নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যু

মরুভূমির জলদস্যুর বাগানে নিমন্ত্রণ আপনাকে।

মরুভূমির জলদস্যু › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফুলের নাম : ধুতুরা

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:৫২

ফুলের নাম : ধুতুরা



সংস্কৃত নাম : ধুতুরা, ধত্তূর, কিতব, ধূর্ত্ত, দেবতা, মদন, শঠ, উন্মত্ত, মাতুল, তূরী, তরল, কনকাহবয়
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : ধুতরা, ধতুরা, ধোবা, মাদকুণিকে, উন্মেত্তচেটু, ধংতুরী।

আরবী নাম : জোজমাসীল, জোজনসী, তাতুরা।

Common Name : Horn of Plenty, Devil's Trumpet, Datura double purple, Jimson Weed, Evil's snare, Thorn apple, metel.

Scientific Name : Datura metel


বাঘ-ছাল প'রে আয় হৃদয়-বনের শিকারি
ঘাগরা প'রে প'রে পলার মালা আয় বেদের নারী
মহুয়ার মধু পিয়ে ধুতুরা ফুলের পিয়ালায়।।
----- কাজী নজরুল ইসলাম -----




ধুতুরা নাম শেনেননি এমন লোক বাংলায় খুঁজে পাওয়া ভার। ধুতরা গাছ সাধারণভাবেই বিষাক্ত গাছ হিসাবে পরিচিত। ধুতুরা গাছের সমস্ত অংশই বিষাক্ত। ধুতুরা গাছে আছে বিপজ্জনক মাত্রায় Tropane Alkaloids নামক বিষ। এই গাছের বিষক্রিয়ায় মানুষ বা পশুপাখির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে অনেক দেশেই ধুতুরার উৎপাদন, বিপনন ও বহন আইনত নিষিদ্ধ।


পারি নাই বাছা মোর, হে প্রিয় আমার,
দুই বিন্দু দুগ্ধ দিতে!-মোর অধিকার
আনন্দের নাহি নাহি! দারিদ্র্য অসহ
পুত্র হ’য়ে জায়া হয়ে কাঁদে অহরহ
আমার দুয়ার ধরি! কে বাজাবে বাঁশি?
কোথা পাব আনন্দিত সুন্দরের হাসি?
কোথা পাব পুষ্পাসব?-ধুতুরা-গেলাস
ভরিয়া করেছি পান নয়ন-নির্যাস!
----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



ধুতুরা বিষাক্ত হলেও এর ফুলের সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোহর, আর গুণও প্রচুর। তবুও ধুতুরা কথা উঠলেই সব ছাড়িয়ে তার বিষাক্ততার কথাই আসে সবার আগে। দেমাগ দেখানোর মতো রূপ নিয়েও তাই অভিমানী ধুতুরার অব্যক্ত কথা উঠে এসেছে গুনমুগ্ধ কবির কবিতায় -

ধুতুরা ফুলের শুভ্রতায় আকৃষ্ট হয়ে গেলাম ছুটে।
ধুতুরা বলল- ‘ আমার বুকে অনেক বিষ,
ঢের ভালো রঙিন ভাঁটফুলের কাছে যাও
নাক ডুবিয়ে ঘ্রাণ নাও সুখ পাবে বেশ’!
----- গোলাম রহমান -----





গ্রামের বা শহরের কোনো ফুলবাগানেই স্থান নেই ধুতুরার। জমির আইলে, পুকুর পাড়ে, বনে-বাদাড়ে, পথের ধারে অযত্নে অবহেলায় এই গাছ জন্ম ও বেড়ে উঠা।

বর্ষাকালে ধুতরা গাছে ফুল ফুটতে শুরু হয়। গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে। সাধারণত হেমন্তকালজুড়ে গাছে ফুল দেখা যায়।

ধুতুরা ফুলের কলি দেখতে লম্বাকৃতির, আর ফুল ফানেলাকৃতির। নানান আকার আর ধরনের ধুতরা ফুল আছে। তবে বাংলাদেশে সাধারনত সাদা আর বেগুনি রং এর ফুল বেশী দেখা যায়। ঊর্ধ্বমুখী এই ধুতুরা ফুলে মৃদু গন্ধ আছে।



সে কোন বাটিতে কও দিয়াছিলা এমন চুমুক
নীল হয়া গ্যাছে ঠোঁট, হাত পাও শরীল অবশ,
অথচ চাও না তুমি এই ব্যাধি কখনো সারুক।
আমার জানতে সাধ, ছিল কোন পাতার সে রস?
সে পাতা পানের পাতা মানুষের হিয়ার আকার?
নাকি সে আমের পাতা বড় কচি ঠোঁটের মতন?
অথবা বটের পাতা অবিকল মুখের গড়ন?
তুঁতের পাতা কি তয়, বিষনিম, নাকি ধুতুরার?
----- সৈয়দ শামসুল হক -----





পড়ন্ত বিকাল থেকে সন্ধ্যায় গাছে ফুল ফোটে। দিনে রোদের অত্যাচারে ফুল সংকুচিত হয়ে যায়, বিকেলে আবার পাপড়ি মেলে। এভাবে ২ থেকে ৩ দিন তাজা থেকে ফুল ঝরে যায়।

ধুতরা স্ব-পরাগায়িত ফুল, ফুলের ভেতর পুংদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড অবস্থিত। ফুল শেষে গাছে ছোট ছোট কাঁটাযুক্ত সবুজ রং এর গোলাকবার ফল হয়। ফলের ভেতরের বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়। প্রতিটি গাছ ৪ থেকে ৫ বছর বাঁচতে পারে।



মন্দ–স্রোতা মন্দাকিনী সুরধুনী–তরঙ্গে
সঙ্গীত জাগাও হে তব নৃত্য–বিভঙ্গে।
ধুতরা ফুল খুলিয়া ফেলি’
জটাতে পর চম্পা বেলী
শ্মশানে নব জীবন, শিব, জাগিয়ে তোলো।।
----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



শিবপূজায় কেতকী, চাঁপা, বেশির ভাগ রঙিন ফুল অর্পণ করা নিষিদ্ধ। শ্বেত কল্কে, আকন্দ, ধুতরা শিবের খুব প্রিয়। প্রচলিত আছে যে, এক বছর নিষ্ঠাভরে একাদশীর ব্রত পালন করলে যে ফল হয়, ভক্তিভরে মাত্র একটি ধুতরা ফুল শিবলিঙ্গে অর্পণ করলে তার সমতুল্য ফল প্রাপ্তি ঘটে।

বলাহয় সব ব্রতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হল মহাশিবরাত্রি। ব্রতের আগের দিন ভক্তগণ নিরামিষ আহার করে। রাতে বিছানায় না শুয়ে মাটিতে শোয়া হয়। ব্রতের দিন তারা উপবাসী থাকে। তারপর রাত্রিবেলা চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে দুধ, দই, ঘৃত, মধু ও গঙ্গাজল দিয়ে স্নান করানো হয়। তারপর বেলপাতা, নীলকন্ঠ ফুল, ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা প্রভৃতি ফুল দিয়ে পূজা করা হয়। আর ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ এই মহামন্ত্র জপ করা হয় ।




শুধু শিব ঠাকুরই নয় মানুশের শরীরও তুষ্ট হবে ধুতুরা ফুলে। গাছটি বিষাক্ত হলেও এই উদ্ভিদ ভেষজ গুণে ভরপুর। ভেষজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার আছে।

ধুতুরা মন্দকারক, কটুরস , মূর্ছাকারক , ভ্রমকারক, নিদ্রাকারক , বায়ুবর্ধক , ক্লান্তিবর্ধক বর্ণকর, অগ্নিবৰ্দ্ধক, ছদ্দিকারক, উষ্ণবীৰ্য্য, গুরু, তিক্তাকষায়মধুরীরস, বিষনাশক, উকুন নাশক, বেদনানাশক, মূত্ৰবৰ্দ্ধক। এবং জ্বর , কাশ , শ্বাসকষ্ট , চুলকানি , পাঁচড়া , ব্রণ, কুষ্ঠ, কফ, কৃমি,নাশক ।

শ্বাসকষ্ট কমানোর জন্য এ গাছের পাতা, ফুল, ফল উপকারী।
কৃষ্ণ ধুতুরার শুকনো পাতা এবং ফুল বাসক পাতায় জড়িয়ে সিগারেট তৈরি করে ধূমপান করলে হাঁপানির কষ্ট কমবে।
ধুতুরা গাছের পাতা, মূল, ফুল ও ফল সিদ্ধ করে সেই তাপ নিয়ে বুকে সেঁক নিনলে শ্বাসকষ্ট কমে যাবে।
বাতের ব্যথা কমাতে এর পাতার রস সরিষার তেলের সাথে ব্যবহার করলে ব্যথা কমবে।
ধুতুরা পাতা ও কাঁচা হলুদ একসঙ্গে বেঁটে স্তনের উপর প্রলেপ দিলে মহিলাদের স্তনের ব্যথা কমে যাবে। পরে স্তন ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
ধুতরা পাতার রসের সাথে সামান্য একটু গাওয়া ঘি মিশিয়ে ফোঁড়ার স্থানে প্রলেপ দিলে ফোঁড়া পেকে যায়।
ধুতরা পাতার রস দুই থেকে তিন ফোটা প্রতিদিন দুধের সাথে খেলে ক্রিমি কমে যায়।
ধুতুরার বীজ থেকে চেতনানাশক পদার্থ তৈরি করা হয় ।



এ মাটির ছলনার সুরাপাত্র অনিবার চুমি
আজ মোর বুকে বাজে শুধু খেদ,- শুধু অবসাদ!
মহুয়ার,- ধুতুরার স্বাদ
জীবনের পেয়ালায় ফোঁটা ফোঁটা ধরি
দুরন্ত শোণিতে মোর বারবার নিয়েছি যে ভরি!
----- জীবনানন্দ দাশ -----



সতর্কতা : এই গাছটি খুবই বিষাক্ত। বিশেষ করে এর কাঁচা ফল অত্যন্ত বিষাক্ত। এই গাছের যেকোন অংশ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা না থাকলে বিপদ হয়ে যেতে পারে। খুব অভিজ্ঞ না হলে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ধুতুরার বহুবিধ ব্যবহার থাকলেও এটি বিষাক্ত হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খুব সাবধানে এটি ব্যবহার করা উচিত৷ অভিজ্ঞ কবিরাজের পরামর্শ ছাড়া এই গাছের কোনো অংশই খাওয়া নিষিদ্ধ।


আজি নাচে নটরাজ এ কী ছন্দে ছন্দে।
কী জানি কী সুখাভাসে
মৃদু মৃদু মধু হাসে
কে জানে মাতিল কোন আনন্দে।।
ধুতুরা খুলিয়া ফেলি’
পড়েছে চম্পা বেলি
অপরূপ রূপ হেরি সবে বন্দে।।
----- কাজী নজরুল ইসলাম -----



বিভিন্ন সময় এই ছবিগুলি তুলেছি : কার্জন হল, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইছাপুরায়।

তথ্য সূত্র-
উইকি - ১
উইকি - ২
উইকি - ৩
আনন্দবাজার


=================================================================
আজি যত কুসুম কলি ফুটিলো কাননে

ফুলেদের কথা
অশোক, অলকানন্দা, অলকানন্দা (বেগুনি), আকন্দ, আমরুল (গোলাপি)
কদম, কলাবতী, কসমস
গামারি, গোলাপ, গোলাপি আমরুল
জবা, সাদা জবা, ঝুমকো জবা, লঙ্কা জবা, পঞ্চমুখী জবা, বহুদল জবা, রক্ত জবা, হলুদ জবা, গোলাপি জবা
তমাল
দাঁতরাঙ্গা, দাদমর্দন, দেবকাঞ্চন
নাগেশ্বর, নাগলিঙ্গম, নীল হুড়হুড়ে
ফাল্গুনমঞ্জরী
বরুণ, বড়নখা, বিড়াল নখা, বাদুড় ফুল, বাগানবিলাস, বেগুনী অলকানন্দা, বোতল ব্রাশ, ভাট ফুল
মাধবীলতা, মধুমঞ্জরি
রঙ্গন, রুদ্রপলাশ, রাজ অশোক
লতা পারুল
শাপলা, শিমুল, শিউলি, শিবজটা

গাছেদের কথা
বাংলাদেশের সংরক্ষিত উদ্ভিদের সচিত্র তালিকা
অশোক সমগ্র; কৃষ্ণচূড়া; মাছি ফাঁদ উদ্ভিদ; জল জমানি পাতা
কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া ও কনকচূড়া বিতর্ক
চাঁপা নিয়ে চাপাবাজি
বিলম্ব

আরো কিছু
বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুল সমগ্র
বিভিন্ন প্রজাতীর গোলাপ ফুল সমগ্র
এডওয়ার্ডস বোটানিক্যাল রেজিস্টার সমগ্র
১০টি ফুলের ছবি সমগ্র

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +৯/-০

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৫

প্রশান্ত মন্ডল হেমন্ত বলেছেন: বাহ

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০৫

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: হুম

২| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:৪৭

এম ডি মুসা বলেছেন: কাজী নজরুল লেখা, আর ব্লগে প্রকাশিত সুন্দর হয়েছে ভাই

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ মতামতের জন্য।

৩| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০১

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ফুলের দেশ ও ফলের দেশ আমাদের দেশ

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:০৭

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: এখন যদিও কমে গেছে তবুও......

৪| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:১৮

জুন বলেছেন: আপনার ছবি ব্লগ সুন্দর হয়েছে সাথে তথ্যগুলো জানা হলো ।
বাংলাদেশেরই এক গ্রামে স্বল্পকালীন থাকার সময় পাশের ক্ষেতে এক বুড়ো মা ক্ষেত থেকে পাচ মিশালী শাক তুলেছিল খাবার জন্য। ক্ষীন দৃষ্টির ফলে তার মাঝে ছোট ছোট ধুতুরা গাছও ছিল সে দেখেনি । সেই শাক খেয়ে পরিবারের নয়জন অসুস্থ হয়ে হসপিটালে । তার মাঝে দুজন মারা যায়।
ছোটবেলায় ধুতুরা ফুল আর ফল নিয়ে খেলতাম আম্মা বকা দিতো ।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৫৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ আপনিকে মন্তব্যের জন্য।
আমাদের এলাকায় (উত্তর বাড্ডা, ঢাকা) ছোট বেলায় ধুতুরা খুব একটা দেখেছি বলে মনে পরে না।
বিষাক্ত আরেকটি শাক আছে ঘাগরা। এই শাক খেয়ে প্রায়ই অসুস্থতার খবর আগে পাওয়া যেতো। এখন তেমন একটা চোখে পড়েনা এমন খবর।

৫| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:০৭

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: এটা কি সেই ফল যেটা খেলে মানুষ উল্টা পাল্টা দেখে।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১১:২৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: জ্বী এটাই সেই ফল, পরিমান বেশী হলেই পটল তুলতে হয়।

৬| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: চমৎকার একটা পোষ্ট দিয়েছেন।
এই ফুলটা নিয়ে আমার আগ্রহ ছিলো।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ২:২০

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: আশাকরি এই লেখায় আপনার আগ্রহ মেটানোর মতো বেশ কিছু তথ্য পাবেন। এই পোস্টে আমার তোলা ৪ রকম ধুতুরা ফুলের ছবি আছে। এগুলি ছাড়াও আরো ২ রকম ধুতুরার ছবি আমি তুলেছি। সেগুলি পরে আবার কখনো শেয়ার করা যাবে।

৭| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:২৮

এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো বলেছেন: এই সেই কুখ্যাত ধুতুরা! এর বিষক্রিয়ায় নাকি মানুষের স্থায়ীভাবে মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটতে পারে?

আপনার উপস্থাপন চমৎকার এবং পরিপূর্ণ।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৪

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: শুধু মস্তিষ্ক বিকৃতি নয় মৃত্যুও ঘটে।
গ্রামে আত্মহত্যায় এর ব্যবহার ছিলো।

জহির রায়হান এর "হাজার বছর ধরে"তে আছে -

তারপর, একদিন জল ভরা চোখে স্বামীর পাশে এসে দাঁড়ালেন ছমিরন বিবি। আস্তে করে বললেন, তুমি আর একডা নিকা কর। বলতে গিয়ে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তাঁর। দুগণ্ড বেয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছিলো। তবু স্বামীকে নিজ হাতে সাজিয়ে দিলেন ছমিরন বিবি।হাতে মেহেদি দিলেন। মাথায় পাগড়ি পরালেন। ঘরটা লেপে মুছে নিয়ে নিজ হাতে বিছানা পাতলেন স্বামী আর তাঁর নতুন বিয়ে করা বউ-এর জন্য। আদর করে হাত ধরে এনে শোয়ালেন তাদের। নতুন বউ-এর দিকে তাকাতে সাহস পেলেন না ছমিরন বিবি। ছুটে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন। ছুরির তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে যেন তখন কলজেটা কুটিকুটি করে কাটছিলো তাঁর। নিজেকে আর বেঁধে রাখতে পারলেন না তিনি। পুকুর পাড়ে ধুতুরা ফুলের সমারোহ। গুনে গুনে চারটে ফুল হাতে নিলেন। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো মুখে পুরে দিয়ে নীরবে ঘুমিয়ে পড়লেন। দীঘির পাড়ে উঁচু ঢিপির মতো তাঁর কবরটা আজও চোখে পড়ে সবার আগে।

৮| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: ধুতরা ফুল সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহ মিটেছে।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৭

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: জানতে পেরে ভালো লাগলো।

৯| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:০২

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: খুব সুন্দর পোস্ট

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৭

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ধন্যবাদ মতামতের জন্য।

১০| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৫:০৫

সামিয়া বলেছেন: অসাধারণ পোস্ট , প্রিয়তে নিলাম।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৮

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: পোস্টটি প্রিয়তে নেয়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই।

১১| ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:২২

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: প্রথম শ্রেণীতে পড়ার সময়ই ধুতরা গাছ ও এর বিষের কথা শুনেছি ও দেখেছি। এটা খেলে নাকি মানুষ পাগল হয়ে যায় শুনেছি।

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:২৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: শুধুা পাগল হওয়া নয়, মৃত্যুও ঘটে।
গ্রামে আত্মহত্যায় এর ব্যবহার ছিলো।

জহির রায়হান এর "হাজার বছর ধরে"তে আছে -

তারপর, একদিন জল ভরা চোখে স্বামীর পাশে এসে দাঁড়ালেন ছমিরন বিবি। আস্তে করে বললেন, তুমি আর একডা নিকা কর। বলতে গিয়ে বুকটা ফেটে যাচ্ছিল তাঁর। দুগণ্ড বেয়ে অবিরাম পানি গড়িয়ে পড়ছিলো। তবু স্বামীকে নিজ হাতে সাজিয়ে দিলেন ছমিরন বিবি।হাতে মেহেদি দিলেন। মাথায় পাগড়ি পরালেন। ঘরটা লেপে মুছে নিয়ে নিজ হাতে বিছানা পাতলেন স্বামী আর তাঁর নতুন বিয়ে করা বউ-এর জন্য। আদর করে হাত ধরে এনে শোয়ালেন তাদের। নতুন বউ-এর দিকে তাকাতে সাহস পেলেন না ছমিরন বিবি। ছুটে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এলেন। ছুরির তীক্ষ্ণ ফলা দিয়ে যেন তখন কলজেটা কুটিকুটি করে কাটছিলো তাঁর। নিজেকে আর বেঁধে রাখতে পারলেন না তিনি। পুকুর পাড়ে ধুতুরা ফুলের সমারোহ। গুনে গুনে চারটে ফুল হাতে নিলেন। তারপর ধীরে ধীরে সেগুলো মুখে পুরে দিয়ে নীরবে ঘুমিয়ে পড়লেন। দীঘির পাড়ে উঁচু ঢিপির মতো তাঁর কবরটা আজও চোখে পড়ে সবার আগে।

১২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ৩:৪০

ওমেরা বলেছেন: ধুতরাফুল নিয়ে অনেক কিছু জানা হল ।
ফুলটাও সুন্দর ।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৩৯

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন: ফুলটা সুন্দর এবং ভয়ঙ্কর

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.