নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বাংলাদেশ থেকে

রাজন ভাই

বাংলাদেশ থেকে বলছি

পরে বলবো...... :)

বাংলাদেশ থেকে বলছি › বিস্তারিত পোস্টঃ

শাহবাগের আন্দোলনের সাথে ছিলাম এবং এখনো আছি, কিন্তু অন্ধ নই (Dipu Zaman)

০৩ রা মার্চ, ২০১৩ দুপুর ১:১১

এই লেখার কোন তথ্যে যদি ভুল থাকে আমাকে জানাতে হবে প্রমান সহ, আমি সেটা সরিয়ে নিবো। মানুষের জানায় ভুল হতেই পারে। তবে আমি যা জানি তাই লিখলাম। এই লেখা পড়ার পর যদি কেও মনে করেন আমি কোন বিশেষ দলের মানুষ, তাহলে বুঝে নিতে তার মাথা সার্ফ এক্সেল এর খনি। আমি শুধু লজিকাল কথা বলবো, আবেগ আমার কাছে মুখ্য না। এই আবেগ কে ব্যবহার করেই আমাদের এতোকাল বানিয়ে রাখা হয়েছে ক্ষমতার দাস। আমি আর দাস নেই…কারন আমি বিচার বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করতে শিখেছি।



যুদ্ধাপরাধ কি?

যুদ্ধাপরাধ হচ্ছে কোন যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাত চলাকালীন সময়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক বেসরকারী জনগনের বিরুদ্ধে সংগঠিত, সমর্থিত নির্দিষ্ট সংজ্ঞায়িত অপরাধ কর্মকান্ডসমূহ। আর্ন্তজাতিক মানবাধিক আইন অনুসারে যুদ্ধ কালিন সংঘাতের সময় বেসরকারী জনগনকে খুন, লুন্ঠন, ধর্ষণ, কারাগারে অন্তরীন ব্যক্তিকে হত্যা, নগর, বন্দর, হাসপাতাল কোন ধরনের সামরিক উস্কানি ছাড়াই ধ্বংস প্রভৃতি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৮৯৯ ও ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশন সর্বপ্রথম যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত আইন সমূহ লিপিবদ্ধ করে।



যুদ্ধাপরাধী কারা?

যে কেউ যুদ্ধকালীন সময়ে উপরোক্ত অপরাধগুলো করবে সেই যুদ্ধাপরাধী।

যদি কেও কোন দেশে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে উপরোক্ত কোন একটা অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে তাহলে সেই যুদ্ধাপরাধী।

যুদ্ধে কোন একটা নির্দিষ্ট পক্ষে অংশ নিলেই কি কেউ যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায় ?

উত্তর হচ্ছে “না”। শুধুমাত্র কোন একটা বিশেষ পক্ষে যুদ্ধে অংশগ্রহন করলে অথবা সমর্থন করলেই কেউ যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়না। সুস্পষ্ট ভাবে চিহ্নিত অপরাধ করা ব্যতিরেকে কাউকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা যেতে পারেনা। আবার কোন একটা পক্ষে থাকলে তাকে যুদ্ধাপরাধ করার পরও নিরপরাধ বলা যেতে পারেনা। যুদ্ধাপরাধী যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সব দল বা গোষ্ঠির মাঝে থাকতে পারে।



স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপরাধী কি এক?

এটার উত্তর ও হচ্ছে “না” । ব্যাক্তিগত মতাদর্শের কারনে অনেকেই অনেক সময় একটা দেশের স্বাধীনতার পক্ষে অথবা বিপক্ষে থাকতে পারে। বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক মানুষ ভেবেছিলেন বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের সাথে থাকে তাহলে ২ পাকিস্তান মিলে ভারতের সাথে ফাইট দিতে পারবে, বড় একটা ইসলামী রাষ্ট্র থাকবে পাকিস্তান। এমন মতাদর্শের অনেকেই কোন অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না, তাহলে কি তাঁরা যুদ্ধাপরাধী ছিলেন? না !



যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়া উচিত নাকি উচিত না?

অবশ্যই উচিত! এতে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা। কারন এতে করে মানবতা বিরোধী অপরাধের শাস্তি বিধান করা যাবে এবং যুদ্ধ কালীন সময়ে যারা নির্যাতিত হয়ছেন তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা যাবে। এ বিচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়, বরং নিতান্তই মানবতা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে এবং সর্বোপরি দেশের প্রতি ভালোবাসার দায়বদ্ধতা থেকে।



কোন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে?

দেশে সংগঠিত যুদ্ধের সময় যে সকল মানুষ যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত করেছেন, তাদের সবার বিচার করতে হবে। ১ জনের করলাম এবং আরেকজনের করলাম না, পক্ষপাতিত্ব করলাম; তাহলে সেটাকে সুষ্ট বিচার বলা যাবেনা।



১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী কারাঃ

স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের একটা লিস্ট করা হয়, সেখানে সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় ১৯৫ জন পাকিস্তানী সেনা অফিসারদের। আমি আবারো বলছি “সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধী”। না, তাদের কোন বিচার হয়নি। কেনো হয়নি সেটা নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলেন। ১৯৭৪ সালে সেইসব ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়। যখন এই যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হয় তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন ডঃ কামাল হোসেন, উনি নিশ্চই এই ব্যপারে সব জানেন। কিন্তু মুখে এটম বোম মারলেও উনি কিছু বলবেন নাকি আমার সন্দেহ আছে।



এই ব্যাপারে যদি বিস্তারিত জানতে চান তাহলে এই লিঙ্ক এ যেতে পারেন Click This Link



আল-বদর কি?

যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের সরকার একটা প্যারা মিলিটারি টাইপ বাহিনী তৈরি করে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীদের হাত শক্ত করার জন্য। প্রত্যেকটা জেলা-থানা থেকে আল-বদর বাহিনীর মানুষ যোগাড় করা হয়। এবং তারা ছিলো বেতন ভুক্ত। এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার আছে। আল-বদর এর লোকবল যোগাড় করার আসল দায়িত্ব ছিলো সকল জেলার ডি.সি দের। বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীর ছিলেন তৎকালীন ডি.সি। উনি কতজন লোক আল-বদর টিমে ঢুকিয়েছেন সেটা আমি জানিনা। তবে ঢুকিয়েছেন বলেই শোনা যায়। কালকে দেখলাম ব্লগার ইমরান সাহেব জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীর এর কাছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংক্রান্ত একটা স্বারক লীপি প্রদান করছেন। ব্যপারটার মাঝে একটা কৌতুক রয়েছে। ম.খা আলমগীর সাহেবের মতো আমিও হেসেছি সেটা দেখে।



আল-শামস কি?

আল-বদর এর পাশা পাশি এই দেশে আরকেটা গ্রুপ তৈরি হয়েছিলো পাকিস্তানী বাহিনীদের সাহায্য করার জন্য সেটা আল-শামস। এবং তারা জামায়েতী ইসলামী বাংলাদেশের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত ছিলো। আল-বদর এবং আল-শামস এই উভয় দল-ই দেশে ব্যাপক পরিমান খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ সহ নানা রকম অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলো।



রাজাকারের লিস্ট কই?

স্বাধীনতার পর পর-ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদেশে বাংলাদেশে সকল যুদ্ধাপরাধী তথা রাজাকার, আলবদর, আল-শামস এর লিস্ট করা হয়, সেই লিস্টে প্রায় ১০ হাযার নাম ছিলো (আমার একদম সঠিক সংখ্যা টা মনে নেই)। এখানে প্রসংগত উল্লেখ্য এমন অনেক কিছু মানুষের নাম সেই লিস্ট এ চলে আসে যাদের বিচার করা তখন আদৌ সম্ভব ছিলোনা। এখনো শোনা যায় বর্তমান আওয়ামীলীগ এবং বি.এন.পি উভয় দলের অনেক হোমড়া চোমড়া নেতা সেই রাজাকার লিস্ট – এ ছিলেন। তাদের নাম আমি এখানে উল্লেখ না করি। পরবর্তী সময়ে শোনা যায় বঙ্গবন্ধু “যুদ্ধাপরাধি”-দের সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেন। তবে এখন অনেক ভিন্ন কথাও শোনা যাচ্ছে, উনি নাকি ক্ষমা করে যান নাই। এটা আমার দেখার বিষয় ও না। ক্ষমা করে গেলেও আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, না করে গেলেও আমি বিচার চাই।



বাংলাদেশের সব যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার এবং “Collaborators” – দের লিস্ট এই দুই টা ওয়েব সাইটে গেলে পাবেন।

http://warcriminalsbd.org/list/

http://www.genocidebangladesh.org/?page_id=14



দয়া করে কিছু সময় ব্যায় করে ঘাটা ঘাটি করুন, লেখা পড়া করুন। তোতা পাখির মতো মানুষের শেখানো বুলি আওড়াবেননা।



এতো কিছু লিখার পরে এবং বুঝিয়ে বলার পরেও অনেক মানুষ আমাকে ভুল বুঝবেন। আমি সেটা পরোয়া করিনা। আমি শুধু কিছু কথা বলে দিতে চাই, আমি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। আমি শুধু কিছু মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান করছি যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যু-টা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং জনসাধারনকে ধোকা দিচ্ছে। আপনারা যদি আসলেও বিচার চাইতেন তাহলে রাজনৈতিক ফায়দা না লুটে “আই ওয়াস” ট্রাইবুনাল না করে একটা স্বচ্ছ বিচার ব্যবস্থা দাড়া করাতেন। বিচার করেন সেই ১৯৫ জন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধীদের। বিচার করেন বঙ্গবন্ধুর করা সেই বিশাল যুদ্ধাপরাধি এবং রাজাকার লিস্টের মানুষদের। অন্তত আইনের আওতায় আনেন। একি অপরাধের জন্য ২ রকম শাস্তি হয়না। আর যদি সেটা করা হয় তাহলে বুঝতে হবে সেখানে কিন্তু আছে।



শাহবাগের আন্দোলনের সাথে ছিলাম এবং এখনো আছি, কিন্তু অন্ধ নেই |

.....(Dipu Zaman)

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.