| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শ্রাবণধারা
" আমাদের মতো প্রতিভাহীন লোক ঘরে বসিয়া নানারূপ কল্পনা করে, অবশেষে কার্যক্ষেত্রে নামিয়া ঘাড়ে লাঙল বহিয়া পশ্চাৎ হইতে ল্যাজমলা খাইয়া নতশিরে সহিষ্ণুভাবে প্রাত্যহিক মাটি-ভাঙার কাজ করিয়া সন্ধ্যাবেলায় এক-পেট জাবনা খাইতে পাইলেই সন্তুষ্ট থাকে......."

কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই বছরে সেই বিভাজনটি ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়েছে। ধর্মীয় উন্মাদনা, বিদ্বেষ ও বিভাজনকে উসকে দিয়ে মানুষের মধ্যে যে প্রবল ঘৃণা তৈরি করা হয়েছে, তার নজির বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি। আর এই ঘৃণা তৈরি হয়েছে পরিকল্পিত অপপ্রচার, মিথ্যা তথ্য এবং ক্রমাগত উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে।
গণতন্ত্র ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বিরোধ শুধু সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী, আদিবাসী বা ভিন্ন পরিচয়ের মানুষের অধিকারকে খর্ব করে না; তা প্রশাসন, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, এমনকি স্কুল-কলেজ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর স্বাধীনতার ওপরও হস্তক্ষেপ করে। আর, ধর্মের সাথে রাজনীতি মেলাতে গেলে সেটা শুধু রাজনীতির বিপদ তা নয়, সেটা ধর্মেরও বিপদ।
কিছুদিন আগে জামায়াতের ৭৫ বছর বয়সী একজন এমপি যখন এক তরুণীকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলে অনৈতিক কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন, তখন নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে তিনি তার বৃদ্ধা স্ত্রীকে দিয়ে টিভি ক্যামেরার সামনে মিথ্যা গল্প বলালেন। একদিকে তিনি নিজের দীর্ঘদিনের সহধর্মিণীকে চরম অপমান করে অধর্ম করলেন, আবার নৈতিক স্খলনকে আড়াল করতে ধর্মীয় বহুবিবাহের বিধানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করলেন। ধর্ম বেচারার কোনো দায়ই ছিল না, ওই বৃদ্ধের নৈতিক অবক্ষয়ের রক্ষাকবচ হতে। ধর্মকে না জড়ালে, ঐ ঘটনার বিচার সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো।
এখানেই ইসলাম ও ইসলামপন্থার মধ্যে পার্থক্যটি তৈরি হয়। ইসলাম একটি ধর্ম এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য। অপরদিকে, ইসলামপন্থা হলো ধর্মকে রাজনৈতিক ক্ষমতা হিসেবে ব্যবহার করার পন্থা। ইসলামপন্থা ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক মতাদর্শে রূপান্তর করে এবং আইন ও নিয়ম-নীতিকে ধর্মীয় ব্যাখ্যার অধীন করে। এটা ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রকাশ নয়, রাজনীতিকে ধর্মের নামে কব্জা করার ফন্দি। এই ফন্দি যত শক্তিশালী হয়, মানুষের উপর তার নৃশংসতাও তত বাড়ে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হিন্দুদের বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে ব্যাপক হামলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয়বিষয়ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইন ও সালিশ কেন্দ্র শুধু ২০২৪ সালের আগস্টেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ৮১টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করে। এর মধ্যে হিন্দুদের ১৬৮টি বাড়ি, ৯৬টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছয়টি উপাসনালয়ে হামলার তথ্য রয়েছে। আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ১৫৬টি বাড়ি ও ছয়টি উপাসনালয় আক্রান্ত হয়। খ্রিস্টান ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সম্পত্তি হামলার শিকার হয়।
২০২৫ সালের প্রথমার্ধেও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের হিসাবে, এ সময়ে ২৫৮টি ঘটনার মধ্যে ২৭টি হত্যা, ২০টি নারী নির্যাতন বা ধর্ষণ এবং ৫৯টি উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ছিল। একই হিসাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর ১২টি হামলার কথাও বলা হয়েছে।
২০২৪-২৫ সালে মাজার ও দরগাহও হামলার শিকার হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৮০টি মাজার আক্রান্ত হয়।
নারীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা। ২০২৫ সালের মে মাসে ইসলামপন্থিরা ঢাকায় নারী অধিকার ও নারী-পুরুষের সমতার পক্ষে প্রস্তাবিত সংস্কারের বিরুদ্ধে সমাবেশ করে। তারা বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি, নারীর সমান অভিভাবকত্বের অধিকার, উত্তরাধিকার সংস্কার এবং সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির মতো প্রস্তাবের বিরোধিতা করে।
মানুষ যখন সামাজিকতা, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক যোগাযোগ থেকে সম্পর্কহীন হয়ে পড়ে, তখন সে সমাজবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তখন সে সমাজের মধ্যে থেকেও একা। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে এই বিচ্ছিন্নতা প্রবল হয়েছে। একসময় মানুষের জীবনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল, গান ছিল, টিভি নাটক ছিল, পাড়ায় পাড়ায় ক্লাব বা সংগঠন ছিল, মাঠে খেলাধুলা ছিল, বইমেলা ছিল, আড্ডা ছিল। এগুলোকে কেন্দ্র করে মানুষ যুক্ত থাকত এবং বৃহত্তর সামাজিক জগতের অংশ বলে নিজেকে অনুভব করত। সেই জায়গাটি যত সংকুচিত হয়েছে, মানুষের বিচ্ছিন্নতা তত বেড়েছে। সাংস্কৃতিক চর্চা নেই, মাঠ নেই, টিভি নাটক নেই; তার জায়গায় এসেছে স্মার্ট ফোন। ফলে মানুষ একই সমাজে বাস করেও বিচ্ছিন্ন, একা এবং নিজের ছোট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আওয়ামী লীগের বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসন এই পরিস্থিতিকে একটি ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। নিজেদের অসাম্প্রদায়িক হিসেবে উপস্থাপন করেও আওয়ামী লীগ আইনের শাসন, আইনি সুরক্ষা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। দমন-পীড়ন, স্বেচ্ছাচারিতা, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী হামলা, পুলিশের বলপ্রয়োগ ও হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে দিয়েছে। মানুষ অনুভব করেছে যে আওয়ামী শাসনে তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের জায়গা শূন্য থাকে না। আওয়ামী লীগের কারণে রাজনীতির প্রতি মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে ধর্মীয় পরিচয় ও ইসলামপন্থি রাজনীতি। যে আওয়ামী লীগ নিজেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তার দীর্ঘ দুঃশাসন ও পতন বিরোধী শক্তি হিসেবে ইসলামপন্থি রাজনীতিকে শক্তিশালী করেছে। ইসলামপন্থিরা মানুষের ক্ষোভকে ধর্মীয় পরিচয়ের সাথে যুক্ত করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ "ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র" হয়ে গেছে। রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়ে উঠেছে "ইসলামবিরোধিতা"। আর, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হয়ে গেছে "ভারতের দোসর"।
হাসিনার শাসনে উপেক্ষিত ও অপমানিত মানুষের ক্ষোভকে ইসলামপন্থি প্রচারণা মুসলিম পরিচয়ের শ্রেষ্ঠত্ব, ভারতবিদ্বেষ এবং উগ্র ইসলামপন্থি রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করেছে। বছরের পর বছর ধর্মীয় বক্তৃতা, ওয়াজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রচারণার মাধ্যমে এমন একটি কাল্পনিক বাস্তবতা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে মানুষকে বোঝানো হয়েছে যে তার ধর্ম বিপন্ন, পরিচয় আক্রান্ত এবং তার চারপাশে শত্রু ও ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে।
যে মানুষটি আগে নাটক দেখত, গান শুনত, মাঠে খেলত, বাউলগানের আসরে যেত, বই পড়ত বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত, সে এখন ফেসবুকে বসে রিল দেখে রাজনীতি, আইন, সমাজ ও ইতিহাসের জ্ঞান অর্জন করে। ফলে, যে ব্যক্তি সমাজের বহুত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে, সে সহজেই এমন প্রচারকের অনুসারী হয়ে ওঠে, যে তাকে একটি মাত্র পরিচয়, একটি মাত্র সত্য এবং একটি মাত্র শত্রু দিয়ে পুরো পৃথিবী ব্যাখ্যা করে দেয়। একটি মাত্র পরিচয় হল সে মুসলমান, একটি মাত্র সত্য হল তার ধর্মবিশ্বাস এবং একটি মাত্র শত্রু হল ভারত এবং যা কিছু ভারতের সাথে জুড়ে দেওয়া সম্ভব।
এটি শুধু অজ্ঞতার সমস্যা নয়, এটি বিচ্ছিন্ন মানুষের অসহায়ত্ব। মানুষের ধর্মবিশ্বাস দিয়েই পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান করে দেওয়া। বিচ্ছিন্ন মানুষটি হঠাৎ দেখে যে সে আর একা নয়, সে একটি বৃহৎ ধর্ম সম্প্রদায়ের অংশ, যার কাছে ফেসবুক প্রচারকই জ্ঞান ও সত্যের উৎস। বিচ্ছিন্ন মানুষকে সংগঠিত করা হলে তাকে আর যুক্তি দিয়ে বোঝানোর প্রয়োজন হয় না, জায়গা মত একটা বয়ান দিয়ে দিলেই চলে। সেটা সত্য না মিথ্যা, বাস্তব না কল্পনা, ভূতের গল্প না আকাশে হাতি ওড়ার গল্প - তা তখন গৌণ হয়ে যায়। এর অনুসারীরা এমন মানুষ যার কাছে সত্য ও মিথ্যা, বাস্তবতা ও কল্পনার পার্থক্য ভেঙে গেছে।
এই মানুষগুলো জটিলতা সহ্য করতে পারে না। তারা চায় একটি সহজ ব্যাখ্যা, একটি শত্রু, একটি পরিচয় এবং এমন একটি নিশ্চয়তা, যেটিকে তারা তাদের ধর্মবিশ্বাসের মতোই গভীরভাবে বিশ্বাস করতে পারে। সরলীকরণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি মানুষকে নিজের বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থেকে মুক্তি দেয়। এখানে সবকিছু রেডিমেড পাওয়া যায়।
প্রপাগাণ্ডার শক্তি এখানেই। ইসলামপন্থিরা পার্থিব জীবনের জন্য রেডিমেড প্যাকেজ নিয়ে বসে আছে। আপনাকে চিন্তা করতে হবে না, জটিল প্রশ্নের উত্তরও খুঁজতে হবে না; পুরো কাজটিই তারা আপনার হয়ে করে দেবে। তাদের প্রচারণা আপনাকে সহজেই মুক্তির একটি নিশ্চিত পথ দেখিয়ে দেবে: ইসলামবিরোধীরাই সব সমস্যার উৎস, ইসলাম আক্রান্ত, আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ইসলামের শত্রু, আর আপনার নেতা ইসলামের পক্ষে।
গণতন্ত্র এর বিপরীত। গণতন্ত্র মানুষকে কোনো সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে না দেখে, নাগরিক হিসেবে দেখে। নাগরিকের পরিচয় বহুমাত্রিক, তার মতামত পরিবর্তনশীল আর বাস্তবতাও বহু জটিল। গণতন্ত্র জটিলতাকে মেনে নেয়; ভিন্নমত, বিতর্ক, প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার জন্য জায়গা রাখে। দুর্নীতি, বৈষম্য বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো সমস্যাকে একটি মাত্র কারণ বা শত্রু দিয়ে ব্যাখ্যা করে না।
ইসপামপন্থিরা চায় অনুগত অনুসারী, গণতন্ত্রের দরকার দায়িত্বশীল নাগরিক। একটি সমাজ যখন নাগরিক হওয়ার বদলে শুধু কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের লোক হতে শুরু করে, তখন গণতন্ত্রের ভিতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: এটা তো বিপদের কথা!
২|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৮
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
আমার পূর্বের লেখা আপনি পড়েছেন কিনা আমার সঠিক মনে নেই। আমি প্রায়ই একটি কথা ব্লগে লিখেছি। বাংলাদেশে তিনটি রাজনৈতিক দল আছে। তিনটি দল আসলে আলাদা কেউ না্, তারা একটি দলের তিনটি ভগ্নাংশ। এরা বাইরে ভেতরে এক ও অভিন্ন। এদের সকলের চরিত্র মুরাদ টাকলার মতো।
আর একটি কথা বলা খুবই প্রয়োজন। ধর্মকে যারা রাজনীতিতে ব্যবহার করছে সবগুলোরে চরিত্র সাতক্ষীরা-৪ আসনের মতোই। ১৯-২০ পার্থক্য থাকতে পারে, তবে ১৫-২০ পার্থক্য নেই। সবগুলো বাইরে ভেতরে মুরাদ টাকলা।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: ধন্যবাদ, ঠাকুরমাহমুদ ভাই। আপনার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত নেই। তবে রাজনীতিবিদরা তো আমাদেরই সমাজের মানুষ। তাহলে কি ধরে নিতে হবে, আমিও ক্ষমতা পেলে মুরাদ টাকলার মতো কাজ করব?
ভারতের রাজনীতিবিদরাও তো এখন অনেক উন্নত ও মার্জিত হয়ে গেছে। তাহলে আমাদের রাজনীতিতে সেই পরিবর্তনটা কেন আসছে না? আমরা কেন দায়িত্বশীল, পরিণত ও মানবিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছি না?
৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এ থেকে মুক্তিলাভের কি উপায় ?
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: এর সহজ উত্তর আমার জানা নেই। ব্লগের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি হিসেবে আপনার কি অভিমত?
৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ব্লগের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবি বলিয়া লজ্জা দিবেন না । আমি কোনো বুদ্ধিজীবী এ জনমে হতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে । তবে আমি চাই বাংলাদেশের সকল শিশুরা প্রাইমারী ইশকুলে পড়ুক । এতে একটা পরিবর্তন আসতে পারে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: অবশ্যই আপনি একজন বুদ্ধিজীবী। আপনাকে লজ্জা দেবার প্রশ্নই আসে না।
সকল শিশুকে কলেজ পর্যন্ত পড়ানোটা সরকারের পক্ষে খুব বেশি কঠিন কাজ নয় বলে আমার মনে হয়, কিন্তু বাংলাদেশে এটা এখন আশ্চর্য কঠিন হয়ে গেছে।
৫|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৯
আলামিন১০৪ বলেছেন: মুখে গণতন্ত্র-গনতস্ত্র বলে ফেনা উঠানো ব্যক্তিরা ইসলমাপন্থীদের টুটি চেপে ধরতে চায়। বাহ বাহ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমি কখনো কারো টুটি চেপে ধরতে চেয়েছি বলে মনে পড়ে না। আর ইসলমাপন্থীদের টুটি চেপে ধরতে চাওয়ারও প্রশ্ন নেই।
তবে আমি তাদের আজগুবিস্তানের বিষ্ঠার মত মতবাদ এবং চিন্তাভাবনাগুলো ফ্লাশ করে দেওয়ার পক্ষপাতি। এই লেখাটাতে সেটাই করেছি। এখন সেটা নিয়ে কথা বলার মত জ্ঞান-বুদ্ধি কি জনাবের আছে?
৬|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৫
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: এ থেকে মুক্তিলাভের কি উপায় ? আইনের শাসন, সকল শ্রেনী, পেশার মানুষের সমান অধিকার। No extremism practice। প্রতিমা কে পুজা করা কাফির, ইহুদীরা ইসলামের প্রকাশ্যে শত্রু প্রকাশ্য এইসব মতবাদ সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে নিজেদের কে সুপিরিয়র দাবি করে। আমাদের অধিকাংশ মসজিদ মাদ্রাসা ওয়াজ মাহফিলে এই কথাগুলো ছোটকাল থেকে শেখানো হয়। ভারতে হিন্দুরা ও তা করে.....

১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:০৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার বক্তব্যের সাথে একমত কলিমুদ্দি দফাদার।
আমরা সবাই এখন খুব হতাশ হয়ে পড়েছি। তবে আমার মনে হয়, সমস্যাটা কোথায়, তা যদি সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়, তাহলে কী করা দরকার, সেটাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারব।
আমি আমার সীমিত জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে সেটাই বোঝার চেষ্টা করছি। যদিও আশ্চর্যের বিষয় হলো, আমার পোস্টগুলো এখন খুবই অজনপ্রিয় হয়ে গেছে, আর পাঠকও নেই বললেই চলে। মানুষ বোধ হয় ধর তক্তা, মারো পেরেক টাইপের কিছু চাইছে! হা হা ![]()
৭|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:১৩
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
আমার পোস্টগুলো এখন খুবই অজনপ্রিয় হয়ে গেছে, আর পাঠকও নেই বললেই চলে। ইহার কারন আপনার পোষ্ট নহে আপনার আদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি! আপনি না আওয়ামী লীগ না বিএনপি, না জামাত না এনসিপি, না ধর্মপ্রাণ না নাস্তিক। এই জন্য কোন পক্ষের ব্লগারদের সমর্থন পাচ্ছেন নাহ। সামুতে লিবারেল, মডারেট,নিরপেক্ষ ব্লগার কম আদর্শিক বেশধারী বায়ার্স লোকজন বেশি।
আপনি বর্ষীয়ান ব্লগার তাই হয়তো অনেকে মেপে উওর দেয়। আমি ইতিমধ্যে আধা রাজাকার, জাপা লাভার, আওয়ামী গুপ্ত ট্যাগ পেয়ে গেছি। :p
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০১
শ্রাবণধারা বলেছেন: একসাথে এতগুলা "না" দেখতে পেয়ে মনে হচ্ছে তাহলে হয়তো "রাইট ট্রাকে" আছি!
"কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন: আমি ইতিমধ্যে আধা রাজাকার, জাপা লাভার, আওয়ামী গুপ্ত ট্যাগ পেয়ে গেছি।"
এতসব ট্যাগ পেয়ে গেছেন! হা হা
তার মানে আপনার জনপ্রিয়তা বাড়ছে!
আর আমাকে বর্ষীয়ান ব্লগার হিসেবে আখ্যায়িত করার জন্য ধন্যবাদ! সম্মানিত বোধ করছি!!
৮|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অবশ্যই আপনি একজন বুদ্ধিজীবী। আপনাকে লজ্জা দেবার প্রশ্নই আসে না।
খুবই লজ্জা লাগছে । আপনাদের এক্সপেরিয়েন্স এবং নলেজ এর ধারে কাছেও আমি নেই । আপনি যেসব লেখকদের বই পড়েন আমি অনেকের নামই শুনি নাই । আপনার অনেক সেক্টরে কাজের এক্সপেরিয়েন্স রয়েছে । এভাবে আর বলিয়েন না ।
।
সকল শিশুকে প্রাইমারীতে পড়ার সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের মাদরাসার সংখ্যা কমে আসবে । এতে কিছুটা পরিস্থিতি বদলাতে পারে ।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:০০
শ্রাবণধারা বলেছেন: "বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয়না" - এর মত করে বলতে হয়, "বই পড়ে কেউ বুদ্ধিজীবী হয়না।"
ব্লগে যিনি বড় বুদ্ধিজীবী তিনি সারা জীবনে বই পড়েছেন একটা!
এ বিষয়ে সম্পূর্ন একমত যে সকল শিশুকে প্রাইমারীতে পড়ার সুযোগ করে দিতে পারলে দেশের মাদরাসার সংখ্যা কমে আসবে।
৯|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৮
অগ্নিবাবা বলেছেন:
মৌলবাদ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমার ১৪ বছরের আইডি ফেরত দিতে হবে। সত্যকথা তিতা হইলেও শুনতে হবে, প্রয়োজনে
নিজের গালে নিজেই চড় মারতে হবে, কমফোর্ট জোন থেকে বেরিয়ে আসতে হবে, অকর্মা ইশ্বরের সমালোচনা করতে হবে, আর নিজের নিজের ধর্ম পুস্তকে কি লেখা আছে তা বুঝে পড়তে হবে। আর কিছু করা লাগবে না।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১৯
শ্রাবণধারা বলেছেন: আমি বা আমার এই পোস্ট আপনার নিককে ব্যন করার জন্য দায়ী নয়!
তবে এটা ঠিক যে, মুসলমানেরা তাদের ধর্ম সম্পর্কে তিতা কথা শুনলেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে সাংঘাতিক সব কাণ্ডকারখানা করে বসে। তাদের দুরবস্থার এটাও একটা কারণ।
১০|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭
নতুন বলেছেন: ধর্ম সৃস্টিই হইছে মানুষকে নিয়ন্ত্রনের জন্য। কিছু বুদ্ধিমান বেক্তিরা মানুষের অজানা কিছু বিষয়কে পুজি করে ধর্মের কাহিনি বানিয়েছে।
রাস্টের ক্ষমতায় থাকতে পারলে ক্ষমতা আর টাকা পয়সা কিছুরই অভাব হয় না। তাই সবাই ক্ষমতায় যেতে চায়।
ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনিতি, বাংলাদেশে ইসলাম কায়েমের রাজনিতি। আফগানে আইএস তৌরি হয়েছে অন্য কিছু দেশকে আক্রমন করে সম্পদ দখলের জন্য বাহানা তৌরি করতে।
দিনের শেষে ক্ষমতাই আসল ধর্ম বাহানা মাত্র।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: নতুন বলেছেন: ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনিতি, বাংলাদেশে ইসলাম কায়েমের রাজনিতি। আফগানে আইএস তৌরি হয়েছে অন্য কিছু দেশকে আক্রমন করে সম্পদ দখলের জন্য বাহানা তৌরি করতে।
হ্যাঁ, বিষয়টা অনেকটা তেমনি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ধর্ম আবার রাজনীতিতে ফিরে এসেছে। পরিচয়, বিভাজন এবং ক্ষমতা দখলের কৌশল হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিস্টান জাতীয়তাবাদ, ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদ, ইউরোপের নানা দেশে সাংস্কৃতিক খ্রিস্টান পরিচয়, প্রায় সব ক্ষেত্রে এটা দেখা যাচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মীয় পরিচয়কে নাগরিকত্বের মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করানো হচ্ছে। আর ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষদের সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হয়েছে।
১১|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৪৩
অধীতি বলেছেন: লেখক বলেছেন: যে মানুষটি আগে নাটক দেখত, গান শুনত, মাঠে খেলত, বাউলগানের আসরে যেত, বই পড়ত বা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিত, সে এখন ফেসবুকে বসে রিল দেখে রাজনীতি, আইন, সমাজ ও ইতিহাসের জ্ঞান অর্জন করে। ফলে, যে ব্যক্তি সমাজের বহুত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে, সে সহজেই এমন প্রচারকের অনুসারী হয়ে ওঠে, যে তাকে একটি মাত্র পরিচয়, একটি মাত্র সত্য এবং একটি মাত্র শত্রু দিয়ে পুরো পৃথিবী ব্যাখ্যা করে দেয়। একটি মাত্র পরিচয় হল সে মুসলমান, একটি মাত্র সত্য হল তার ধর্মবিশ্বাস এবং একটি মাত্র শত্রু হল ভারত এবং যা কিছু ভারতের সাথে জুড়ে দেওয়া সম্ভব।
আপনার বক্তব্যের সঙ্গে একমত দ্বিমতের জায়গা দুটোই আছে। একটি মাত্র পরিচয় কখন গড়ে ওঠে? যখন গণতন্ত্রের এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারী বলা দলটি তার আদর্শের বিন্দুমাত্রও লালন করেনা এবং ফাঁকা বুলি দিয়ে বারংবার ভারত প্রেমের দোহাই দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তখনই আরেকটি কট্টর পন্থার জন্ম হয়। ভারত সরকারের সঙ্গে বিগত সরকারের সম্পর্ক দেখেও যদি এটুকো অনুধাবন না করতে পারেন তাহলে কিচ্ছু করার থাকে না। যেই ভারত একটি দেশকে স্বাধীন হতে সাহায্য করেছিল তারাই সেই দেশটির স্বাধীন নাগরিদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল একটি পুতুল সরকারের দ্বারা। ফলে সব থেকে সম্ভাবনাময়ী একটা দলকে জনগণের ধাওয়া খেয়ে সেই ভারতেই আশ্রয় নিতে হলো।
সেই সরকারের সময়েই সামু ব্লগের মত একটি প্লাটফর্ম পর্ন সাইটের তালিকাভুক্ত হয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিল। আপনার বক্তব্যে সংস্কৃতিক অঙ্গনের করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠলেও সেটার পেছনের কুশীলবদের দায়মুক্তির মত যথেষ্ট উপাদান আছে, যা আমার কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫
শ্রাবণধারা বলেছেন: আপনার বক্তব্যের ভঙ্গিটা শক্তিশালী, কিন্তু যুক্তিগুলো নয়।
"একটি মাত্র পরিচয় কখন গড়ে ওঠে? যখন গণতন্ত্রের এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারী বলা দলটি তার আদর্শের বিন্দুমাত্রও লালন করেনা এবং ফাঁকা বুলি।"
একটি মাত্র পরিচয় বিভিন্ন কারণে গড়ে উঠতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের দায় রয়েছে বলেই আমি এই পোস্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি। যদিও সংক্ষেপে বলেছি, কারণ সেটি এই পোস্টের মূল বিষয় নয়।
ভারত প্রেমের দোহাই দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তখনই আরেকটি কট্টর পন্থার জন্ম হয়। ভারত সরকারের সঙ্গে বিগত সরকারের সম্পর্ক দেখেও যদি এটুকো অনুধাবন না করতে পারেন তাহলে কিচ্ছু করার থাকে না।
আওয়ামী লীগ তার রাজনৈতিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, আর ভারতও তার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তাগত স্বার্থে আওয়ামী লীগকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে। এর মধ্যে ভারতপ্রেম এর বিষয়টা কী? এর বাইরে যদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে থাকে, যা আমার নজর এড়িয়ে গেছে, তাহলে জানাতে পারেন। বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করব।
আপনার বক্তব্যে সংস্কৃতিক অঙ্গনের করুণ বাস্তবতা ফুটে উঠলেও সেটার পেছনের কুশীলবদের দায়মুক্তির মত যথেষ্ট উপাদান আছে, যা আমার কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে।
আমার লেখাটি সাংস্কৃতিক অঙ্গনের করুণ বাস্তবতা নিয়ে নয়। লেখাটি বর্তমানের একটি সমস্যা নিয়ে, আওয়ামী সরকারের অপকর্ম নিয়ে নয়। তাই এর মধ্যে কুশীলবদের দায়মুক্তির উপাদান খুঁজে বের করার চেষ্টা মূলত প্রতিক্রিয়াশীল মানসিকতা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অক্ষমতাকেই প্রকাশ করে। লেখাটিতে আমি এমন মানুষদেরই "ফলোয়ার" বা "অনুসারী" বলে উল্লেখ করেছি।
১২|
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৪৭
অধীতি বলেছেন: লেখক বলেছেন: আমার লেখাটি সংস্কৃতিক অঙ্গনের করুণ বাস্তবতা নিয়ে নয়। লেখাটি বর্তমানের সমস্যা নিয়ে, আওয়ামী সরকারের অপকর্ম নিয়ে নয়।
খুব ভালো বলেছেন। অনুসারী কাদের বলেছেন সেটা জেনে ভালো লাগলো। দেশের বর্তমান সমস্যা নিয়ে আলাপ করবেন কিন্তু এর আদ্যপান্তের পান্ত রেখে আদ্য বাদ দিয়ে আলাপ করবেন। সেটা আগে বলে নিলেই পারতেন। আপনার লেখার বড় একটা অংশই সংস্কৃতি থেকে মানুষের বিচ্যুতির ফলে যে মানুষ সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বহুত্বের মেলবন্ধন বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর দায় ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর। সে কথা এদেশের একটা রিকশাওয়ালাও চোখ বুজে বলে দিতে পারবে। অথচ আপনি বলতেছেন সংস্কৃতিক করুণ বাস্তবতা নিয়ে নয়। উগ্রবাদীদের বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আজকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কনসার্ট হয়েছে। আমি বলেছি উগ্রবাদের জাগরণ কিভাবে হলো। বর্তমান সমস্যাকে অবশ্যই অতীত দিয়ে বিচার করতে হবে।
গণতন্ত্র মানুষকে কোনো সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে না দেখে, নাগরিক হিসেবে দেখে। নাগরিকের পরিচয় বহুমাত্রিক, তার মতামত পরিবর্তনশীল আর বাস্তবতাও বহু জটিল। গণতন্ত্র জটিলতাকে মেনে নেয়; ভিন্নমত, বিতর্ক, প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার জন্য জায়গা রাখে। দুর্নীতি, বৈষম্য বা অর্থনৈতিক সংকটের মতো সমস্যাকে একটি মাত্র কারণ বা শত্রু দিয়ে ব্যাখ্যা করে না।
এই বক্তব্যে আপনি দেশের সমস্যার মূলে মৌলবাদকেই ধরে নিয়েছেন। আমলাতান্ত্রিক ব্যার্থতা উল্লেখ করেননি। শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী উপাদান না থাকার কথাও বলেন নি। আমি শুধু গোড়ায় হাত দিয়েছি। তাতেই অনুসারী হয়ে গেলে তো বটবাহিনির ট্যাগিং এর মত হয়ে যায় বিষয়টা। আপনার লেখার শিরোনামই তো একটা উহ্য কথা বলে দেয় বাংলাদেশে ইসলাম পন্থার উত্থান।
আমি বলেছি একটা উগ্রপন্থার বিলুপ্তিতে আরেকটি উগ্রপন্থার উত্থান ঘটে। অতীত উগ্র দলটি ছিল আওয়ামীলীগ।
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:২৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: অধীতি বলেছেন: এই বক্তব্যে আপনি দেশের সমস্যার মূলে মৌলবাদকেই ধরে নিয়েছেন। আমলাতান্ত্রিক ব্যার্থতা উল্লেখ করেননি। শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগোপযোগী উপাদান না থাকার কথাও বলেন নি।
হ্যাঁ, যেকোনো সমস্যারই একাধিক কারণ থাকবে, এবং প্রতিটি কারণেরও আবার একাধিক কারণ থাকতে পারে। সেসব বিষয়ে আলো ফেলা বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের অংশ। আমি যে বিষয়ে আলো ফেলিনি বা গভীর আলোচনা করিনি, সেগুলো নিয়ে অন্যরা আলোচনা করবেন - এমনটা আশা করি। যেমন, আপনি আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গটি উল্লেখ করেছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন বলতে সাধারণত আমরা শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিনেতা, অভিনেত্রী - এঁদেরই বুঝি। সেই অর্থে, এই লেখাটি শিল্পীসমাজের করুণ বাস্তবতা নিয়ে নয়; বরং কীভাবে আমরা সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টিতে পরিণত হলাম, তা অনুসন্ধানের চেষ্টা। আপনি যদি সাংস্কৃতিক অঙ্গন বলতে মানুষের সামগ্রিক জীবনযাত্রার চর্চাকে বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার কথাটি ঠিক আছে।
একটা উগ্রপন্থার বিলুপ্তিতে আরেকটি উগ্রপন্থার উত্থান ঘটে। অতীত উগ্র দলটি ছিল আওয়ামীলীগ।
এ বিষয়ে আমি একমত। তবে আমার মনে হয়, বর্তমানে যে উগ্রপন্থার বিস্তার ঘটছে, তার সঙ্গে পাকিস্তান, তুরস্ক ও আমেরিকার মদদপুষ্ট আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদ যুক্ত হয়েছে। সেটিই ছিল এই ধারাবাহিকের প্রথম লেখাটি "বাংলাদেশ কি একটি "ব্যর্থ রাষ্ট্রে" পরিণত হতে যাচ্ছে? - জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানপন্থার উত্থান" - এই শিরোনাম । দ্বিতীয় পর্বে লিখেছি মব বা তৌহিদি জনতা নিয়ে। এই পর্বে লিখছি বিচ্ছিন্ন জনসমষ্টি বা "ম্যাস" নিয়ে।
১৩|
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪
নিমো বলেছেন: আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস এর শুভেচ্ছা
১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:২৭
শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা।
তাইতো দেখতে পাচ্ছি যে আজ ১৫ই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস।
আপনাকেও এই দিবসের শুভেচ্ছা!
১৪|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬
রাজীব নুর বলেছেন: সবার জন্য শিক্ষা। সঠিক শিক্ষা।
মাদ্রাসা তুলে দিতে হবে। শিক্ষাই মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
মানুষ শিক্ষিত হলেই দেশের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩৩
শ্রাবণধারা বলেছেন: হা হা! ঠিকাছে! ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২
সৈয়দ মশিউর রহমান বলেছেন: চরম সত্য কথা সবাই এখন অনুসারী।