| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশ নিয়ে খুব চিন্তায় মগ্ন থাকি। ভালবাসি আমার এই দেশটাকে।

রেসিডেন্ট ইভিল (Resident Evil) হলো ২০২৬ সালের একটি আমেরিকান হরর চলচ্চিত্র। ছবিটি পরিচালনা করেছেন জ্যাক ক্রেগার (Zach Cregger) এবং এর চিত্রনাট্য লিখেছেন তিনি ও শে হ্যাটেন (Shay Hatten)। এটি ক্যাপকম (Capcom)-এর জনপ্রিয় Resident Evil ভিডিও গেম সিরিজের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি Resident Evil চলচ্চিত্র সিরিজের অষ্টম লাইভ-অ্যাকশন সিনেমা এবং আগের সিনেমাগুলোর কাহিনি থেকে নতুনভাবে শুরু করা একটি রিবুট।
ছবিতে অস্টিন আব্রামস (Austin Abrams) ব্রায়ান হোদুকাভিচ নামের একজন চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাকে র্যাকুন সিটিতে (Raccoon City) ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের ফলে তৈরি ভয়ংকর দানবদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন জ্যাক চেরি (Zach Cherry), কালি রেইস (Kali Reis) এবং পল ওয়াল্টার হাউজার (Paul Walter Hauser)।
আগের রিবুট Resident Evil: Welcome to Raccoon City (২০২১) বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর এবং নেটফ্লিক্সের Resident Evil টেলিভিশন সিরিজ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর, ২০২২ সালের শুরুর দিকে কনস্টান্টিন ফিল্ম (Constantin Film) নতুন করে চলচ্চিত্র সিরিজটি নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জ্যাক ক্রেগারকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর সনি ইন্টারঅ্যাকটিভ এন্টারটেইনমেন্টের প্লেস্টেশন প্রোডাকশনসও এই প্রকল্পে যুক্ত হয়।
ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স এবং নেটফ্লিক্সসহ চারটি স্টুডিও ছবিটির স্বত্ব পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে। অবশেষে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে সনি পিকচার্স ছবিটির স্বত্ব লাভ করে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে চেক প্রজাতন্ত্রের প্রাগ শহরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা শেষ হয়।
Resident Evil সিনেমাটির প্রিমিয়ার ১৫ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সনি পিকচার্স রিলিজিংয়ের মাধ্যমে এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।
ছবিটি সমালোচক ও বাণিজ্যিক—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে সিনেমাটি ২৫০.৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এ ছাড়া Rotten Tomatoes এবং Metacritic-এর মতো চলচ্চিত্র পর্যালোচনা ওয়েবসাইটে এটি ভিডিও গেমের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ রেটিং পাওয়া সিনেমায় পরিণত হয়।
আমার কাছে চমৎকার লেগেছে সিনেমাটি। আমি ৯.৫/১০ দেব। 
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৪
রিনকু১৯৭৭ বলেছেন: আপনি এতো সুন্দর করে বিস্তারিতভাবে লিখেছেন তা বেশ ভালো লাগলো। আমি, আপনার আইডিয়াগুলো মাথায় রেখে পরের বার লেখার চেষ্টা করবো।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩৮
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
রিনকু১৯৭৭, আপনার সিনেমা রিভিউটি পড়ে ভালো লাগল। হরর ও থ্রিলারধর্মী সিনেমার প্রতি দর্শকদের আকর্ষণের একটি বড় কারণ হলো, এই ধরনের চলচ্চিত্র আমাদের পরিচিত বাস্তবতার বাইরে এক ভয়ংকর, অনিশ্চিত ও রহস্যময় জগতের মুখোমুখি দাঁড় করায়। ‘Resident Evil’ সিরিজ সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংক্রমণ, দানবীয় রূপান্তর, বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং মানবসভ্যতার বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে যুক্ত করেছে। আপনি সিনেমাটিকে ১০-এর মধ্যে ৯.৫ দিয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায়, ছবিটি আপনার প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
আপনার লেখার মাধ্যমে জানতে পারলাম, ২০২৬ সালের এই চলচ্চিত্রে র্যাকুন সিটিতে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে একজন চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহনকারীকে দানবদের মোকাবিলা করে টিকে থাকার সংগ্রামে নামতে হয়। কাহিনির এই ভিত্তিটি বেশ আকর্ষণীয়। কারণ, বিপর্যয়ের সময় একজন সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা অনেক ক্ষেত্রে দর্শককে গল্পের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত করে। সব সময় অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নায়ক নয়, বরং সীমাবদ্ধতা ও ভয় নিয়ে লড়াই করা একজন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার চেষ্টাও গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।
‘Resident Evil’ নামটির সঙ্গে ভিডিও গেমপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের পরিচয় রয়েছে। এই সিরিজের জনপ্রিয়তার পেছনে শুধু ভয়ংকর প্রাণী বা রক্তাক্ত দৃশ্যের ভূমিকা নেই; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে রহস্য, বিপজ্জনক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা, সংক্রমণের বিস্তার এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তির পরিণতি। মানুষের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি যখন দায়িত্বহীনতা কিংবা ক্ষমতার লোভের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই অগ্রগতিই বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে—এ ধরনের আশঙ্কাও সিরিজটির কাহিনিকে বাড়তি তাৎপর্য দেয়।
আমার কাছে এ ধরনের সিনেমার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, এগুলো বিনোদনের পাশাপাশি কিছু মৌলিক প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে। মানুষ কি সব সময় তার আবিষ্কারের পরিণতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে? কোনো বিপজ্জনক প্রযুক্তি ভুল হাতে পড়লে তার ক্ষতি কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে? একটি বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে মানবিক দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে? অবশ্য প্রতিটি হরর সিনেমায় এসব প্রশ্ন সমান গুরুত্ব পায় না, তবে গল্পের ভেতরে এমন উপাদান থাকলে চলচ্চিত্রটি নিছক ভয় দেখানোর বাইরে গিয়ে দর্শককে ভাবতেও শেখায়।
আপনি ছবিটিকে ৯.৫ নম্বর দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে সিনেমা ভালো লাগার ক্ষেত্রে এমন উচ্চ নম্বর দেওয়ায় আপত্তির কিছু নেই। তবে আপনার রিভিউতে যদি আরও কিছু বিষয় বিশ্লেষণ করা হতো, তাহলে পাঠকেরা সিনেমাটি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতেন। যেমন, ছবিটির গল্পের গতি কেমন, ভয় সৃষ্টির কৌশল কতটা কার্যকর, অভিনয় কতটা বিশ্বাসযোগ্য, পরিচালনা কতটা দক্ষ এবং আগের ‘Resident Evil’ চলচ্চিত্রগুলোর তুলনায় নতুন ছবিটির স্বাতন্ত্র্য কোথায়—এসব বিষয় নিয়ে আপনার মতামত জানতে পারলে ভালো লাগত।
বিশেষ করে হরর সিনেমার ক্ষেত্রে ভয় দেখানোর পদ্ধতিটি গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ কোনো দানবের আবির্ভাব দর্শককে চমকে দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে অজানা বিপদের আশঙ্কা তৈরি করা অনেক সময় আরও গভীর ভয়ের অনুভূতি সৃষ্টি করে। অন্ধকার পরিবেশ, শব্দের ব্যবহার, ক্যামেরার অবস্থান, চরিত্রের অসহায়ত্ব এবং বিপদের উৎস সম্পর্কে অনিশ্চয়তা—এসবের সমন্বয় একটি হরর চলচ্চিত্রকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে। নতুন ‘Resident Evil’ সিনেমায় এই উপাদানগুলো কতটা সফল হয়েছে, সে বিষয়ে আপনার বিশ্লেষণ পাঠকের আগ্রহ আরও বাড়াতে পারত।
আরেকটি বিষয় হলো, জনপ্রিয় ভিডিও গেম অবলম্বনে সিনেমা নির্মাণ করা সহজ কাজ নয়। গেমের দর্শক ও সিনেমার দর্শকের প্রত্যাশা সব সময় এক রকম হয় না। গেমে খেলোয়াড় নিজে বিপদের মুখোমুখি হয়, সিদ্ধান্ত নেয় এবং ঘটনাপ্রবাহের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু সিনেমায় পরিচালককে চরিত্র, চিত্রনাট্য, সম্পাদনা ও দৃশ্য নির্মাণের মাধ্যমে সেই উত্তেজনা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। তাই গেমের পরিচিত উপাদানগুলো পর্দায় তুলে ধরাই যথেষ্ট নয়; চলচ্চিত্র হিসেবে গল্পটির নিজস্ব শক্তিও থাকতে হয়।
আপনার পোস্টের আরেকটি ইতিবাচক দিক হলো, আপনি সিনেমা দেখে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন। চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে অন্য দর্শকেরাও নতুন সিনেমা সম্পর্কে আগ্রহী হন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, কোনো সিনেমা একজন দর্শকের কাছে অসাধারণ মনে হলেও অন্য দর্শকের কাছে সেটি মাঝারি মানের হতে পারে। কারণ, প্রত্যেকের পছন্দ, প্রত্যাশা এবং চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই ভালো রিভিউয়ের কাজ শুধু নিজের ভালো লাগার কথা বলা নয়, সেই ভালো লাগার কারণগুলোও পাঠকের সামনে তুলে ধরা।
সবশেষে বলব, আপনার রিভিউটি আমাকে সিনেমাটি সম্পর্কে আগ্রহী করেছে। ভবিষ্যতে আপনার কাছ থেকে আরও বিশ্লেষণধর্মী সিনেমা রিভিউ আশা করি, যেখানে কাহিনির পাশাপাশি পরিচালনা, অভিনয়, চিত্রগ্রহণ, আবহসংগীত এবং চলচ্চিত্রটির অন্তর্নিহিত ভাবনাও উঠে আসবে। এতে আপনার ব্যক্তিগত ভালো লাগার প্রকাশের পাশাপাশি পাঠকের জন্য একটি কার্যকর চলচ্চিত্র-পর্যালোচনাও তৈরি হবে।
সিনেমাটি উপভোগ করেছেন জেনে ভালো লাগল। আপনার পরবর্তী রিভিউয়ের অপেক্ষায় রইলাম। শুভকামনা রইল।