| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আমি কে, আমি যেমন নিজে জানি না, বাকিরাও নিশ্চিতভাবে কিছু জানেন না। বেশিরভাগ ঐতিহাসিকের মতে আমি নিতান্তই এক কাল্পনিক চরিত্র, ইতিহাসে আমার অস্তিত্ব নাই! তাদের মতে ঔপন্যাসিক, গল্পকারেরা বিবেক চরিত্র চিত্রায়নে আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এমনকি আমার নাম নিয়েও বিভ্রাট আছে। কেউ কেউ আমার নাম গোলাম হোসেন বলেও অভিহিত করেছেন!
পোস্ট উৎসর্গঃ ব্লগার পারভেজ আলম*
নকশাল আন্দোলনের প্রানপুরুষ চারু মজুমদার ছিলেন চিরকালীন বিপ্লবী। গনতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ে গেরিলা পদ্ধতির প্রতিই তার ঝোঁক বেশি ছিল। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (সিপিআই) এর সদস্য চারু ১৯৪৬ সালের উত্তরবঙ্গে (প্রধানত এপার বাংলায়) সংঘটিত তেভাগা আন্দোলনেও তিনি অংশ নেন। ১৯৬৪ সালে সিপিআই থেকে আদর্শিক মতপার্থক্যের কারনে বের হয়ে সিপিআই (মার্ক্সিস্ট) এ যোগ দেন। এসময় শারীরিক অসুস্থতার কারনে তাকে দীর্ঘদিন বিশ্রামে থাকতে হয়। বিশ্রামকালে তিনি মাও সেতুং এর চীন বিপ্লবকে খুব ভালভাবে স্টাডি করেন এবং একই পদ্ধতিতে ভারতে সমাজ সংস্কারের পরিকল্পনা করেন। ১৯৬৭ সালে সিপিআই (মার্ক্সিস্ট) নির্বাচনে অংশ নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত নিলে চারু মজুমদার ও অন্যান্য বিপ্লবী নেতাদের সাথে নির্বাচনভিত্তিক নেতৃবৃন্দের চরম তিক্ততার সৃষ্টি হয়।
'৬৭ সালের মে মাসে দার্জিলিং এর নকশালবাড়ি নামের এক গ্রামের জনৈক বিমল কিষান আদালত থেকে তার নিজের জমি চাষ করার অনুমতি পান। কিন্তু স্থানীয় জোতদারদের গুন্ডারা সেই জমি ছিনিয়ে নেয়। চারু মজুমদার এবং কানু স্যান্যালের নেতৃত্বে গ্রামের নিম্নবর্গ মানুষ জোতদারদের আক্রমন করে জমি ফিরিয়ে দেবার দাবি জানায়। এই ঘটনার জের ধরে ২৪শে মে কুখ্যাত পুলিশ ইন্সপেক্টর সোনম ওয়াংগরি বিপ্লবীদের হাতে খুন হয়। আন্দোলন দমানোর জন্য স্বরাস্ট্রমন্ত্রী জ্যোতি বসুর পুলিশ বাহিনী নির্মমভাবে গুলি করে এগার জনকে হত্যা করে যার মধ্যে আট জন মহিলা ও দুই জন শিশু। দুই মাসের মধ্যেই পুলিশ এই আন্দোলনকে চাপা দিয়ে ফেললেও এর আদর্শ খুব শিঘ্রিই পুরো বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে নকশালবাড়ি আন্দোলনের সূচনা করে যা পরবর্তী পাঁচ বছর স্থায়ী হয়।
রাতারাতি চারু মজুমদার পশ্চিমবঙ্গই না শুধু, গোটা ভারতের বিশেষ করে তরুন সমাজের নায়কে পরিনত হন। গ্রামবাংলার খেটে খাওয়া মানুষ এই আন্দোলনকে তাদের দুর্দশাগ্রস্থ জীবন থেকে উদ্ধার পাওয়ার একমাত্র পথ হিসেবে দেখতে শুরু করে। ভোটের রাজনীতি যেহেতু স্বাধীনতার বিশ বছর পরও তাদের তেমন কোন কাজে আসেনি, তাই এই সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর হয় ভারতের প্রায় অর্ধেকের বেশি জনসাধারন।
বিপ্লবীদের নীতি ছিল জমির মালিকানা তথাকথিত মালিকপক্ষ থেকে কেড়ে নিয়ে সেখানে চাষীদের পূনর্বাসন করা এবং পুলিশ বা প্রশাসন মালিকের পক্ষ নিলে তাদেরকেও সশস্ত্র হামলা করা। বাংলার বেশ কিছু জায়গা নকশালদের পুরোপুরি দখলে চলে যায়। সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহন করে উপজাতি সম্প্রদায় বিশেষ করে সাঁওতালরা যারা বছরের পর বছর যাবৎ শুধু নিগৃহিতই হয়েছে।
অবিশ্বাস্যভাবে কলকাতার শীর্ষস্থানীয় কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সারির ছাত্রছাত্রীরাও সমাজ বদলের রোমান্টিসিজমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বই-খাতা ফেলে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। ষাটের দশকে সারা পৃথিবী জুড়েই তরুন সমাজের মধ্যে একটা অস্থিরতা চলছিল। নিয়ম রীতিকে ভেঙ্গে চুড়ে নিজের মত করে তৈরী করার একটা প্রবনতা সেসময় ইউরোপ, আমেরিকায় প্রবল জনপ্রিয় হয়েছিল। বাংলার যুবসমাজও এই নিয়মভাঙ্গার উচ্চাশায় নকশালবাদী দলে যোগ দেয়। ছাত্র এবং কৃষকদের সমন্বয়ে গঠিত এই নব্যবিপ্লবীর দল ধনিক শ্রেনীর মূর্তিমান আতঙ্কে পরিনত হয়।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করলে কেন্দ্রের সরকার যেকোন উপায়ে নকশালদের দমননীতি গ্রহন করে। হাজার হাজার বিপ্লবীকে কোনরকম বিচার ছাড়াই পুলিশ সরাসরি গুলি করে বা থানায় এনে নির্মম অত্যাচার করে হত্যা করা হয়। ১৯৭০ সালে শীর্ষনেতা কানু স্যানাল পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। গোটা একাত্তর জুড়ে চলতে থাকে এই দমন এবং সরকার চারু মজুমদার ছাড়া প্রায় সব নেতাকে গ্রেফতার বা হত্যা করতে সক্ষম হয়। নেতা-কর্মী দুই দিকেই এত বেশি ক্ষতিসাধন হয় যে চারু মজুমদারের একার পক্ষে আর এই আন্দোলন চালানো সম্ভব হচ্ছিল না। যেসব নব্যবিপ্লবী তখনও ধরা পড়েনি, তারাও পুলিশের ভয়ে গা ঢাকা দেয়া শুরু করে।
প্রশাসনের এই অত্যাচার ছাড়াও পার্টির অন্তর্কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। চারু মজুমদারের অনেক কমরেডও তার শ্রেনীশত্রু খতম নীতির বিরোধীতা করেন। শুধুমাত্র ধনী হবার কারনেই হত্যা করার যে পরিকল্পনা কমরেড চারু নিয়েছিলেন, সেটা সমালোচিত হয়। ফলে পার্টি বহুধাবিভক্ত হয়ে যায়। এই বিভক্তি সরকারকে নকশাল দমনে সাহায্য করে এবং মোটামুটি ১৯৭২ সালের মধ্যে আন্দোলন স্তিমিত হয়ে যায়।
অবশেষে চারু মজুমদার ১৯৭২ সালের ১৬ই জুলাই তার সহকর্মী দীপক বিশ্বাসের বিশ্বাসঘাতকতার কারনে ধরা পড়েন। ১২ দিনের প্রচন্ড পুলিশ নির্যাতনের পর জুলাইয়ের ২৮ তারিখে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর সাথে সাথে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পতন ঘটে। এরপরও বিভিন্ন জায়গায় ছোটখাট কিছু গ্রুপ তাদের আন্দোলন চালানোর চেষ্টা করলেও সফলতা পায়নি। সাতের দশকের শেষভাগে নকশাল আন্দোলনের পুরোপুরি মৃত্যু ঘটে।
অপর শীর্ষনেতা কানু স্যান্যাল জ্যোতি বসুর সরাসরি হস্তক্ষেপে ১৯৭৭ সালে জেল থেকে মুক্তি পান এবং নির্বাচনভিত্তিক গনতান্ত্রিক রাজনীতি শুরু করেন। বিষ্ময়করভাবে ২০১০ সালে ৭৮ বছর বয়সী কানু গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার তেমন কোন কারন জানা যায় নি। তবে সেসময় শারীরিকভাবে উনি খুব একটা সুস্থ ছিলেন না।
নকশাল কেন ব্যর্থ হল? এর পেছনে বেশ অনেকগুলি কারন একসাথে কাজ করেছে। এখানে আমি কয়েকটা মৌলিক সমস্যাকে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি।
১) নকশাল ছিল একটা জাতীয় আন্দোলন। শুধু একটা অঞ্চলে সফলতা পেয়ে লাভ হবে না, গোটা ভারতে পাওয়া দরকার ছিল। ভারতে এত ভিন্ন জাতের, ভাষার, সংস্কৃতির লোক বাস করে যে সবাইকে একসাথে কোন ইস্যুতে উদ্বুদ্ধ করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। তাছাড়া সেসময় টেলিফোন ইত্যাদি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল অপ্রতুল। মূলত এই ভূমি এবং জনসংখ্যার এই বিশাল আকারের কারনে ভারতের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন কখনো সফল হয়নি। নকশাল আন্দোলন বাংলা ছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এছাড়া আরও বেশ কিছু অঞ্চলে এটি শুরু হলেও সর্বভারতীয় গ্রহনযোগ্যতা এটি পায়নি।
২) নকশাল নেতাদের শ্লোগান "চীনের চেয়ারম্যান মাও আমাদের চেয়ারম্যান" ছিল ভুল। কলকাতায় বৃষ্টি হলে পিকিংয়ে মাও এর উপর ছাতা ধরার আগ্রহী খুব বেশি লোক হয় না। অন্য দেশের এক নেতা যার সাথে ভারতের জনগনের কোন সম্পর্ক নাই, তাকে চেয়ারম্যান মানতে লোকে এমনিতেও রাজি হত না, তার উপর ১৯৬২ সালের চায়না-ভারত যুদ্ধের কারনে ভারতের সাধারন জনতা চায়নার উপর বিশেষ করে মাওয়ের উপর প্রচন্ড ক্ষিপ্ত ছিল। তাই মাওকে নিয়ে নকশালদের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি তারা ভাল চোখে দেখেনি।
৩) হাজার হাজার প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী হুজুগে পড়ে নকশালে যোগ দিয়েছিল এই আন্দোলন সম্পর্কে ভালভাবে না জেনেই। আন্দোলনের মূল আদর্শের সাথে তার তেমন পরিচয় ছিল না।
৪) গুজব ছিল, চারু মজুমদারের দেশি মদে আসক্তির কারনে তার চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা আস্তে আস্তে কমে আসছে। এছাড়া আগেই বলা হয়েছে, তার শ্রেনীশত্রু খতমের ধারনার সাথে তার সহকর্মীরাই একমত ছিলেন না।
৫) নকশাল আন্দোলনের ভিত্তি ছিল চায়নায় মাও সেতুং এর সাফল্য। মাও সে তুং সেখানে কেন সফল, সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু এভাবে জমি অস্ত্র দেখিয়ে কেড়ে নিয়ে অল্প কিছুদিনের জন্য হয়ত চমক দেখানো যায়, দীর্ঘমেয়াদের আন্দোলন সফল করা যায় না। সে হিসেবে তাদের মূল ভিত্তিটিই ছিল অবাস্তব। ষাটের দশকে বিশ্বজুড়ে মাও এর যত ভক্ত ছিল, খোদ চায়নাতেও বোধ হয় অত ভক্ত ছিল না। মাও এর নীতি তাত্ত্বিকভাবে শুনতে ভাল লাগে, কার্যক্ষেত্রে অচল।
এছাড়া এই বিষয়ে গবেষনাকালে বিভিন্ন ভারতীয় ওয়েবসাইটে আরও কিছু কারন দেখতে পেয়েছি যেমন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নাকি নকশালদের মধ্যে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং সেই কংগ্রেসীরা নকশালের নাম ডোবানোর জন্য বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়। এগুলির সত্যতা এত বছর পর যাচাই করা খুব কঠিন।
নকশালের মূল নীতি ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সাম্যবাদ। তাদের কর্মকান্ডে যত ভুলই থাকুক না কেন, মূল নীতিটি মূল্যহীন হচ্ছে না কোনভাবেই। পঞ্চাশোর্ধ চারু মজুমদার যে যাদুতে দেশের বিরাট সংখ্যক তরুন সম্প্রদায়কে আন্দোলিত করেছিলেন, জীবনে স্বপ্ন দেখতেও ভয় পাওয়া দরিদ্রতম জনগোষ্ঠিকে একবার হলেও কিছু পাওয়ার আশা দেখিয়েছিলেন, সেটাকেও ছোট করা যাবে না। দুঃখের বিষয় এখানে যে এই ভুল নীতিকে বরণ করতে গিয়ে বাংলার বহু প্রতিভাবান ছেলেমেয়ে অকালে তাদের জীবন নষ্ট করেছিল।
বিঃদ্রঃ এই পোস্টের তথ্যের খুঁটিনাটি বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত। কিন্তু মূল কাঠামো, ব্যাখ্যা, ব্যর্থতার কারন অনুসন্ধান ইত্যাদি আমার নিজস্ব। নকশাল আন্দোলন কাছ থেকে আমি দেখিনি। পরবর্তীকালে বিভিন্ন বইপত্র, প্রবন্ধ পড়ে যা জেনেছি, তার ভিত্তিতে এই বিশ্লেষন।
===========================================
* ব্লগার পারভেজ আলমকে আমি খুব ভাল চিনি না। ব্লগিং একেকজনের কাছে একেকরকম। আমার ব্লগিং স্টাইল আর তার ব্লগিং স্টাইল মোটেই এক না। আমাদের আগ্রহ ভিন্ন বিষয়ে। উনি আমার পোস্টে খুব একটা আসেনও না। আমিও তার পোস্টে যাই না। কিন্তু এই স্বল্পপরিচয়ের মধ্যেও আমি তার জ্ঞান, বিচার-বিবেচনা, যুক্তি-তর্কের উপস্থাপন, সহব্লগারদের প্রতি শ্রদ্ধা ইত্যাদি কারনে তাকে খুব পছন্দ করি। ব্লগে যখন আমি একদম নতুন, জেনারেল স্ট্যাটাসও পাই নি, তখন উনি আমার এক পোস্টে এসে প্রশংসা করে গিয়েছিলেন - "ব্লগে গত কয়েক মাসে নতুন কিছু নিক দেখতে পাচ্ছি, যাদের দেখে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।" আমি এই প্রশংসাবাক্য পড়ে এত নার্ভাস হয়েছিলাম যে আজকে এই ৮ মাস পরেও এই মন্তব্যের জবাব দেইনি। জবাবের বদলে আজকে এই উপহার দিলাম।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:১৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
'নব্যবিপ্লবী' কথাটা কিছুটা ব্যঙ্গাত্বক অর্থে ব্যবহার করেছি। আমি তাদের আত্মত্যাগ ও আদর্শকে সম্মান করি। কিন্তু বাম রাজনীতি এমন একটা জিনিস যে এটা ধুপধাপা মাঠে নেমে গেলেই হয় না। এখানে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। নিজের লাইফস্টাইল, জীবন সম্পর্কে ধারনা সবকিছু আমূল বদলে নিতে হয়। এর জন্য সময় প্রয়োজন। আর এটা তো সশস্ত্র বিপ্লব। আরো বড় ব্যাপার। নকশালের আসল নেতারা ছাড়া যারা হঠাৎ করে বই বা লাঙল ছেড়ে নেমে গিয়েছিল, তাদের সেই প্রস্তুতিই ছিল না। এখন আপনি এর সাথে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা দিতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধারাও তো আদতে হঠাৎ করেই সব ছেড়েছুড়ে রণক্ষেত্রে চলে গিয়েছিল। কিন্তু দুটো ভিন্ন বিষয়। বাইরের কোন শক্তির সাথে স্বাধীনতার সংগ্রাম করা এক জিনিস আর নিজেদের মধ্যে শ্রেনীবৈষম্য দূর করার আন্দোলন করা আরেক জিনিস। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হচ্ছে স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনি সেটার জন্যই লড়ছেন, আর নকশাল আন্দোলনে মূলত লড়ছেন ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য। তাই এটা অনেক বেশি কঠিন।
গুজবটা আন্দোলনকে বের ক্ষতিগ্রস্থ করেছিল। চারুর সহকর্মীরা এবং তার অধস্থন নেতারা তার উপর ভরসা রাখতে পারছিলেন না। এ ধরনের আন্দোলনে নেতার সিদ্ধান্তের উপর শতভাগ নির্ভর করতে না পারলে মুশকিল।
মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে আমার খুব ভাল ধারনা নাই। কিশোর-তরুন বয়সে নকশালকে অনেক বড় ব্যাপার মনে হয়েছিল, তাই স্টাডি করেছিলাম। এখন সেই বয়স নাই, পড়ার জন্য হাতের কাছে বইপত্র নাই, সময় নাই এবং অন্য দেশের খবর নেয়ার ততটা আগ্রহও নাই। সেকারনে খুব একটা জানা হয়নি। আপনার জানা থাকলে একটা পোস্ট দিতে পারেন। তখন পড়ে দেখব।
ভাল লাগল আপনার সাথে আলাপ করে।
২|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৩০
মশিউর মামা বলেছেন: আপনার ৫ নম্বর পয়েন্টের সাথে আমার মতপার্থক্য আছে |' মাও এর নীতি তাত্ত্বিকভাবে শুনতে ভাল লাগে, কার্যক্ষেত্রে অচল।- মাও এর নীতি কিন্তু চিনে সফল হয়ে ছিল |কার্যক্ষেত্রে ভারতে এই নীতি ভারতীয় পরিবেশের সাথে অসামঞ্জস্য হলে দোষ নীতির না , প্রণেতাদের | তাদের উচিত ছিল লক্ষ্য ঠিক রেখে ভারতীয় আদলে নীতি প্রনয়ন করা |
চারু মজুমদার-কানু স্যানালরা অহেতুক কিছু হত্যার , মূর্তি ভাঙ্গার নীতি নেয় যা গণমানুষের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে | নিম্ন পদস্থ পুলিশ কর্মচারী হত্যা বা সুভাষ বসুর মূর্তি ভাঙ্গা আর যাই হোক জনসমর্থন আনে না |
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:২৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এই মন্তব্যটা পড়েই প্রথমেই মনে হল যে আপনার জানাশোনা, চিন্তাভাবনা বেশ ভাল। ব্লগীয় ঝগড়াবিবাদে সময় ও এনার্জি নষ্ট না করলে আমরা আপনার কাছ থেকে অনেক ভাল পোস্ট পেতাম। যাই হোক।
এটা আসলে নির্ভর করে আপনার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গির উপর। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না, এ ধরনের সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। চীনে কেন সফল হয়েছিল, সেটা নিয়ে আমার খুব ভাল ধারনা নাই। নকশাল যতটা স্টাডি করেছি, চীন বিপ্লব ততটা করা হয়নি। হতে পারে চীনের মানুষগুলি একটু নিরীহ বলে এই বিষয়কে সহজে মেনে নিয়েছে। আমি যত চীনা লোকের সাথে মিশেছি, কারোরই তাদের দেশ কিভাবে চলছে এই বিষয়ে তেমন ধারনা নাই, আগ্রহও নাই। চলছে তো চলুক। এক ৮৭ সালেই তাদের ছাত্ররা একবার ফুঁসে উঠেছিল। এগুলি ভারত বা পৃথিবীর বেশিরভাগ জায়গায় কল্পনা করা যায় না।
চারু মজুমদারের হার্ড লাইন একটা সময় মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তুলেছিল। তবে লোকে বলে এসব মূর্তিভাঙ্গা তথা ইমেজ ধ্বংসকারী কাজগুলি নকশালের কংগ্রেসের ছদ্মবেশি গুপ্তচরদের কাজ। সত্যি-মিথ্যা যাচাই করা কঠিন।
অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
৩|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৩৫
অ্যামাটার বলেছেন: নকশাল সম্বন্ধে খুব বেশি কিছু জানা ছিল না। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:২৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
৪|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৫৭
কাউসার রুশো বলেছেন: ক্ষমতাসীন কংগ্রেস নাকি নকশালদের মধ্যে নিজেদের লোক ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং সেই কংগ্রেসীরা নকশালের নাম ডোবানোর জন্য বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়।
আমিও তাই শুনেছি।
নকশালের মূল নীতি ছিল অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সাম্যবাদ। তাদের কর্মকান্ডে যত ভুলই থাকুক না কেন, মূল নীতিটি মূল্যহীন হচ্ছে না কোনভাবেই।
সহমত। তবে সহিংস আন্দোলন কখনই সমাধানের উপযুক্ত পন্থা নয়
চারু মজুমদার সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম। ধন্যবাদ ![]()
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:২৬
রাইসুল জুহালা বলেছেন: তোমাকেও অনেক ধন্যবাদ রুশো। তুমি রুশোকে নিয়ে একটা পোস্ট দাও।
৫|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৫৭
রাজসোহান বলেছেন: আন্দোলনের নামটা ছাড়া কিছুই জানতাম না, পোস্টের জন্য ধৈন্যা.
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:২৭
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে জানাতে পেরে আমি খুব খুশি।
৬|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:০১
কাউসার রুশো বলেছেন: জুহালা ভাই নকশাল আন্দোলনের উপর ভালো কিছু বইয়ের নাম দিন তো
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:৩১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: বইয়ের নাম তো মনে নাই।
এসব নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেছি ২০-২৫ বছর আগে। ভারত বিষয়ক আমার জ্ঞানগরিমার একটা বড় উৎস ছিল দেশ পত্রিকা। আমাদের বাসায় নিয়মিত আসত। আমার আম্মার প্রিয় পত্রিকা। পরে তো সরকার ব্যান করে দিল। আম্মা পরে পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে পত্রিকা সানন্দার ভক্ত হয়ে গেল। দেখেছ নাকি দেশ পত্রিকাটা কখনো? বাংলা কাগজের বইয়ের সাথেই বোধহয় আমার যোগাযোগ নাই বহুদিন। সুনীল, সমরেশের উপন্যাসগুলিতে একটা ভাঙাচোরা ধারনা পাওয়া যায়। ভাঙাচোরা বললাম এই জন্য যে ওগুলিতে নকশাল আন্দোলনকে ফ্যান্টাসাইজ করে অনেক বড় করে তুলে ধরা হয়েছে। দিনশেষে সবারই তো বই বিক্রি করে পেট চালাতে হয়। যাই বলো, নকশাল ব্যাপারটার মধ্যে যে একটা হিরোইজম আছে সেটা অস্বীকার করা যাবে না।
৭|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৩৪
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: নকশাল নিয়া বেসিক আইডিয়া পাবেন সুনীলের পূর্ব-পশ্চিম অথবা সমরেশের কালবেলায়।
২ টাই অসাধারন বই...সবাই পড়তে পারবেন।
আর পূর্ব-পশ্চিম ২য় খন্ডের শেষে সুনীল বেশ কিছু বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে দিয়েছেন....যেগুলা পড়লে নকশাল আন্দোলন নিয়ে আর কিছু জানা বাকি থাকবেনা.......
এখন ওয়েবসাইটে যাই পাওয়া যায় সবই একমুখো ইতিহাস...
আন্দোলনের আসল লক্ষ্য নিয়ে কোথাও কোন কিছু লেখা পাওয়া যায়না।
আর তখনকার পরিস্হিতি এমন ছিল যে, মেধাবী ছাত্ররা আন্দোলনে নেমে পড়েছে.....কিন্তু তা অবিশ্বাস্য ছিলনা..রোমান্টিসিজম ঠিক আছে তবে আদর্শ ছিল একটা.....এইটা কোন আদর্শবিহীন আন্দলন ছিলনা.....
তবে আমার দৃষ্টিতে ব্যর্থতার প্রধান কারন....একজন নেতার অভাব।
চারু মজুমদারের নেতা হবার মত কোন যোগ্যতাই ছিলনা....তিনি আদর্শবাদী ছিলেন,কিন্তু এতবড় একটা বিপ্লবে নেতৃত্ব দেবার মতো কোন ক্ষমতা তার ছিলনা......জ্যেতি বসু মাপের মতো একজন নেতা হইলেও এই আন্দোলন এত ব্যর্থ হতনা.....
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৩৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: একটু ভুল হচ্ছে এখানে। মূল আন্দোলনকে আমি আদর্শবিহীন বলছি না। এমনকি যেসব ছাত্রছাত্রী হঠাৎ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ফেলে দূরদূরান্তের গ্রামে গিয়ে শ্রেনীসংগ্রামে মেতে উঠেছিল, তাদের আদর্শকেও ছোট করতে চাই না। কিন্তু বাম রাজনীতি এমন একটা জিনিস যে এটা ধুপধাপা মাঠে নেমে গেলেই হয় না। এখানে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়, নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়। নিজের লাইফস্টাইল, জীবন সম্পর্কে ধারনা সবকিছু আমূল বদলে নিতে হয়। এর জন্য ব্যপক সময় প্রয়োজন। আর এটা তো সশস্ত্র বিপ্লব। আরো বড় ব্যাপার। এই ছাত্রছাত্রীদের সেই প্রস্তুতি ছিল না। পৃথিবীতে সবাই চায় গরীবের দুঃখ কষ্ট দূর করতে, সমাজের সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আপনি যখন মিলন হত্যার ভিডিও দেখেন, আপনারও কি ইচ্ছা হয় না যে অস্ত্র হাতে বেরিয়ে পড়ে এর সাথে জড়িত সব পুলিশকে খুন করে ফেলি? যদি আপনার ইচ্ছা হয়, তার মানে আপনি আদর্শবাদী। কিন্তু তার মানে এই না যে আপনি দুম করে পথে নেমে যাবেন। নকশালদেরও আপনার, আমার, সবার মত এই আদর্শটা ছিল। কিন্তু তাদের মাঠে নেমে যাওয়ার পেছনে বেশি কাজ করেছে তারুন্যের হিরোইজম এবং রোমান্টিসিজমটাই। সেটাই আমি বলতে চেয়েছি।
নকশাল আন্দোলনের কাছাকাছি সময়ই (১৯৭৩-৭৪) হিন্দি ছবিতে অ্যাংরি ইয়াং ম্যান হিসেবে অমিতাভ বচ্চনের উত্থান হয়। এর আগে অ্যাকশন ছবিতে হিন্দিতে খুব একটা হত না। তার এই দুষ্ট দমন স্টাইল এত জনপ্রিয়তা পাওয়ার কারন আর কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েদের নকশালে যোগ দেয়ার কারন কিন্তু খুব নিবিরভাবে সংযুক্ত। পার্থক্য এটা - সাধারন মানুষ পর্দায় অমিতাভ, ধর্মেন্দ্রকে দুষ্ট দমন করতে দেখে নিজেকে সেখানে কল্পনা করত। নকশালরা কল্পনা করতে করতে নিজেরাই মাঠে নেমে গিয়েছিল।
এখন আপনি এর সাথে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা দিতে পারেন। মুক্তিযোদ্ধারাও তো আদতে হঠাৎ করেই সব ছেড়েছুড়ে রণক্ষেত্রে চলে গিয়েছিল। কিন্তু দুটো ভিন্ন বিষয়। বাইরের কোন শক্তির সাথে স্বাধীনতার সংগ্রাম করা এক জিনিস আর নিজেদের মধ্যে শ্রেনীবৈষম্য দূর করার আন্দোলন করা আরেক জিনিস। মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হচ্ছে স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে আপনি সেটার জন্যই লড়ছেন, আর নকশাল আন্দোলনে মূলত লড়ছেন ব্যক্তিস্বাধীনতাকে খর্ব করার জন্য। তাই এটা অনেক বেশি কঠিন।
নেতা হিসেবে চারু মজুমদার আমাদের বঙ্গবন্ধুর মত বলে মনে হয়। মানুষকে উদ্দীপ্ত করার ক্ষমতা আছে। কিন্তু পরিচালনা করতে পারেন না। হুম, হতে পারে চারুর জায়গায় কোন সুপরিকল্পক থাকলে ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত। আপনাকে অবশ্য আমার ১ নাম্বার পয়েন্টটাও (ভারতের আকার এবং জনসংখ্যার প্রকার) মাথায় রাখতে হবে। জ্যোতি বসু তো নকশালবিরোধী ছিলেন, এই পোস্টে তার উল্লেখও আছে।
৮|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৪২
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: আপনি এই লেখায় আন্দোলনের চাইতে চারু মজুমদারকে খুব বড় করে তুলেছেন...মনে হচ্ছে চারু মজুমদারই আন্দোলনের প্রধানতম ব্যক্তি ছিলেন..উনিই আন্দোলনের সূচনাকারী!!
আসলে এই আন্দোলনটা অবশ্যম্ভাবী ছিল....চারু কেবল উসকে দিয়েছিলেন।
৩) হাজার হাজার প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রী হুজুগে পড়ে নকশালে যোগ দিয়েছিল এই আন্দোলন সম্পর্কে ভালভাবে না জেনেই। আন্দোলনের মূল আদর্শের সাথে তার তেমন পরিচয় ছিল না।
আপনার এই কথাটা মানতে পারলাম না....এই আন্দোলনে যারাই নেমেছিল
সবাই জেনেই নেমেছিল.....হুজুগ ছিল ঠিক আছে কিন্তু আদর্শ নিয়ে কারো কোন দ্বিমত ছিল না..
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৫২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: খুব ভাল ইতিহাস ঘাঁটলে চারু আসলে এসেছিলেন একটু পরে, যেটা উনি নিজেও স্বীকার করেছেন। একদম প্রথমদিকে শুরু করেন কানু স্যান্যাল এবং অন্য একজন যার নাম মনে করতে পারছি না!! এটা অনেকটা আমাদের দেশের ইতিহাসের মতই। আওয়ামী লীগ শুরু হয়েছিল মাওলানা ভাসানী, শামসুল ইসলাম প্রমুখের হাতে। শেখ মুজিব ছিলেন তাদের বেশ পরে। কিন্তু ষাটের দশকেই শেখ মুজিবই আর আমাদের সংগ্রম সমার্থক হয়ে উঠল। চারু মজুমদারও নকশালের পুরোধা হয়ে উঠেছিলেন। তার নামে, তার ইমেজে লোকে পথে নেমেছিল।
পরের প্রসঙ্গটার উত্তর আমি উপরে দিয়েছি।
আপনার চিন্তাভাবনা, পোস্ট খুঁটিয়ে পড়া এবং সমালোচনা খুব ভাল লাগল। আপনি আমার অনেক বিশ্লেষনের সাথেই একমত হননি। লেখাটা হয়ত আপনার খুব ভালও লাগেনি। কিন্তু তাও আপনার সাথে আলোচনা করে মজা পেলাম। নকশালকে শুধু বই পড়ে নিরপেক্ষ বিশ্লেষন করা কঠিন। আমি বা আপনি ওইসময় ওই জায়গায় থাকলে সব আবেগকে সরিয়ে আসল ব্যাপারটা বুঝতে পারতাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে বাম রাজনীতি পছন্দ করি না। আমি মনে করি এটা অবাস্তব। আমার ব্যক্তিগত ধারনাই হয়ত পোস্টে ফুটে উঠেছে। এই একই পোস্ট আপনি লিখলে হয়ত সম্পূর্ন ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করবেন। যাই হোক। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৯|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১২:৪৬
নীরব দর্শক বলেছেন: তথ্য বহুল পোষ্ট।
প্রিয়তে
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৫৭
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
১০|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ১:৫৭
""ফয়সল অভি "" বলেছেন: ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহ একটি বিশদ লেখা
ভারতের মাওবাদী বিদ্রোহ
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৫৭
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার লিঙ্কের জন্য।
১১|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ দুপুর ২:০৪
ছাইরাছ হেলাল বলেছেন:
বিষয়টিতে কখনই আগ্রহ বোধ করিনি,
তাই জানার চেষ্টাও করা হয়নি।
আপনার লেখা - তাই পড়লাম ও
কিছু ধারনা নিলাম।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৫৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকে জানাতে পেরে আমি খুশি। আপনার কন্যার কি খবর?
১২|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৪:৫৪
মশিউর মামা বলেছেন: ভাই , আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপরে আমার একটা ছোটখাটো মাস্টার্স ডিগ্রী আছে | কিছু কিছু জিনিস ভার্সিটিতে ৪-৫ বছর কাটাইলে পরিবেশের কারণে জানা হয় | এতে আমার কোনো কৃতিত্ব নাই |
আমি প্রায় সব ব্লগ লিখছি ঘুম থেইকা উইঠা | মন চাইল তো দিলাম এরে একটা খুচা , বা কেউ বেশি বাড়াবাড়ি করতেছে , দেই তারে একটা গুতা | এই খোচা - গুতা দশ বারো লাইনে সারা যায় | ভালো ব্লগ লিখতে অনেক সময় লাগে |
আপনে কি মাধ্যমিকে জহির রায়হান এর ছোট গল্প পড়ছিলেন সময়ের প্রয়োজনে ?
যেখানে উনি দেখাইছিলেন মানুষ যুদ্ধ করছে , আর্মস হাতে তুইলা নিছে সময়ের প্রয়োজনে |
পশ্চিম বঙ্গে তখন কংগ্রেস ক্ষমতায় , কোনো বিদেশী না দেশী সরকার | সরকার সাধারণ মানুষের শত্রু ছিলনা , বা ভয়াবহ কোনো দমন -পীড়ন চালাইতেছিলনা যে মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ফুসে উঠবে | মানুষ সরকারের উপর বীতশ্রদ্ধ ছিল, যেইটারে চারু মজুমদার মনে করছিলেন অস্র হাতে তুইলা নেবার মোক্ষম সময় | দুর্ভাগ্য , কিছু ব্রাইট পোলাপান অস্রহাতে তুইলা নিছিল সময়ের প্রয়োজনে না , চারু মজুমদারের প্রয়োজনে |
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:০৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: সময়ের প্রয়োজনে পড়েছি। আপনার শেষ প্যারাটার সাথে মোটাদাগে আমি একমত।
মাঝে মাঝে ঘুমাতে যাওয়ার আগেও দু'একটা পোস্ট আমাদের জন্য করেন স্যার। আমরা ভাল কিছু পেতাম।
অফটপিকঃ নাজনীন১ কে নিয়ে আপনার কি ধারনা আমি জানি না। উনি আমার ফেসবুকে আছেন। আপনি যদি আমার কথা বিশ্বাস করতে পারেন, উনি টিপিক্যাল বাংলাদেশি মধ্যবয়স্কা হিজাব করা ধার্মিক মহিলা। দেখে মধ্যবয়স্কা মনে হয়েছে, আমি অবশ্য তার বয়স জানি না। তাকে ইসলামি সার্টিফিকেট দিয়ে আমার কোন লাভ নিশ্চয়ই নাই। আপনার পোস্টে যারা তার নামে আজেবাজে কথা বলছে, কাজটা খুব খারাপ হচ্ছে।
১৩|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ বিকাল ৫:৫০
রেজোওয়ানা বলেছেন: চারু মজুমদারের মুলনিতী (শ্রেণী শত্রু খতম, গন সংগঠন, গণ আন্দোলন, নির্বাচন বয়কট)ইত্যাদি কিন্তু তৎকালিন পূর্ব পাকিস্তান কমুনিষ্ট পার্টি আর পূর্ব বাংলা কমুনিষ্ট পার্টি বেশির ভাগই এটাকে সাপোর্ট করেনি। অনেক রাজনীতিবিদরাই একেই আন্দোলন ব্যার্থের মূল কারণ বলে মনে করে।
আপনার বিশ্লেষণ ভাল লাগলো রাইসুল ভাই।
৭ নম্বর মন্তব্যে কায়সার ভাইয়ের সাথে একমত!
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৪৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। চারু মজুমদার বেশি হার্ড লাইনে চলে গিয়েছিলেন। জনগনকে বাদ দিয়ে এইভাবে সংগ্রাম হয় না।
১৪|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:২৬
মিরাজ is বলেছেন: বিপ্লবীদের ভালো পাই। কত কিছু যে জানার আছে।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৪৬
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে। এই পোস্টের সাইজ পছন্দ হয়েছে? এখানে তো ক্ষুদিরাম পোস্টের মত লিঙ্ক দিতে ফাঁকিবাজি করি নাই।
১৫|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৪২
লাবণ্য ও মেঘমালা বলেছেন: দেশ পত্রিকা বা সুনিল সমরশের বই পড়ে এক সময় এই আন্দোলনের ভক্ত আমিও হয়েছিলাম। কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষমাত্রা বা নেতৃত্বের অভাবে এই আন্দোলন ব্যার্থতায় পরিনত হয়।
রাইসুল ভাই কে এই বিষয় নিয়ে লেখায় ধন্যবাদ। আরও প্রানবন্ত আলোচনা আশা করছি।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৫০
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ কবি।
১৬|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:০১
নিঃসঙ্গ নির্বাসন বলেছেন: মোবাইলে সামুর পোস্ট দেখছিলাম। এই পোস্টটা দেখেই পিসি অন করলাম।
লেখাটা খুব ভালো লাগলো। কিন্তু আপনি এখানে শুধু ভারতের ব্যাপারটাই তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটটাও নিয়ে আসতে পারতেন।
বাংলাদেশে নকশালদের একটা বড় ভুল ছিল ৭১ এ চীন "এটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা" বলার পর, তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এটা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত ছিল। প্রথমে লোকাল নেতা কর্মীরা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে ভুল বুঝতে পারে।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৪২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এত কষ্ট করে মন্তব্য করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
পোস্টে একটা ডিসক্লেইমার লাগাব ভেবেছিলাম যে এই পোস্টে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নকশাল আন্দোলনকে ফোকাস করেছি। ভুলে যাওয়ায় ডিসক্লেইমার লাগানো হল না। ভারতের আরও ৭-৮ টা রাজ্যে নকশাল আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশে। কিন্তু ওগুলি নিয়ে আমি খুব বেশি জানি না, তাই সব বাদ দিয়েছি। বাংলাদেশের এই তথাকথিত নকশাল (এদের নকশাল বললে চারু মজুমদার ওইপারে বসেও কাঁদবেন) সম্পর্কে সত্যি বলতে আমি খুব ভাল জানি না। তাদের নিয়ে তেমন কোন গবেষনা হয়েছে বলে শুনি নাই। এদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকাও নাই। তারা তো এখনও পূর্ব বাংলা টার্ম ব্যবহার করে। আব্দুল হকের আদর্শ ছিল, উনি ত্যাগী রাজনীতিবিদ ছিলেন (তার মৃত্যুর পর আমেরিকায় থাকা ছেলেকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল উনি দেশে আসবেন নাকি লাশ সৎকার করে ফেলা হবে। ছেলে বলেছিল তিনি নাকি ৩৫ বছরের বেশি সময় অর্থাৎ ১৯৬৫ এর পর আর বাবাকে দেখেননি, তাই লাশ দেখতে আসার কোন মানে নাই) সবই ঠিক আছে। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন এটাও সত্য।
১৭|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১২
সন্যাসী বলেছেন: সুনীলের পূর্ব পশ্চিম পড়ে নকশাল আন্দোলন সম্পর্কে মোটামুটি জেনেছিলাম। সমরেশের বইতেও পড়েছিলাম। চারু মজুমদারকে নিয়ে লেখা ব্লগার 'মঞ্জুরুল হক' এর লেখা 'অসমাপ্ত বিপ্লব' বইটা কিনে রেখেছি কিন্তু পড়া হয়নি এখনো।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৩১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনার জানার সাথে আমার লেখা কি মিলল? পূর্ব পশ্চিম আমি পড়েছি অনেক বছর আগে। পঁচিশ-ছাব্বিশ বছর হবে। প্রতাপ-মামুন চরিত্র দুইটার নাম ছাড়া তেমন কিছু মনে নাই। এমনকি এই উপন্যাসে নকশাল আদৌ ছিল কিনা, সেটা নিয়েও একটু কনফিউজড হচ্ছি। প্রতাপের ছোট ছেলেটা কি নকশাল হয়েছিল? ধ্যুৎ, কিছুই মনে থাকে না আজকাল।
যাই হোক, ধন্যবাদ আপনাকে।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:২৬
রাইসুল জুহালা বলেছেন: পমপম নারী চরিত্রটা কি পূর্ব পশ্চিমে ছিল? যার বাবা ধনী হলেও সে নকশালে যোগ দিয়েছিল, পরে আরেক নকশালকে বিয়ে করে যার পেটে গুলি ছিল। এই ঘটনা কি পূর্ব পশ্চিমের, নাকি আমি অন্য কোন উপন্যাসের সাথে গুলিয়ে ফেললাম? যদি হয়ে থাকে, এই মেয়ের সাথে প্রতাপের কি সম্পর্ক? আপনার কমেন্ট পড়ার পর অনেকক্ষন যাবৎ পূর্বপশ্চিমের ঘটনা এবং সেখানে নকশাল কিভাবে এসেছে সেটা মনে করার চেষ্টা করছি। সুবিধা হচ্ছে না।
১৮|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:১৭
পারভেজ আলম বলেছেন: হুম। ঐ মন্তব্যের জবাব অবশ্য দেননাই কখনো। তবে মন্তব্যের জবাবের বদলে এইটাও খারাপ হয় নাই। আমি অবশ্য আপনের অনেক পোস্ট পড়লেও তেমন মন্তব্য করিনাই। আমি মন্তব্য করার চেয়ে পড়ি বেশী।
এইখানে কিছু আলোচনার জায়গা আছে। কিন্তু আমি অফিসে আছি, আর আলোচনার মুডও নাই, একটু পরে বাসায়ও যেতে হবে। আগামীকাল আলোচনা করবো। আপাতত ধন্যবাদ।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:২৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনি যখন এই পোস্ট পড়ছিলেন, কাকতালীয়ভাবে আমি তখন আপনার তারেক মাসুদ পোস্টটা পড়ছিলাম। ওই মন্তব্যে জবাব নার্ভাসনেসের কারনে দেয়া হয় নাই। তখন একদম নতুন ছিলাম। একটা এক লাইনের কমেন্ট লিখে পাঁচবার পড়তাম। আমি যার ভক্ত সে যদি আমার সম্পর্কে কিছু বলে সেটার কি জবাব দেয়া উচিৎ বুঝতে পারি নাই। এতদিন পর আর ওই মন্তব্যের উত্তর দিয়ে লাভ নাই।
আপনি আজকে খুব শোকগ্রস্থ সেটা বুঝতে পারছি। সময় নিয়ে পরে একদিন এসে আপনার মন্তব্য জানিয়ে যাবেন। অনেক ধন্যবাদ।
১৯|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৩৪
নীরব দর্শক বলেছেন: চারু মজুমদারের মতাদর্শের কিছু বই আছে। পাবলিশ করা দোকানের বই না কিন্তু কট্টর বামের সাথে জড়িতদের কাছে নাকি আছে।
আমি যোগার করা চেস্টা করেছি কিন্তু ব্যর্থ। আপনার কাছে কোন তথ্য আছে??
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৫২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: না ভাই। তেমন কোন তথ্য নাই এই ব্যাপারে। তবে এত বছর পর চারু মজুমদারের আদর্শের বই এত গোপন ব্যাপার কেন হবে?
২০|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৩৭
এ হেলাল খান বলেছেন:
এ আন্দোলনের কথা শুধু শুনেছি। বিস্তারিত কিছুই জানতাম না তবে বিপ্লবিদের যেহেতু ভাল লাগে তাই জানার আগ্রহ সব সময় ছিল। আপনার লেখায় কিছুটা হলেও আমার সে আগ্রহ মিটেছে।
তাছাড়া আলোচনাও ভাল লাগছে। পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকে কিছুটা হলেও ধারনা দিতে পেরে আমার খুব ভাল লাগল। এমনিতেই এই পোস্টটা যথেষ্ট বড় হয়ে গেছে। এর চেয়ে বড় করে লেখা সম্ভব হত না আমার পক্ষে। তাছাড়া আমার কাছে এ বিষয়ক বইপত্রও এখন আর নাই। যা পড়েছি, সেগুলি অনেক আগে। এর বেশি মনেও রাখতে পারি নাই।
ধন্যবাদ আপনাকে।
২১|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫৪
কাউসার রুশো বলেছেন: দেশ পত্রিকা পড়িনি কখনও...
সমরেশের উত্তরাধিকার-কালবেলা-কালপুরুষ এ তিনটা পড়েছি।
আপনার কথা ঠিক। অনেক বেশি সিনেমাটিক মনে হয়েছে। একটা পর্যায়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। নকশাল আন্দোলনটা উঠে আসলেও শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের চেয়ে উপন্যাসের গল্টাই মুখ্য হয়ে উঠছিলো।
রুশোকে নিয়ে পোস্ট দেয়ার সাধ্যি আমার নাই। মাফ করবেন
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:২৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: দেশ ৯২ সালে ব্যান হয়ে যায় কারন নীরদ সি চৌধুরী সেখানে 'তথাকথিত বাংলাদেশ' লিখেছিল।
সমরেশের সব বইই এইরকম। ভাল শুরু করে, তারপর সিনেমা হয়ে যায়। গর্ভধারিনীও অর্ধেকের পর আর ভাল লাগে নাই। এছাড়া উনি নকশালকে খুব বেশি ফ্যান্টাসাইজ করে দেখান।
২২|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:৫৯
কাউসার রুশো বলেছেন: আমার এ লেখাটা পড়ে দেখতে পারেন চাইলে-
শতবর্ষী মহান বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৩৬
রাইসুল জুহালা বলেছেন: পড়লাম তোমার লেখা। এ ধরনের লেখা দিও মাঝে মাঝে। চট্টগ্রামে থাকার কারনে অনেকেই তাঁর সম্পর্কে তেমন জানে না। আমাদের উচিৎ এইসব বড় মানুষদের কথা সবাইকে জানানো। ধন্যবাদ তোমার লেখার জন্য এবং লিঙ্কের জন্য।
২৩|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:১৩
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: না না.....লেখাটা অসাধারন হয়েছে.........
ব্লগে এসব লিখাই খুজে পড়ি কেবল.....
অনেক বিষয়ে একমত না হলেও পোস্ট এ প্লাস না দিয়ে পারিনি![]()
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৩৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সবার সবকিছুতে একমত হতেই হবে, এমন কোন কথা নাই। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য তো থাকতেই পারে। ব্লগের অনেক পোস্টের মত আমরা ঝগড়া না লেগে যে সুন্দরভাবে, পরষ্পরের প্রতি সম্মান রেখে আলোচনা করতে পারলাম, এটাই অনেক বড় ব্যাপার।
অফটপিকঃ আপনার প্রোপিকের ছবিটা কি প্রসেনজিতের?
২৪|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪১
নীরব দর্শক বলেছেন: গোপন কিনা জানিনা শুধু জানি বই আকারে প্রকাশ হয়নি।
আমি সব সময়েই বাম। কলেজ লাইফে ১৯৯৫-১৯৯৬ সরাসরি কিছু দিন জড়িয়ে ছিলাম। পরে সরে আসি। ইউনি লাইফে এক সহপাঠি ছিলো যার পরিবারের সদস্য নকশালে জড়িত ছিলো। পরে এদেশে সেটল। তার কাছে বইয়ের কথা শুনেছিলাম।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৪৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ওহ আচ্ছা।
২৫|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১৪
জিসান শা ইকরাম বলেছেন:
ভালো লাগলো আপনার পোষ্ট।
আমাদের এই উপমাহাদেশের ক্রিস্টি , সমাজ ব্যবস্থা , পারিবারিক বন্ধন পৃথিবীর অন্য দেশ থেকে ভিন্ন। যে কোন কমিউনিস্ট আন্দোলন এখানে পুর্নতা পায়নি- নেতাদের অনৈক্য, জনসাধারন থেকে বিচ্ছিন্নতা, মাস পিপলের মনোভাব নেতারা সঠিক ভাবে উপলব্দি করতে না পারা। সাধারনের ভাষায় কথা বলতে না পারা। যেমন- বুর্জুয়া , পেটি বুর্জুয়া , মুৎসুদ্দি। এই শব্দ গুলোর ব্যপাকতা ভালো শিক্ষিত লোকজন ছাড়া উপলব্দি করতে অক্ষম। অথচ এসব শব্দ কমিউনিষ্ট পার্টির বিভিন্ন প্রচার পত্রে বিলি করা হত সাধারন অল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত জনগনের কাছে। শব্দগুলো সাধারনের কাছে বিদেশি শব্দের মত মনে হত।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারন জনতা যে অংশ গ্রহন করতো- তা এই অন্চলের লৌকিকতার কারনে। না বুঝেই। " ওনরা শিক্ষিত লোক, ওনরা আমাদের চেয়ে ভালো বুঝেন, তাই আমাদেরও এটা করা উচিত। তাছারা কথাবার্তা তো আমাদের পক্ষেই বলছেন " এই ধারনায় আচ্ছন্ন হয়ে আন্দোলনে যোগ দিত।
যুবক শ্রেনী যোগ দিত নতুনত্বের নেশায়। এখন একটা নতুন সফট বাজারে এলে- যুবকরা যেভাবে ঝাপিয়ে পরে তেমনি।
আমাদের দেশের স্বাধীনতার পরে- জাসদ কে দেখুন। আমার দেখা মতে মুজিব বাহিনীর বা ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মিরা সব যোগ দিল জাসদে- সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষে। ফলাফল কি ?
বা সিরাজ সিকদারের সর্বহারা পার্টিতেও অনেক ট্যালেন্ট যুবকরা যোগ দিয়েছিল। কিন্তু জনগনকে সম্পৃক্ত করা যায়নি।
হত্যা বিষয়টা আমাদের সহজ সরল জনতা সহজ ভাবে নিতে পারেনা । এটার কারন আত্মীয়তা। শ্রনী শত্রু ক্ষতমের সময়- জনতা যখন দেখল- তাদের নিকট অনেক আত্মীয় শেষ হয়ে যাচ্ছে বা যাবে , যারা যুগ যুগ ধরে তাদেরকে ছায়া দিয়ে রাখছে। তখন তারা ভয় পেল। অর্থনৈতীক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলো তারা। পিছিয়ে আসলো জনতা।
আমাদের এই অন্চলে আসলে- শের-ই বাংলা , ভাষানী , বংগবন্ধু জনতার কাতারে চলে যেতে পেরেছিলেন। তাদের সহজ সরল আচরন ও কথা বার্তা দিয়ে। এই ঘড়ানার কোন নেতা যদি কমুনিষ্ট আন্দোলনের সাথে থাকতেন- তবে তা সফল হতো বলে আমার ধারনা।
ইহা একজন স্বল্প-শিক্ষিত, সামুর একজন অতি ফালতু ব্লগারের নিজস্ব ধারনা। এর সাথে অন্য কারো চিন্তার মিল না থাকাটাই স্বাভাবিক।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৫৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আমার পোস্টে শেষ দুই লাইন কেন?
যথেষ্ট ঈর্ষা নিয়ে বলছি যে আমার পুরো পোস্টের চেয়ে আপনার এই বিশ্লেষনমূলক মন্তব্যটা ভাল হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ যে আপনি ৩-৪ বার চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত এই মন্তব্যটা দিতে পেরেছেন। এতে পোস্টটা সমৃদ্ধ হয়েছে। সারাজীবন ঢাকায় থাকার কারনে বাংলাদেশের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের চিন্তাভাবনা এবং আবেগের সাথে খুব বেশি পরিচয় হয় নাই। আপনি জীবনের বড় অংশ বোধহয় বরিশালের দিকে ছিলেন, তাই তাদের পালসটা অনেক ভাল ধরতে পেরেছেন। আমি অত গভীরে গিয়ে ভাবতে পারি না।
অনেক অনেক ধন্যবাদ মামা দারুন একটা মন্তব্যের জন্য।
২৬|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৪৬
সারওয়ার ইবনে কায়সার বলেছেন: জিশান শা ইকরামের সাথে অনেক ক্ষেত্রেই একমত.....
অফটপিকের উত্তর:: রোমান হলিডে,গানস অভ নাভারন,স্পেলবাউন্ডের নায়ক কে বলুন তো????![]()
![]()
সে আমার ফেভারিট.....
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৪৭
রাইসুল জুহালা বলেছেন: গ্রেগরী পেক। আমারও প্রিয়।
২৭|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৫৪
িনদাল বলেছেন: পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। এ বিষয়ে জানার আগ্রহ ছিল। আপাতত কমেন্ট করে রাখলাম,কালকে ভাল মত পড়ব
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৫৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। কোন মতদ্বৈততা থাকলে জানাবেন আশা করি।
২৮|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:০৬
জয়কৃষ্ণ বলেছেন:
জীবন কাটানোর সব উপকরণ যখ্ন হাতের কাছে থাকে তখন যে জীবন সেই জীবনবোধকে দিয়ে পিঠ ঠেকে যাওয়া জীবনকে উপলব্ধি করা যায় না। জীবনের কোন কোন সময় যদি পৃথিবীর সবচেয়ে অসহায় মানুষের বোধ জেগে ওঠে তখন বুঝবেন সত্যিকার শ্রেণী সংগ্রাম আর মানুষের অধিকার কতটা ঠুনকো আমাদের সমাজে।
আপনার সাধারণ নাগরিক অধিকার যখন স্বীকার করা হয় না, পুলিশের হাতে নিষ্পাপ যে ছেলেগুলো মার খেয়ে মারা গেল তাদের হত্যা যে সমাজে খুব সাধারণ, আপনি যে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে ফিরে নাও আসতে পারেন সে টুকু নিরাপত্তা নেই, যে রাষ্ট্রযন্ত্র জনতার নয় বরং জনতাই কোন এক শাসকবর্গের এক পাল দুধেল গরুর মতো। সেখানে আপনি অসহায়, দেয়ালে পিঠ ঠেকা মানুষ, যাদের সামনে কোন বিকল্প নেই, তাদের বিচার দেবার কেউ নেই, এমন কি ঈশ্বরও বিমুখ; কি করবেন?
চারু মজুমদার তার আন্দোলনে ব্যর্থ বলেই না তা আমাদের কাছে হটকারিতা, সিরাজ সিকদার ব্যর্থ বলেই তা আজ আমাদের কাছে ভুল লাইন, কিন্তু সাফল্য পেয়েও নেপালি মাওবাদীরা কি সঠিক লাইনে রয়েছে?
অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধ সফল বলে আমাদের কাছে তা মহান বিপ্লব। কিন্তু সেটা যদি ব্যর্থ হতো তবে তাও হয়ে পড়তো ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লবের মতোই এক হঠকারিতা।
আমি নিজে যদিও নকশাল আন্দোলনের পক্ষপাতি নই, কিন্তু এ বিষয়ে পোষ্ট দিতে হলে এতোটা হালকা হওয়া উচিত নয় বলে মনে করি। আরও জানার এবং পড়াশোনার প্রয়োজন আছে। তাছাড়া এই বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা করতে অনেকেই পছন্দ করেন না। কিন্তু একপেশে চিন্তা এবং বিষয়টাকে অনায়ত করাটা কি ঠিক?
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:০৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এই মন্তব্যের উত্তরে আর কি বলব? আপনি আরো বেশি জানলে বা আপনার আরো পড়াশোনা থাকলে এই বিষয়ে একটা পোস্ট দেন। চিন্তাভাবনায় না মিললে বা মতদ্বৈততা থাকলেই অপর পক্ষের জ্ঞান, পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা আসলে সুস্থ ব্লগিং এর প্রতিবন্ধক। যাই হোক। শেষ প্যারাটা ছাড়া বাকি মন্তব্যটা ভালই লাগছিল, আমি মোটাদাগে একমত ছিলাম। কিন্তু এখন আর ওগুলি নিয়ে আপনার সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী হচ্ছি না। আমার আবার জ্ঞান ও পড়াশোনা কম। ধন্যবাদ আপনাকে।
২৯|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:১২
মামুন হতভাগা বলেছেন: ধন্যবাদ...কিছু কিছু জানতাম,আজ আরো জানলাম...আজও চারু মজুমদার এর নাম ব্যবহার করে আমাদের দেশের তথাকথিত শ্রেণীশত্রু বিরোধীরা যেমন পুর্ববাংলা কমিউনিষ্ট পার্টি,জনযুদ্ধ,নিউ বিপ্লবী কমি্যনিষ্ট পার্টি প্রভৃতি।কিন্তু আদর্শ থেকে শত শত মাইল দূরে।চাদাবাজিই তাদের মুল পেশা।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:১২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এদের আদর্শ থাকবে কিভাবে? এরা আদর্শের নামই শোনে নাই। আপনি যাদের কথা বললেন, তারা তো কুষ্টিয়া, যশোরের দিকে অ্যাকটিভ। এছাড়া আশির দশকে ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলি ত্রাস ছিল সর্বহারা পার্টি। তাদের মূল পেশা ছিল ডাকাতি। এখন নাকি তাদের প্রকোপ কমে এসেছে।
অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
অফটপিকঃ আপনার নিক হতভাগা কেন? অলওয়েজ বি পজিটিভ ম্যান।
৩০|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৭:৫৫
পাগলমন২০১১ বলেছেন: অনেক কিছুই জানতাম না।আজ জানলাম।ধন্যবাদ আপনাকে।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:১২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
৩১|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:০৪
ম্যাভেরিক বলেছেন: আমাদের দেশের সর্বহারা দলকে নিয়ে একটু আলোচনা হলে ভালো হত। ¨
মাও সে তুং প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন ও তার আগে চীন-জাপান যুদ্ধে হিটলারের অনুরূপ সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুকূল পরিবেশ পেয়েছিল, ফলে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করে। চারু মজুমদারের নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে মাও-এর সাথে তুলনীয় নয়, তার চেয়েও বড় বাস্তবতা, তার উত্থানের সময় ভারতে সুসংগঠিত নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় চলে এসেছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উপমহাদেশের পক্ষে কমিউনিস্ট পার্টি নেতৃত্ব দিতে পারেনি।
এছাড়া উপমহাদেশ ও চীনের মানুষের একটা জাতীয় বিশেষত্বও প্রভাব ফেলতে পারে: চীনারা তুলনামূলকভাবে রবোটিক, নেতৃত্বের প্রতি খুব অনুগত; উপমহাদেশের মানুষ বেশ আবেগী, নিছক নৃশংসতা তাদের মনোজগত নাড়িয়ে দেয় (ব্যক্তিগত অভিমত)। তবে চারু মজুমদার সফল না হওয়ায় ভালোই হয়েছে; ইতিহাসের কুখ্যাত ডিক্টেটরদের তালিকায় ১-২ হওয়া থেকে বেঁচে গেছে।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:২১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এটা একটা চমৎকার মন্তব্য। আসলে পোস্ট এমনিতেই বেশ বড় হয়ে গেছে। তাছাড়া আমাদের দেশের তথাকথিত সর্বহারাদের সম্বন্ধে সত্যি বলতে আমি তেমন ভাল জানিও না। এদের নিয়ে প্রপার গবেষনা আর হল কোথায়? তাই শুধু পশ্চিমবঙ্গের নকশালদের নিয়ে লিখলাম। ভারতের অন্য অনেক অংশেও তারা প্রভাব বিস্তার করেছিল। সেগুলিও এড়িয়ে গেছি।
উপরে এক মন্তব্যের উত্তরে আমি চীনাদের নিরীহ বলেছিলাম। আপনি বললেন রবোটিক। কে সঠিক জানি না! বা হয়ত দুটো একই জিনিস। তবে তারা নেতৃত্বের প্রতি অনুগত, এ ব্যাপারে আমি একমত।
অনেক ধন্যবাদ সুন্দর একটা বিশ্লেষনের জন্য।
৩২|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:৩৬
কালো-ভোমরা বলেছেন: পোস্ট ভাল লেগেছে। বেশীর ভাগ বক্তব্যই জানা শোনা আগে থেকে। যা হোক আধুনিক কালের নকশাল ও জেএমবি ঝোঁক (ভাল বা মন্দ উভয় অর্থে) যাদের পায় তাদের খানিকটা কাজে আসবে।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৪৩
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৩৩|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:২০
সবুজ ভীমরুল বলেছেন: অসাধারন লাগল রাইসুল ভাই। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ যে আমার মত নগন্য ব্লগারের অনুরোধ রাখলেন।
আমার মতে নকশাল আন্দোলন ব্যর্থ হবার মূল কারন হচ্ছে ঢালাও ভাবে শ্রেনীশত্রু খতমের নীতি। একারনে অনেক নিরীহ মানুষও তাদের শিকার হয়। সাধারন মানুষদের সাপোর্টও পরে তাদের বিপক্ষে চলে যায়। বাংলাদেশের লেখক শাহরিয়ার কবিরের লেখায় এই সম্পর্কে কিছু ধারনা পাওয়া যায়। তার একটা লেখায় পড়েছিলাম চারু মজুমদারের ভাষ্য ছিল "শ্রেনী শত্রু খতমে নিজ হাত রক্তে রঞ্জিত করতে না পারলে নাকি সত্যিকারের কমিউনিষ্ট হওয়া যায় না।" মূলত এরকম হার্ড লাইনের কারনেই এই আন্দোলন বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
কলকাতার আনন্দ পাব্লিশার্স থেকে প্রকাশিত "নকশাল আন্দোলনের গল্প" বইয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে নকশাল আন্দোলনকে তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকায় প্রথমা প্রকাশনিতে বইটা পাওয়া যেতে পারে।
এই আন্দোলনে আমার সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং লেগেছে ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের যোগ দেয়া। কেন? কি আশায়? তারা কি বুঝতে পারেনি এই পথে মুক্তি অসম্ভব!!
মুক্তিযুদ্ধর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আসলে ১৯৫২ সাল থেকে এবং তা পূর্নতা পায় ১৯৭১ সালে। তাই নকশাল আন্দোলনের মত হুট করে হয়নি।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ এই পোস্টের জন্য।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:০৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ আমাকে একটা পোস্ট উদ্বুদ্ধ করার জন্য। আর নগন্য ব্লগার হবেন কেন? এই মন্তব্য থেকেই তো বোঝা যায় আপনার যথেষ্ট পড়াশোনা, চিন্তাভাবনা আছে। অনলাইনের আয়ের লিঙ্ক আর কপিপেস্ট ছাড়া যত ব্লগার আছে, কেউই নগন্য না। আপনি তো মৌলিক লিখেন।
আপনার মন্তব্যের সাথে আমি একমত। ওই যে বললাম, ষাটের দশক ছিল একটা অস্থির সময়। হিপ্পি সংস্কৃতিতে আচ্ছন্ন ছিল যুব সমাজ। ড্রাগসের ব্যাপক প্রসারও ঘটেছিল এইসময়। তরুনদের মধ্যে নিজেকে আলাদা করে চেনানোর, সেটা যেকোন উপায়েই হোক, প্রবনতা বৃদ্ধি পায় এইসময়। আদর্শ, সমাজ পরিবর্তনের উচ্চাশা, সবার দুঃখ কষ্ট দূর করার স্বপ্ন তো সবার ভিতরেই কমবেশি থাকে। এইসব কিছু মিলেই তাদের কাছে নকশাল আরাধ্য হয়ে উঠেছিল।
মুক্তিযুদ্ধর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল আসলে ১৯৫২ সাল থেকে এবং তা পূর্নতা পায় ১৯৭১ সালে। তাই নকশাল আন্দোলনের মত হুট করে হয়নি।
এটা ভাল বলেছেন।
আবারও ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
৩৪|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:১১
মুখোশে ঢাকা আমি মুকিত বলেছেন: সুন্দর ঐতিহাসিক পোস্টের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৪৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
৩৫|
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৫১
আরিয়ানা বলেছেন: ভাল লাগলো লেখাটি ।
১৪ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১১:১৩
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ধন্যবাদ। ![]()
৩৬|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪৬
জয়কৃষ্ণ বলেছেন: আমি অত্যান্ত দুঃখিত। লেখা-পড়া নিয়ে করা মন্তব্যটা আমি উইড্র করলাম। এ বিষয়ে আমি ক্ষমা প্রার্থী।
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এখন এই কথার জবাবেও মুখে আর কি বলব! বরং হাত আর বুক মিলাই আর পুরো ব্যাপারটাই ভুলে যাই।
৩৭|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:০১
জিসান শা ইকরাম বলেছেন:
আমার মন্তব্যের জবাবে নিজেই লজ্জা পেলাম।
আমার শিকর গ্রামে। এখানেই থাকতে চাই।
এই মাটি আমাকে " আমি " বানিয়েছে । প্রায় গোটা সময়টাই এখানে কাটিয়েছি আমি। মাঝে মাঝে লেখা পড়ার জন্য কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিলাম শিকর হতে![]()
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: জীবনে একটা আফসোস যে আমি গ্রাম দেখি নাই।
গ্রামের সৌন্দর্যের কথা শুনলে, মানুষগুলির কথা শুনলে বোকার মত তাকিয়ে থাকা ছাড়া করার কিছু নাই। আপনি কি এখনও গ্রামে থাকেন? কোন ধরনের গ্রাম? একদম অজপাড়া গাঁ নাকি উপজেলা শহরের মত? নিকটবর্তী প্রধান শহর থেকে কত মাইল দূরে? এত প্রশ্নের কারন হচ্ছে যে ইন্টারনেট বাংলাদেশের কতটা ভেতরে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে একটা ধারনা নিতে চাচ্ছিলাম।
৩৮|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:০৭
আর.এইচ.সুমন বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই এই তথ্যসমৃদ্ধ সুন্দর পোষ্ট দেওয়ার জন্য ।
অনেক কিছু জানা হলো .। সাথে এই বিষয়টা ভাল ভাবে জানার উৎসাহ বাড়লো ![]()
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১৬
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। আপনাকে কিছু জানাতে পেরে এবং আরও জানতে উৎসাহী করতে পেরে আমি খুব খুশি।
৩৯|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১৩
শাহানা বলেছেন: এই আন্দোলনের একটা ভাল দিক হলো, এতে কিছু অসহায় মানুষ তাদের জমি ফেরত পেয়েছিল। জানিনাহ শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পেরেছিল কিনা।
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৯:৫৪
রাইসুল জুহালা বলেছেন: তাৎক্ষনিক কিছু লোকের লাভ তো হয়েছিল নিশ্চয়ই। ২০০৭ সালে আর্মি ক্ষমতায় আসার পরও কিছু লোকের জমিজিরাতের সমস্যা সমাধান হয়েছিল। কিন্তু লং রানে মনে হয় না ধরে রাখতে পেরেছে।
ধন্যবাদ আপনাকে।
৪০|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৩৬
সেতু আশরাফুল হক বলেছেন:
আমার কাছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রিয় কাঠামোতে সশস্ত্র পন্থা কখনো এদেশের জন্য উপযোগী বলে মনে হয়নি। কারণ এদেশের মানুষ এখনো রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতিকে ধারন করতে পারে না। সেখানে শ্রেণী শত্রু চিহ্নিত করার ধারণাটার বড় একটা ফাঁক থেকে যায়।
যাদের নিকট তথ্য পৌছানোই দুঃসাধ্য, সেখানে শ্রেণী শত্রু খতম প্রকারান্তরে ডাকাতিই; এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই এ আন্দোলন মুখ লুকিয়েছে। সশস্ত্রপন্থা সেখানেই সম্ভব যেখানে শোষিত শ্রেণীর পক্ষে, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অবস্থার সঠিক বিশ্লেষণ সামাজিক প্রথাগত বুদ্ধিজীবীরা জানবেন এবং তা জনগণের মাঝে সহজ ভাবে ছড়িয়ে দিতে পারবেন। যেটা মুক্তিযুদ্ধে সম্ভব হয়েছিল বলেই আজ আমরা মহান স্বাধীনতা পেয়েছি।
জয়কৃষ্ণ'র কথা গুলো অবশ্যই সত্য। তার মন্তব্যের সাথে আমিও বেশ কিছুটা জায়গাতে একমত। তবে এখানে গুটিকতক মানুষের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত শুরুতেই হার্ড লাইনে যাওয়া যে কোন অবস্থাতেই হটকারিতা। নকশালরা যদি ব্যপক মানুষের আস্থা অর্জন করেতে পারতো, তাহলে একটা ব্যপার ছিল।
কিন্তু এদেশে তা ছিল ঐ সময়ের জন্য অসম্ভব; যেটা করতে হতো দীর্ঘদীনের চর্চার মাধ্যমে। অর্থাৎ যারা মার্কসবাদের তাত্ত্বিক দিকটা বোঝে না আবার সরকারের বিরোধীতা করার চেতনাটা লুপ্ত হয়ে গেছে সামন্তসমাজ এবং উপনিবেশের যাতাকালে, তাদের কাছে সরকার তখনও রাজা। অর্থাৎ কিনা যার বিরোধীতা করাই হচ্ছে বিদ্রোহ। আর মধ্য যুগ থেকে যে দেশের সংস্কৃতিতে রাষ্ট্রদ্রোহীরা ডাকাত বলেই চিহ্নিত। সেখানে হঠাৎ ইউরোপিয় সংস্কৃতির একটি চিন্তাকে যারা এদেশীয় চিন্তার সাথে সমন্বয় করতে পারেনি তাদের ভেতর সশস্ত্র বিপ্লব কিভবে বিকাশ পাবে?
জয়কৃষ্ণর মন্তব্যে যা তা দিয়েই আমরা বুঝতে পারি, বিষয়টার উপলব্ধি দুই ভাবে হয়ে থাকে। এক, নিজ অভিজ্ঞতা আর দুই, উপলব্ধি করার মতো মেধা। এবং এ কথা স্বীকার্য্ যে এ জন্যই এই দুই শ্রেণী নকশাল আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল। এক শ্রেণী যারা শোষিত বঞ্চিত বা দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল, আর অপর শ্রেণীটি ছিল শিক্ষিত, মেধাবী ছাত্ররা।
পরিশেষে, এই পোষ্টের কমেন্ট নিয়ে একটি কথা বলতে চাই আর তা হলো, সকলের মন্তব্যের বিষয় ছিল ব্যক্তিগত দৃষ্টিতে নকশালকে দেখা। তাই এতে কিছু ফাঁক থেকে যেতেই পারে। এ নিয়ে খুব বেশি ব্যক্তি আক্রমণ দৃষ্টিকটু লাগবে। জয়কৃষ্ণের ক্ষমা প্রার্থনা আমাকে মুগ্ধ করেছে অন্যদিকে লেখকের প্রতিক্রিয়া করেছে অবাক। দুই জনকেই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:০৫
রাইসুল জুহালা বলেছেন: চমৎকার মন্তব্য। আমি সহমত আপনার সাথে। আমিও তাই বলতে চাই যে বাম রাজনীতি দীর্ঘদিনের চর্চা এবং সাধনার ব্যাপার। নিজেকে সমস্ত লোভ-লালসার উর্ধে তোলা এবং ব্যক্তিস্বার্থকে জলাঞ্জলী দেয়া সহজ ব্যাপার না। এটার জন্য অনেক সময় দরকার।
জয়কৃষ্ণের ক্ষমা প্রার্থনা আমাকে মুগ্ধ করেছে অন্যদিকে লেখকের প্রতিক্রিয়া করেছে অবাক।
অবাক কি পজেটিভ দিকে করলাম নাকি নেগেটিভ দিকে? আমি আসলে বুঝি নাই আপনি কি বলতে চাচ্ছিলেন এই লাইনে। যাইহোক। সেটা অবশ্য খুব গুরুত্বপূর্ন না।
আপনার সুলিখিত মন্তব্যটার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনি ভাল বাংলা জানেন, এটা বলতেই হবে।
৪১|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ৮:১৫
উপপাদ্য বলেছেন: আপনার নকশাল বিষয়ক লেখা পড়ে কালবেলা, কালপুরুষ ও উত্তরাধিকারের কথা মনে পড়লো। মনে পরলো ব্যার্থ বিপ্লবী অনিরুদ্ধর কথা।
আরো একটি বিখ্যাত বই ছিলো নাম আট কুটুরী নয় দরজা, সমরেশেরই লেখা, আমার খুব ফেবারিট একটা ক্যারেকটার ছিলো এ বইয়ের নায়ক গগন লাল/আকাশ লাল। সেও ব্যার্থ বিপ্লবী।
যাই হোক মোট কথা হচ্ছে কোন রিভলুশান ঘটাতে হলে সেটাকে পূর্ন হতে হবে। নকশাল আন্দোলন কোন পূর্ন আন্দোলন ছিলোনা। তবে আশা জাগানীয়া ছিলো। বিপ্লবের জোশে কিছু মানুষের অস্থির চলাফেরার নাম ছিলো এই আন্দোলন। আপনি এখনো দেখুন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুক্তির জন্য সংগ্রাম চলছে, যেমন প্যালেস্টাইন, কাস্মির, আসাম, মিন্দানাও এদের আন্দোলনেো পূর্নতা নাই, ডাইনামিক না হওয়া।
আমার জানামতে একমাত্র পূর্ন আণ্দোলন ছিলো তামিলদের যুদ্ধ। তামিলরা সব কিছু থাকা সত্বেও ব্যার্থ হলো।
নকশালদেরও বহু অপরচুনিটি ছিলো কিন্তু ভারত এমন একটা দেশ এদেশের মানুষ না খেয়ে থাকবে তবুও ভারত মাতার বন্দনা করবে।
আমি পাকি পেয়েছি, বাঙালী পেয়েছি নিজের দেশের বিরোদ্ধে কাজ করে কথা বলে বাট আজো একটাও ইন্ডিয়ান পেলাম না নিজ দেশে বিরোদ্ধে কথা বলে। তার দেশ শত অন্যায় করলেোও আপনাকে বুঝাবে তারা ই সঠিক।
নকশাল আন্দোলন পৃথিবীর অন্য কোথাও হলে এটি নির্ঘাত সফল হতো। কারন একমাত্র সাউথ এশিয়ান সাব কন্টিনেন্ট ছাড়া পৃথিবির সব মানুষ পরিবর্তন পছন্দ করে।
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১১:৫৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনার উল্লেখিত সবগুলি বইই পড়েছি। শুরুটা যত ভাল লেগেছিল, শেষেরদিকে ধরে রাখতে পারেনি। আট কুটুরী নয় দরজার শুরুটা ছিল সবচেয়ে দুর্দান্ত - "অনেকদিন যাবৎ ডাক্তারী পেশায় থাকার কারনে মৃত মানুষের গন্ধের সাথে সে ভালই পরিচিত" (হুবহু লিখতে পারলাম না অবশ্য)। সবগুলিতেই নকশাল ব্যাপারটাকে অনেক গ্ল্যামারাইজ করা হয়েছে।
তামিলদের আন্দোলন ব্যর্থ হবার পেছনেও তাদের নেতার ভূমিকা আছে। প্রভাকরন অসম্ভব রকম জনপ্রিয় হলেও খুব ঘাড়ত্যাড়া ধরনের লোক ছিলেন। রাজনীতিতে ঘাড়ের চেয়ে মাথা বেশি কাজে লাগাতে হয়। যেকোন আন্দোলনের মূল নেতা ঠিক না থাকলে বাকি সব কিছু ঠিক থাকলেও কোন লাভ হয় না।
ভারত বিষয়ে যা বললেন, তার সাথে আমি একমত। আবার এটাও সত্যি যে পৃথিবীর একমাত্র যে দেশে অনেকগুলি ভিন্ন জনগোষ্ঠির ভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, সেটাও ভারত। এটা একটা আজব দেশ।
অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
৪২|
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:১৪
মিরাজ is বলেছেন: হা হা হা। ঠিক আছে ভাই।
১৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১০:৪৮
রাইসুল জুহালা বলেছেন: ![]()
৪৩|
২০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১:১৬
রেজওয়ান তানিম বলেছেন: বেশ ভাল লাগল জুহালা ভাই । কেন জানি আপনার পোস্টে কখনোই মন্তব্য করা হয়নি । এসেছি বেশ কয়েকবার ।
যাই হোক আশা করি আগমীতে কথা হবে, দেখা হবে । আমন্ত্রণ রইল
২০ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১:৪২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। নিশ্চয়ই আরও অনেক কথা হবে, আলোচনা হবে। ভাল থাকবেন।
৪৪|
২৫ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৪:৩৫
সেলিম তাহের বলেছেন:
অভিনন্দন জানাই আপনার এই শ্রমলব্ধ পোস্টটির জন্য। তথ্যবহুল এই লেখাটি আশা করি নতুন প্রজন্মের ব্লগারদের সাথে নকশালবাড়ি তথা চারু মজুমদার সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবী উল্লম্ফনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য অনেক সাহায্য করেছে।
লেখাটির কিছু কিছু জায়গায় তাত্ত্বিক দিক দিয়ে আমার দ্বিমত আছে। আপাততঃ একটির কথা উল্লেখ করি।
লেখক বলেছেনঃ নকশাল ছিল একটা জাতীয় আন্দোলন।
আসলেই কি এটা জাতীয় আন্দোলন ছিল? "জাতীয়" এবং "জাতীয়তাবাদী" আন্দোলনের তত্ত্বগত ফারাকটা মাথায় রেখেই বলছি, এটা কখনই কোন অবস্থাতেই "জাতীয়" আন্দোলন ছিল না।
প্লেখানভের তাত্ত্বিক ভাবধারার একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে ট্রট্স্কি যেখানে কমিউনিজমের আন্তর্জাতিকতাবাদের ভিত্তিতে বহু দেশে একযোগে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে লেনিনের সাথে তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন, লেনিন সেখানে "এক দেশে সমাজতন্ত্র"-এর রূপরেখাতেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
এখানে "নকশাল ছিল একটা জাতীয় আন্দোলন" মন্তব্যে আপনি যদি ট্রট্স্কির তাত্ত্বিকতাকে চারু মজুমদারের তত্ব্বগত অবস্থান হিসেবে ধরে নেন, তবে সেটা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। নকশাল আন্দোলন কখনই "জাতীয় আন্দোলন" ছিল না। এটা সর্বভারতীয় পরিধিতে"শ্রেণীশত্রু" খতমের একটি অমার্ক্সীয় ভুল তাত্ত্বিক আস্ফালনে এসে শেষ হয়।
আরেকটা কথা না বললেই নয়। ভাবগত দিক থেকে "আন্দোলন" অভিধায় একে একটা চালু বিশেষনে বিশেষায়িত করলেও এটাকে আমি "নকশাল বিদ্রোহ বা বিপ্লব" হিসেবেই নামকরণ করতে চাই। "
অভিনন্দন জানাই আপনার এই শ্রমলব্ধ পোস্টটির জন্য। তথ্যবহুল এই লেখাটি আশা করি নতুন প্রজন্মের ব্লগারদের সাথে নকশালবাড়ি তথা চারু মজুমদার সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক বিপ্লবী উল্লম্ফনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য অনেক সাহায্য করেছে।
লেখাটির কিছু কিছু জায়গায় তাত্ত্বিক দিক দিয়ে আমার দ্বিমত আছে। আপাততঃ একটির কথা উল্লেখ করি।
লেখক বলেছেনঃ নকশাল ছিল একটা জাতীয় আন্দোলন।
আসলেই কি এটা জাতীয় আন্দোলন ছিল? "জাতীয়" এবং "জাতীয়তাবাদী" আন্দোলনের তত্ত্বগত ফারাকটা মাথায় রেখেই বলছি, এটা কখনই কোন অবস্থাতেই "জাতীয়" আন্দোলন ছিল না।
প্লেখানভের তাত্ত্বিক ভাবধারার একনিষ্ঠ ছাত্র হিসেবে ট্রট্স্কি যেখানে কমিউনিজমের আন্তর্জাতিকতাবাদের ভিত্তিতে বহু দেশে একযোগে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে লেনিনের সাথে তাত্ত্বিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন, লেনিন সেখানে "এক দেশে সমাজতন্ত্র"-এর রূপরেখাতেই দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন।
এখানে "নকশাল ছিল একটা জাতীয় আন্দোলন" মন্তব্যে আপনি যদি ট্রট্স্কির তাত্ত্বিকতাকে চারু মজুমদারের তত্ব্বগত অবস্থান হিসেবে ধরে নেন, তবে সেটা ঐতিহাসিকভাবে সঠিক নয়। নকশাল আন্দোলন কখনই "জাতীয় আন্দোলন" ছিল না। এটা সর্বভারতীয় পরিধিতে"শ্রেণীশত্রু" খতমের একটি অমার্ক্সীয় ভুল তাত্ত্বিক আস্ফালনে এসে শেষ হয়।
আরেকটা কথা না বললেই নয়। একে আমি কোন ভাবেই "আন্দোলন" নামক একটা চালু সামাজিক বিশেষনে বিশেষায়িত করতে নারাজ। নকশালবাড়ি ছিল একটি ব্যর্থ বিদ্রোহ বা বিপ্লবের নাম।
আপনার এই লেখা পড়ে আরো কিছু বলার ছিল আমার, কিন্তু অলসতার কারণে আপাততঃ এখানেই ইস্তফা দিচ্ছি।
পরিশেষে এমন একটি পোস্টের জন্য আপনাকে আমি আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
২৬ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: এমন একটি মন্তব্যের জন্যও আপনাকে আমি আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।
ভাষা নিয়ে তো আপনি কাজ করেন, তাই এই সুক্ষ্ম ভুলটাও আপনার চোখে ধরা পড়েছে। আমার ভাষাজ্ঞান খুব ভাল না। 'জাতীয়' টার্মটা ব্যবহার করে আমি আসলে যা বোঝাতে চেয়েছিলাম সেটা এরকম -
এটা তো জানেনই যে ভারতের রাজ্যগুলি যথেষ্ট স্বায়ত্বশাসন ভোগ করে। রাজ্যসরকারই মূলত রাজ্য চালায়। ছোটখাট আইন বা নিয়ম জারী করার ক্ষমতাও তাদের আছে। এই তো গত সপ্তাহেই দেখলাম কোন এক রাজনৈতিক ছবিকে যেন কয়েকটা রাজ্যে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই টুকু তারা করতে পারে। কিন্তু ইউএস এ যেমন এক স্টেট থেকে অন্য স্টেটে এমনকি ফৌজদারী আইনকানুনও ভিন্ন হয় (অনেক জায়গায় মৃত্যুদন্ড দেয়া, অনেক স্টেটে দেয়া হয় না ইত্যাদি), ততটা স্বাধীনতা ভারতের রাজ্যগুলিতে নাই। নকশালের কনসেপ্টটা ছিল এমন যে এটা সর্বভারতীয় গ্রহনযোগ্যতা পেতে হবে, পুরো ভারতের শাসনতন্ত্র এবং সমাজ ব্যবস্থার মডেলকে আমূল বদলে ফেলতে হবে। শুধু পশ্চিমবঙ্গ বা অন্ধ্রে খুব আলোড়ন তুললে কোন লাভ হচ্ছে না। আমি ভারতের অন্য রাজ্যগুলির অনেকের সাথেই এই বিষয়ে কথা বলেছি যারা ওইসময় সত্তরের দশকে সদ্য কিশোর বা তরুন ছিলেন, এরা বেশিরভাগ নকশালের নামই শোনেনি। আমি তাদের একটু ধারনা দেবার পর তারা উৎসাহীও মনে হল। অবশ্য আমি যে জনগোষ্ঠীর সাথে এই আলোচনাগুলি করেছি তারা সমাজে সুবিধাভোগী অংশ। তাদের অনাগ্রহ থেকে তেমন কোন উপসংহার টানা যায় না।
এসব কারনে 'আঞ্চলিক নয়' অর্থে আমি 'জাতীয়' শব্দটা ব্যবহার করেছিলাম। বোধহয় 'সর্বভারতীয়' বলা উচিৎ ছিল।
কমেন্টের বাকি অংশের সাথে আমি একমত। বাই দ্য ওয়ে, নকশাল ব্যর্থ হয়েছিল, ঠিক আছে। তাত্ত্বিকভাবে যদি ধরি যে কাল কোনভাবে পশ্চিমবঙ্গ আলাদা রাস্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়, আমার ধারনা নকশাল স্বাধীন বঙ্গে আবার হবে। এই আন্দোলনের মূল ধারনার সাথে তাদের অধিকাংশ জনগন একমত ছিল, এখনও বোধহয় আছে।
আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। ভাল লাগল আপনার সাথে অল্পসময়ের মধ্যেই দুটো আলোচনা (আরেকটা তসলিমা নাসরিন) করে।
৪৫|
২৭ শে আগস্ট, ২০১১ ভোর ৫:৩৪
নুভান বলেছেন: এত কিছু আমি বুঝি না, শুধু যেইটা বুঝি, বাম করা পোলাপাইনদের দেখতাম সারাদিন সেই সময়ের ৪ টাকা দামের বেনসন ফুঁকে তারা ব্রিটিশ-আমেরিকার গুষ্টি উদ্ধার করত অথবা ক্যান্টিনের ১ টাকা মুল্য বৃদ্ধি নিয়ে হলে পোস্টার লাগাতো যেগুলো আমার কাছে হিপোক্রেসি ছাড়া আর কিছু মনে হয়নি কখনও!
২৮ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ২:৫১
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আমি অনেক ত্যাগী বাম নেতা-কর্মীও দেখেছি। নির্মল সেনকে চেনেন নিশ্চয়ই। উনি মতিঝিল-সবুজবাগ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করতেন আর ৩০০-৪০০ ভোট পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হত। আমি তার স্মৃতিকথা পড়েছিলাম কোন একটা পত্রিকায় যেন। তরুন বয়সে অর্থাৎ পঞ্চাশের দশকে যখন পাক-সরকার কমিউনিস্ট পার্টি সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল, টানা ১১ বছর তার সাথে বাড়ির কোন যোগাযোগ ছিল না। তিনি এইসময় তার মাকেও কোনদিন দেখেন নাই। ৫ বছর জেলে ছিলেন, ৬ বছর আন্ডারগ্রাউন্ড। তবে বাম রাজনীতিকে নিজের মধ্যে ধারন করা খুব কঠিন কাজ। নিজের চিন্তাভাবনা, জীবন সম্পর্কে ধারনা, পরিকল্পনা, লাইফস্টাইল সব কিছু আমূল বদলে ফেলতে হয়। এটা সহজ না, বেশিরভাগ লোকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।
আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
৪৬|
২৮ শে আগস্ট, ২০১১ রাত ৯:৩৪
নুভান বলেছেন: "তবে বাম রাজনীতিকে নিজের মধ্যে ধারন করা খুব কঠিন কাজ। নিজের চিন্তাভাবনা, জীবন সম্পর্কে ধারনা, পরিকল্পনা, লাইফস্টাইল সব কিছু আমূল বদলে ফেলতে হয়। এটা সহজ না, বেশিরভাগ লোকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।"
- একদম সঠিক কথা বলেছেন। আমার পরিচিত কিছু বামপন্থি বন্ধুরা এখন পাশ করে ইউরোপ আম্রিকা গিয়ে কট্টর ডানপন্থি! একটি আদর্শের আশায় সব মোহ ত্যাগ করাটা অনেকটা সন্ন্যাসব্রত নেয়ার মতন, ক'জনই বা সেটা পারে?
২৯ শে আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:৫৯
রাইসুল জুহালা বলেছেন: একটি আদর্শের আশায় সব মোহ ত্যাগ করাটা অনেকটা সন্ন্যাসব্রত নেয়ার মতন
একমত। খুব কঠিন কাজ।
৪৭|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ৯:৩৩
সাদাচোখ বলেছেন:
দূর্দান্ত লিখেছেন। এই ধরনের লেখা ব্লগে খুব মিস করি। আমারো এই বিষয়ে জানতে খবু আগ্রহ ছিলো। খুব জানতে ইচ্ছে করতো গ্রামের অশিক্ষিত গরীব মানুষেরা না হয় এমন সিনেম্যাটিক আন্দোলনে যোগ দিলো, কিন্তু কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের ছাত্ররা কেন এমন কাজে গা ভাসালো। বাংলা উইকিপিডিয়াতে পেয়েছিলাম--
সে সময় কলকাতার সব স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নকশালপন্থী ছাত্ররা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নিয়ে তার মেশিন শপে পুলিশদের সাথে লড়ার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করেছিল। প্রেসিডেন্সি কলেজ ছিল তাদের সদর দফতর। তারা জাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ গোপাল সেন কে হত্যার পরিকল্পনা করেছিল।
খুব অবাক লাগতো। আবুল বাশারের অগ্নিবলাকা বইয়ে কংগ্রসীদের নির্যাতনের কাহিনী পড়েছি। এটা মনে হয় আন্দোলনের খুব একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল।
এমন আরও লেখার অপেক্ষায় রইলাম। ভালো থাকবেন।
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ সকাল ১০:৩০
রাইসুল জুহালা বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার চমৎকার মন্তব্যের জন্য। অবশ্যই চেষ্টা করব আরও ভাল পোস্ট আপনাদের সামনে নিয়ে আসার জন্য।
আপনিও ভাল থাকবেন। ![]()
৪৮|
১৯ শে নভেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৫৫
মেঘনা পাড়ের ছেলে বলেছেন: সত্তুরের দশকটাই ছিলো আস্থিরতার দশক।
এককথায় যদি বলতে হয়, তাহলে বলা যায় - পশ্চিম বঙ্গের নকশাল আন্দোলন আর সদ্যস্বাধীন বাংলাদেশের জাসদ এর আন্দেলন দুটিই প্রায় একই ধরনের। দুটোই ছিলো হৎকারীতা। পশ্চিমবঙ্গের টা ছিলো বেশী পরিমানে সহিংস। তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশেরটা অতটা ছিলো না। মাঝখান থেকে অগনিত উচ্ছল, ভবিষ্যৎপুর্ণ তরুন সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ে হারিয়ে যায়। আর বেঁচে থাকা কিছু তরুণকে হতাশার সাগরে নিমজ্জিত করিয়ে দেয়া হয়।
এই আন্দেলন ব্যর্থ হবার মূল কারন যদি বলতে বলা হয়, তাহলে বলা যায় - "যাদের (সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ) জন্য এই আন্দোলন তাদের কে আস্থায় না নেয়া।" আর "প্রবক্তারা স্বপ্নই দেখাতে পেরেছেন, বাস্তবতার মাটিতে তারা পা দেননি।"
পশ্চিমবঙ্গ যেটাকে কঠোরভাবে দমন করতে পেরেছিলো, আর বঙ্গবন্ধু আবেগের বশে চলাজনিত কারনে ব্যর্থ হওয়ার জের আজ এতবছর পরও বাংলাদেশ বয়ে চলেছে।
২১ শে নভেম্বর, ২০১১ দুপুর ১:৪২
রাইসুল জুহালা বলেছেন: চমৎকার বিশ্লেষন করেছেন। এত পুরোনো পোস্টে এত ভাল একটা মন্তব্য পাব, আশাই করি নাই।
অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
৪৯|
১০ ই মার্চ, ২০১২ ভোর ৪:৫৮
ইমরান০০৭ বলেছেন: দেরীতে হলেও পড়লাম,লেখা আর মন্তব্য থেকে নতুন অনেক কিছু জানা হল। ধন্যবাদ ।
১০ ই মার্চ, ২০১২ ভোর ৫:৩৭
রাইসুল জুহালা বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। ![]()
৫০|
১৬ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:১০
তানজির খান বলেছেন: জানিনা আপনি এখনো ব্লগিং করেন কিনা। তবে অবশ্যয়ই আমার ধন্যবাদ প্রাপ্য। আমার খুব উপকার হয়েছে পোস্ট পড়ে। অনেকদিন ধরে জানার আগ্রহ ছিল এ বিষয়ে কিন্তু জানা হচ্ছিলো না। আজ খুব সহজেই জেনে গেলাম অনেক কিছু। ধন্যবাদ আপনাকে। আমার লেখায় আপনাকে আমন্ত্রণ রইল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই আগস্ট, ২০১১ সকাল ১০:২৬
আরিফ রুবেল বলেছেন: এমন পোস্টের জন্য ধন্যবাদ। তবে কিছু বিষয় পরিস্কার হওয়া দরকার।
'নব্যবিপ্লবী' শব্দটি দিয়ে আপনি কি বোঝাচ্ছেন ?
৪নং পয়েন্টে গুজবটা একটা আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে কতটা গুরুত্ব বহন করে ?
বর্তমানে ভারতে চলমান মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে আপনার মতামত কি ?