| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
দেশ ছাড়ার আগের মুহূর্তে ও চরম আনন্দে ছিলাম, এক অদ্ভুত ভাল লাগা। নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন ভাষা, উচ্চশিক্ষা আর একরাশ স্বপ্ন। ভাবতেই ভাল লাগছিলো। সেদিন শুক্রবার ছিল, রাত ১ টায় আমার ফ্লাইট। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে এলাম ঢাকায় আমার প্রেয়সী খুবী কাঁদছিল কিন্তু একফোঁটা অশ্রু আমার চোখে আসেনি কিন্তু খারাপ লেগেছিল অনেক, আমি অনেক পুলকিত এবং শিহরিত ছিলাম। এরপর চলে এলাম নতুন দেশ, নতুন শহর আর উন্মুক্ত মনা মানুষের ভিড়ে, শুরু হলও, আমার নতুন একাকীত্ব জীবন, প্রথম দিনে আমি আমার ভার্সিটির হলে উঠেছিলাম, আমার পড়াশোনা সরকারী কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরেই ছিল, মাঝে মাঝে হলে ছিলাম, কিন্তু সেই হল আর এই হল আকাশ পাতাল পার্থক্য, মণে হচ্ছিলো আমি ৫ স্টার কোণ ডোড়ম এ উঠেছি, আর একটা বিশাল পার্থক্য এখানের মানুষগুলো এতো চুপচাপ যা আমি মাণতে পাড়লাম না, দৌড় দিয়ে ইচ্ছে হচ্ছিল বাসায় চলে যাই, আমি রাতের ১০ টার আগে কখনো বাসায় ঢূকেছী বোলে মণে হয়না চারপাশে বন্ধুরা কিলবিল করত । আর এখাণে সন্ধ্যা ৬ টা হলেই সব দোকান পাঠ বন্ধ মানুষ টো দূরের কথা একটা পাখি ও নেই আওয়াজ করার মত এত একাকীত্বতা কোনদিন ফিল হয়নি। সবচেয়ে বড় সমস্যায় প্ড়েছিলাম আমার ল্যাপটপ নিয়ে , আমার বাংলাদেশী ল্যাপটপের চাজারের পিন এখাণে কাজ করেনা, এক সপ্তাহ আমি কারো সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি, পরে খুজে কিনে নিয়েছি। আমার সেই সময়ে মণে হয়েছিল আমি জীবন্ত লাশ, কেঊ আমাকে কবর দিয়ে গেছে, কী পরিমাণ খারাপ যে লেগেছিল আমি বোঝাতে পারবোনা। এরপর চাকরী, পড়াশোনা নিয়ে দিন যাচ্ছিলো, নতুন বাসা ও নিলাম। গণ্ডগোল লাগলো তখন, একটা বাসায় যে এতো কাজ থাকে আমি সেটা আগে কখনো খেয়াল করিনি। আমাকে এখন রান্না করতে হয়, কাপড় ধূতে হয়, ঘর পরিষ্কার করতে হয়, বাথরুম ও পরিষ্কার করতে হয়, হায় আল্লাহ আগে বুঝি নাই, আম্মা ছিল তো টের ই পাইনাই। দেখতে দেখতে একটা বছর চলে গেল। আমার প্রথম দিকের কিছু কথা আমার মণে পড়ে, আমার ভার্সিটি বাসা থেকে ১ ঘণ্টার ড্রাইভিং, আমি ট্রেনেই যেতাম, বেশীর ভাগ সময়, ঘুমিয়ে পড়তাম আর ঘুমের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করতাম আমি আমার মায়ের সাথে কথা বলছি এবং অনেক জোরে, অনেক সময় দেখি আম্মা আমাকে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে আর আমি হা করে আছি, এই অবস্থাতেই ঘুম ভাঙত আমার, এইরকম প্রায় সময় হত, একদিনতো আমার পাশে বসা এক মহিলা আমাকে এক্সকিউস মী বলে ডেকে দিয়েছিল, কি যে লজ্জা পেয়েছিলাম ওইদিন।প্রায় সময় আমি রাতে কেদে উঠতাম, স্বপ্ন দেখে, এমন হত যেন আমি সত্যি কাজগুলা কড়ছি। আমার খুব খারাপ না লাগলে আমি কখনই লিখিনা, আজ খুব খারাপ লাগছে, আমার একটা ডাইরি ছিল, খারাপ লাগলে ওইটাতেই লিখতাম, দেশে ফেলে এসেছি, তাই আজ ব্লগে লিখলাম । আজকে ও আমি ঘুমাতে পারছিনা, এখন অস্ট্রেলিয়াতে ভোর ৭ টা বাংলাদেশে রাত ২ টা না পারছি ঘুমাতে না পারছি আম্মাকে ফোন দিতে।
কালকের একটা ঘটনা বলি ।
কাল খুব বৃষ্টি হচ্ছিল বাসায় যাওয়ার জন্য দৌড় দিলাম,সচরাচর আমি বৃষ্টি হলে দৌড়ে বাসায় ঢুকি এটা আমার অভ্যাস। মাঝপথে হটাত থেমে গেলাম, মনে পড়ল
আমি তো আমার বাসায় যাচ্ছিনা, ওখানে তো আমার মা নেই যে ঢুকলেই বলবে ভিজে গেছিস বাবা আর towel টা দিয়েই বলবে মুছে নে,, ছাতা নিয়ে যেতে পারিসনা ...হটাৎ করেই চোখটা ভিজে গেল । দাড়িয়ে বৃষ্টিতেই ভিজলাম অনেকক্ষণ ইচ্ছা করে ।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:৫১
রবিন উত্তর কাট্টলী বলেছেন: একটা ট্রাপ এর মাঝে বন্দী হয়ে যাই আমরা। আসলেই ঠিক। জীবনটাই তো একটা ট্র্যাপ।
২|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ৩:৫৯
শের শায়রী বলেছেন: হৃদয় ছুয়ে গেল। সমব্যাথী
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৭:৫২
রবিন উত্তর কাট্টলী বলেছেন:
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:৩১
শিশেন সাগর বলেছেন: মন খারাপ না করে নিজেকে কোন একটা কিছুর মাঝে ঢুবিয়ে রাখুন। আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় আসলেই হয়তো কোন একটা পাপের কারনে এই প্রবাস আমাদের। অথচ মাঝে মাঝে মনে হয় সবটাই আসলে ভুল করছি, কোন প্রয়োজন ছিলো না সবাইকে ছেড়েছুড়ে এই দূর দেশে আসার। একটাই তো জীবন, সুখ তো কহনই টাকা, সার্টিফিকেট এসবের মাঝে থাকে না, ইচ্ছে করে কলাপাতায় বসে খাই তবু মায়ের পাশেই থাকি। আর হবে না, হয় না, একটা ট্রাপ এর মাঝে বন্দী হয়ে যাই আমরা।