| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যা দেখো তা তা না
সব দেখা জানা না
গানের লাইন দুটি হঠাৎ বড় অর্থবোধক মনে হচ্ছে। না, আপনি যা ভাবছেন তা নয়।গান নিয়ে কথা নয়।আমি বলছি আপনার ছোট বোনকে আদর করার কথা। আহা!পারিবারিক নীতিবোধ নিয়েও কথা নয়।ছোট বোনকে একটু আদর করলেন,গালটা টিপে দিলেন হালকা করে।বেশ নরম এবং গোল ঠেকছে।তাই না?যদি বলি গোল না।বাদ দেন ছোট বোনের কথা।এবার আসি ইতালির কথায়।ইতালিতে একটি আইনে বলা হয়েছে কোন গোল্ডফিশকে গোল জারে রাখা যাবে না।কেননা এতে সে বাহিরের জগতের একটি distorted view পায়।অর্থাৎ যে গোল্ডফিশটি গোল জারে আছে সে যা দেখছে এবং আপনি যা দেখছেন তা এক না।কিন্তু সে যা দেখে তাই তার reality.অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত কিনা প্রতারণার দায়ে আপনার আমার গায়ে fraud label লাগানো হবে(দুনিয়ায় মানুষেরই দাম নেই। আবার গোল্ডফিশ!)আপনি যখন লেখাটি পড়ে গোল্ডফিশটির জন্য আফসোস করছেন তখন আপনাকেই জিজ্ঞেস করছি"এইযে মিস্টার,আপনি কি নিশ্চিন্ত আপনিও এরকম কোন গোল জারের ভেতর নেই?" আপনি এখন যে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে আশপাশে গোল জার খুঁজছেন ঠিক সে রকম ভাবেই প্লেটো থেকে শুরু করে রেনে দেকার্তে পর্যন্ত দার্শনিকেরা গোল জারটির সন্ধান করছিলেন।তবে দেকার্তে মনে হয় এ বিষয়ে বেশিই ভয়ার্ত ছিলেন।তিনি তার একটি বইয়ে লিখেছিলেন 'আমাদের একজন ইশ্বর আছে।আমি কিভাবে জানবো যে তিনি কোন আকাশ,বাতাস,পৃথিবী সৃষ্টি না করেও এটা নিশ্চিত করেছেন যে আমি এসব দেখব অনুভব করব' এমনকি তিনি তার বুদ্ধিমত্তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।তিনি লিখেছেন 'ইশ্বর হয়তো এটাও নিশ্চিত করেছেন যে যখনই আমি দুই আর তিন যোগ করব অথবা বর্গের বাহু গুনব প্রতিবারই আমি ভুল করব ' কিন্ত পরক্ষনেই আবার নিজ বুদ্ধিমত্তাকে এই বলে মুক্তি দিয়েছেন "Dictum cogito ergo sum( I think,therefore I am)" অর্থাৎ আমি যেহেতু ইশ্বরের এ খেলা সম্পর্কে সন্দেহ পোষন করছি তার মানে আমার বুদ্ধিমত্তা এ খেলা থেকে মুক্ত।নিজের কোন ইন্দ্রিয় অনুভূতিকে সত্য না ভাবা এবং শুধু intellectual autonomyতে বিশ্বাস করাকে দর্শনের ভাষায় বলা হয় rationalism অথবা বুদ্ধিবাদ। দার্শনিকদের পাগল ভাবছেন তো? তবে চলুন আরো বড় পাগলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। তার নাম Hillary Putnam. তিনি একটা thought experiment এর কথা বলেছেন যার নাম তিনি দিয়েছেন 'Brain in a vat'. তিনি আমাদের কল্পনা করতে বলেছেন এমন এক evil scientist এর কথা যে কিনা আমাদের মগজগুলো আমাদের দেহ থেকে আলাদা করে একটি nutrient tub এ রেখেছে যা মস্তিষ্কগুলোকে জীবিত রাখবে।আর আমাদের নিউরনের প্রান্তগুলোকে এমন একটি কম্পিউটারের সাথে জুড়ে দিয়েছেন যা আমাদের মস্তিষ্কে electronic impulse দিচ্ছে। এই impulseগুলোই আমাদের মগজে এই মহাবিশ্বের ছবি ফুটিয়ে তুলছে।আর সেই evil scientist যখন যেরকম ইচ্ছে অনুভূতি আমাদের অনুভব করান।অনেকটা 'The Matrix' এর মতো শোনায় বিষয়টা। এখানে আরেকটা কথা বলে নেই যারা ম্যাট্রিক্স দেখেননি তারা আপনার watch list এর প্রথমে জুড়ে দিন।কেননা অদ্ভুত বিনোদন পাবেন।তো যা বলছিলাম।আপনার হয়তোবা দার্শনিকদের এসব কথা আবোল তাবোল মনে হচ্ছে।কিংবা ভাবছেন সেই যুগে গাঁজা সস্তা ছিল।কিন্তু দেখেন আমরা যদি কোন optical illusion এর কথাই ধরি। ধরুন আপনার পড়া পদার্থবিজ্ঞানের বইটির উদাহরণটাই।মরুভুমিতে আপনি গেলেন।পিপাসার্ত হয়ে পানির খোঁজে তাকাচ্ছেন আশপাশে। হঠাৎ আপনি দেখতে পেলেন দূরের ওই খেজুর গাছটার নিচের পানিতে খেজুর গাছের প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে।ব্যাস, আপনাকে আর ঠ্যাকায় কে।দৌড়ে গেলেন আর ধোকা খেলেন।আপনার চোখকি তাহলে আপনার সাথে বেইমানি করল না? আপনি বলতে পারেন শুধু চোখকেই ফাকি দেয়া সম্ভব আর হাত-পা-কান-জিহ্বা তো আছে।ওগুলো তো সত্য। আপনি কি কখনো সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত অথবা জ্বিনে ধরা রোগী দেখেছেন?তারা এমন গন্ধ এবং স্পর্শ পায়,এমন ব্যক্তিদের দেখতে পায় যাদের আপনি দেখতে পান না।আপনার কাছে ওটা মানসিক সমস্যা মনে হলেও ওই রোগীর কাছে ওইটিই বাস্তবতা।কে বলতে পারে আপনিও এরকম কোন বাস্তবতায় বসবাস করছেন না?কে বলতে পারে আপনিও গোল্ডফিশটির মতো একটি গোল জারে বসবাস করছেন না? অথবা যে গোল্ডফিশটাকে আপনি জারে রেখে ঘর সাজাচ্ছেন তারই কোন পূর্ব পুরুষ আপনাকে জারের বাহিরে রেখে তার পৃথিবী সাজিয়েছিলেন(সূক্ষ রসিকতা ছিল।never mind)।জানি আপনাদের কারো কারো কথাগুলো এখনও গাঁজাখুরি মনে হচ্ছে।আপনাদের জন্য প্লেটো তাঁর The Republic গ্রন্থে 'গুহা পুরাণ' লিখেছেন।গুহা পুরাণ বিষয়টা এরকম:ধরুন একটি গুহায় কিছু মানুষ জন্মলগ্ন থেকেই বসবাস করছে।গুহাটি একটা অন্ধ গলির মতো।আর মানুষগুলো এমন ভাবে বাঁধা যেন তারা শুধু অন্ধ প্রান্তের দেয়ালই দেখতে পায়।আর তাদের পেছনে অর্থাৎ গুহার খোলা প্রান্তরের দিকে একটি অগ্নিকুণ্ডলী ও হালকা উচু একটি দেয়াল।সেই দেয়ালের পেছনে এবং অগ্নিকুণ্ডলীর সামনে কিছু মানুষ পাথরের তৈরী জন্ত জানোয়ারের মূর্তি এমন ভাবে নাড়াচ্ছে যাতে করে মূর্তির ছায়াগুলো গুহার দেয়ালে পাপেট শোয়ের মতো দেখায়।ওই জন্মলগ্ন থেকে বাঁধা পড়ে থাকা লোকগুলোর কাছে ওই পাপেট শোটাই বাস্তবতা।এখন ধরুন তাদের ভেতর যে কোন একজন বাঁধন খুলে পাপেট শোয়ের আসল দৃশ দেখল এব এসে তার গোত্রের লোকজনকে বলল"আমরা যা দেখছি তা আসল নয়।সব ছায়া,সব মিথ্যা" তখন তার গোত্রের লোকরা কি বলবে জানেন তো?বলবে" তুমি মিথ্যা বলছ।দেখো ওইযে ওরা হাটছে"। আপনারা হলেন সেই বাঁধা পড়ে থাকা লোক সকল।না, আমি বলছি না আপনাকে দেকার্তের কথা মেনে নিতে হবে।আমি বলছি আপনাকে প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।শিশুরা সবচেয়ে বড় দার্শনিক।কারণ তারা প্রশ্ন করে।কিন্ত বড় হওয়ার সাথে সাথে তারা এই মূর্খ পৃথিবীর সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে আর তাদের দার্শনিক সত্ত্বা হারিয়ে যায়।তাই আমি আবারো বলছি প্রশ্ন করতে শিখতে হবে।তবে শেষে যাই বলেন না কেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো খুব দুর্বল।যেমন ধরুন আমাদের চোখ ৪০০-৭০০ ন্যানোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের আলো দেখতে পায় না,আমাদের কান ২০-২০০০০ হার্জের কম-বেশি শুনতে পায় না।সুতরাং এদেরকে মোটেই বিশ্বাস করা উচিত না।ছোটবোনটিকে আদর করেছিলেন কি?আবার ডেকে এনে চিন্তা করুন একি আদৌ আপনার ছোট বোন নাকি evil scientistএর চেলা?
২|
১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৪৯
রেহমান খলিদ বলেছেন: ধন্যবাদ কাওসার ভাই
৩|
১৯ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১:২৪
রাকু হাসান বলেছেন: স্বাগতম শুভ ব্লগিং । স্বাগতম শুভ ব্লগিং ।
[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/nadanblog/28797199#nogo|নতুন হিসাবে পড়তে পারেন ।
এই পোস্টও খুব কাজে লাগবে আপনার । ]
৪|
১৯ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩০
রেহমান খলিদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।আপনার সাজেস্টেড পোস্টটি কাউন্সেলিং এর কাজ করেছে ভালো।আমার লেখা কেনো হিট খায় না!ব্যপারটা হতাশাজনক বটে।তবে আমি জানি সব লিখতে লিখতেই লেখক।
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১:৫৬
কাওসার চৌধুরী বলেছেন:
শুভ ব্লগিং....................,