানভীর বলেছেন: ভাষা নিয়ে আমার এই আদিখ্যেতা কেন জানি ভাল লাগে না।
আমি আমার মাতৃভাষাকে পছন্দ করি। লিখতে পড়তে বলার ক্ষেত্রে বাংলাদের থেকে পছন্দের আর কিছু নেই। কোন ইংরেজি বই পড়ার আগে আমি খোজ করে দেখি বইটার বাংলা অনুবাদ আছে কিনা। অনুবাদ যতই খারাপ হোক না কেন আমি অনুবাদটাই পড়তে চাই।
কিন্তু তার মানে এই না যে আমি বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোন ভাষা পছন্দ করবোই না, শিখবো না। আমি যদি ইন্ডিয়াতে যাই, বা হিন্দি ভাষী কারো সাথে কথা বলতে হয়, তখন আমার হিন্দিতে কথা বলতে কোন সসম্যা নেই, কারণ এটা আমি ভাল করেই জানি। এতে আমার বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা কিভাবে হয় সেটা আমার আজও বোধগম্য নয়।


অপু বিষয় টা সম্ভাবত আপনি ধরতে পারেন নাই । ভারতে যে প্রিভিন্স গুলা আছে তারা নিজ নিজ ভাষায় কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করে তারা তাদের প্রিভিন্সে অন্য প্রিভিন্সের ভাষায় বা অন্য ভাষায় কথা বলতে চায় না । এই কারনেই ভারতে কোণ রাস্ট্র ভাষা নাই । লেখক বলতে চেয়েছেন তিনি পশ্চিমবঙ্গে দেখেছেন বাংলার দুর্দশা । ওখানে অধিকাংশ নিজ ভাষা রেখে অন্য ভাষায় কথা বলতে গৌরব বোধ করে।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৪:৫৭

প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, আমি লেখাটি সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে পুরোপুরি বর্ননা দিতে পারি নাই। কোলকাতায় অন্য রাজ্যের লোকজন এসে ব্যাবসা বাণিজ্য চাকরি বাকরি অনেক কিছুই করছে, তাদের সংখ্যাও নেহাত কম নয় প্রায় দুই কোটি, এই বিশাল সংখ্যার পরিযায়ী লোক কোলকাতায় কাজ করলেও তারা বাংলা না বলে হিন্দি ভাষায় কথা বলে। কিছুদিন আগেও এই বিষয়টি কোলকাতার বাঙালিরা মেনে নিলেও এখন মেনে নিচ্ছে না। কারণ হিন্দি ভাষার চাপে বাংলা ভাষার ব্যাবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে। এই আসংখ্যা থেকেই কোলকাতার লোকজন হিন্দি ভাষিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেছে।

সেদিন দেখলাম একটি জিমে হিন্দি ভাষী এক মহিলাকে যখন জিমে আসা বাঙালি লোকজন বাংলা গান বাজাতে বলল সে তাদের কথা পাত্তা না দিয়ে হিন্দি গান বাজাতে থাকলে বাঙালি ছেলেরা ক্ষেপে গিয়ে ঐ মহিলার সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। মহিলা উত্তেজিত হয়ে হিন্দিতে কথা বলতেছিল, বাঙালি ছেলেগুলো তাকে বাংলায় কথা বলতে বল্লে সে বলে বাংলা জানে না। তার এই কথায় বাঙালি ছেলেগুলো উত্তেজিত হয়ে বলে, বাংলায় ব্যাবসা করবে অথচ বাংলা বলতে পারবে না এটা আমরা আর মেনে নেব না শুধু তাই নয় তারা আরো বলে, আমরা দিল্লী গেলে কি তোমাদের সাথে বাংলা বলতে পারি? দিল্লি গিয়ে যদি আমাদেরকে হিন্দি বলতে হয় তাহলে বাংলায় ব্যাবসা করতে হয়ে তোমাদেরকে বাংলা বলতে হবে।

এই দ্বন্দটি দেখার পরেই আমি এই লেখাটি লিখেছিলাম।

২০| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ দুপুর ১২:২৯

শ্রাবণধারা বলেছেন: অনেকদিন পরে আপনার পোস্ট দেখে ভাল লাগলো প্রামানিক ভাই। আশা করি ভাল আছেন? আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন এই দোয়া করি।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ বিকাল ৫:০০

প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে, কেমন আছেন? দোয়া করবেন।

২১| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৮:০৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: মাতৃভাষার ব্যাপারে আমরা যতটা স্পর্শকাতর, ওপারের দাদারা ততটা নয়। কারণ মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ওরা কখনো সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়নি, আমরা রীতিমত যুদ্ধ করেছি।

তবে এটাও ঠিক, হিন্দি সিরিয়াল দেখতে দেখতে আমরা যারা ঐ ভাষাটা মোটামুটি রপ্ত করতে পেরেছি, তাদের অনেকেই ভারতীয়দেরকে কাছে পেলেই হিন্দিতে সংলাপ শুরু করে দেই। মেঠোপথ২৩ যেমনটি বলেছেনঃ কোলকাতাবাসীদের কথা নাহয় বাদই দিলাম , আফটারল তারা ভারতীয় । বাংলাদেশীরা কি করে? বাংলাদেশীরাতো ইন্ডিয়ান দেখলেই হিন্দি কথা বলা শুরু করে। হিন্দি ভাষায় পারদর্শিতা দেখাতে গর্ববোধ করে।

সেই ১৯৮৬ সালে যখন প্রথম থাইল্যান্ডে গেলাম, তখন দেখেছি ওদের সাধারণ জনগণ এবং দোকানের কর্মচারিদের মাঝে ইংরেজি বোঝা ও ইংরেজিতে কথা বলার মত সক্ষম লোকের সংখ্যা প্রায় শুন্যের কোঠায়। এখন তো অধিকাংশই কাজ চালিয়ে নেয়ার মত ইংরেজি জানে ও বোঝে। জাপানি ও চীনাদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

১২ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৯:২৯

প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ খায়রুল আহসান ভাই, অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা এখন অনেকটা কোনঠাসা হয়ে আছে। এতদিন তারা হিন্দি ভাষায় কথা বলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করতো কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য থেকে যখন বাংলা ভাষীদের তাড়ানো শুরু করেছে তখন তাদের বাংলা ভাষা সম্পর্কে হুশ ফিরে এসেছে। এখন কোলকাতায় বসবাসকারী অন্য রাজ্যের হিন্দি ও উর্দু ভাষীদের সাথে প্রায়ই উচ্চ বাক্য বিনিময় হচ্ছে। কারণ দুই তিন যুগ আগে থেকে কোলকাতায় বসবাস করার পরও তারা বাংলা বলে না। বাংলা বলতে বললে উল্টো ঝগড়া করে, এইসব বিষয় নিয়ে কোলকাতা এখন সরগরম।

২২| ১২ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ৯:৫০

লোকমানুষ বলেছেন: আপনার লেখাটিতে ভাষাগত সংকটের যে বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে, তা শুধু বেঙ্গালুরু বা কলকাতার সমস্যা নয়, বরং এটি আমাদের সমাজে ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। বাংলার মতো প্রাচুর্যময় ভাষাও আজ হিন্দি-উর্দু-ইংরেজির দাপটে আত্মপরিচয় হারাচ্ছে, অথচ কর্নাটকে স্থানীয় ভাষার অটল অবস্থান দেখে বোঝা যায়, ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে সচেতনতা কতটা জরুরি। আরও দুঃখজনক হলো, ইংরেজিকে "শিক্ষিত হওয়ার মাপকাঠি" ভাবার মানসিকতা, যা বাংলাসহ অন্যান্য মাতৃভাষাকে নিজেদের কাছেই "হীন" করে তোলে। ভাষার এই রাজনীতি আসলে আমাদেরই আত্মবিস্মৃতির ফল। যতদিন না আমরা নিজেদের ভাষাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চর্চা করব, ততদিন বিদেশি ভাষার দাপটে মাতৃভাষা উপেক্ষিতই থেকে যাবে।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫০

প্রামানিক বলেছেন: কোলকাতার লোকজন কিছুটা সচেতন হয়েছে। সেদিন দেখলাম তারা বাংলা ভাষা রক্ষায় বিশাল মিছিল করেছে এবং পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী অন্য ভাষাভাষীদের বাংলায় কথা বলার জন্য তাগাদা দিচ্ছে।

২৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৫ সকাল ১১:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

১৩ ই আগস্ট, ২০২৫ সন্ধ্যা ৭:৫০

প্রামানিক বলেছেন: ধন্যবাদ আবার আসার জন্য

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.