নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তুই কেমন করে যাবি? পথ হারালেই পথের ছায়ায় আমাকেই তুই পাবি, তবুও তুই বলিশ যদি যাই, দেখবি তোর সমুখে কেউ নাই....।

প্রখ্যাপন ব্লগার

প্রখ্যাপন ব্লগার › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন প্রবাসীর গল্প

১৭ ই অক্টোবর, ২০১৫ সকাল ১০:১৪

মিস ''তিথি'' আমার অফিসের পাশেই থাকে। সে চাইনিজ সুন্দরী মেয়ে ।আজ মন ভাল ছিল না ,তীব্র কষ্ট নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম অফিসের কক্ষেই। অল্প সময় ঘুমিয়ে মধ্য রাতে ঘুম ভেঙ্গে চোখ খোলতেই ''তিথির সাথে ফোনে কথা ।ওর সাথে হটাত ফোন কানেক্ট হতেই ও খুব কোমল আকর্ষণীয় সূরে সুন্দর করে বলতে লাগলো -
''তুমি কি আসতে চাও এখন , তুমি যা চাও তা পাবে , বিশ্বাস করো সব কষ্ট মুছে যাবে ,অবিশ্বাস্য বিউটিফুল এবং বয়স মাত্র ১৯ বছর ,ঠোঁটে কিস ,এক সাথে শাওয়ার'' যা ভাল লাগে আদর পাবে , প্লিজ আসো এখনি ''
জানিনা কি যে হয়ে গেল , মাথা চক্কর আসতে লাগলো, জলদি করে ব্রাশ করে একটা জুস খেলাম । অফিস হতে বাসায় যেতে হবে । মধ্য রাত । জলদি করে ফ্রেশ হয়ে শার্ট ইন করলাম, শো গুলো পড়লাম। ব্লেজার টা গায়ে দিয়ে ল্যাপটপটা হাতে নিয়ে '' ওর কথা গুলো ভাবতে লাগলাম। ওর গোলাপি ঠোঁট , কোমলতা , আদর এই সব ভাবতে লাগলাম।
ভাবতে , ভাবতে ছোট ছোট কদমে ওর বাসার দিকে যেতে লাগলাম । ১০ মিনিটে ওর বাসার সামনে চলে গেলাম। গিয়ে ফোন দিলাম । আমাকে সে বলতে লাগলো - ফ্ল্যাট '' K'' তে আসো , আমি তোমার অপেক্ষা করছি ।
এবার , শুরু হল কেমন যেন নীরব যুদ্ধ ! ভাবতে লাগলাম ' আল্লাহ্‌ ' যদি নারাজ হয় , তাহলে আমার সমস্যা গুলো কাটবেনা , আমার ' দাওয়াতের ' কাজ কি হবে , ভাবতে লাগলাম - ফেইসবুকে কি কি ভাল পোষ্ট করলাম , ভাবতে লাগলাম উলামা কেরামের স্বপ্ন গুলোর কি হবে ? ভাবতে লাগলাম - মুফতি মুস্তাকুন্নবি ( দা বা ) আজ বিকালে ফোনে বলছিল - আজ রাতে অবশ্যই ফোন দিও , হুজুরের কাছে কিভাবে মুখ দেখাবো !
ভাবতে লাগলাম - আমার আম্মুর কথা , আব্বুর কথা , আমার ছোট বোন গুলোর কথা কিন্তু ওপর দিকে এই মেয়ের নেশা মনে আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে , দাঁড়িয়ে রইলাম অন্ধকারে রাস্তার পাশে ।না পারছি না , কেউ জানবে না , দেখবেনা ,এটা কোন ব্যাপারনা । আজ আমার মনে কষ্ট ওর আদর পেলে হয়ত সেই কষ্টটাও ভুলে যাবো।
আগে বলি একটু '' কষ্টটা আসলে কিসের ? '' জি '' আমি আসলে ' সিরাজুম মুনিরা ' একটি মেয়েকে খুব খুব পছন্দ করি , ওকে পবিত্র স্ত্রী হিসেবে পাবার স্বপ্ন দেখি , বিয়ের প্রস্তাব দিব দিব করে দেওয়া হচ্ছেনা , অসম্ভব গুনি মেয়ে , অনেক ইসলামিক গুন এই যুগে যে অল্প কিছু মেয়ের কাছে আছে ;তাদের মধ্যে ' সিরাজুম মুনিরা ' একজন । কিন্তু কোন কারনে তার ব্যাপারেও চরম হতাশা মনে জন্ম নিয়েছে আজ ।
না , আজ সব ভুলে যেতে চাই , চলে গেলাম দরজার সামনে । অন্য দিকে ও বার বার ফোন করে এত দেরি হচ্ছে কেন জিজ্ঞেস করছে । আমিও বার বার বলছি - আসছি , একটু ওয়েট কর ' !
আবার , আকাশের দিকে তাকিয়ে বলছি = ' আল্লাহ্‌ কি করবো ?আমি তো বুঝতেছি না । এবার , আমি ওর বাসার দরজা হতে ফিরে আসলাম একটু দূরে ।
মাথাটা ঘুরছিল, এবার, যাকে পছন্দ করি তার কথা ভাবতে লাগলাম । ভাবতে লাগলাম - সে জানলে কষ্ট পাবে , তার সাথে কি প্রতারনা হচ্ছে না , আমি তার ভালবাসা , মায়া , শ্রদ্ধা , ভরসার কি দাম দিলাম ? আজ সময় এসেছে - আল্লাহ্‌কে সাক্ষী রেখে প্রমান দেবার ।
এই সব ভাবতেই '' তিথির ' ছোট টাইস পড়া স্কাপের কাল্পনিক সৌন্দর্য আকর্ষণ বার বার মনে আরও বেশি আসতে লাগলো !! ভাবতে ভাবতে আবার আমি চলে গেলাম দরজায় । কিন্তু , হটাত শুরু হল - বৃষ্টি । কিন্তু ল্যাপটপ এবং কোর্ট পড়ে বৃষ্টিতে ভিজছি সেই খেয়ালও মনে নেই;শুধু কি করবো এটাই যেন বুঝতে পারছিলামনা।
আবার , ফোন আসলো । এবার ' তিথি ' একটু রেগে বলতে লাগলো - তুমি আসবে কিনা ২ মিনিটে বল , কেন বুঝ না আমি রেডি হয়ে আছি ' । ওর ধমক শোনে বলতে লাগলাম - জি এখনি আসছি ।
ততক্ষণে আমার হৃদয় রক্তাক্ত , ক্ষত - বিক্ষত , বৃষ্টিতে ভিজে শেষ । ভাবতে লাগলাম - - গতকাল ফেইসবুকে লিখেছি যে - গোনাহ হতে ফিরে আসলে আল্লাহ্‌র রহমতের দরজা খোলে যায় , ছকিনা নাজিল হয় , প্রশান্তির নদী বয়ে যায় ''
ভাবতেই পকেট হতে ফোন বের করে ' তিথি ' কে ফোন দিয়ে বললাম - ''আমি সরি আসবোনা ' এটাই বলে জলদি কেটে দিলাম ।
অবশেষে, চোখের জল নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় এসেই ঝর্ণা ছেড়ে গোসলে দাঁড়িয়ে গেলাম , অজু করলাম , নামাজে পড়লাম , দোয়া করলাম ।
( খোদার কসম ) প্রিয় বন্ধু , কোন ভাবেই ভাববেননা - আমি নিজের গুন প্রকাশ করতে এই কাহিনি লিখেছি । লিখেছি শুধু -
এটা বলতে - জীবন কি এটার নাম ? আজকে বেঁচে গেলাম , আগামি কাল কি হবে ? পরশু কি হবে ? কতঁক্ষণ আমি এই আকর্ষণ হতে বেঁচে থাকতে পারবো , আগুনের কয়লা হাতে রাখলে হয়ত হাত পুরে যাবে কিন্তু এই রকম নারীর আগুন হতে বাঁচা কলিজা চিরে যায় ।
গোনাহের কত বড় সাগরে ডুবে যাচ্ছি ভাবতে পারেন ভাই ? একজন আলেম বা পাঠক আমার নগণ্য লেখা দেখে ভাবে কত ভাল ছেলে কিন্তু বাস্তবে কত কঠিন যুদ্ধে আছি তারা সেটা বুঝে না । দ্বীনের অনেক তাকাজা নিয়ে অনেকে আহ্বান করে কিন্তু তারা কি ভাবে কোন আগুনে আমি পুড়ছি । দ্বীনের কাজ কি কোন পাপী করতে পারে ? আল্লাহ্‌ তোঁ নেককারের মোহতাজ নয় ; আর একজন পাপী কি করে দ্বীনের তাকাজা পুরা করবে ভাই ?
আসলে কি লিখছি নিজেও জানিনা , অভিমান কার সাথে তাও জানিনা , নিজের কমতির শেষ নাই, তবে আজ আমরা খুব দোয়া করা দরকার একে অপরের জন্য । কারণ ঈমানের হালতে টিকে থাকা আমরা সবার জন্য এক কঠিন চেলেঞ্জ , এক যুদ্ধ । তাই সবাই আল্লাহ্‌কে পাওয়ার জন্য একে অপরের জন্য চোখের জল ফেলে দোয়া করা দরকার , সহযোগিতা করা দরকার !!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.