| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
আমি কিছুদিন একটা বায়িং হাউজে চাকরি করেছিলাম।
বেশ ভালো সেলারির চাকরি। প্রায়ই বিদেশ থেকে আমাদের অফিসে লোকজন আসে। তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আমাদেরই করে দিতে হয়। ভিন জাতির মানুষ হওয়াতে আমার সাথে খাপ খায় না। তবুও মানিয়ে চলতে হয়। চাকরি করলে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়। যাইহোক, একবার রাশিয়ার এক মেয়ে এলো। সে থাকবে টানা দুই সপ্তাহ। আমি প্রায়ই এইসব বায়ারদের আমার বন্ধু রাজীব নূরের বাসায় নিয়ে যাই। রাজীবের মা আর কন্যা খুব খুশি হয়। বিদেশীরাও মজা পায়। সময় কাটে ভালো।
মেয়েটার নাম আনাস্তাসিয়া।
খুবই কঠিন নাম। সত্য কথা বলি, এই নাম উচ্চারণ করতে আমার কষ্ট হয়। উচ্চারণ করে আরামও পাই না। এয়ারপোর্ট থেকে মেয়েটাকে হোটেলে পৌছে দিলাম। তেমন কোনো কথা হলো না গাড়িতে। শুধু মেয়েটা জানতে চাইলো আমার নাম। বললাম— শাহেদ। শাহেদ জামাল। মেয়েটা আমার ইমেইল এড্রেস নিলো। এরা ফোনের চেয়ে বেশি মেইল করে। এদের ইংরেজি বুঝা অনেক কঠিন। আমেরিকানদের উচ্চারণ বুঝা যায়। কিন্তু রাশিয়ানদের ইংরেজি উচ্চারণ ভয়াবহ। দোভাষীকে বেগ পেতে হয়। রাশিয়ান মেয়ে আসবে শুনে আমি বরেন চক্রবর্তী'র বই 'রাশিয়ান মেয়ে' পড়ে নিয়েছি।
পরের দিন সকালে মেয়েটাকে হোটেল থেকে আমাদের অফিসে নিয়ে এলাম।
কি সুন্দর মেয়ে! সহজ সরল। চোখে মুখে কোনো জটিলতা কুটিলতা নেই। দেখলে মনে হয় অল্প বয়সী মেয়ে। গায়ের রঙ ধবধবে ফর্সা। ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে করে, এটা কি এই পৃথিবীর মেয়ে? নাকি আসমান থেকে নেমে এসেছে! আনাস্তাসিয়াকে বললাম, তোমার অন্য কোনো নাম আছে? মেয়েটা সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলল, এলেনা। বললাম, মন্দ নয়। চলবে। আমার কথা শুনে এলেনা হেসে ফেলল। সহজ সরল সুন্দর হাসি। এলেনা সারাদিন একের পর মিটিং করলো। কাজ পাগল মেয়ে! বিকেলে যেতে চাইলো ফ্যাক্টরিতে। বললাম, আজ তুমি নিশ্চয়ই ক্লান্ত। আগামীকাল যেও।
পরের দিন এলেনাকে বললাম, তোমার নামের অর্থ আমি জানি।
এলেনা বলল, বলোতো শুনি। বললাম, চাঁদ। তোমার নামের অর্থ চাঁদ। এলেনা মুগ্ধ! মেয়েটাকে আরো মুগ্ধ করে দিতে মন চাইছে। তার জন্য আমাকে কিছু মিথ্যা বলতে হবে। অবশ্য এরকম মিথ্যায় গুনাহ হবে না নিশ্চয়ই। কাউকে খুশি করতে, আনন্দ দিতে, হাসাতে আমি অনায়াসে এক লক্ষ মিথ্যা বলতে পারি। পাপ হলে হোক। মানুষ হয়ে জন্মেছি, দু চারটা পাপ করাটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ তো দুনিয়াটা সৃষ্টি করেছেন উপভোগ করার জন্য। ধর্ম নিয়ে, বাউল নিয়ে হানাহানি করার জন্য না। অল্প কিছু দিন মানুষের আয়ু। কেন ভাই ঝগড়াঝাটি করিব!
এলেনাকে বললাম, তুমি খুব সুন্দর।
গ্রীক পুরানের সুন্দরী, হেলেন অফ ট্রয়, তোমার কাছে কিছুই না। এলেনা বলল, ইলিয়াড আমি পড়েছি। হেলেন বলে কেউ ছিলো না। এসব রুপকথা। আমি বললাম, যার জন্য টানা দশ বছর যুদ্ধ হয়েছে। একটা শহর ধ্বংস হয়ে গেছে। সেগুলো রুপকথা হয় কি করে? এলেনা বলল, থামো থামো। গ্রীন পুরানের সমস্ত কাহিনী বানোয়াট। সব জাতিতেই এরকম বহু রুপকথা প্রচলিত আছে। আমি তর্কে করতে গেলাম না। গৌতম বুদ্ধ বলেছেন, সুন্দরীদের সাথে তর্ক করতে হয় না। আসলে পৃথিবীর সব দেশের মেয়েরা একই রুকম। একই রকম তাদের আদর ভালোবাসা আর দু:খ কষ্ট। মেয়ে জাতটাই মায়াবতী। ওস্তাদ ঠিকই বলেছেন, নারীরা হচ্ছে ধরনী। তাদের মাঝেই আমাদের বসবাস।
©somewhere in net ltd.