নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

রাসেল মেহেদী পারভেজ। পরিচিত হতে: web.facebook.com/rmparves

র ম পারভেজ

স্বপ্নময় পথিক। দেখা, শোনা ও জানাগুলিকে ব্লগের পাতায় রেখে যেতে চাই।

র ম পারভেজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

সব্যসাচী এক জ্ঞানের ফেরিওয়ালার জন্মদিন।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১৯


(ছবি: অর্ন্তজাল)

আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি, মহান ভাষা আন্দোলের বীর সৈনিক, প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, গবেষক ও লেখক- বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমানের জন্মদিন। ১৯২৮ সালের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের মুর্শিদাবাদে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হাবিবুর রহমান ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক, আইনজীবী, রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ, ভাষা সৈনিক, অভিধানপ্রণেতা।

তিনি ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিষয়ে বি.এ এবং ১৯৫১ সালে কৃতিত্বের সাথে এম.এ. পাশ করেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ইতিহাসে বি.এ ও স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন তিনি। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি মহান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে হাবিবুর রহমান তাঁর কর্মজীবন জীবন শুরু করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি ইতিহাসের রিডার (১৯৬২-৬৪) ও আইন বিভাগের ডিন (১৯৬১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে ঢাকা হাই কোর্ট বারে (সুপ্রিম কোর্ট) যোগ দেন। সহকারী এ্যার্টনী জেনারেল (১৯৬৯), হাই কোর্ট বার এ্যাসোসিয়শনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (১৯৭২), বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের (১৯৭২) সদস্য প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৬-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৯৫ পর্যন্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯০-৯১ মেয়াদে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব¡ গ্রহণ করলে হাবিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মুহম্মদ হাবিবুর রহমান।১৯৯৫ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তথা অন্তবর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

সাহিত্য ও অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রেখেছেন প্রখ্যাত গবেষক ও লেখক হাবিবুর রহমান। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক ৷ল’ অফ রিকুইজিশন (১৯৬৬), রবীন্দ্র প্রবন্ধে সঞ্জনা ও পার্থক্য বিচার (১৯৬৮), যথা-শব্দ (১৯৭৪), মাতৃভাষার স্বপক্ষে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮৩), কোরআন সূত্র (১৯৮৪), বচন ও প্রবচন (১৯৮৫), রবীন্দ্র কাব্যে আর্ট, সঙ্গীত ও সাহিত্য (১৯৮৬), সরকার সংবিধান ও অধিকার (১৯৯৯), আমরা কি যাব না তাদের কাছে যারা শুধু বাংলায় কথা বলে (১৯৯৬), বাংলাদেশের সংবিধানের শব্দ ও খন্ডবাক্য (১৯৯৭), বাংলার সূর্য আজ আর অস্ত যায় না (২০০৭), স্বাধীনতার দায়ভার (২০০৭) প্রভৃতি তাঁর প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ।

বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির একজন অন্যতম ফেলো ও লিঙ্কনস ইন এর বেঞ্চার ছিলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘একুশে পদক’ প্রদান করে। স্পেশাল কনট্রিবিউশন টু হিউম্যন রাইটস পুরস্কার, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য মার্কেন্টাইল ব্যাংক পুরস্কার (২০০৫), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস গবেষণা পরিষদ পুরস্কার, বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮৪)সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বহু পুরস্কার-সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। তিনি ২০১৪ সালের ১১ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।

(তথ্যসূত্র:উইকিপিডিয়া)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮

শাহিন-৯৯ বলেছেন: এসব মানুষগুলো দেশের সম্পদ ছিল, এখন এরকম প্রতিভাবান মানুষ পাওয়া মুশকিল, দুই একজন আছে তারা বাহিরে জব করে।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:৩৫

র ম পারভেজ বলেছেন: রূঢ় সত্যি কথা বলেছেন। এদেশে প্রতিভাবানদের বিকশিত হবার পথ এখন অনেক কন্টকার্কীণ।

২| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৮

গড়ল বলেছেন: বিনম্র শ্রদ্ধা এই মহীয়সির প্রতি এবং আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ উনার জন্মদিন মনে করিয়ে দেবার জন্য।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:২৭

র ম পারভেজ বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.