| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
'মানুষের জীবনগুলো ছোটবড় রঙবেরঙের সতত সঞ্চারমান বৃত্তের মত। সন্তরণশীলতার একেক পর্যায়ে এরা কখনো কখনো পরস্পরের কাছাকাছি চলে আসে, নিজের রঙের স্পর্শ বুলিয়ে দিয়ে যায় একে অপরের গায়ে'- ব্লগার রেহনুমা বিনত আনিসের লেখা এই কথাগুলো আজ খুব মনে পড়ছিল। কথাগুলো অনেক বেশী অনুভব করতে পারছি।
রিয়াজ ভাইদেরকে এয়ারপোটের্ রিসিভ করা থেকে নিয়ে এই দুই দিন ছিল অন্য রকম। ওরা দুই জন, রিয়াজ ভাই এবং ভাবী। এয়ার পোটর্ থেকে বাইরে আসার পর যখন পাবলিক বাসের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলাম, কনকনে ঠান্ডায় তখন দুইজনের সঙিন অবস্থা দেখে মনে মনে বেশ কষ্টই লাগছিল।দুভর্াগ্যবশত ঔ দিন তাপমাত্রা হঠাত মাইনাস ছাব্বিশে নেমে গিয়েছিল।যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে আসার পরও বেচারাদের নতুন আবহাওয়ার কারণেই এই দশা। আগেই বলে রাখি রিয়াজ ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় অনেক দিনের। আমার মত এখন ওরাও একই পথের পথিক। স্বদেশের মায়া ত্যাগ করে জ্ঞান অন্বেষণে বিদেশ বিভঁুই আর কি! ভাগ্য ভাল বাসের জন্য খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। সোজা গন্তব্যের দিকে ছুট।
স্বামী-স্ত্রী দুজনের সাময়িক বাসস্থানের ব্যবস্থা করে আপন নীড়ে ফিরে এলাম। পরিচিত এক বড় ভাইর আন্তরিক সহযোগীতায় খুব সহজেই তাদের জন্য অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করা গেল। সেই ভাই নতুন অতিথীদের জন্য স্বেচ্ছায় নিজের আ্যপার্টমেন্ট ছেড়ে দিয়ে এক বন্ধুর বাসায় রাত কাটালেন। দেশের সীমানার বাইরে এইরকম ভালোবাসা সত্যিই ছেড়ে আসা প্রিয়জনদের কথা মনে করিয়ে দেয়। পরের দিন সন্ধ্যায় রিয়াজ ভাইদের সাথে আবার দেখা দারুল আমান মসজিদে। পরিচিত আরেক ভাইয়ের মেয়ের আকীকা অনুষ্ঠানের দাওয়াতে। রিয়াজ ভাইকে অবশ্য আগের দিনই বলে রেখেছিলাম। অনুষ্ঠানে সবার সাথে এই নবাগত দম্পতির এভাবে ঘনিষ্টভাবে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়া দেখলে কে বলবে যে তারা মাত্র গতকাল আসলো! আসলে নিজের দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য টান এরকমই হয়, যা ছেড়া যায় না, উপেক্ষা করা যায় না। তবে কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
তৃতীয় দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তড়িঘড়ি করে না খেয়েই ছুট দিলাম। রিয়াজ ভাইদেরকে ট্রেনে তুলে দিতে হবে। রাজধানী থেকে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরত্ব সাড়ে চারশ কিলোমিটারেরও বেশি। ঔ বাসায় গিয়ে সকালের নাস্তা করলাম।খাবারের স্বাদ অস্বাধারণ। নাস্তার মাঝে বারবার মনে হচ্ছিল, কতদিন পর নারী হাতের সজতনে তৈরী রান্না খাওয়ার সৌভাগ্য হল! এখানে আমরা যারা অবিবাহিত ছাত্র, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ব্যস্ততার দরুণ দায়সারা গোছের রান্না-বান্না করে জীবন নিবর্াহ করতে হয়। এই রকম অবস্থায় এত সুস্বাদু খাবার তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!
এবার বিদায়ের পালা। রেল স্টেশনে পৌঁছে ব্যাগ-পত্র নিয়ে পাশাপাশি হঁাটতে হাঁটতে গত কয়েক দিনের ঝক্কি-ঝামেলার কথা স্মরণ করে রিয়াজ ভাই বললেন, আসলে প্রকৃত শান্তির জায়গা জান্নাতই। আমিও সায় দিলাম, মানুষের কষ্ট লাঘব করার জন্য এত আবিষ্কার, এত স্বয়ংক্রিয়তা; তারপরও কি মানুষের আকাঙ্ক্ষিত পরম সুখ এসেছে ? এখনওতো উন্নত বিশ্বে অনেক মানুষ জীবনের প্রতি হতাশ হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।যাইহোক, অবশেষে তাদেরকে নিয়ে একশ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলল ট্রেন গন্তব্যের দিকে । খুব একা মনে হচ্ছিল নিজেকে। ওদের সান্নিধ্যে মনে হয়েছিল নিজের পরিবারকে কাছে পেয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারলাম এখানে যে জিনিসটাকে সবচেয়ে বেশি মিস করি তা হলো আমার পরিবার। সৃষ্টিকতর্ার কি অসাধারণ অনুগ্রহ এই পরিবার প্রথা! অথচ পাশ্চাত্য সমাজ ব্যবস্থায় এই পরিবার প্রথা এখন বিলুপ্তির পথে। তাইতো জীবন এখানে রঙহীণ, পানসে, কৃত্রিম। ধীর পায়ে হেঁটে চলে এলাম বাইরে। আমার ব্যস্ত জীবনের যাত্রা আবার শুরু...
২|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৫৬
রেনেসঁা বলেছেন: জীবন আসলেই এখানে রঙহীণ। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
২০ শে জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ৯:৫১
কালোপরী বলেছেন: জীবন এখানে রঙহীণ, পানসে, কৃত্রিম