নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গবেষক, পাঠক ও লেখক -- Reader, Thinker And Writer। কালজয়ী- কালের অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা Time। কালজয়ী অর্থ কোন নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর বিজয়। বিজয় হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী চিন্তার বিজয়।

*কালজয়ী*

সভ্যতার উৎকর্ষ শুরু মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর মাধ্যমে। ক্রম উন্নয়নের ধারায় শিক্ষা-ক্ষেত্রে কলমের কালীর রং কখনো কালো, কখনওবা সাদা। প্রাথমিক যুগে আবক্ষ শক্ত ভিত্তিতে (ব্লাকবোর্ডে) লিখতে ব্যবহৃত হত সাদা চক যা এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে সাদা বোর্ডে কালো মার্কার কলম ও কালো বোর্ডে সাদা মার্কার কলম। কি-বোর্ডে সাদা-কালো অক্ষর বাটন নব প্রযুক্তির অবদান। Believes in the ultimate potential of Human Mind……

*কালজয়ী* › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মের দর্শনঃ ইসলাম, রাজনীতি ও মানবতা----------১

১৩ ই মে, ২০২১ ভোর ৫:৪৩

(প্রথম অংশ)

ভূমিকাঃ

পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ অদৃশ্য শক্তির প্রতি নিজেদের অসহায়ত্ব ও ভঙ্গুরতা বুঝতে পেরে বিভিন্ন উপায়ে বিভিন্ন শক্তির পূজা করতে থাকে। এর মধ্যে একেশ্বরবাদী সম্প্রদায় থেকে শুরু করে বহুঈশ্বরবাদী সম্প্রদায় রয়েছে। অদৃশ্য শক্তির নিকট মানুষের এই যে আত্মসমর্পণ এটাই বিভিন্নরূপে পরস্পর ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম হিসেবে পরিগনিত হয়েছে। যুগে যুগে ধর্মের মহাপুরুষগণ(নবীগণ) মানুষকে এক অসীম সৃষ্টিকর্তার নিকট আত্মসমর্পণ, মানবিকতা ও ন্যায়বোধচর্চার জন্য আহবান করেছেন। কিছু কিছু ধর্মের মর্মবাণীতে রাজনৈতিক দর্শন ও মানবতা গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে। ইসলাম হল সেরকমই একটি জীবনদর্শন। ইসলাম ধর্মের রাজনৈতিক দর্শন ও সংগ্রামের মুলে রয়েছে সার্বিক অন্যায়ের মূলোৎপাটন ও সর্বব্যাপী ন্যায়বিচার ও মৌলিক মানবিক অধিকারের নিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠা। পবিত্র কোরআনের সুরা নিসায় (৪:৭৫) বলা হয়েছে, And what is [the matter] with you that you fight not in the cause of Allah and [for] the oppressed among men, women, and children who say, "Our Lord, take us out of this city of oppressive people and appoint for us from Yourself a protector and appoint for us from Yourself a helper?" “তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী(অভিভাবক) করে দাও।’)। ইসলাম ধর্মের ধর্মপ্রচারকগণ যুগে যুগে এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যক্ষ লড়াই-সংগ্রাম করেছেন- শহিদ হয়েছেন।

ধর্মেরদর্শনঃ
ধর্মদর্শন হচ্ছে, "ধর্মীয় ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত ধারণা এবং কেন্দ্রীয় বিষয় নিয়ে দার্শনিক অনুসন্ধান"। এটি একটি প্রাচীন পাঠ্য বিষয়, যা অনেক প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে দার্শনিক আলোচনায় পাওয়া যায়, এবং এটি দর্শনের অন্যান্য শাখা যেমন অধিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব ও নীতিশাস্ত্রের সাথে সম্পর্কিত।

প্রখ্যাত ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক সাইয়্যেদ মুস্তাবা মুসাভি লারি তার ‘God And Its Attributes’(1993:15) বইয়ে এসম্পর্কে বলেন, “Among the fundamental intellectual topics that concerns human life, religious questions enjoy a particular importance. Religion always been regarded, in fact, as the most basic concern for the well-being and destiny of man and have produce profound insights and extensive knowledge.” বা মানুষের জীবনকে ঘিরে আবর্তিত মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক জিজ্ঞাসাগুলোর মধ্যে ধর্মসংক্রান্ত বিষয় একটি বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষের কল্যাণ ও ভাগ্য নির্ধারনে ধর্ম সবসময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়ে এসেছে এবং তা মানুষকে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও বিস্তৃত জ্ঞানলাভে সক্ষম করে তুলেছে”।

দার্শনিক উইলিয়াম এল. রো ধর্মের দর্শনের সংজ্ঞা দেন এভাবেঃ “মৌলিক ধর্মীয় বিশ্বাস ও ধারণার সমালোচনামূলক পরীক্ষণ”। ধর্মের দর্শনের আওতায় যেসব বিষয়াদি পরেঃ ঈশ্বরের ব্যাপারে বিভিন্ন ধরনের বিশ্বাস, বিভিন্নরকমের ধর্মীয় অভিজ্ঞতা, বিজ্ঞান ও ধর্মের মধ্যকার সম্পর্ক, ভালো ও খারাপ – এর প্রকৃতি ও পরিসর এবং জন্ম, ইতিহাস ও মৃত্যুর ধর্মীয় ব্যাখ্যা। ধর্মীয় বাধ্যবাধকতার নৈতিক অর্থ, বিশ্বাসের এর সাথে যুক্তি, অভিজ্ঞতা আর ঐতিহ্যের সম্পর্ক; অলৌকিকতা, পবিত্র বাণী, বৈরাগ্যবাদ, ক্ষমতা আর পরিত্রাণ – এসব জিনিসও ধর্মের দর্শনের আওতায় পড়ে।

উনিশ শতক এর আগ পর্যন্ত ‘ধর্মের দর্শন’ শব্দটি পশ্চিমে ব্যবহার হয় নি। বেশিরভাগ পূর্বাধুনিক ও প্রথমদিককার আধুনিক দার্শনিক কাজসমূহ ধর্মীয় সারমর্ম ও ‘অ-ধর্মীয়’ দার্শনিক প্রশ্নসমূহের এক সংমিশ্রণ ছিল। উদাহরণস্বরূপ, এশিয়ায় হিন্দু উপনিষদ, দাওবাদ, কনফুসিয়াসবাদ আর বৌদ্ধধর্ম সংক্রান্ত কিতাবাদি ছিল। গ্রীক দর্শন, যেমন পিথাগোরাসবাদ, বৈরাগ্যদর্শন এর মধ্যে দেবতা সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারণা ছিল, আর মধ্যযুগীয় দর্শন শক্তভাবে তিনটি ইব্রাহিমি এক ঈশ্বরবাদী ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। পশ্চিমা বিশ্বে প্রথম দিককার আধুনিক দার্শনিকগণ যথা থমাস হোব্‌স, জন লক আর জর্জ বার্কিলি নানাধরনের ইহজাগতিক বিষয়ের পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়েও আলোচনা করেন।

ধর্মের দর্শন, ধর্মতত্ত্ব হতে এ দিক থেকে আলাদা যে, ধর্মতত্ত্বে “সমালোচনামূলক চিন্তাধারা ধর্মীয় বিশ্বাস এর উপর ভিত্তিকৃত”। আবার, “ধর্মতত্ত্ব কোন কর্তৃত্বশালীর উপর নির্ভর করে যে চিন্তাভাবনা, ভাবপ্রকাশ ও সাক্ষী হওয়ার ব্যাপার সমূহ নিয়ন্ত্রণ করে ... [যখন] দর্শন তার যুক্তিসমূহ ভিত্তি করে সময়হীন প্রমাণের উপর”।

ধর্মদর্শনের কিছু বিষয় প্রাচীন দর্শনের সময় থেকেই অধিবিদ্যার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।অ্যারিস্টটলের মেটাফিজিক্স-এ শাশ্বত গতির পূর্বজ কারণ হিসেবে "নিশ্চল চালক"-কে (unmoved mover) দায়ী করেছেন, যিনি আকাঙ্খার বা চিন্তার বস্তুর মত, নিজে না চালিত হয়ে অন্য বস্তুকে চালিত করে। এরিস্টোটলের মতে, ঈশ্বর ধর্মতত্ত্বে আলোচনার বিষয়। যাইহোক, আজ দার্শনিকগণ এই ঈশ্বর নিয়ে আলোচনার জন্য "ধর্মদর্শন" শব্দটি ব্যবহার করেন, এবং একে আলোচনার ভিন্ন ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়। যদিও একে অনেকে, বিশেষ করে ক্যাথলিক দার্শনিকগণ অধিবিদ্যার মধ্যে ফেলেন।

প্রাচ্যের প্রখ্যাত ধর্মতাত্ত্বিক ও দার্শনিক সাইয়্যেদ মুস্তাবা মুসাভি লারি তার ‘God And Its Attributes’(1993:21) বইয়ে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও মানুষের যে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তা হচ্ছে, “In actual fact, the most firmly convinced among men are by no means the weakest. Those who, in the course of time, have raised high the banner of religion have been the strongest and most steadfast of man. A person’s faith is never increased in proportion to his weakness, and the leader of a people in matters of religious belief is not the foremost among them in weakness, abjectness and impotence.” বা “প্রকৃতপক্ষে, মানুষের মধ্যে যিনি সবচেয়ে দৃঢ়বিশ্বাসসম্পন্ন তিনি কখনোই দুর্বলচিত্ত ব্যক্তি হতে পারেন না। যুগে যুগে যারা ধর্মের পতাকাকে উর্ধেব তুলে ধরেছেন তারা ছিলেন অবিচলিত ও শক্তিমান মানুষ। দুর্বলতার সঙ্গে সঙ্গে কোন ব্যক্তির বিশ্বাসও বেড়ে যায়না; কোন জনগোষ্ঠীর ধর্মবিশ্বাসের নেতা দুর্বলতা, হীনতা এবং অক্ষমতায়ও প্রথম কাতারে এমনটা দেখা যায়না”। (অসমাপ্ত)

This Writing refers Courtesy Towards:

1. Al Quran. Sura Nisha [4:75], Wiseman Publications, pg,174
2. Mojtaba Musavi Lari, Sayyed. God And Its Attributes'. Dawn Publishers, Second Edition, 1993, pg. 15,21.

3. Rowe, Philosophy of Religion, An Introduction, Fourth Edition, 2007, pg. 2.
4. Aristotle Archived 2011-09-06 at the Wayback Machine, Professor Barry D. Smith, Crandall University

5. Wainwright, WJ. [si]The Oxford Handbook of Philosophy of Religion, Oxford Handbooks Online, 2004, p. 3. "The expression "philosophy of religion" did not come into general use until the nineteenth century, when it was employed to refer to the articulation and criticism of humanity's religious consciousness and its cultural expressions in thought, language, feeling, and practice."


To be continued………….



মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই মে, ২০২১ ভোর ৬:৪৯

কামাল১৮ বলেছেন: মহা বিশ্বে কোন কিছুই সৃষ্টি হয় নাই কেবল পরিবর্ত হয়েছে।শুরু হয়েছে মহা বিস্ফোরনের মাধ্যমে।
বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষতার দিনে দর্শনের আর বিশেষ কোন মূল্য নাই।সমস্ত সমস্যা এখন বিজ্ঞান সমাধান করে।
বিজ্ঞানে বিশ্বাসের কোন স্থান নেই আছে প্রমানের।যা প্রামান করা যায় না বিজ্ঞান তা গ্রহন করে না।

২| ১৩ ই মে, ২০২১ সকাল ১১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: ১নং মন্তব্যকারীর সাথে একমত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.