নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গবেষক, পাঠক ও লেখক -- Reader, Thinker And Writer। কালজয়ী- কালের অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা Time। কালজয়ী অর্থ কোন নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর বিজয়। বিজয় হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী চিন্তার বিজয়।

*কালজয়ী*

সভ্যতার উৎকর্ষ শুরু মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর মাধ্যমে। ক্রম উন্নয়নের ধারায় শিক্ষা-ক্ষেত্রে কলমের কালীর রং কখনো কালো, কখনওবা সাদা। প্রাথমিক যুগে আবক্ষ শক্ত ভিত্তিতে (ব্লাকবোর্ডে) লিখতে ব্যবহৃত হত সাদা চক যা এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে সাদা বোর্ডে কালো মার্কার কলম ও কালো বোর্ডে সাদা মার্কার কলম। কি-বোর্ডে সাদা-কালো অক্ষর বাটন নব প্রযুক্তির অবদান। Believes in the ultimate potential of Human Mind……

*কালজয়ী* › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মের দর্শনঃ ইসলাম, রাজনীতি ও মানবতা--------৩

১৭ ই মে, ২০২১ বিকাল ৫:৪৭

ইসলাম ধর্মঃ ঈমান ও বিচারবুদ্ধি

ধর্মে বিশ্বাসের আগের ধাপ হচ্ছে বিচারবুদ্ধি। ব্যক্তি নিরপেক্ষভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিবে। আল কোরআনে আছে, ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই। এছাড়া আল্লাহ্ আদমকে কর্দম ও রূহ দিয়ে সৃষ্টি করার পর প্রশ্ন করলেন, তুমি কোনটা গ্রহন করতে চাও- ঈমান কিংবা বিচারবুদ্ধি। আদম (আঃ) বল্লেন, আমি বিচারবুদ্ধি গ্রহন করতে চাই। আল্লাহ্ বললেন, তুমি সঠিকটাই গ্রহন করেছো। কারণ বিচারবুদ্ধিসম্পন্নের কাছেই ইমান প্রত্যাশা করা যায়।

ইসলাম ধর্মের মৌলনীতি সমূহঃ

ইসলাম ধর্মের মৌলনীতি পাঁচটি। এই পাঁচটি মূলনীতিকে ইসলামী পরিভাষায় স্তম্ভও বলা হয়। তাই এই পাঁচটি বিষয়ের উপর দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য বাধ্যতামূলক কর্তব্য। কারণ এই পাঁচটি স্তম্ভ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষকে প্রকৃত খোদায়ি ব্যক্তি হিসেবে নির্মান করে। পাশাপাশি প্রথম তিনটির উপর আমল করা ও শেষ দুটি সামর্থ্য অনুযায়ী আদায় করা সকল মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য পালনীয় কাজ। ইসলাম সেই আধ্যাত্মিক ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে যেগুলি ইসলামের স্তম্ভ, আরকানুল ইসলাম নামে পরিচিত, যার সাথে সমস্ত মুসলমানদের মেনে চলা উচিত।


ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ :


শুহাদাহ (বিশ্বাসের ঘোষণাপত্র), সালাহ (দৈনিক প্রার্থনা), যাকাত (দাতব্য), রোজা এবং হজ তীর্থযাত্রা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ এবং এগুলি মুসলমানের জীবনের কাঠামো সরবরাহ করে। এরা চরিত্র বিকাশ করে, মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করে ইসলামকে শক্তিশালী করে এবং ইসলামের শিক্ষার অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে এই দায়িত্ব পালনের এবং হযরত মুহাম্মদ (সা।) - এর উদাহরণ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি স্তম্ভের নিজস্ব বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ইসলাম ধর্মের মৌলনীতি কয়টি এবং কী কী একটি হাদিসে এই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

হাদিস শরিফে এসেছে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন,
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। (১) এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। (২) নামাজ প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত প্রদান করা। (৪) কা‘বাগৃহের হজ করা। (৫) রমযান মাসে রোযা পালন করা।’ [সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬]
ইসলামি ইতিহাস সম্পর্কে একটি অন্যতম প্রধান অনুমান হলো, পাঁচটি স্তম্ভ ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে নবির মৃত্যুর পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। যদিও, মুসলমানদের মাঝে ক্ষুদ্র সাম্প্রদায়িকতার কারণে স্তম্ভসমূহের মধ্যে সামান্য পার্থক্য তৈরি হয়। নবি মুহাম্মাদের জীবনী ও বিশ্বাসের প্রভাব স্তম্ভসমূহের মধ্যে সর্বদাই বিদ্যমান। পাঁচটি স্তম্ভ কুরআনের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, এমনকি মক্কায় হজ্জ্ব (পঞ্চস্তম্ভের একটি) এর বিষয় কুরআনের মধ্যে বিশেষভাবে বর্ণিত আছে।


প্রথম স্তম্ভ: সাক্ষ্য ও বিশ্বাস


কালেমা শাহাদাত মুখে বলা (সাক্ষ্য দেওয়া) ও অন্তরে বিশ্বাস করা (বিশ্বাস)৷ এই বিশ্বাসকে বলা হয় "ঈমান"৷ কালেমা শাহাদত হলো,

"আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই । আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ বান্দা এবং তার প্রেরিত রাসূল।"

শাহাদা এমন একটি সাক্ষ্য যা একটি ইসলামে আসে, এটি অবশ্যই আন্তরিকতা এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে বলা উচিত, আরবীতে বর্ণিত ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে: "আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর রাসূল।" এটি বিশ্বাসের পেশা যা আল্লাহ্‌র একত্বের সাক্ষী বহন করছে এবং মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রসূল।

কুরআনে শাহাদাকে কোথায় উল্লেখ করা হয়েছে?

“আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং ফেরেশতাগণ এবং জ্ঞানীরাও [তিনি] ন্যায়বিচারে [সৃষ্টি] রক্ষা করছেন। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। ”

(কুরআন ৩:১৮)

দ্বিতীয় স্তম্ভ: সালাত

পাঁচটি ওয়াক্ত নামাজ এমন সমস্ত মুসলমানের জন্য একটি বাধ্যতামূলক অনুশীলন যারা এটি করতে সক্ষম হয়। এগুলিতে ঈশ্বরের প্রতি সিজদা করা, নবী-রাসূলদের প্রতি দোয়া করা এবং কুরআনের আয়াত তেলাওয়াতের মতো শারীরিক চলন রয়েছে। প্রার্থনা হল যোগাযোগ করার, আল্লাহকে ধন্যবাদ ও স্মরণ করার একটি উপায়। প্রতিদিনের প্রার্থনাগুলি দিনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুরে বেড়ায়; ভোর, দুপুর, মাঝ বেলা এবং সূর্যাস্ত।

নামাজ আল্লাহ্র পথে অভিযাত্রায় মানুষকে প্রশিক্ষন দেয়, দায়িত্ববান করে তোলে। এই প্রশিক্ষন ও দায়িত্ব গ্রহনের জন্য নামাজ বা সালাত অপরিহার্য। কারণ নামাজ হল ইসলাম ধর্মের প্রধান ইবাদাত বা উপাসনাকর্ম। প্রতিদিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আবশ্যক বা ফরজ। নামায ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয়। ঈমান বা বিশ্বাসের পর নামাযই ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।
মুসলমানদের নির্দিষ্ট সময়ে দিনে ৫ বার নামাজ আদায় করা প্রয়োজন:

1. সালাত আল ফজর: ভোর, সূর্যোদয়ের আগে
2. সালাত আল-যোহর: মধ্যাহ্নের পরে, সূর্য সবচেয়ে বেশি কেটে যায়
3. সালাত আল-‘আসর: বেলা শেষের অংশ
4. সালাত আল-মাগরিব: সূর্যাস্তের ঠিক পরে
5. সালাত আল-ইশা: সূর্যাস্ত এবং মধ্যরাতের মধ্যে

প্রার্থনা হল যোগাযোগ করার, আল্লাহকে ধন্যবাদ ও স্মরণ করার একটি উপায়।

“এবং নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও এবং যারা [ইবাদত ও আনুগত্যের সাথে] রুকু করে তাদের সাথে রুকু কর
(কুরআন ২:৪৩)


তৃতীয় স্তম্ভ: সাওম


রোযা বা রোজা (ফার্সিতে‘রুজ়ে’), সাওম (আরবিতে স্বাউম্), বা ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তির তৃতীয়টি হচ্ছে সিয়াম। ইসলামী ক্যালেন্ডারের নবম মাসে মুসলমানরা ভোর বিরতি থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখে। সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পাপাচার, কামাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস থেকেও বিরত থাকার নাম রোযা। একজনকে শারীরিক ও মানসিকভাবেও রোজা রাখতে সক্ষম হতে হবে। তদুপরি, যাত্রীরা উপবাস থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। রোজা ধৈর্য, অনুশাসনকে উত্সাহ দেয় এবং মনের শুদ্ধতা ও ধার্মিকতা বৃদ্ধি করে। ইসলামী বিধান অনুসারে, প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য রমজান মাসের প্রতি দিন রোজা রাখা ফরজ, যার অর্থ অবশ্য পালনীয়।

এখানে কুরআনে রোজার কথা বলা আছে?

O you who have believed, decreed upon you is fasting as it was decreed upon those before you that you may become righteous .হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান দেয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববতীদেরকে দেয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পারো।
(কোরআন ২: ১৮৩)


উৎপত্তি

রোজা শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে 'বিরত থাকা'। আর আরবিতে এর নাম সাওম, বহুবচনে সিয়াম। যার শাব্দিক অর্থ হচ্ছে কোনো কাজ থেকে বিরত থাকা।
প্রকারভেদ

রোজা পাঁচ প্রকার।

ফরজ রোজা: যা আবার চার প্রকার-
o রমজান মাসের রোজা।
o কোন কারণ বশত রমজানের রোজা ভঙ্গ হয়ে গেলে তার কাযা আদায়ে রোজা।
o শরিয়তে স্বীকৃত কারণ ব্যতিত রমজানের রোজা ছেড়ে দিলে কাফ্ফারা হিসেবে ৬০টি রোজা রাখা।
o রোজার মান্নত করলে তা আদায় করা।
ওয়াজিব রোজা: নফল রোজা রেখে ভঙ্গ করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা ওয়াজিব।
সুন্নত রোজা: মহরম মাসের নয় এবং দশ তারিখে রোজা রাখা।
মোস্তাহাব রোজা: প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪, এবং ১৫ তারিখে, প্রতি সাপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবারে, কোন কোন ইমামের মতে শাওয়াল মাসে পৃথক পৃথক প্রতি সপ্তাহে দুটো করে ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এক সাথে হোক কিংবা পৃথক পৃথক হোক শাওয়ালের ছয়টি রোজা মুস্তাহাব।
নফল রোজা: মোস্তাহাব আর নফল খুব কাছাকাছির ইবাদত। সহজ অর্থে নফল হলো যা ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত নয় এমন ইবাদত পূণ্যের নিয়তে করা। রোজার ক্ষেত্রেও তাই।

চতুর্থ স্তম্ভ: যাকাত


যাকাত হ'ল দাতব্য ব্যক্তির সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অনুপাত প্রদান বাধ্যতামূলক। এটিকে এক প্রকার উপাসনা এবং আত্মশুদ্ধি হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং ত্যাগ ও উদারতার মতো গুণাবলী উত্সাহিত হয়। যাকাত উদারতার বাইরে দেওয়া দানশীল উপহার থেকে পৃথক। এটি প্রতি বছর দরিদ্রদের উপকারের জন্য একজনের সম্পদের ২.৫% নিয়মতান্ত্রিক দান।

মানবিক দিক দিয়ে ইসলাম ধর্ম যে সেরা তার প্রমান হচ্ছে যাকাত। মানুষের মধ্যে ধনী দরিদ্রের ব্যবধান ঘোচাতে যাকাত ভূমিকা রাখে। যাকাত (আরবিতে "যা পরিশুদ্ধ করে", আরও হল "সম্পদের যাকাত") হলো ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতি বছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়। সাধারণত নির্ধারিত সীমার অধিক সম্পত্তি হিজরি ১ বছর ধরে থাকলে মোট সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) বা ১/৪০ অংশ বিতরণ করতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাত শুধুমাত্র শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয়। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন এ "যাকাত" শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। নামাজের পরে সবচেয়ে বেশি বার এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরআনে যাকাতের উল্লেখ কোথায়?

“এবং নামায কায়েম কর এবং যাকাত দাও এবং যারা [ইবাদত ও আনুগত্যের সাথে] রুকু করে তাদের সাথে রুকু কর।

(কুরআন ২:৪৩)


পঞ্চম স্তম্ভ: হজ্জ্ব
তীর্থযাত্রা (হজ) মক্কায় তীর্থযাত্রা সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি সক্ষম-শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমান, পুরুষ ও মহিলা উভয়েরই বাধ্যবাধকতা। সৌদি আরবের মক্কার তীর্থযাত্রাটি ইসলামিক বর্ষপঞ্জির দ্বাদশ মাস ধুল-হিজায় সম্পন্ন হয়েছে। হজের অনুষ্ঠানের জন্য মুসলমানদের আহরাম নামে পরিচিত সাদা পোশাক পরিধান করা, কা'বা ঘেরে ফেলা এবং সাফার ও মারওয়ার পাহাড়ের মধ্যবর্তী উদ্যোগের প্রয়োজন।

হজ ইসলাম ধর্মাবলম্বী অর্থাত মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভ। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য জীবনে একবার হজ্জ্ব সম্পাদন করা ফরজ বা আবশ্যিক। আরবি জিলহজ্জ্ব মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ হজ্জ্বের জন্য নির্ধারিত সময়। হজ পালনের জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরী এবং সন্নিহিত মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা প্রভৃতি স্থানে গমন এবং অবস্থান আবশ্যক।

কুরআনে হজের উল্লেখ কোথায়?

“এবং হজ এবং‘ আল্লাহর জন্য উমরাহ ’সম্পূর্ণ করুন…” (কুরআন, ২: ১৯৬)

(কুরআন, ২: ১৯৬)


ষষ্ঠ স্তম্ভ

জিহাদকে অনেক সময় ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে গণ্য করা হয়। ২০১৫ সালে সুইডেনের এক মুসলিম গবেষক তারিক রামাদান "জিহাদ"কে ইসলামের ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে ঘোষণা দেয়। যদিও ইসলামের কোনো শাখাতেই ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসাবে এর কোনো স্বীকৃতি নেই। জিহাদকে শুধুমাত্র ইসলামের একটি আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত হিসাবে গণ্য করা হয়। কোরআনে বলা হয়েছে,

'Already there has been for you a sign in the two armies which met - one fighting in the cause of Allah and another of disbelievers. They saw them [to be] twice their [own] number by [their] eyesight. But Allah supports with His victory whom He wills. Indeed in that is a lesson for those of vision. বা নিশ্চয় তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে দু’টি দলের মধ্যে, যারা পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিল। একটি দল লড়াই করছিল আল্লাহর পথে এবং অপর দলটি কাফির। তারা বাহ্যিক দৃষ্টিতে তাদেরকে ওদের দ্বিগুণ দেখছিল। আর আল্লাহ নিজ সাহায্য দ্বারা যাকে চান শক্তিশালী করেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে চক্ষুষ্মানদের জন্য শিক্ষা।' (অসমাপ্ত)


This Writing Refers Courtesy Towards....


1. Al Quran. Sura Bakara, Al-Imran, Wiseman Publications, 2013
2. "Pillars of Islam"। Oxford Centre for Islamic Studies United Kingdom: Oxford University।
3. "Pillars of Islam" Encyclopædia Britannica Online।
4. সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮, হাদিসের মান: সহিহ (সঠিক)
5. "সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) | হাদিস নংঃ ৭ [ ৮]"। http://www.hadithbd.com।
6. Hawting, Gerald. The Development of Islamic Ritual. Routledge, 2017. review."
7. Matthew S. Gordon and Martin Palmer, ''Islam'', Info base Publishing, 2009 ।Books.Google.fr।

To be continued.......................

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



ধর্মে অনেক মিথ্যা ও ভুল রীতিনীতি আছে, ইহাতে দর্শন নেই।

১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১০:৫৭

*কালজয়ী* বলেছেন: @মিথ্যা ও ভুল রীতিনীতি গুলো উদাহরণসহ একটু উল্লেখ করে যান। ধর্মে যে দর্শন আছে এতে কোন সন্দেহ ্নাই।

২| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ৮:২১

নতুন বলেছেন: যেই সময়ের মানুষের কাছে ধর্ম এসেছিলো তাদের থেকে এখনকার মানুষ জ্ঞানে ভাবনায় অনেক এগিয়ে।

আস্তে আস্তে ধর্ম মানুষের কাছে আবেদন হারাচ্ছে।

হিন্দু, খৃস্টান,বৌদ্ধ এবং অন্য ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মকে জীবন ধারনের কাজে মানেনা। তারা আধুনিক সভ্যতার শিক্ষায় চলে।

ইসলামেও পরিবর্তন আসছে, আসবে। বেশির ভাগ মানুষ এখন নামে ধামিক কিন্তু কাজে না।

১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১০:৩৩

*কালজয়ী* বলেছেন: @নতুন@
মানুষ যদি মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রন করতে পারত, তাহলে তারা প্রথমেই ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এত এত উন্নতির পরেও মানুষ অদৃশ্যে ভয় রাখে। অর্থাৎ অদৃশ্যের প্রতি মানুষের ভয় সহজাত। এই অদৃশ্যের প্রতি ভয় থেকেই মানুষ ধর্ম চর্চা করে।

@লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের অত্যাচার, নির্যাতন, গৃহহীন করে দেশছাড়া করেছে বার্মিজ বৌদ্ধরা। এটা কি আধুনিকতার শিক্ষা? ভারত ্নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কি হচ্ছে? নিউজিল্যান্ড এ ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা ৫০ জন নিহত। এটা কি আধুনিকতা তাদের শিখিয়েছে?

@বেশীরভাগ মানুষ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, “
1. আপনি বলুন, আল্লাহই তোমাদেরকে জীবন দান করেন, অতঃপর মৃত্যু দেন, অতঃপর তোমাদেরকে কেয়ামতের দিন একত্রিত করবেন, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ বোঝে না। (৪৫/সূরা আল জাসিয়া, ২৬)

2. অধিকাংশই অবুঝ। (৪৯/সূরা আল হুজরাত, ৪)

3. সুতরাং, আপনি কি মনে করেন তাদের অধিকাংশ শুনে অথবা বুঝে? তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং আরও পথভ্রান্ত। (২৫:৪৪)

4. অধিকাংশই জানে না। (৩৪:২৮,৩৬)

5. সুতরাং অধিকাংশের কথা মতো চলো তা হলে তারা তুমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। (সূরা আনআম- ১১৬)

6. তারা আল্লাহর অনুগ্রহ চিনে, এরপর অস্বীকার করে এবং তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ। (১৬/সূরা নাহল, ৮৩)

৩| ১৭ ই মে, ২০২১ রাত ৯:০২

কামাল১৮ বলেছেন: দর্শনে যুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় ধর্মে বিশ্বাস দিয়ে,তাও আবার অন্ধ বিশ্বাস,কোন যুক্তি প্রমান ছাড়া।

১৭ ই মে, ২০২১ রাত ১০:৫১

*কালজয়ী* বলেছেন: @কামাল১৮@
ধর্মে বিশ্বাসের আগের ধাপ হচ্ছে বিচারবুদ্ধি। ব্যক্তি নিরপেক্ষভাবে বিচার বিশ্লেষণ করে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিবে। আল কোরআনে আছে, ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই।

৪| ১৮ ই মে, ২০২১ রাত ১২:৫৬

কামাল১৮ বলেছেন: ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যা করা হবে,এটা কি জবরদস্তি না।

১৮ ই মে, ২০২১ রাত ১০:৩৭

*কালজয়ী* বলেছেন: @কামাল১৮ বলেছেন: ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করলে হত্যা করা হবে,এটা কি জবরদস্তি না।
ইসলাম ত্যাগ করলে হত্যা করা হবে, এটি কিতাব বা কোরআনের কোথায় পেয়েছেন একটু প্রমানসহ উল্লেখ করে যান।

৫| ১৮ ই মে, ২০২১ রাত ১:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: কামাল১৮ বলেছেন: আমরা এক কিতাবেই সকল সমস্যার সমাধান খুঁজি ।না বোঝেই সকাল বিকাল পড়ি।

১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১২:১৪

*কালজয়ী* বলেছেন: @রাজীব নুর@
কোরআনে স্পষ্ট করা হয়েছে- "আমি মৃত্তিকা থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছি, সেখানেই তোমাদের ফিরিয়ে দেব এবং সেখান থেকেই আবার তোমাদের বের করব। (২০:৫৫)। এখানে চিন্তাশীল-জ্ঞানীদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে। (সুরা রুম, ৩০:২২)।
অর্থাৎ ইসলাম জ্ঞানী মানুষদের চিন্তা-ভাবনাকে মুল্যায়ন করে।

৬| ১৮ ই মে, ২০২১ বিকাল ৫:০৮

নতুন বলেছেন: লেখক বলেছেন: @নতুন@
মানুষ যদি মৃত্যুকে নিয়ন্ত্রন করতে পারত, তাহলে তারা প্রথমেই ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এত এত উন্নতির পরেও মানুষ অদৃশ্যে ভয় রাখে। অর্থাৎ অদৃশ্যের প্রতি মানুষের ভয় সহজাত। এই অদৃশ্যের প্রতি ভয় থেকেই মানুষ ধর্ম চর্চা করে।


হাজার বছর আগে মানুষ মৃত্যুকে অবশ্যই ভয় করতো। এখন মানুষ কতটুকু ভয় করে?

হাজার বছর আগের থেকে অবশ্যই সেটা অনেক কমে গেছে। সেই কারনেই ধর্মের উপরেও মানুষের বিশ্বাস অনেক কমে এসেছে। এবং আরো কমে আসবে।

@লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের অত্যাচার, নির্যাতন, গৃহহীন করে দেশছাড়া করেছে বার্মিজ বৌদ্ধরা। এটা কি আধুনিকতার শিক্ষা? ভারত ্নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে কি হচ্ছে? নিউজিল্যান্ড এ ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলা ৫০ জন নিহত। এটা কি আধুনিকতা তাদের শিখিয়েছে?

বাংলাদেশে মুসলিম র্ধমালম্বিরা দূনিতি করে, ভ্যাজাল দেয়, সুদ খায়, বিয়ে ছাড়া যৌন কাছে লিপ্ত তারা কি শিখেছে ধর্ম থেকে? এই রকম কাজ যারা করে তাদের কি মুসলমান বলে মানবেন না আপনি?

সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নাই। বৌদ্ধ পুরোহিতরা অবশ্যই রোহিঙ্গাদের হত্যা করেনাই। সন্ত্রাসীরা করেছে যারা নিজেদের সার্থে করেছে।

১৮ ই মে, ২০২১ রাত ১০:২৮

*কালজয়ী* বলেছেন: @নতুন@

@হাজার বছর আগে মানুষ মৃত্যুকে অবশ্যই ভয় করতো। এখন মানুষ কতটুকু ভয় করে? হাজার বছর আগের থেকে অবশ্যই সেটা অনেক কমে গেছে। সেই কারনেই ধর্মের উপরেও মানুষের বিশ্বাস অনেক কমে এসেছে। এবং আরো কমে আসবে।

:--- মহানবী স: এর বিরুদ্ধে অবমাননা মূলক কার্টুন আকা ও নাস্তিকদের কতৃক রাসূল ও কোরআন নিয়ে ব্যঙ্গ করায় লক্ষ লক্ষ মুসলিম এর প্রতিবাদে শাপলা চত্ত্বরে সমবেত হয়। আনুমানিক ১৫/২০ লাখ। এর থেকে কি বোঝা গেলো? বিগত ৩০ বছরে এত মানুষ কোন সেক্যুলার প্রোগ্রামে সমবেত হয়নি। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে ধর্মের প্রভাব বেশি, মানুষ ধর্মের প্রতি সংবেদনশীল। বাংলাদেশে এথেইস্ট বা ধর্মহীন মানুষ শতকরা .৮৬%।। অর্থাৎ বিপন্ন প্রজাতি।।

:----এই মানুষ কতটা সঠিকভাবে ধর্ম পালন করছে সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। আল্লাহ বিচার দিবসে প্রত্যেকের কর্মফল সঠিকভাবে দিবেন।

@বাংলাদেশে মুসলিম র্ধমালম্বিরা দূনিতি করে, ভ্যাজাল দেয়, সুদ খায়, বিয়ে ছাড়া যৌন কাছে লিপ্ত তারা কি শিখেছে ধর্ম থেকে? এই রকম কাজ যারা করে তাদের কি মুসলমান বলে মানবেন না আপনি?

:----আল্লাহ্ কোরআনে বলেছেন, তোমরা ওজনে কম দিওনা। যারা উপরোল্লিখিত অপরাধ করে তারা অবশ্যই পরকালে শাস্তি পাবেন। কারণ আইন ভঙ্গ করেছেন। মুসলিম অর্থ আত্মসমর্পণ কয়রা। যারা আত্মসমর্পণ করে নাই, তারা এই সমস্ত অপরাধ করে।

@সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নাই। বৌদ্ধ পুরোহিতরা অবশ্যই রোহিঙ্গাদের হত্যা করেনাই। সন্ত্রাসীরা করেছে যারা নিজেদের সার্থে করেছে।

:---হত্যাযজ্ঞ, বাড়িঘর ধ্বংস করেছে বার্মিজ সেনাবাহিনী। ইন্ধনে কাজ করেছে বৌদ্ধ ভিখুরা। ওখানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সংঘটিত হয়েছে।

৭| ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১২:৫৩

নতুন বলেছেন: মহানবী স: এর বিরুদ্ধে অবমাননা মূলক কার্টুন আকা ও নাস্তিকদের কতৃক রাসূল ও কোরআন নিয়ে ব্যঙ্গ করায় লক্ষ লক্ষ মুসলিম এর প্রতিবাদে শাপলা চত্ত্বরে সমবেত হয়। আনুমানিক ১৫/২০ লাখ। এর থেকে কি বোঝা গেলো? বিগত ৩০ বছরে এত মানুষ কোন সেক্যুলার প্রোগ্রামে সমবেত হয়নি। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে ধর্মের প্রভাব বেশি, মানুষ ধর্মের প্রতি সংবেদনশীল। বাংলাদেশে এথেইস্ট বা ধর্মহীন মানুষ শতকরা .৮৬%।। অর্থাৎ বিপন্ন প্রজাতি।।

এর থেকে বোঝা গেলো দেশে ধমান্ধ একটা প্রজাতী গড়ে উঠছে।

এই প্রজাতীর ভবিশ্যত কি সেটা জানতে আমেরিকার আমীষ দের উপরে একটু গবেষনা করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.