নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাজপাখি

রাজপাখি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃষ্টির অভিশাপ

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১২

১৩/১১/১৪
সেদিন ছিল ভোর থেকেই প্রচুর বৃষ্টি। দেয়ালে আলোছায়ার নাচানাচি চলছে। আমি বিছানায় আরাম করে বসে পিঠের দিকে বালিশে হেলান দিয়ে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। কোনো অনুভুতি কাজ করছে না। গত মাঝ রাতে ৩ ঘন্টা যা হল তার পরো কেমন রোবট হয়ে গিয়েছি। ফোন টা বাজছে না। ফোন কি মরে গেছে? নাকি ফোন দেয়ার মানুষ টা মরে গেছে? ফোন না দিক, ওয়াটস্যাপের টুংপুং ও তো হচ্ছে না। উঠে ফোন দেখতেও ইচ্ছে করছে না। চায়ের কাপ রেখে একটু চোখ বন্ধ করেছি, হঠাৎ ফোন টায় গান শুরু। রিংটন বাজছে। আমি বাঘের শিকারে ধরার মত দৌরে গিয়ে ফোন রিসিভ করি. ।
-হ্যালো সুবহা!!
অপর প্রান্তে খুব বাচ্চাসুরে একটি মেয়ে,
-হ্যালো। একটু রমনার সামনে আসো।
-আচ্ছা।
এটুক কথায় বুঝে গিয়েছি কি হবে। এতক্ষনের মলিম অনুভুতিহীন মন টা পরিচিত বালিকার বাচ্চামি স্বরে হঠাৎ খুসিতে একটু চাঙা হয়ে উঠেছে। শুধু প্যান্ট আর কুচকানো শার্ট পড়ে দিয়েছি এক দৌড়। আরে ছাতা নিতে ভুলে গেছি! কোনো ব্যপার না।

রিকশা নিয়ে শিশুপার্কের কাছাকাছি যেতেই রাস্তায় ওকে দারিয়ে থাকতে দেখলাম। ছাতা মাথায় বাচ্চা মেয়েদের ভঙ্গীতে কাচুমাচু হয়ে দারিয়ে আছে মেয়েটি।
-তোমার ছাতা কই?
-আনতে ভুলে গেছি।
-ভুলেই তো যাবা। এখন আমার ছাতার নিচে আসো।
-আচ্ছা।
আমি লক্ষি ছেলের মত তার ছাতার নিচে চলে আসলাম। টংয়ের দোকানে সবাই কেমন যেন চোখে তাকিয়ে আছে। যেন জীবনে মেয়েছেলে এক সাথে দেখেনি। আমরা ভিতরে বসলাম।
- রাগ কমেছে? সে জিজ্ঞেসা করে আমাকে।
- না।
-আমারো না।
-ভাল তো। দিনে ১০ বার তোমার সাথে বাজে।
-এখন থেকে আর বাজবে না।
-আমার অভিমান অতিরিক্ত।
-জানি।
- জানো তাহলে এমন করো কেন?
উত্তর না দিয়ে সে ফোন টিপাটিপি করছে। জানি এই উত্তর ওর জানা নেই।
- শুনো। আমি সিম পালটে ফেলব। কাউকে নাম্বার দিব না।
- দিও না। কে মানা করেছে? আমার অভিমানি স্বরের উত্তর
-তোমাকেও দিব না
-আচ্ছা দিও না
দুইজন এরপর অনেক ক্ষন চুপ করে ছিলাম। বৃষ্টি কমছে না। সে উঠে বলল, " আমার যেতে হবে "
-যাও
-ওয়াটস্যাপ, এফবি বন্ধ করে দিয়েছি
-আমি কি করব তাতে?
-তোমার কিছুই করার নেই।
-বৃষ্টির মধ্যে ডাকার মানে কি হ্যা?
-এ পর্যন্ত কখনোই বৃষ্টির দিন আমাদের দেখা হয়নি। তাই ইচ্ছাটা আজ পুরোন হল, তোমারো এটা ছিল।
-মানে?!
-কিছুনা
-কিছু না মানে!!
সে কতক্ষন চুপ হয়ে ছিল। গতরাতে যে সুবহা ছিল সে আমার সুবহা নয়। আমার সামনে যে দারিয়ে আছে সে আমার সুবহা। বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই কারন সুবহা কখনোই আমার উপর দিয়ে কথা বলে না। অন্ততপক্ষে সামনাসামনি ত না। আমাদের যতই ঝগড়া লাগুক প্রতিটা দেখা করায় আমরা স্বাভাবিকক রিএক্ট করতে পারি যেন কিছুই হয়নি। এটাই আগুনের অবসান ঘটায়।
-আমি চলে যাচ্ছি।
-শুনো।
-না
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি চোখের ভিতর থেকে পানি বের হচ্ছে। সে হেটে যাচ্ছে জোরে।
-সুবহা দারাও! -তখন হঠাৎ ই

একটা চিৎকার ....

তারপর সজোরে ডাক "সুবহা!!!!"

বৃষ্টির বেগ কমে যাচ্ছে। সুবহার ওরনা দিয়ে ওর নিথর শরীর ঢেকে দিয়েছে ডাক্তার। আশে পাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। ট্রাকড্রাইভার পালিয়েছে। এত তারাতারি একটা মানব শরীর অফ হয়ে যায়? কি হত একটু সময় দিলে? বুকের কাছে সুবহাকে নিয়ে কিছুক্ষন চোখে ধোয়াসা দেখেছি। মাথা কাজ করছে না। কিনাকি বলছি নিজেও বুঝতেছি না। ধোয়াসা যাচ্ছে না। শুধু মনে আছে রাস্তায় ট্রাকের নিচে সুবহার পিশে যাওয়ার ওই ৩ সেকেন্ডের দৃশ্য। এরপর তাকে কোলে নিয়ে পাগলের মত হাসপাতালে ছোটা। আশে পাশের সবাই তখন নিজ কাজে ব্যস্ত। এত বড় একটা ঘটনাও তাদের লোম খাড়া করতে পারেনি। সাহায্য করেনি কেউ। হাসপাতালের কাছাকাছি যাওয়ার পর কয়েকজন নার্স এসেছিল সাহায্য করতে। আইসিইউ তে নেয়ার পর বন্ধুকে ফোন করি। কিন্তু ৫ মিনিট পর ডাক্তার এসে পরে মুখ নিচু করে। আমি কিছু জিজ্ঞেস না করে ভিতরে দৌরে ঢুকি। বুঝতে তখন বাকি থাকল না কি হয়েছে। বুকে জরিয়ে ধরে ধোয়াশা দেখা শুরু। এরপর আর কিছু মনে নেই।

১৩/১১/১৫
প্রচুর বৃষ্টি। দেয়ালে আলোছায়ার নাচানাচি চলছে। আমি বিছানায় চোখ বন্ধ করে বসে পিঠের দিকে বালিশে হেলান দিয়ে চায়ে চুমুক দিচ্ছি। কোনো অনুভুতি কাজ করছে না। শুধু পরিচিত এক বালিকার বাচ্চামিস্বর কানের কাছে। আর চোখের সামনে ভাসে শুধু একটি চেহারা। আমার সকাল,আমার সুবহা

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.