| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বৃষ্টির আভাষ পেয়ে রিকশায় চেপে বসলাম।জিজ্ঞেস করছেন গল্পটা উত্তম পুরুষে কেনো শুরু করেছি?গল্পটাতো মোড়ের চ্যাগা ফকির অথবা এই রিকশাওয়ালাকে নিয়েও লেখা যেতো।কিন্তু চ্যাগা ফকির কি আদৌ কোন জাঙিয়া পরে?একথাটাই যার সম্বন্ধে জানি না তাকে নিয়ে আবার গল্প কিভাবে লিখি বলেন! তো রিকশাটা চলছে তো চলছেই।জানেন তো বর্তমানে রিকশা দু ধরনের।পায়ে ঠ্যালা আর ব্যটারী চালিত।পায়ে ঠ্যালা রিক্সার কিন্ত আবার বাড়তি উপযোগ আছে আর তা হলো এর রিদম।একবার ডাইনে একবার বামে,একটা হালকা ছন্দে।এর আরেক সুবিধে হলো আপনি যখন রিকশার ছন্দে চোখ বুজে,চুল উড়িয়ে রিকশা-সুখ নিচ্ছেন তখন আপনার কাঁধের দুই ফেরেশতা কিরামান কাতেবিন কিন্ত ভারসাম রক্ষায় ব্যস্ত।অর্থাৎ আপনি কিনা রিকশার ছন্দে চুল উড়িয়ে ফুটপাতের ললনাদের দিকে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।এ পাপ সমূহ আপনার গুনাহর খাতায় উঠবে না।অন্তত আমি নিজেকে তা বলেই বুঝ দেই।ললনার কথা যেহেতু আসলই তবে প্রেমের কথাটাও না এসে পারে না।আমি কোন প্রেমিক পুরুষ নই মোটেই।তবে এই আমিই কলেজে 10-A form এ বসে "প্রেম কি মন না কাম সংক্রান্ত" এ রাশভারী বিষয়ে যথারীতি দেহের পক্ষপাতি হয়ে কথা বলছি তখন সেই আমিই কিনা মোবাইল রুমের জানলায় স্বপ্নালু দৃষ্টিতে বাহিরে চড়ুই পাখির যৌনকর্ম দেখতে দেখতে হিমি নামক মেয়েটির কথায় বিভোর হয়ে যাচ্ছি।অথবা একাদশ শ্রেনিতে আরুকে বলছি-
কোথায় পাইবাম কলসি কইন্যা,
কোথায় পাইবাম দড়ি।
তুমি হও গহীন গাঙ
আমি ডুইব্যা মরি।
ঠকাস!!আচমকা রিকশার ঝাকুনিতে কোমরটা বাঁকা হয়ে যায়।সোজা হয়ে বসতেই রিকশাওয়ালা বলে
:বুঝলেন কাহা।হাসিনা ওই হালা কাদেইরারে রাস্তা মনতিরি বানাইসে বইলাই তো রাস্তার আইজ এই অবস্থা।
আমি ঠিক বুঝলাম না হাসনাত ভিলার এই চিপা গলির এই গর্তের মধ্যে তিনি ওবায়দুল কাদেরকে কোথায় খুঁজে পেলেন।যেহেতু ওনার রিকশায় নিতম্ব পেতে বসে আছি তাই তেনার তল্লাটে আর তেনার সাথে ঘাড়- বাকামো করলাম না।বললাম-
:কাদেইরা আসলে দূর্নীতিবাজ।
:তয় হাসিনার কথা আর কি কইতাম।বেবাক সরকারডাই বলদা।নাইলে দেশের পরধানমনতিরি মহিলা হয় কেমতে?দেশটায় আসলে আর্মি নামান দরকার।
ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবাদে আমার পেটের ভিতর ঘূর্ণিপাকিয়ে চিন্তাটা মাথায় যায় আর ভাবি এলাকার চেয়ারম্যান অফিসে সারোয়ার স্টাফ-
:কলেজের চেমিষ্ট্রি আর ফাইজিক্স টিছার এর ব্যবহার শিক্ষকসুলভ না।
আর ভাবতে পারি না।তখনও রিকশাওয়ালা বলেই যাচ্ছে
:আমি সেনাপরধান হইলে দেশটা দহল কইরা বেবাক মনতিরি মিনিষ্টারের ল্যাংটা পাছা চাবকাইতাম।
আমি মতিয়া চৌধুরী এবং শাহজাহানকে একই সাথে চিন্তা করি।চিন্তা শেষ হওয়ার আগেই রিকশাওয়ালা মহাশয় বেশ তবিয়ত করে চাকাটা এক ষণ্ডামার্কা লোকের পায়ে তুলে দেয়।বুঝতে পারি তিনি দেশ চালাতে জানলেও রিকশাটা ভালো জানেন না।তবে খেসারত হিসেবে তিনি যার মুখোমুখি হলেন তাতে আমি ওই ষণ্ডার খাদ্য সূচী সম্পর্কে অতি আগ্রহ বোধ করি।তারপরও রিকশার চাকা গড়ায়।ড্রেনের ইদুরগুলো আজকাল রাস্তা পার হওয়া শিখেছে।তবে তা দেখে আমি বিমোহিত হই না।আমি বরং জীবনানন্দের কথা ভাবি।তাঁর বাসায় বোধহয় অনেক ইদুর ছিল।নাইলে কি আর সাধে লিখেছেন
"চমৎকার-
ধরা যাক দুয়েকটা ইদুর এবার"
ইদুর পেড়িয়ে আমি আমার গলিতে ঢুকি।রিকশাটা থেকে নেমে ভাড়াটা বের করে দেই।
:কাহা পাঁচ ট্যাহাতো ভাংতি নাই।
:লাগবে না রেখে দেন।
সিড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে বুঝি আমি বাপের খাই আর বনের মোষ তাড়াই অথবা সরকারের খাই আর মসজিদে আজান গাই।দরজায় নক করার আগে আবার চিন্তা করি মোষ তাড়ানো আর আজান কি এক?
পরিশিষ্ট :ভাবছেন গল্পের নাম 'মোষ ও আজান' কেন দিলাম?এই যে আপনি সেই নামটা পড়ে ঢুকলেন।আর কড়া নজরে আমার পুরোটা লেখা পড়লেন,অডিট করলেন কোনভাবেই আমি ইসলামকে অবমাননা করেছি কি না?এইটাই কি নামকরণকে সার্থক করেনি মহাশয়?
©somewhere in net ltd.