| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
ভগৎ একজন মানবিক এবং হৃদয়বান মানুষ।
তিনি দেশদ্রোহী নন। তিনি তার দেশকে ভালোবেসেই জীবন দিয়েছেন। তার মতো সাহসী এবং ত্যাগী কতজন হতে পারে! তার কোনো লোভ ছিলো না। তিনি নিজের কথা, নিজের পরিবারের কথা কখনো ভাবেননি। তিনি ভেবেছেন শুধু দেশের কথা। পুরো ভারত তাকে ভালোবাসে, সম্মান করে। যারা দেশের জন্য জীবন দেয়, তারা কি দেশদ্রোহী হতে পারে? পড়তে হবে, প্রচুর পড়তে হবে। তাহলেই সত্যটা জানতে পারবেন। অনুভব করতে পারবেন।
ভগৎ সিংহের জন্ম একটি শিখ পরিবারে।
তার পরিবার আগে থেকেই ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ব্রিটিশ ভারতে পাঞ্জাব প্রদেশে ১৯০৭ সালে তার জন্ম। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের সময় ভগৎ সিং'র বয়স ১২ বছর। ভগৎ সিং ছিলেন একজন স্বাধীনতাকামী বীর দেশপ্রেমিক। যখন তাঁকে ফাঁসির মঞ্চে আসার জন্য এবং মৃত্যুর কাঁঠগড়ায় দাড়াঁবার জন্য ডাকা হয়েছিল তখন ও তিনি রাশিয়ার মহান বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক নেতা লেনিনের রাষ্ট্র ও বিপ্লব বইটি পড়ছিলেন।
ভগৎ সিং কিশোর বয়সে লাহোরের ন্যাশনাল কলেজে পড়াশুনা শুরু করেন,
কিন্তু বাল্য বিবাহ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। ছাত্র থাকার সময়ই তার মধ্যে প্রবল যুক্তিবাদের বিকাশ ঘটে । কলেজের পাশে দ্বারকানাথ লাইব্রেরী যেখানে তিনি ইতিহাস ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য ইত্যাদি পাঠ করতে থাকেন । অল্প বয়সেই হিন্দি, ইংরেজি, উর্দু, সংস্কৃত ভাষা শিখেছিলেন । টলস্টয়, ভিক্টর হুগ, আনাতল ফ্রাস ,ভলতেয়ার, গোর্কি, দন্তয়েভসকি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুলের লেখা পড়তে শুরু করেছিলেন ।মার্কস,এঙ্গেলস, লেনিন তিনি গভীর আগ্রহে চর্চা করতে শুরু করেছিলেন। সোভিয়েতের বিপ্লব তার মনে রেখাপাত করেছিল ।
১৯৩১ সালের ২৩শে মার্চ সন্ধ্যা সাতটার সময় লাহোর জেলে ভগৎ সিং ফাঁসি কার্যকর হয়।
ফাঁসির আগে ভগৎ সিংকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে ক্ষমা চাইতে অনুরোধ করা হয়, ভগৎ সিং সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। ফাঁসির মঞ্চে মুখ ঢাকার কাপড় ব্যবহার করতেও তিনি অস্বীকার করেছিলেন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাম্রাজ্যবাদী বিটিশ রাজ হত্যা করেছিল। ভগৎকে ব্রিটিশ সরকার জঙ্গি বলে সম্বোধন করত। ভগৎ সিং ভয়কে জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন তাঁর মতাদর্শ, চর্চা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে।’
চোদ্দ বছর বয়স থেকেই ভগত সিং স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে আস্তে আস্তে জড়িয়ে পড়তে থাকেন।
সময় ভগত নাটকের মাধ্যমে জনতার মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করেছিলেন। ভগৎ কে বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না। এরকম সাহসী ছেলে ঘরে ঘরে জন্ম নিলে, সেই দেশ তরতর করে এগিয়ে যাবে। সেই জাতি মাথা উঁচু করে বেচে থাকবে। এযুগের ছেলেমেয়েরা ইউটিউব ফেসবুক টিকটক নিয়ে ব্যস্ত। তাদের উচিৎ ভগতের জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া।
©somewhere in net ltd.