![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আসামীকে জিগাসাবাদের নামে নিরাপত্তা হেফাজতে পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতন ও জেলখানায় সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো গত ১২মার্চ ,সোমবার। নিহত ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন সুমনের পরিবারের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।রিমান্ডের নামে ৩ দিন পুলিশ জাকিরকে অমানুষিক নির্যাতন করেছে। রিমান্ড শেষে অসুস্থ জাকিরকে কোর্ট হতে জেলখানায় পাঠানোর একদিনের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
আইন শালিশ কেন্দ্রের হিসেব অনুযায়ী ২০১৪ সাল হতে ২০১৭ পর্যন্ত ৪ বছরে ২৬০জন নিরাপত্তা হেফাজতে মারা গেছে্ন।২০১৬ সালে মারা গেছেন ৭৮ জন। এ পরিসংখ্যান জনমনে গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা সৃষ্টি করায় যথেস্ট!
অথচ এ সরকারের পূর্ববর্তী আমলে নবম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পাস হয় " আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু ( নিবারন) বিল ২০১৩ ।এতে সুস্পস্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ' সরকারের হেফাজতে থাকাবস্থায় কারো ওপর নির্যাতন চালানো অপরাধ। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির বিধানও করা হয়।
২০১৬ সালে সুপ্রীমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রায়ের পূর্ণ ভাষ্যের বিষয় ছিলো ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ও ১৬৭ ধারার বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের করা আপীল খারিজ ।এরমধ্যে ১৬৪ ধারার বিষয়ে সুস্পস্টভাবে বলা হয়েছিল যে, সরকারের হেফাজতে থাকাবস্থায় কারো ওপর নির্যাতন করা যাবে না।'৫৪ ধারার বিষয়েও উল্লেখ করা হয়,পরিচয় না দিয়ে কাউকে আটক করা যাবে না। এ ধারাতো এখন প্রতিনিয়ত লংঘিত হচ্ছে।সর্বশেষ ঘটনা গত ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির মানববন্ধন শেষে জাতীয়তাবাদী সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুকে সাদাপোষাকধারীরা পরিচয় না দিয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে আটক করে ।যা ৫৪ ধারার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশেরই লংঘন। বিগত সময়ে এই সাদাপোষাকধারীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীদের তুলে এনে প্রথমে অস্বীকার এবং ১/২ মাস পর কোর্টে চালান করছেন কোন না কোন মামলার আসামী বানিয়ে । কি অদ্ভুত তাদের এই দ্বিচারিতা !আইনের মানুষ যদি কোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ,তবে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক তাদের এ ধৃষ্টতার উৎস কি?
মনে পড়ে ১৯৯৮ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রুবেল হত্যাকান্ডের কথা। নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনকারী এসি আকরামের বর্বরতার কথা মানুষ ভুলে যায়নি। রুবেল হত্যাকান্ডের পর ফুঁসে উঠেছিল মানবাধিকার সংগঠনগুলো।সে বছর ২৯ নভেম্বর হাইকোর্ট কাউকে সন্দেহবশতঃ আটক,গ্রেফতার ও তদন্তের নামে রিমান্ডে এনে আসামিকে শাররীক নির্যাতন করা থেকে নিবৃত্ত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না-এ মর্মে সরকারের ওপর রুল জারি করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা হেফাজতে নিপীড়ন অনেকাংশ কমেছিল।কিন্তু বিগত বছরগুলোতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কতিপয় সদস্যের বেপোরোয়া আচরন সরকারকেও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তাদের আইন না মানার এ বোপোরোয়া আচরনে নিরাপত্তা হেফাজতে নিপীড়ন বেড়েছে,বেড়েছে মৃত্যুর মিছিলও।
আজকে সরকার ও তার সমর্থকদের কাছে বিরোধীদলের কর্মীদের নিরাপত্তা হেফাজতে জিগাসাবাদের নামে নিপীড়ন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে ।কিন্তু এমন একদিন হয়তো আসবে ক্ষমতার বাহিরে থাকাবস্থায় তা তখন অস্বাভাবিক মনে হবে। তাই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বেপোরোয়া আচরনকে সংযত করা সবার জন্য স্বস্তিকর এবং আইন মেনে চলা এবং বাধ্যবাধকতায় পরিনত করা জরুরী।
২| ১৪ ই মার্চ, ২০১৮ রাত ১০:৫৬
আবু তালেব শেখ বলেছেন: বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড পুলিশের অধিকারে পরিনত হয়েছে
৩| ১৫ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:২১
রাজীব নুর বলেছেন: অলৌকিক ভাবে আমাদের দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেত!!!
৪| ১৫ ই মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:২৪
খাঁজা বাবা বলেছেন: সত্যিকার গনতন্ত্র সকল সমস্যার সমাধান
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই মার্চ, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৪১
মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: পুলিশের বিতর্কিত কাজের জন্য, তাদের উপর মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। ব্রাসফায়ার, আসামিকে নির্যাতন, বন্দুক যুদ্ধর নামে হত্যা বন্ধ হোক।