নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১

সালাউদ্দিন রাব্বী

রাবব১৯৭১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

নীরবতা কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?

২৮ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৫:০৬

নীরবতা কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে?

আজ যারা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত, সেই পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্য এমন এক সংকটময় সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন, যেখানে নীরবতা নিজেই এক ধরনের অবস্থান হয়ে উঠেছে। যে পুলিশ কর্মকর্তা আজ ভ্রাতৃহন্তারককে সহায়তা দিচ্ছেন কিংবা অন্যায়ের সামনে চোখ বন্ধ করে আছেন, তাঁর কাছে একটি প্রশ্ন রাখতেই হয় কাল যখন একই বিপদ আপনার দরজায় এসে দাঁড়াবে, তখন আপনাকে রক্ষা করবে কে? তখন আপনার পাশে দাঁড়াবে কারা?

রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নির্দেশ, ব্যক্তিগত সুবিধা কিংবা ক্ষমতার প্রলোভনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য দুর্নীতি, নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি থাক বা না থাক, দেশের মানুষ ঘটনাগুলো দেখেছে, মনে রেখেছে। সেই জমে থাকা ক্ষোভই একসময় বিস্ফোরিত হয়ে সমাজে অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সহিংসতার শিকার যখন পুলিশ নিজেরাই, তখন কেন এত নীরবতা? সহকর্মীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে, থানার ভেতরে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় দিনের আলোয় মানুষকে হত্যা করে মরদেহ ফ্লাইওভারের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার মতো নির্মম ও অমানবিক দৃশ্যও দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। এসব ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয় এগুলো পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য গভীর সতর্কবার্তা।
তবুও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অনেকের মুখে প্রত্যাশিত প্রতিবাদ শোনা যায় না। এই নীরবতা কি ভয়ের? চাকরি হারানোর আশঙ্কা? নাকি রাজনৈতিক চাপ? মনে রাখা প্রয়োজন—অন্যায়ের সঙ্গে আপস কখনো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না; বরং ভবিষ্যতের বিপদকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হলো নিরপেক্ষ বিচার। একজন সাধারণ নাগরিকের হত্যার বিচার যেমন অপরিহার্য, তেমনি একজন পুলিশ সদস্যের হত্যাও সমানভাবে রাষ্ট্রের জন্য লজ্জা ও ব্যর্থতার প্রতীক। বিচারহীনতা সমাজে প্রতিশোধের সংস্কৃতি জন্ম দেয়, যা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেই দুর্বল করে।
বাহিনী জনগণের প্রতিপক্ষ নয়; তারা জনগণেরই অংশ। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যদি তারাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েন, তবে রাষ্ট্রের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। তাই সত্য উচ্চারণ করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং সব হত্যার নিরপেক্ষ বিচার দাবি করা কোনো বিদ্রোহ নয় এটি দায়িত্ব, এটি নৈতিক সাহস।
আজ প্রয়োজন আত্মসমালোচনা, ন্যায়বিচারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং ভয়কে অতিক্রম করার দৃঢ়তা। কারণ ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু ইতিহাস নির্মমভাবে অন্যায় ও নীরবতার হিসাব রেখে দেয়।
আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই পুলিশ হত্যাসহ দেশের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান বিচার চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া আস্থা ফিরে আসবে। নীরবতা নয়, সত্যের পক্ষে উচ্চারণই পারে ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করতে।

-- সালাউদ্দিন রাব্বী
সংখ্যালঘু বাচাও আন্দোণ
বাংলাদেশ
ইমেল- [email protected]

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.