নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উচ্চশিক্ষা+উন্নতপ্রেম

জামিনদার

গলায় কাঁটা বিদ্ধ হয়েছে, খত খত করছি।

জামিনদার › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম এর প্রচলিত ব্যবহার, দূঃখ জনক

১৩ ই মে, ২০১০ রাত ৮:৫৩





বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম মুসলমানদের মৌলিক ধর্মীয় গ্রন্থ আল-কুরআনের একটি অংশ (আয়াত)। ১৯ শব্দের এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালার মৌলিক নাম ও এর সাথে দুটি সর্বোচ্চ মানের বিশেষণ ব্যবহার করা হয়েছে। কোন কোন মুফাসসীর বলেছেন এই আয়াতটি কুরআন শরীফের সামষ্টিক অর্থ বুঝায়। এর এক একটি অক্ষর নিয়ে বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি এরকমই মনে হয়। হাদীসে একজন মুসলামনকে তাঁর প্রত্যেক ভালো কাজ করার সময় বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে পত্যেক ভাল কাজ যা আল্লাহর নাম ব্যতিত শুরু করা হয় তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সকল পাপ কাজ করার সময় বিসমিল্লাহ বা আল্লাহর নাম নিয়ে আরম্ভ করার নিষেধ করা হয়েছে, একই সাথে এর মাধ্যমে একজন মুসলমান যাবতীয় পাপ কাজ থেকে বিরতই থেকে যায়। যখন কেই প্রতিজ্ঞা করে সকল কাজ আল্লাহর নাম নিয়ে করবে তখন পাপ কাজের প্রশ্নে সে নিরুপায় হয়েই পাপ কাজটি বর্জন করবে। কিন্তু প্রচলিত অর্থে সমাজের মুসলমানদের মধ্যে এর ব্যবহার নিয়ে আমাদের বড় দু:খ হয়। আপনি কখনো লক্ষ করেছেন কি? আল-কুরআনে মোট ১১৪টি অধ্যায় আছে, এর মধ্যে ১১৩টি অধ্যয়ের প্রথমে বিসমিল্লা আনা হয়েছে । কিন্তু একটি মাত্র অধ্যয় যেখানে বিসমিল্লা আনা হয়নি। আমরা জানতে চাই এর যৌক্তিক কারণ কি? আসলে কুরআনের যে সুরার প্রথমে বিসমিল্লা আনা হয়নি তার নাম সূরা তাওবা। সুরা তাওবার বিসয়বস্তু হল অবিশ্বাসীদের জন্য দূ:সংবাদ। আর দু:সংবাদের প্রথমে রহমতের বর্ণনা একেবারে মানায়না। কাউকে সালাম দেওয়ার পর সাথে সাথে ভাল ব্যবহারই করতে হয়। সুতরাং এখান থেকে আমরা বিসমিল্লা ব্যবহারের একটি আত্মীক নির্দেশনা পাই। যাতে স্পষ্টই বুঝা যায়। এমন কোন কাজের প্রথমে বিসমিল্লা ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু জ্ঞানহীন এই নামধারী মুসলমানদের বিসমিল্লা ব্যবহারের কিছু নমুনা আমাদের কষ্ট দেয়।

(১) দোকানের নাম দিয়েছেন, বিসমিল্লা ভিশন,নীচে লেখা হয়েছে এখানে সিটি, ভিসিডি, অডিও, ভিডিওসহ ডিস এন্টিনার যাবতীয় যন্ত্রাংশ পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করা হয়। ইসলাম সম্পের্ক যাদের ন্যুনতম ধারনা আছে তারা ভাল করেই জানেন এই প্রযুক্তির বৈধ ব্যবহার কতজন মুসলমনাই করে থাকেন।

(২) বিসমিল্লা হোটেল (আবাসিক)

(৩) বিসমল্লাহ মাল্টি পারপাস-কো অপারেটিভ সোসাইটি লি: (সুদ ভিত্তিক)

(৪)বিসমিল্লা পোল্টি ফার্ম

(৫) বিসমিল্লা গোস্ত দোকান।

(৬) ধর্মভীরু মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সুদ ভিত্তিক ইনসুরেন্স কোম্পানীর রেজিষ্ট্রশন ফরম, দাওয়াত কার্ড, ভিজিটিং কার্ডসহ আরো বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রমে কোথায়ও কোথায়ও মুল বিসমিল্লা আরবীতে ব্যবহার করতে ওদ্বিধাবোধ করেনা।

(৭) ওয়াজ মাহফিলের পোষ্টার, ওরশের পোষ্টার, নির্বাচনী পোষ্টার, শুভেচ্ছা পোষ্টার, লিফলেট, বিজ্ঞাপন, মানি রিসিপট তাবিজের বই, মাজারের ব্যনার

(৮) জুতার প‌্যাকেট, মিষ্টির প‌্যাকেট, সপিং ব্যাগসহ অন্যান্য।

আমরা একটা বিষয় স্পষ্ট করে বুঝাতে চাই। উপরে উল্লেখিত কিছু কিছু কাজ ভাল হলেও যেহেতু এ যাবতীয় বিষয়গুলি কেউ সযত্নে সংরক্ষণ করেনা তাই এখানে বিসিমল্লা ব্যবহার করা বৈধ নয়। (ফতুয়া দিলাম নাকি? আল্লাহ মাফ কর) কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি বিসিমিল্লা সম্বলিত পোষ্টার ছিড়ে মাটিতে পড়ার পর সাধারণ জনগণ চলার সময় পায়ের নীচে পড়ছে। দুঃখের সাথে বলতে চাই এধরণের অবহেলার কারণে বাধরুমে বা রাস্তার পাশে ময়লার ভিতরেও বিসমিল্লাহ পাওয়া যায়। ইয়াহুদী, নাসারা কুরআনকে অবমাননা করলে আমাদের ইমানী জোড় আর থামানো যায় না। কিন্তু আমরা নিজেরাই যে বিসমিল্লা নিয়ে খেলায় মেতে উঠেছি? এর কারণ কি জানতে পারি।

(৯)বিসমিল্লার রাজনৈতিক ব্যবহার: কেউ কেউ বিমিল্লাকে নিজেদের রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবেই ব্যবহার করেছেন। বাহ! বড়ই মজার ব্যপার । ধর্মভীরু মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য এটি একটি বড় হাতিয়ার। বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলাম বিরুধী দলের সমালচনার ঝড়। (কুল্লু হালাল) গালাগালি, ঢিল মারামারি এ জেন মহান কাজ সম্পাদিত হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটি রাজনৈতিক দল বিসমিল্লাকে স্লোগান হিসাবে নেওয়ার পর অন্যদল কিন্তু তা নেয়নি এবং একই সাথে বিরুদ্ধবাদীদের কাছে এটি একটি ঘৃনার বস্তুতে পরিণত হয়েছে। যেহেতু এটি জাতীয়তাবাদী দলের স্লোগান তাই আওয়ামী সমর্থিত প্রার্থীর পোষ্টারে এটি চরমভাবে নিষিদ্ধ। তখন কিন্তু বিসমিল্লাকে কুরআনের আয়াত হিসাবে মুল্যায়ন করা হয় না।

স্নায়ুযুদ্ধে এটি একটি কৌশল। কোন একটি ভাল বিষয় বা বস্তুকে ঘৃনার বস্তুতে রুপান্তর করতে হলে, মিথ্যার ভিতরে ভিতরে একে প্রবেশ করিয়ে দিতে হয় যেমন কোন অবৈধ বিষয়কে বৈধতা দেওয়ার জন্য কিছু কুচক্রি লেখক করে থাকেন। সৈয়দ ওয়ালী উল্যা'র রচিত লাল সালুতে আমরা দেখেছি নায়েক মজিদকে । মাজার পুজা, ইসলামের নামে ধোকাবাজী, এককথায় সমাজের একজন খারাপ ব্যাক্তি হিসাবেই প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে তার চরিত্রে আমরা দেখেছি সে মসজিদে যেত, নামাজ পড়তো, কুরআন তিলাওয়াত করত: বস্তুত হাজার অন্যায় চরিত্রের মাঝে এ দু-একটি ভালকাজকেও অন্যায় হিসাবে সাধারণ পাঠক দেখেছেন। (এ বিষয়ে পরে একটি পোষ্ট দেব)

(১০) বিসমিল্লার ক্যালিগ্রাফী করে বিভিন্ন জানোয়ারের ছবি।

নেটে বিসিমিল্লা লেখে চার্জ দিলেই আপনি কিছু কিছু ছবি দেখবেন মনেহয় এটি একটি বক, মূলত বিসমিল্লা দিয়ে এটি বানানো হয়েছে। শুধুকি তাই কুরআনের বিভিন্ন আয়াত দিয়ে কুকুর বানানো হয়। অবশ্য এটি ইয়াহুদীদের দ্বারাই সম্ভব।

সুতরাং আমাদের আবেদন, প্রচলিত মুসলমানদের একটু সচেতন করে তুলী এবং আমরা বিসমিল্লাকে সংরক্ষণ করতে চাই আমাদের হৃদয়ে

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.