নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

রাজীব নুর

আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

রাজীব নুর › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজকের ডায়েরী- ১৮৬

২৫ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০



ইদ শেষ। লোকজন ঢাকা ফিরতে শুরু করেছে!
আজ বুধবার, ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)। ইংরেজি তারিখ ২৫শে মার্চ, ২০২৬। সব কিছু যেন দ্রুত'ই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই হাসিনা সরকারের পতন হলো। ইউনুস এলো। জারজ সন্তানেরা অতি মাত্রায় বাড়াবাড়ি করলো। ৩২ নম্বর গুড়িয়ে দিলো! একটা নির্বাচন হলো। বিএনপি ক্ষমতায় এলো। ইদ এলো এবং চলে গেলো! এর মধ্য জঙ্গি হাদির খুনীকে গ্রেফতার করলো কলকাতা পুলিশ। মির্জা আব্বার অসুস্থ হয়ে গেলেন সিঙ্গাপুর। এরপর মির্জা আব্বাসের আর কোনো খবর নেই। পত্রিকা গুলো ফলোআপ নিউজ খুব কম করে। এদিকে তারেক জিয়া সব মিলিয়ে ভীষন খুশি। উনি বিনা বাঁধায় দেশে আসলেন, নির্বাচন করলেন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন! সব কিছু বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে। খুশিতে তারেক জিয়া যাকে সামনে পাচ্ছেন তাকেই বুকে জড়িয়ে ধরছেন। হোক সে ট্রাফিক পুলিশ বা আনসার সদস্য। এমনকি ট্রাফিক সিগনালে জনগনকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দেশে এই মুহুর্তে সবচেয়ে সুখী মানুষ তারেক জিয়া।

এদিকে নিরবে বইমেলা হচ্ছে।
বইমেলা জমছে না। বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ নেই। ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউব মানুষকে বেশি টানে। বইমেলার চেয়ে ডিম মেলা বা বানিজ্য মেলায় লোকজন বেশি হয়। এদিকে আমাদের সামু ব্লগের অবস্থাও ভালো না। দিন দিন লোকজন হুহু করে কমছে। ব্লগের দিকে তাকালে মনে হয়- মডারেটর বা ব্লগটিমের কোন দায় দায়িত্ব নেই। প্রতি বছরের মতো এবারও লোকজন ইদ করতে গ্রামে যাওয়ার পথে দূর্ঘটনায় মারা গেছে এবং গ্রাম থেকে শহরে ফেরার পথেও দূর্ঘটনায় মারা গেছে। রাস্তা খালি পেয়ে বাইকাররা এলোমেলো বাইক চালিয়েছে। তারা নিজেরাও আহত হয়েছে, এবং আরো অনেককে আহত করেছে, সবাই ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভিড় করেছে। ইদ উপলক্ষ্যে রিকশা চালক, বাসের হেল্পার, সিএনজি চালক এবং পাঠাও রাইডাররা তাদের ভাড়া ডবল করে ফেলেছে, নিজ দায়িত্বে। ভাবটা এমন গেলে যাবেন, না গেলে নাই। অনেক যাত্রী বেশি ভাড়া দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত আছে। যাইহোক, এদিকে সরকার বলছে তেল আছে। পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ইদ শেষে অফিস আদালত খুলতে শুরু করেছে। ঢাকা শহর ফিরে যাবে আগের চেহারায়।

ইউনুস সরকার আওয়ামীলীগের সমস্ত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছেন।
এমনকি যারা আওয়ামীলীগ সাপোর্ট করে, তাদেরও গ্রেফতার করেছে। সেই সুযোগে অনেকে সাধারন মানুষের নাম আওয়ামীলীগের খাতায় দিয়ে দিয়েছে, তাদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে। দুঃখের বিষয় এদের জামিন হচ্ছে না। প্রতিটা কারাগারে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী দিয়ে ভরা। এদের পরিবার ভয়াবহ কষ্টে জীবনযাপন করছে। এদের নিয়ে সরকার কিছু ভাবছে না। জুলাইয়ের পরে, অতি সাধারন মানুষের সাথেও অন্যায় হচ্ছে। যারা সত্যিকার অপরাধী তাদের শাস্তি হোক। কিন্তু নিরপরাধ মানুষ গুলো মুক্তি পাক। দরিদ্র দেশে জন্মগ্রহন করলে মনে হয়, অনেক অন্যায়, অত্যাচার আর জুলুম সহ্য করতে হয়। মূলত যারা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা বলে দাবী করছেন, এরাই সন্ত্রাসী, এরাই জঙ্গি, এরাই সমাজের আগাছা। এরাই সমাজের খারাপ মানুষ। এদের আইনের আওতায় আনা না হলে, সামনে বড় রকমের সমস্যা হবে। এরা ভয়ংকর জল্লাদ। এরা থানায় আগুন দিয়েছে, পুলিশ হত্যা করেছে, ছাত্র হত্যা করেছে, পুলিশের অস্ত্র লুট করেছে, দেশের সম্পদ নষ্ট করেছে। এরাই সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও করেছে।

ইদের মধ্যে দুটা বিষয় আমার ভালো হয়েছে।
এক, মেয়েকে নিয়ে খুব ঘুরেছি। ফারাজা ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত। ফারাজা বাইরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করে। এই অভ্যাস সে তার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছে। আমি ছাড়া ফারাজাকে কে বেড়াতে নিয়ে যাবে? অথচ আত্মীয়স্বজন কত আছে! তাছাড়া কন্যা আমার সাথে বাইরে গিয়ে আনন্দ পায়। আমি মেয়েকে কোনো কিছুতেই মানা করি না। কন্যা বলে, বাবা রিকশা নিয়ে অনেক দূরে যাও। আমি রিকশা নিয়ে অনেক দূরে যাই। কন্যা বলে, বাবা আইসক্রিম খাবো। আমি আইসক্রিম কিনে দেই। আইসক্রিম কন্যা নিজেই বেছে নেয়। কন্যা বলে, বাবা বড় রেস্টুরেন্টে চিকেন ফ্রাই খাবো। আমি চিকেন ফ্রাইয়ের সাথে বার্গারও, স্যুপ নেই। কন্যা খুশি হয়। কন্যা বলে, বাবা একটা বড় বল কিনে দাও। আমি বড় বল কিনে দেই। সব মিলিয়ে আমার ইদ কেটেছে মেয়েকে নিয়ে। ইদের কয়েকদিন ফারাজা ঘুম থেকে উঠেই বলে, বাবা আজ তোমার ছুটি। আমি বলি- হ্যা ছুটি! ফারাজা খুশিতে চিৎকার করে ওঠে। সাধারনত কন্যা ঘুম থেকে উঠে আমাকে পায় না। আবার রাতে আমি বাসায় ফিরি অনেক রাতে। ততক্ষনে ফারাজা গভীর ঘুমে।

ইদের মধ্যে দ্বিতীয় যে জিনিসটা ভালো হয়েছে, সেটা হচ্ছে-
একটা স্বপ্ন দেখেছি। ইদের দিন বেড়াতে যাবো, সুরভিদের বাসায়। আমি নিচে রেডি হয়ে মার ঘরে বসে আছি। সুরভি এখনও রেডি হয়ে নামেনি। আমি সুরভির জন্য অপেক্ষা করে-করে হঠাত ঘুমিয়েই গেলাম। গভীর ঘুম। একটা সহজ সরল সুন্দর স্বপ্ন দেখে ফেললাম। স্বপ্নে দেখি রানী এলিজাবেথ আমাকে নাইটহুড উপাধি দিচ্ছেন। লাল গালিচা বিছয়ে আমাকে সম্মান জানানো হয়েছে। রানী এখনই নামবেন দোতলা থেকে। আমার পাশে একজন দাঁড়িয়ে আছেন, তাকে ঠিক চিনিতে পারছি না। উনি আমাকে বললেন, স্যার আপনি ভাগ্যবান মানুষ। রানীর কাছ থেকে নাইটহুট পাচ্ছেন। এমনকি কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে আপনি 'নোবেল' পুরস্কারও পাবেন। শর্ট লিস্টে আপনার নাম উঠে গেছে! আমি হাই তুললাম! সাইরেন বেজে উঠলো- রানী নামছেন। ঠিক এমন সময় সুরভি আমাকে ধাক্কা দিলো। ঘুম ভেঙ্গে গেলো। স্বপ্ন চূড়মার হয়ে গেলো। সুরভি কি চায় না আমি নাইটহুড পাই? নোবেল পাই? আর কিছুক্ষন পর আমাকে ঘুম থেকে ডাকলেই হয়ে যেতো। আমার হাতে থাকতো নাইটহুড।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.