| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঢাকা থেকে জামালপুর যেতে ময়মনসিংহে আমাদের বাসের যাত্রাবিরতি হয়। আর সেই যাত্রাবিরতির হোটেলের টয়লেট—বরাবরই এক আতঙ্কের নাম! এতটাই নোংরা থাকে যে, ভেতরে ঢোকার আগে মনে মনে দোয়া-দরুদ পড়তে হয়।
আজও আল্লাহর নাম নিয়ে সাহস করে ঢুকলাম।
কিন্তু ভেতরে ঢুকে তো আমি পুরাই হতবাক!
টয়লেট একেবারে ঝকঝকে তকতকে। মনে হলো, ভুল করে পাঁচতারা হোটেলের ওয়াশরুমে ঢুকে পড়েছি।
দুই মিনিট দাঁড়িয়ে নিশ্চিত হলাম—না, ঠিক জায়গাতেই এসেছি।
টয়লেটের দরজা লাগানোর সঙ্গে সঙ্গেই দরজায় সাঁটানো একটা নোটিশে চোখ পড়ল।
"টয়লেট ব্যবহারের নিয়মাবলি"
১. কমোডে বসা অবস্থায় আপনার শরীরের সঙ্গে হাঁটু ৮০–৯০ ডিগ্রি কোণে রাখতে হবে। এর কম বেশি হওয়া যাবে না।
২. একবার টয়লেট ব্যবহারে সর্বোচ্চ তিনবার পাদ দেওয়া যাবে।
৩. প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একবারের বেশি কাশি দেওয়া নিষেধ।
৪. হাগুর সময় মুখ গম্ভীর রাখতে হবে।
৫. অনুমতি ছাড়া দীর্ঘশ্বাস ফেলা যাবে না।
৬. কাজ শেষে ১০ সেকেন্ড নীরবতা পালন করতে হবে।
৭. বের হওয়ার আগে অবশ্যই চতুর্ভুজাকৃতির সিল যথাস্থানে মারতে হবে।
৮. ব্লা ব্লা ব্লা।
এরপরও আরও কয়েকটি পয়েন্ট ছিল।
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই আজগুবি নিয়মগুলো পড়তে লাগলাম।
নিয়মগুলো পড়তে পড়তেই টের পেলাম—হাগুর চাপটাই উধাও!
বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রামীণ চেকের শার্ট পরা এক ভদ্রলোক হন্তদন্ত হয়ে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন।
— "সিল মারছেন?"
আমি অবাক হয়ে বললাম,
— "কিসের সিল?"
উনি আমার চেয়েও বেশি অবাক হয়ে বললেন,
— "প্যান্ট খোলেন!"
— "মানে!?"
ভদ্রলোক পাশে দাঁড়ানো পালোয়ান টাইপের দুইজনকে ইশারা করলেন। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমার প্যান্ট টেনে নামিয়ে ধপাস করে পাছায় চতুর্ভুজাকৃতির একটা সিল বসিয়ে দিল!
ঘটনার আকস্মিকতায় আমি রাগ করব, না কাঁদব—কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। কোনোমতে প্যান্ট তুলে বেল্ট লাগাচ্ছি, এমন সময় দেখি সামনে কয়েকজন পুলিশ, তিন-চারজন ভদ্রলোক এবং একজন ভদ্রমহিলা।
আমি কিছু বলার আগেই পাঞ্জাবি পরা একজন ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন,
— "সিল আছে?"
যে পালোয়ান একটু আগে আমার ওপর শিল্পকর্ম করে গেছে, সে বলল,
— "আছে স্যার, দেখাচ্ছি!"
বলেই আবার আমার প্যান্ট নামিয়ে দিল!
আমি তখন সম্পূর্ণ নির্বাক।
এরা কারা? কী হচ্ছে এখানে?
আমি কিছু বলতে যাব, এমন সময় গ্রামীণ চেকের শার্ট পরা ভদ্রলোক ইশারা করে আমাকে চুপ থাকতে বললেন।
দ্বিতীয়বার কোনোমতে প্যান্ট পরে চুপচাপ ওনাদের কথাবার্তা শুনতে লাগলাম।
জানতে পারলাম, পাঞ্জাবি পরা ভদ্রলোকসহ অন্য তিনজন হা.পা.নি.অ -এর সদস্য।
হা.পা.নি.অ মানে হাগু-পাদ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
আর ভদ্রমহিলা একজন ম্যাজিস্ট্রেট।
হা.পা.নি.অ.-এর সদস্যরা তাঁকে এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে এসেছেন।
বছরে একবারই তাঁরা আসেন। চেক করেন, হা.পা.নি.অ.-এর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে কি না, কাগজপত্র ঠিক আছে কি না, নিয়মাবলি ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না।
আমি সাহস করে ম্যাজিস্ট্রেটকে জিজ্ঞেস করলাম,
— "আপা, আমাদের বাসের যাত্রাবিরতি তো বরাবরই এই হোটেলে হয়। আগে কখনো এসব নিয়ম দেখিনি। আর এত নিয়মের আদৌ দরকার কী?"
উনি হেসে বললেন,
— "প্রতিটি এলাকার জন্য হা.পা.নি.অ.-এর একটা বাজেট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয়া থাকে। সেই বাজেট পূরণ করার জন্যই এসব নিয়ম।"
আমি বললাম,
— "কিন্তু এত অদ্ভুত নিয়ম?"
তিনি বললেন,
— "সরকারি নিয়ম তো! খেয়াল করেছেন, সবকিছু খুব ডিটেইলসে লেখা। বাস্তবে কেউই সবগুলো মেনে চলতে পারবে না। ফলে সবাই ভয়ে থাকবে, লাইসেন্স করবে, সরকারকে টাকা দেবে।"
তারপর একটু হেসে যোগ করলেন,
— "আমরা মূলত লাইসেন্সই বিক্রি করি। আপনি-ই বলেন, আমাদের পক্ষে কি সত্যিই লাইন বাই লাইন সব মনিটরিং করা সম্ভব? আর যদি সত্যি সত্যিই মনিটরিং শুরু করি...!!!"
আমি আর কথা বাড়ালাম না।
শুধু ভাবতে লাগলাম...
আচ্ছা, হাগু করার সময় আমার শরীরটা, হাঁটুর সাথে কত ডিগ্রি কোন করে ছিলো?
৮৫ ডিগ্রি? নাকি ৯২ ডিগ্রি?
গল্পের পেছনের গল্প
গত কয়েক দিন ধরে দেখছি, একটা সরকারি সংস্থা বিভিন্ন ফিড মিলে ধারাবাহিকভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। তাদের কাজ দেখে মনে হচ্ছে, তাদের মূল লক্ষ্য যেন পণ্যের প্রকৃত মান যাচাইয়ের চেয়ে লাইসেন্সিংয়ের দিকেই বেশি। লাইসেন্স হলেই ফি, আর ফি মানেই রাজস্ব।
অন্যদিকে, মাহবুব কবির মিলন স্যার প্রায় প্রতিদিনই চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যে ভেজালের কথা লিখছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পণ্যের বেশির ভাগের প্যাকেটেই ওই সরকারি প্রতিষ্ঠান -এর লাইসেন্সিং এর লোগো থাকে।
তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—
সরকারি সংস্থা গুলোর মূল কাজ কি শুধু লাইসেন্স দেওয়া, নাকি সেই লাইসেন্সের মানও নিশ্চিত করা?
আর মিলন স্যার সরাসরি যেসব পন্য নিয়ে অভিযোগ করতেছেন, সেসবের মান-এ যদি সত্যিই গরমিল থাকে ভোক্তা হিসেবে আমি কাকে দ্বায়ী করবো?
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৬
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: সরকারি সংস্থা গুলোর মূল কাজ কি শুধু লাইসেন্স দেওয়া,
নাকি সেই লাইসেন্সের মানও নিশ্চিত করা?
.................................................................................
লাইসেন্সের কথা বলে অনেক কিছু আদায় করা যায় ।
কিন্ত কেউ সাহায্য করেনা , ঐ প্রতিষ্ঠান কিভাবে ভালো
উৎপাদন করে দেশের সুষম খাদ্য যোগান দিবে ???