| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমার মা আর দাদীর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই যুদ্ধ দেখছি। মায়ের কোন দাবী না মানা হলে সাথে সাথেই বাসনপত্র ভাঙ্গেন..... অনেকটা ঘটা করে।
আগের দিন ঘোষণা দেন মা...."কালকের মধ্যে আমার নতুন শাড়ি না হলে রান্নাঘরে হরতাল। "
রান্নাঘরের হরতালটাও আজিব... রাজপথের হরতালের মত আগুন জ্বলে না। বরং... কাউকে চুলায় আগুন জ্বালাতেই দেয়া হয় না।
মাঝে থেকে আমাদের আরো নাভীশ্বাস... । পাশঘরে দাদীর জনসভায় যেতেই হবে.. আবার রান্নাঘরের আন্দোলন থেকে সরলেই রাজাকার হয়ে যাবো।
ঘটনার শুরু নাকি আমাকে নিয়ে! প্রথম শুরু হয় আমি কার আদর্শে বড় হব..... কি নাম হবে আমার- এ সব নিয়ে।
দাদী চান বংশের ছোট ছেলে হিসেবে আমি বংশের ধারা ধরে রাখি, দাদার মত হই। কিন্তু মায়ের কথা না.... ছেলে হবে তার স্বামী মানে আমার বাবার মত।
এর সাথে বাড়ির খরচের টাকা কার কাছে রাখা উচিৎ সেটা নিয়েও অধিবেশন বসে মাঝে মাঝে। আমারো মনে হয়, ছোট বেলা থেকে দেখে আসা এই দ্বন্দ্ব এই টাকার নিয়েই। টাকা হাতে থাকলেই ক্ষমতা হাতে। বড়ির সবাই মিলে বাবাকে তৃতীয় শক্তি হিসেবে উপরে উঠানোর চেষ্টা করেছিলাম একবার... ৫/৬ বছর আগে.।
সাথে সাথে মা তার ছোট ভাই, আমাদের বড় মামাকে ডেকে এনছিলেন। মায়ের সাথে তার রুদ্ধদার বৈঠক...পর ক্ষণে দাদী ডাকে...
মঈনূল বাপ..এদিক একটু আসবা?
মামাও পারেন.. সেনাবাহিনীর লোক। এক্স ব্রিগেডিয়া। মায়ের ডাকে বাড়ি এসে সব দেখে বলেছিলো..
বু.. আমি আছি। টেনশন করো না।
তারপর থেকে শুরু হলো সেনা বাহিনীর অত্যাচার। ভোরে ঘুম থেকে ওঠো, নাস্তার টেবিলে আটটার মধ্যে থাকতে হবে। বেশি রাত জাগা যাবে না। বেশি হৈ চৈ করা যাবে না। ...ইত্যাদি.. ইত্যাদি
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া বোনে সাথে বেধে গেল একদিন। মামার অত্যাচারে মা-দাদীও অতিষ্ট। শেষে সবাই আন্দোলনের মুখে দু-আড়ায় মাসের মাথায় মামাকে বাড়ি ছাড়ানো গেল।
যাই হোক... এই ঝামেলা আর ভালো লাগে না প্রতিদিন। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই হরতাল। এদের অত্যাচারে বৌ মাঝে মধ্যেই আলাদা ফ্ল্যাট নিতে বলে। কিন্তু... নিজের বাড়ি ছেড়ে প্রবাসী হব!!!!!
জানি না.. কি হবে.... এই পরিবারে জন্মালে জানি না আমার সন্তান কতটা মানুষ হতে পারবে। মাঝে মাঝে মনে হয়... মঈনূল মামাকে আবার ডাকবো নাকি!!
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১১:৫০
তুন্না বলেছেন: ঘরে ঘরে এই যুদ্ধ চলে..........থেমে যাবে একদিন, চিন্তা না করা টাই ঔত্ম। ভালো থাকেন।