নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আধারের একটা আলো আছে আর আমি সেই আলো

আধারের শাওন

০০১

আধারের শাওন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অসম্পূর্ণ স্বপ্ন অথবা সপ্না

০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৮

আমারা যে ফ্লাটে থাকি সেখানে আমি ছারা আরও ৩ জন থাকে আমাদের সাথে মাঝে মাঝেই কিছু ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। আমাদের যে কাজের মেয়েটা সে দুবেলা খুব মজাকরে রান্না করে দিয়ে যায় আর আমারা ৪জন মজা করেই দুবেলা খেতে পারি। মেয়েটার নাম সপ্না সে কাজের মেয়ে হোলেও দেখতে খুব সুন্দর যদিও গায়ের রঙ শ্যামলা। আমার রুমমেট রাসেল সে খুবই অন্য জগতের মানুষ সারা দিন বাসায় ভিতরে থাকে আর কখন সপ্না আসবে কখন সে দরজা খুলবে সেই আসায় থাকে, প্রতি মাসে সপ্নাকে আমারা জন প্রতি ৮০০ টাকা করে দেই কিন্তু রাসেল ওকে ১৫০০ টাকা করে দেয় আর আমাদের বলে মেয়েটা কত কষ্ট করে আমাদের কাজ গুলো করে দেয় তাই দেই তোদের তো মনুষ্যত্ব বলতে কিছু নেই। আমাদের সাথে আর যে দুই জন আছে বাবু আর রাফি। সপ্নাকে অরা দুজন কোন মতেই পছন্দ করে না । সপ্না নাকি ওদের রুম থেকে নানা সময়ে নানা রকম জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। রাসেল ওদের কথা শুনে বলে তোরা বললেই আমারা বিশ্বাস করি না? ছেলেদের জিনিস নিয়ে ও কি করবে ??আমি কখনই এইসব বিসয় নিয়ে কথা বলতাম না। একদিন দেখলাম রাসেল অনেক খুশি আমি বললাম কিরে তর কি হয়েছে ??কিছু না রে কাল কি হয়েছে জানিস সপ্না বিকেলে আমাকে নিয়ে বাজারে গেছে।হা হা হা হা মনে মনে ভাবলাম সালা এইটা কি কয় সামান্য কাজের মেয়ে র জন্য ওর এই অভেস্থা । আমি ওর কথা সুনেই গেলাম ঐইটা কিনলো এইটা কিনলো আমার মাথায় কিছু কাজ করছে না। ওর কথা শুনে চলে এলাম নিজের রুমে।পরের দিন আমি ক্লাস করে খেতে বসব এমন সময় বাবু বলল নবাবীর বেটি আজ আসে নাই বাহিরে গিয়া খেয়ে আসো যাও। যথারীতি রাসেল কে বোকাসোকা করা একদম কি বলবো সপ্না কিছু করলেই রাসেলের উপর হামলা চলে । রাসেল বলল মেয়েটা খুব অসুস্থ একদিন না আসলে কি হয়। আমি ভালো করে বুঝে গেলাম রাসেল এর মনের অভাস্থা । সেদিন রাতে রাসেল এর থেকে সপ্নার সম্পরকে অনেক কথাই সুনলাম নিজের কাছেই খারাপ লেগে গেলো। মনে হলো আমি রাসেলের কাছে খুব সামান্য একজন মানুষ। সপ্না খুব গরিব ঘরের মেয়ে সেদিন বাসায় না আসায় রাসেল সপ্নার খোঁজ করতে ঐ এলাকায় গিয়েছিলো তারপর খোঁজা খুঁজি করে ওর বাসায় চলে গেলো । সপ্না বাসায় আছে ?কে ?আমি রাসেল সপ্না আমাদের বাসায় রান্না করে দিয়ে আসে আজ যায়নি তাই আমি আসলাম।ও মাইয়াডা যে কই গেলো বাবা আপনি চিন্তা কইরেন না বাসায় আইলে আমি আপনাগো কতা কমু। আচ্ছা ঠিক আছে আসলে আপনি বইলেন।রাসেল তখন চিন্তা করলো মেয়েটা কই গেলো।বাসা থেকে বার হবার সময় সপ্নার সাথে রাসেলের দেখা । সপ্না কান্না করছে !রাসেল বলল কি ব্যাপার সপ্না তুমি আজ যাও নাই কেন?ভাইয়া আমি একটা কাজে বাস্ত ছিলাম তাই আইজ জাইতে পারি নাই।আচ্ছা ঠিক আছে কিন্তু তুমি কান্না করছ কেন ??না ভাইয়া কিছু না। আর তমার হাত মুখে এতো দাগ কেনো?সপ্না কিছুই বলল না কান্না করতে করতে বাসায় চলে গেলো।রাসেল ওর পিছনে গেলো সপ্না ওদের রুমে ডুকেই ওর মাকে জ্বরিয়ে ধরে মা আমি মানুষের বাসায় কাজ করবো না । ওরা মানুষ না ওরা জানোয়ার মা আমার সব কিছু শেষ করে দিয়েছে ওরা । রাসেল ওদের কথা শুনে নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারলো না ...কে কে তমাকো কি করেছে বলো ভাইয়া আপনি যাননি দয়া করে চলে যান আমি গরিব বলে আমাদের সাথে এমন করবেন আমি জানি আপনি আমাকে পছন্দ করেন কিন্তু আমি গরিব তাই আপনার সব কিছু বুঝেও আমি নিরুপায় আমি কোথায় আর আপনি কোথায় ?তমার কি হয়েছে আমাকে বলো ,আমার একটা ছোট ভাই আছে ও একটা চায়ের দকানে কাজ করতো সেখানে একটা গ্লাস ভাঙ্গার কারনে ওকে এমন মার ধর করেছে যে ও এখন হাসপাতালে দোকানদার এর কাছে গেলাম বলল আজ রাইতে একটা বাসায় বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করবি তর ভাইয়ের খরচ সব দিয়া দিমু আমি রাজি হয়ে গেলাম ঐ খানে আমি সারারাত কাজ করে সকালে ভাইয়ের কাছে হসপিটালে গেলাম ঐ দোকানদার এক টাকাও দেয় নাই আমি টাকা চাইতে গেলাম ওরা আমাকে চোর বলে মারধোর করে বের করে দিছে ।রাসেল বলল তমার ভাই এখন কোথায় ?ও আছে পাসেই একটা হাসপাতালে এখনি চলো... রাসেল বাসায় এসে ওর সেমিস্টার ফির সব টাকা সপ্নাকে দিয়ে বলল তমার ভাইয়ের জন্য, চলো যাই। কয়কদিন পর সপ্না আমাদের ফ্লাটে আসলো সত্যি এতো সুন্দর লাগছিলো। আমি নিজেই অবাক একটা নতুন জামা কপালে টিপ আমি যে বলেছিলাম শ্যামলা আসলে ও অনেক ফরসা। আমি বললাম তোর এই অভাস্থা কেন ?ও বলল রাসেল ভাই আমাকে বলেছে সব সময় সেজেগুজে আসতে সেই আমাকে এই সব কিনে দিয়েছে আজ আমারা দুজনে ঘুরতে যাবতো তাই একটু বেশই সাইজা আইছি। আমার খুব ভালো লাগছে ওর কথা শুনে কত্ত সাধারণ একটা জীবন ।সপ্না আমাকে বলল ভাইয়া আমাকে কেমন লাগছে ?আমি বললাম এখন যেমনি লাগুক রাসেল পাশে থাকলে সত্যি অনেক সুন্দর লাগতো সপ্না হয়তো কিছুতা লজ্জা পেয়েছে। ঐ দিকে বাবু আর রাফি তো বিসয়টাকে একদম পাগলামি বলছে তবে ওরাও সপ্নাকে দেখে খুশি বলল বাহ তুই এতো সুন্দর আগে কখনই বুঝিনাই। হা রাসেল তো তকে পুরাই পরিবর্তন করে ফেলবে রে। হা করবে না রাসেল ভাই অনেক ভালো মানুষ তার মতো ভালো মানুষ আমি আমার জিবনে দেখি নাই ।এই যা সপ্নার সাথে আমারা সবাই কথা বলতে বলতে রাসেল এর কথাই ভুলে গেছি কিন্তু রাসেল কই গেলো। সপ্নাকে বললাম কি রে রাসেন কই ?কি জানি আমাকে তো বলল ৪টার সময় আসতে আমি অবাক ওকে বললাম এখন কয়টা বাজে ?বাবু বলল বা বা বা মাত্র বাজে ৩টা৩০ তুই তো দেখি রাসেল এর থেকে পাগল । খুব ভালো আল্লাই জানে তোদের কপালে কি আছে ।আমি বললাম সপ্না আজ আমাদের মন অনেক ভালো যা রাসেল আসার আগে তুই আমাদের জন্য চা বানিয়ে আন।আচ্ছা ভাইয়া আপনারা বসেন । আমারা চা খেয়ে বসে আছি কিন্তু রাসেল কই ৪টার উপর বাজে, সপ্না বার বার এসে বলছে ভাইয়া ওনারে ফোন করেন আমি ৩বার ফোন করলাম কিন্তু রাসেলের ফোন অফ । ২ঘন্টা হয়ে গেছে রাসেল এর কোন খোঁজ নাই আমারা সবাই অবাক রাসেল কই এদিকে সপ্না মেয়ে টা এতো সাজগুজ করে এখন মন খারাপ করে বসে আছে । আমি রাসেলের কয়ক টা ফ্রেন্ডকে ফোন করে খবর নিলাম কিন্তু ওরা বলল যে ক্লাস শেষ করে ও নাকি চলে আসছে আজ আড্ডাও দেয় নাই। কিছুখন পর আবার ফোন করলাম হা এবার রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না । ঐ দিকে সপ্নাও বাসায় যাইনাই আমার সাথে বসে আছে আর বলছে কনো খবর পাইলেন? হ্যাঁ রিং হচ্ছে কিন্তু কেউ ধরছে না, আর একবার দেন না ভাইয়া ।ওকে তুই শান্ত হয়ে বস আমি দিচ্ছি হ্যালো রাসেল ?
না আপনি কে?
আমি রাসেন এর বন্ধু।
ভাই আপনার ফোন ধরতে পারি নাই ওনার ফোনে চার্জ ছিলো না আর আপনাদের যে ফোন করবো তাও পারছি না অনার ফোন টা লক করা তার লক তো আমারা খুলতে পারি না ।
কি বলছেন আপনি ?
রাসেল কই ?
ভাই সে তো accident করছে এখন হাসপাতালে ।
মানে আমি ঐ মুহূর্ত কি করবো বুজতে পারলাম না সপ্না এই কথা শুনে চিৎকার করে কান্না সুরু করে দিলো .........।
সপ্নাকে নিয়ে চলে গেলাম হাসপাতালে ......।।
সেখানে গিয়ে আমার সব কিছুর মাঝে মনে আছে সপ্নার আর্তনাদ চিৎকার যা মনে পরলে আজও চোখে চিলিক দিয়ে উঠে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.