| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মানবতা: শিশুদের রক্তে লেখা সভ্যতার লজ্জা
যুদ্ধের ইতিহাস যত পুরোনো, তার নির্মমতা ততই অমানবিক। কিন্তু যখন বোমার আঘাতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের নিথর দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, তখন শুধু একটি দেশ নয় সমগ্র মানবসভ্যতা পরাজিত হয়। ইরানে স্কুলের নিষ্পাপ শিশুদের প্রাণহানির খবর মানবতার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এই নৃশংসতার নিন্দা জানানোর ভাষা সত্যিই হারিয়ে যায়, কারণ কোনো যুক্তি, কোনো রাজনীতি, কোনো ক্ষমতার লড়াই শিশু হত্যাকে কখনো বৈধতা দিতে পারে না।
প্রশ্ন একটাই ছোট ছোট শিশু কি যুদ্ধ বোঝে? তারা কি ভূরাজনীতি জানে? তারা কি সীমান্ত, ক্ষমতা কিংবা আধিপত্যের হিসাব করে? না। তারা শুধু বই, খাতা, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাঁচতে চায়। অথচ সেই ভবিষ্যৎই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বোমার বিস্ফোরণে। যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো যারা যুদ্ধ শুরু করে তারা নিরাপদ দূরত্বে থাকে, আর যারা মারা যায় তারা নিরপরাধ সাধারণ মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্য আবার অশান্তির আগুনে জ্বলছে। ইতিহাস সাক্ষী এই অঞ্চলের প্রতিটি যুদ্ধ কেবল ধ্বংস আর দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। যুদ্ধ মানেই শুধু গোলা-বারুদ নয়; যুদ্ধ মানে মিনিটে মিনিটে শত কোটি ডলারের অবকাঠামো ধ্বংস, নগরী ধূলিসাৎ, বন্দর ও শিল্পকারখানা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। একটি শহর ধ্বংস হতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা, কিন্তু সেই শহর পুনর্গঠনে লেগে যায় কয়েক দশক।
যুদ্ধ মানে হাজার হাজার লাশ, লক্ষ লক্ষ মানুষ পঙ্গুত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়ানো, অসংখ্য পরিবার চিরতরে ভেঙে যাওয়া। যুদ্ধ মানে শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া একটি হারানো প্রজন্ম—যাদের শৈশব নেই, নিরাপত্তা নেই, ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই। যুদ্ধ দরিদ্রতা বাড়ায়, অর্থনীতি ধ্বংস করে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে ফেলে, সমাজে ঘৃণা ও প্রতিশোধের বীজ বপন করে যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো যুদ্ধ কখনো প্রকৃত বিজয় এনে দেয় না। এক পক্ষ হয়তো সামরিকভাবে জয়ী হয়, কিন্তু মানবতা হারায় সবাই। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সভ্যতা গড়ে ওঠে না; সেখানে জন্ম নেয় ক্ষোভ, প্রতিশোধ এবং নতুন সংঘাতের বীজ।
আজ বিশ্বনেতাদের কাছে প্রশ্ন রাখতে হয় ক্ষমতার রাজনীতি কি শিশুদের জীবনের চেয়েও বড়? আধিপত্যের লড়াই কি মানবতার চেয়ে মূল্যবান? যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে যুদ্ধ বন্ধের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এখনই প্রয়োজন যুদ্ধবিরোধী বৈশ্বিক ঐক্য, সংলাপ ও মানবিক বিবেকের জাগরণ। কারণ প্রতিটি নিহত শিশু শুধু একটি দেশের ক্ষতি নয়; সেটি পুরো পৃথিবীর ভবিষ্যৎ হারানোর নাম।
যুদ্ধ কখনো সমাধান নয় যুদ্ধ কেবল মৃত্যু শেখায়। আর শিশুদের রক্ত আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মানবতা যদি এখনই জাগ্রত না হয়, তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।
©somewhere in net ltd.