নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পরিচয়হীন কেউ।আপাতত নিজেকে জানছি।

স্বল্প বাঁধন

পরিচয়হীন কেউ।আপাতত নিজেকে জানছি।

স্বল্প বাঁধন › বিস্তারিত পোস্টঃ

অপসংস্কৃতি ও মিডিয়া

০২ রা নভেম্বর, ২০১৭ ভোর ৪:৪৭

অপসংস্কৃতি টার্মটা ইদানীং বেশ আলোচিত।
নিজস্ব সংস্কৃতিকে ফেলে অন্যের অসুস্থ সংস্কৃতি গ্রহণ /প্রচার করা নিয়েই মূলত সমস্যা।এখন প্রশ্ন হলো আমরা কেন পাশ্চাত্য বা প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করতে পারবোনা ( যেহেতু এটা ওপেন ট্রেডের যুগ)?
প্রথমে বাঙালি সংস্কৃতি নিয়েই আলোচনা করা যাক।বাংলা ভাষাভাষী ( বাংলাদেশের অধিবাসী) জনমানুষের মধ্যে প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠান, ভাষা, ব্যবহার, প্রচলিত পোষাক-আশাক,সমাজে প্রচলিত কৃষ্টি এমনকি ধর্মও বাঙালি সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত (কলা বিজ্ঞানীদের দেওয়া সংজ্ঞা মতে)।
অতীতে সুলতানি শাসন,মুঘল শাসনসহ বিভিন্ন মুসলিম শাসকের অধীনে থাকার কারণে বাংলার সংস্কৃতির বেশিরভাগই ইসলাম ধর্মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন- বাঙালি পোষাক, আচার অনুষ্ঠান। ফলে একথা হলফ করেই বলা যায় এদেশ বরাবরই সকল ধর্মের মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকার সংস্কৃতি আমাদেরকে শিখিয়েছে।সকল ধর্মকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখতে শিখিয়েছে।এদেশ বরাবরই অসাম্প্রদায়িক।আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি অনেক স্বচ্ছল,সমৃদ্ধ। আমাদের নিজস্ব আচার-অনুষ্ঠান, ভাষা,পোষাল-আশাক, ব্যবহারিক সিস্টেম এককথায় সংস্কৃতি রয়েছে যে সংস্কৃতি আমাদেরকে নৈতিক মূল্যবোধ শিখায়।আমাদের পোষাক-আশাকে মার্জিত ভাব রয়েছে।কথাবার্তায় ভদ্রতা রয়েছে।অতিথি আপ্যায়নের সুনাম রয়েছে।অটুট বিবাহ-বন্ধন,পারিবারিক বন্ধন রয়েছে।আমাদের একান্নবর্তী পরিবারের সংস্কৃতি রয়েছে।আমরা ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী ( ধর্মকে কটাক্ষ না করার মূল্যবোধ)। স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাসী আমরা।লোকদেখানো নয় আন্তরিকভাবেই সবাইকে ভালোবাসার সংস্কৃতি লালন করে এসেছি আমরা।মা-বাবার সন্তান লালনপালনের এবং সন্তানের মা-বাবাকে দেখাশোনা করার সংস্কৃতি রয়েছে আমাদের।পারিবারিক সম্মান,মূল্যবোধ বজায় রেখে চলাফেরা করার সংস্কৃতি রয়েছে আমাদের।বড়দের সম্মান করি আমরা।আমরা সমৃদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির দ্বারাই এসব যুগ যুগ ধরে পেয়ে আসছি কোনো ট্রেনিং ছাড়াই।
পাশ্চাত্য সমাজব্যবস্থার কথা চিন্তা করা যাক।তাদের সংস্কৃতির কথা চিন্তা করা যাক।নারী স্বাধীনতার নামে রাস্তাঘাটে দেহ বিক্রি করছে তারা।টপ টেন রেপিস্ট দেশের নয়টিই পাশ্চাত্যের উন্নত দেশ।নৈতিক অবক্ষয় কাকে বলে সেটার সুস্পষ্ট সংজ্ঞা তাদের দিকে তাকালেই পাওয়া যাবে।ছোটবেলায় বাচ্চাকাচ্চা লালনপালন করার যায়গায় তারা বাচ্চাকে ডে-কেয়ারে রেখে আসে।সেখানে মা-বাবার আদরহীন এক অসুস্থ শিশু বড় হয় যারা অতি ছোট থেকেই যৌনাচার শুরু করে দেয়।পারিবারিক বন্ধনের তোয়াক্কা করে না কেউ।ভাই-বোনের মাঝে কোনো সম্পর্ক থাকেনা।বৃদ্ধ বয়সে যখন মা-বাবার নাতি-নাতনীদের সাথে সময় কাটানোর সময় তখন তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমের চার দেয়ালের মাঝে মৃত্যুর প্রহর গুণতে হয়।খোঁজ খবর নেওয়া তো দূরে থাক মরার পরেও কেউ দেখতে যায়না মা-বাবার লাশকে।মেয়েকে বাবা বিয়ে করে,বোন ভাইয়ের দ্বারা ধর্ষিত হয়,মা ছেলের দ্বারা ধর্ষিত হয়।রাস্তাঘাটে মেয়েরা ধর্ষিত হয়।রাত হলেই বারগুলোতে চলে মাতাল ও অবাধ যৌনতার বাতাস।এখানে সেখানে যৌনতা, ভোগবাদ চলে।পারিবারিক বন্ধন নেই বললেই চলে।অবাধ যৌনতা চলে সেখানে।বেশিরভাগ যুবক বহুগামিতায় আসক্ত।বিবাহ-বিচ্ছেদের কারণে সন্তানের ভার বাবা-মা কেউই নিতে চায়না।ফলে ডে-কেয়ারে বড় হয় মানসিকভাবে অসুস্থ শিশু। ভোগ-বিলাসে মত্ত এক অসুস্থ প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে। সমকামিতা নামক অসুস্থতাকে (চিকিৎসা ছাড়া) প্রশ্রয় দিয়ে আইন পাস করা হয়।আগে মেয়ে ধর্ষিত হতো এখন ছেলেরাও বাদ যায়না।খোদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৩ জন মেয়ের একজন এবং প্রতি ৬ জন ছেলের একজন ধর্ষিত হয়।রাস্তাঘাটে, ঘরে এখন ছেলেরাও ধর্ষিত হয়।সিনেমা,গানগুলোতে সেই অসুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো হয়।বিশ্বজুড়ে বস্তুবাদ, ভোগবাদ,অসুস্থ সংস্কৃতিকে প্রচার করছে তারা।
মানুষ সেটাই গ্রহণ করে যা তার জন্য ভালো বলে বিবেচিত হয়।এটাই মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। পাশ্চাত্য সংস্কৃতি বাঙালি সংস্কৃতির থেকে ভালো হলে স্বাভাবিকভাবেই সেটাকে গ্রহণ করা দরকার।পাশ্চাত্য সংস্কৃতির মতো অসুস্থ সংস্কৃতিকে কোনো সুস্থ মানুষ গ্রহণ করতে পারেনা।কিন্তু মিডিয়া আজ আমাদের তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে ছোট্ট বাচ্চাকেও এই অসুস্থ সংস্কৃতি চাপিয়ে দিচ্ছে।সুশীল (?) বুদ্ধিজীবীগণ(?) নিজেদেরকে এজেন্ট বানিয়ে তরুণ সমাজের মাঝে অসুস্থতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।নাটক,সিনেমা,বিজ্ঞাপনের দ্বারা সেই অসুস্থ সংস্কৃতিকে খুব ভালো করে দেখানো হচ্ছে।প্রতিটি সিনেমা,নাটকে অপসংস্কৃতির ছড়াছড়ি। নায়ক-নায়িকাদেরকে কিনে নিয়ে চরিত্রে ধ্বস নেমেছে তাদের।অর্থের মোহে মত্ত সবাই।ফলাফল হিসেবে খুন,ডাকাতি, লুটতরাজ, দুর্নীতি অহরহ ঘটছে।আগে যে ঘটনা গুলো কল্পনারও যোগ্য ছিলোনা সেগুলো হরমশায় ঘটছে এখন।পরকিয়ায় লিপ্ত হয়ে স্বামী স্ত্রীকে,স্ত্রী স্বামীকে (মাঝে মাঝে সন্তানসহ) হত্যা করছে।সন্তান বাবা-মাকে হত্যা করছে।বাবার দ্বারা মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে।মা সন্তানকে খুন করছে।পারিবারিক বন্ধন ঢিলা হয়েছে।বিবাহ-বিচ্ছেদের পরিমান খুবই বেশি। মিডিয়া অবজার্ভেশন লার্নিং এ যুবসম্প্রদায়কে (প্রজন্ম) এসব দিচ্ছে।একটা সিনেমার নায়ককে যখন গুন্ডারুপে দেখানো হয়,পরকিয়া যখন ভালোভাবে উপস্থাপন করা হয়,দুর্নীতি কে ভালোভাবে দেখানো হয় তখন একটা সমাজ সেখান থেকে ভালো কি নিবে? প্রেম নামক সামাজিক ব্যধিতে আমাদের প্রজন্মকে কে আক্রান্ত করেছে? রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে হাত ধরে ঘুরাঘুরি করার নিয়ম কে শিখিয়েছে? লিভ টুগেদারের কালচার এদেশে আমদানি কে করেছে?অবাধ যৌনতা যুবসমাজকে কে শিখিয়েছে?লিটনের ফ্ল্যাটের কালচার কে আমদানি করেছে? ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানোর সিস্টেম কে শিখিয়েছে?উত্তর হবে মিডিয়া। মিডিয়ার নিয়ন্ত্রকরা বাঙালি সংস্কৃতি বলে চিল্লাচিল্লি করে অথচ নিজেরাই নিজেদের ভিতর-বাহির সবখানেই পাশ্চাত্যের (অসুস্থ) সংস্কৃতি লালন করে।এরা ডাবল স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া অন্য কিছুই করেনা।
মিডিয়ার দোষে বখে যাওয়া এই অসুস্থ প্রজন্মকে সুস্থ করার দায়িত্ব কি নিতে পারবে সমাজ? সমাজের অধিপতি রাঘববোয়ালগণ কি সামলাতে পারবে এই অবক্ষয় কে??

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.