নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গবেষক, পাঠক ও লেখক -- Reader, Thinker And Writer। কালজয়ী- কালের অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা Time। কালজয়ী অর্থ কোন নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর বিজয়। বিজয় হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী চিন্তার বিজয়।

*কালজয়ী*

সভ্যতার উৎকর্ষ শুরু মানুষের মেধা, শ্রম, বুদ্ধি, আধ্যাত্মিকতা ও লেখনীর মাধ্যমে। ক্রম উন্নয়নের ধারায় শিক্ষা-ক্ষেত্রে কলমের কালীর রং কখনো কালো, কখনওবা সাদা। প্রাথমিক যুগে আবক্ষ শক্ত ভিত্তিতে (ব্লাকবোর্ডে) লিখতে ব্যবহৃত হত সাদা চক যা এখনো বিদ্যমান। বর্তমানে সাদা বোর্ডে কালো মার্কার কলম ও কালো বোর্ডে সাদা মার্কার কলম। কি-বোর্ডে সাদা-কালো অক্ষর বাটন নব প্রযুক্তির অবদান। Believes in the ultimate potential of Human Mind……

*কালজয়ী* › বিস্তারিত পোস্টঃ

ধর্মের দর্শনঃ ইসলাম, রাজনীতি ও মানবতা-------৪

১৯ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:৩২

ইসলাম ধর্মে রাজনীতির ধরনঃ ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। দাউদ (আ.) রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, সোলায়মান (আ.) সারা পৃথিবীর সবপ্রাণীর শাসনকর্তা ছিলেন, ইউসুফ (আ.) প্রথমে ১৪ বছর মিসরের খাদ্যমন্ত্রী এবং পরে রাষ্ট্রপ্রধান হন, ইব্রাহিম (আ.) নমরুদি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে, মুসা (আ.) ফেরাউনি রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করে খোদাই বিধান বাস্তবায়ন করেছিলেন, জালুতকে পরাজিত করে তালুত (আ.) তাঁর রাষ্ট্র দখলে নিয়েছিলেন। নবীকরিম (সা.)-এর মদিনা কেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, পরবর্তী সময়ে খোলাফায়ে রাশেদিনের (রা.) রাষ্ট্র পরিচালনা আমাদের জন্য অনুকরণীয়। খোলাফায়ে রাশেদিনের (রা.) রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পদ্ধতি ছিল বাইয়াত, যাকে আমরা বর্তমান ভোটদান বলতে পারি। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদিনায় হিজরতের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে 'রাজনীতি' নামক নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়। ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম ও পৌত্তলিক তথা সর্বসাধারণের নিষ্কণ্টক ভোটে মহানবী (সা.) মদিনার রাষ্ট্রনায়ক নির্বাচিত হন। পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মাবলম্বীর ঐকমত্যের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে মদিনা নামক একটি ভূখণ্ডের রাষ্ট্রপ্রধান করা ইসলামে সত্যিই গৌরবের বিষয়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি বিবাদমান আরব জাতিকে সুসংঘবদ্ধ গোষ্ঠীতে পরিণত করেন। স্বৈরাচারী শাসনের পরিবর্তে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব নবপ্রতিষ্ঠিত ইসলাম প্রজাতন্ত্রে স্বীকৃতি লাভ করে। মদিনায় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলে রাসুলে করিম (সা.) সর্বপ্রথম প্রশাসনিক কাঠামো সৃষ্টি করেন। ঐ শীতন্ত্র ও গণতন্ত্রের সমন্বয়ে ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় কার্যকলাপ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে থাকে। মুসলিম বিশ্বের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নায়ক রাসুলুল্লাহ (সা.) রাষ্ট্রপতি হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তার পরবর্তী কালের রাজনৈতিক দলের জন্য প্রকৃষ্ট উদাহরণ। পবিত্র কোরআনের নির্দেশে, স্বীয়বিচারবুদ্ধি এবং ধার্মিক ও শিক্ষিত মুসলিম সমাজের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি শাসন কাজ পরিচালনা করেন। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিশ্বের সর্বপ্রথম মসজিদ মদিনায় স্থাপন করে সেখানে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় কার্যাবলি সমাধান করতেন। এই মসজিদই ছিল তাঁর বিচারালয়, প্রার্থনাগার, সরকারিদপ্তর, আইনসভা ও বৈদেশিকদূত এবং গোত্রীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের স্থান।

সমসাময়িক বিশ্বে রাজনীতির ময়দানে যে বিষয়টা খুব বেশি শোনা যায় তার ভেতরে একটি হচ্ছে" ধর্মভিত্তিক রাজনীতি"। 'ইসলাম' সম্পর্কে ধারণা কুয়াশাচ্ছন্ন এরকম যেকারোই "ধর্মভিত্তিক রাজনীতির" বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এরকারণ অনুসন্ধান করতে হলে ধর্মের নামে যে অনাচার, অবিচার আর অন্যায় মধ্যযুগে খ্রিস্টান ধর্মের ধর্মযাজকদের শাসনব্যবস্থায় সংঘটিত হয়েছে সেসম্পর্কে যথেষ্ট জানতে হবে।" মৌলবাদ" শব্দটার উৎপত্তি কোথা হতে তাও জানতে হবে। ইতিহাস থেকে অর্জিত জ্ঞান "ধর্মভিত্তিক রাজনীতি"-তে আমাদের উৎসাহ দেয়াতো দূরের কথা, বরঞ্চ রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাজনীতিতে ধর্মীয় মতবাদের প্রাধান্য দেয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার যেকোন অধ্যায় বিশেষ করে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যবস্থার কথা ভাবতেই অন্যায় আর অন্যায্য একটি ব্যবস্থার চিত্র ভেসে ওঠার উপক্রম হয় । কোন একটি ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের ধর্ম থেকে বহুযোজন সরে এসে মনগড়া বিধানের দোহাই দিয়ে পৃথিবীতে যদি জুলুম প্রতিষ্ঠা করে তবে সেখানে ধর্মীয় মতাদর্শ থেকে দেশ পরিচালনা তো দূরের কথা ধর্মীয় বিষয়ে পণ্ডিতদের প্রাধান্যের কথা ভাবাটাই কষ্টকর। অথচ এই আমরা যদি জ্ঞান আহরনের পথে আরেকটু উদার হতে পারতাম, আরো অধিক মানবিকতা আর জ্ঞান পিপাসা আমাদের থাকতো তাহলে নিঃসন্দেহে কূপমণ্ডূকদের সীমাবদ্ধতাও ইতিহাসচর্চা দিয়ে সামগ্রিকভাবে ধর্মকে বিচার করতে যেতামনা। কোন এক ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী ও বিকৃতকারীদের সৃষ্ট নৈরাজ্য থেকে ধর্মভিত্তিক অন্যায্য ভীতি সৃষ্টি হতোনা।

রাজনৈতিক ইসলাম সম্পর্কে জানার প্রাথমিক অধ্যায় ও পাঠ হচ্ছে এটা জানাযে, "ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবনব্যবস্থা"।“ আসমান ও জমিনে অদৃশ্য বিসয়ের এমন কিছু নেই, যার সমাধান আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে দেননি”[সুরা নামল : ৭৫]। মানবজীবনের সমস্ত দিক নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ইসলামে। প্রতিদিন প্রত্যুষের ঘুম জাগরন থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত, দোলনা হতে কবর পর্যন্ত প্রতিটা বিষয়ে পরিষ্কার দিক-নির্দেশনা প্রদান করা জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। রাজনীতি জীবনের বাইরের কোন বস্তু নয়। দার্শনিক এরিস্টটল এর মতে, “Man is by born a political animal”. ইসলাম যেহেতু একটি পরিপূর্ন জীবনব্যবস্থা তাই রাজনীতি এর থেকে বিযুক্ত নয়। এটি আমাদেরকে পথপ্রদর্শন করে। কোরআনে বলা হয়েছে, “…… যারা আল্লাহর ওহীর বিধান অনুযায়ী বিচার পরিচালনা করে না তারা কাফের…তারা জালেম…… তারা সীমালংঘনকারী” [সুরা মায়েদাঃ ৪৪,৪৫,৪৭]। কিন্তু এই বিষয়ে যারা গভীর জ্ঞান রাখেনা, সেসব অজ্ঞদের কাছ থেকে আসা মতামত ও বিশ্লেষণগুলো ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। কোনকিছু সম্পর্কে ভাসাভাসা জ্ঞান থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা ও ইতিহাসের কিছুচিত্র দিয়ে সমগ্র মানবজাতির ইতিহাস ও ঘটনাকে মূল্যায়ণ করা অপরাধের সমতুল্য। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য হোক আর নিজেদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকেই হোক আমরা বরাবরই এই অপরাধের চর্চা করছি যার বিরোধীতা ও বর্জন করা একান্ত প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রিয়াজ মনে করেন, “লিবারেল গণতন্ত্রের একটা অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে ব্যক্তির সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। ইসলামপন্থীদলগুলো মনে করে, ব্যক্তির সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি আল্লাহর সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এবং সেকারণেই তা অগ্রহণযোগ্য।

লিবারেল গণতন্ত্র কি? একটি উত্তর-আধুনিক অনুসন্ধানঃ

কিন্তু আমরা ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখতে পাই, ব্যক্তির সার্বভৌমত্বে আসীন বহু একনায়ক, স্বৈরশাসক জনগনের উপর নৈরাজ্যময় ও নিপীড়নমূলক শাসন চাপিয়ে দিয়ে অগ্রহণযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। লিবারেল গনতন্ত্রের নামে জনগনের স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে, ভোটের অধিকার হরন করে একতরফা নির্বাচন করেছে গণতন্ত্রের নামের স্বৈরশাসকেরা। এসবই হয়েছে পশ্চিমা আধুনিকতা, লিবারেল গনতন্ত্র ও ব্যক্তির সার্বভৌমত্বের নামে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ রয়েছে আমাদের কাছে। যেমন, চিলির নির্বাচিত সাল্ভাদর আলেন্দে, গুয়াতেমালা, ইরানের জাতীয়তাবাদী মোসাদ্দেখ সরকারকে উৎখাত করেছে পশ্চিমা লিবারেল গণতন্ত্রীরা। এক্ষেত্রে তারা ব্যক্তির সার্বভৌমত্বের আইন মানেনি। তাহলে দেখা যাচ্ছে ব্যক্তির সার্বভৌমত্বের ধারণা একটি ত্রুটিপূর্ণ ধারণা এবং অনেক ক্ষেত্রে আমরা তা গ্রহন করতে পারিনা।
 মার্কসবাদী, কমিউনিস্টদের পাশাপাশি কিছু সমাজতান্ত্রিক ও নৈরাজ্যবাদী যুক্তি দিয়েছিলেন যে পুঁজিবাদী আদর্শের অধীনে উদার গণতন্ত্র গঠনমূলকভাবে শ্রেণিবদ্ধ এবং তাই কখনও গণতান্ত্রিক বা অংশগ্রহণমূলক হতে পারে না। এটিকে বুর্জোয়া গণতন্ত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয় কারণ শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদরা কেবল বুর্জোয়া শ্রেণীর অধিকারের জন্য লড়াই করেন।

কার্ল মার্ক্সের মতে, বিভিন্ন শ্রেণির স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব একটি বিশেষ শ্রেণি যে ক্রয় করতে পারে তার প্রভাবের সমানুপাতিক (ঘুষের মাধ্যমে, গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারের প্রচার, অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেল, রাজনৈতিক দলগুলির জন্য অনুদান এবং তাদের প্রচারনা ইত্যাদি)। সুতরাং, তথাকথিত উদার গণতন্ত্রগুলিতে জনস্বার্থ প্রতিনিধিত্বের চেহারা অর্জনের জন্য পর্যাপ্ত ধনী শ্রেণীর সম্পদ দ্বারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে দূষিত হয়। এ কারণে, পুঁজিবাদী আদর্শের অধীনে বহুদলীয় গণতন্ত্র সর্বদা বিকৃত এবং গণতন্ত্রবিরোধী হয়, তাদের ক্রিয়াকলাপ কেবল উত্পাদন ব্যবস্থার মালিকদের শ্রেণিক স্বার্থকে আরও এগিয়ে দেয়।

বুর্জোয়া শ্রেণি শ্রমিক শ্রেণির সৃজনশীল শ্রমের উদ্বৃত্ত-মূল্যকে উপযুক্ত করার জন্য একটি ড্রাইভের মাধ্যমে ধনী হয়। এই ড্রাইভ বুর্জোয়া শ্রেণিকে বাধ্যতামূলকভাবে দারিদ্র্য স্তরের কাছাকাছি অবস্থিত শ্রমিকদের শর্তাবলী এবং শর্তাদি কেপিংয়ের মাধ্যমে শ্রমজীবী শ্রেণীর শোষণের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত-মূল্য অনুপাত বাড়িয়ে সর্বদা বৃহত্তর ভাগ্য সংগ্রহ করতে বাধ্য করে। ঘটনাক্রমে, এই বাধ্যবাধকতা এমনকি বুর্জোয়া শ্রেণীর জন্যও বুর্জোয়া স্বাধীনতার স্পষ্ট সীমা প্রদর্শন করে। সুতরাং, মার্কসের মতে সংসদীয় নির্বাচনগুলি এখন এবং বারবার বুর্জোয়া শ্রেণীর পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনের যে কোনও রাজনৈতিক দলই মূলধনের স্বার্থকে সর্বোত্তমভাবে সমর্থন করতে পারে তার একটি বা অন্যটিকে সমর্থন করার অনুমতি দিয়ে জনগণকে ধোকা দেওয়ার এক ছদ্মবেশী, পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। একবার নির্বাচিত হয়ে গেলে, এই সংসদ বুর্জোয়া শ্রেণীর একনায়কতন্ত্র হিসাবে, এমন নিয়মকানুনগুলি কার্যকর করে যা কার্যকরভাবে তার আসনের নির্বাচনী এলাকা, বুর্জোয়া শ্রেণীর স্বার্থকে সমর্থন করে (যেমন, ওয়াল সেন্ট বিনিয়োগের ব্যাংকগুলিকে জামিন দেওয়া; সরাসরি সামাজিকীকরণ / ব্যবসায়ের ভর্তুকি - জিএমএইচ, মার্কিন / ইউরোপীয় কৃষি ভর্তুকি; এমনকি যুদ্ধ যেমন তেলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবসায়ের নিশ্চয়তা দেয়)।

বুর্জোয়াদের স্বৈরশাসন বজায় রেখে উদার গণতন্ত্রকে কেবল গণতন্ত্রের মায়া দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল, উদাহরণস্বরূপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি গণতন্ত্র যা তিনি বলেছিলেন যে "দুটি বুর্জোয়া দলের মধ্যে দর্শনীয় এবং অর্থহীন দ্বন্দ্বের" নেতৃত্ব ছিল "কোটিপতি" দ্বারা।

এথেনীয় গণতন্ত্রে, ধনতন্ত্রের প্রভাবকে বাধা দেওয়ার জন্য কয়েকটি সরকারী অফিস এলোমেলো ভাবে নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। অ্যারিস্টটল এথেন্সের আইন আদালত বর্ণনা করেছিলেন যা গণতান্ত্রিক হিসাবে অনেক দ্বারা নির্বাচিত হয়েছিল এবং নির্বাচনকে অভিজাত হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

প্রতিনিধি গণতন্ত্রে রাজনৈতিক প্রচারণার ব্যয় ধনী লোকদের পক্ষে, একধরণের বহুত্ববাদী যেখানে কেবলমাত্র খুব অল্প সংখ্যক ধনী ব্যক্তিই তাদের পক্ষে এবং চক্রান্তের দিকে সরকারী নীতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

 লেখক ও গবেষক পিটার বাওফু ( Peter Baofu) উদার গণতন্ত্রকে ধারণা ও অনুশীলন হিসাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন। বাওফু দাবী করেছেন যে, কিছু পরিস্থিতিতে একটি উদার গণতন্ত্র কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার চেয়ে বেশি স্বৈরাচারী হতে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে উদার গণতন্ত্র "না হয় স্বৈরাচারী বা উদার গণতান্ত্রিক" এবং পরিবর্তে এটিকে "স্বৈরাচারী-উদার-গণতান্ত্রিক" হিসাবে বর্ণনা করা উচিত। বাওফু বলছেন যে স্বৈরাচারবাদ এবং উদার গণতন্ত্র উভয়ই "পরস্পরবিরোধী বিরোধী" হতে হবে না। অন্যান্য লেখকরাও কর্তৃত্ববাদী অর্থ বিশ্লেষণ করেছেন যে উদারনৈতিক গণতন্ত্র অর্থনৈতিক উদারতাবাদ এবং রাজনৈতিক উচ্চবিত্তদের শক্তি রক্ষার জন্য ব্যবহার করে।

 কর্তৃত্ববাদকে অনেকে বহু দেশে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি বলে মনে করেন। আমেরিকান রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানী এবং লেখক ল্যারি ডায়মন্ড( Larry Diamond), মার্ক এফ প্লাটনার( Marc F. Plattner) এবং ক্রিস্টোফার ওয়াকারের( Christopher Walker) মতে, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও দৃঢ়তর হয়ে উঠছে, পরামর্শ দিচ্ছেন যে উদার গণতন্ত্রগুলি স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আরও স্বৈরাচারী ব্যবস্থা প্রবর্তন করে, মনিটরিং নির্বাচনের উদ্ধৃতি দিয়ে এবং মিডিয়ায় আরও নিয়ন্ত্রণ নিয়ন্ত্রণ করে অগণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির এজেন্ডা বন্ধ করার প্রচেষ্টা। ডায়মন্ড, প্ল্যাটনার এবং ওয়াকার পশ্চিমা দেশগুলির বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বৈদেশিক নীতি ব্যবহার করে চীনের একটি উদাহরণ ব্যবহার করে পরামর্শ দেয় যে কোনও দেশের সমাজ অন্য দেশকে আরও কর্তৃত্ববাদী আচরণ করতে বাধ্য করতে পারে। তাদের 'Authoritarianism Goes Global: The Challenge to Democracy' গ্রন্থে তারা দাবি করেছে যে বেইজিং তার নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী তৈরি করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে মোকাবেলা করেছে এবং আমেরিকান এবং ইউরোপীয় প্রভাবকে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে তৈরি বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রচার করে; যেমন স্বৈরাচারী রাষ্ট্রগুলি উদার গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। কারণ তারা বিশ্বকে নিজের ইমেজে পুনর্নির্মাণ করতে চায়।


কতিপয় স্বার্থান্ধ দলসমূহের নৈরাজ্য, গোঁড়ামি ও প্রতিক্রিয়াশীলতার কারনে যদি ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হয় তবে এটা হবে গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালার মত। আগেই বলেছি, ইসলামী রাজনীতি কেন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত না তা বোঝার জন্য ইসলাম আসলে কি এবং ইসলামের ব্যাপ্তি কতটুকু সেটা জানা অপরিহার্য। আর যেহেতু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকারীদের মিছিলের বেশিরভাগই হয় ইসলামবিদ্বেষী অথবা ইসলাম সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ সেহেতু তাদের পক্ষে সত্যিকার অর্থেই বিষয়টা অনুধাবন করা অসম্ভবের পর্যায়ে। ইসলাম কমিউনিজম, মার্ক্সিজম, পুঁজিবাদ, সেক্যুলারিজম, বস্তুবাদি এবং ইহজাগতিক আইনকে অপর্যাপ্ত মনে করে ও এর বিরুদ্ধে আল্লাহ্র আইন প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম করার নির্দেশ দেয় যাতে সমাজে ও রাষ্ট্রে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়। পুঁজিবাদ মানুষকে পণ্য ও ভোগ দিয়ে বিচার করে। আর কমিউনিজমে মানুষ হারায় ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাধীনতা। ইসলাম এর বাইরে গিয়ে মানুষের মধ্যে আল্লাহ্র বিধান প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেয়। আল্লাহ্রর রঙে রঙিন হয়ে ওঠে মানুষ। আল্লাহ্রর সার্বভৌমত্বের অংশ হয়ে ওঠে মানুষ। (অসমাপ্ত)


This Writing Refers Courtesy Towards....

1. Al Quran. Sura Mayeda, Sura Namol, Wiseman Publications, 2013
2. Diamond, Larry; Plattner, Marc F.; Walker, Christopher (2016) ‘Authoritarianism Goes Global: The Challenge to Democracy’ Baltimore: Johns Hopkins University Press, p.23

3. Aristotle, Politics 2.1273b; 4.1294b
4. Draper, Hal (1974). "Marx on Democratic Forms of Government". The Socialist Register. 11. Archived from the original on 5 August 2019. Retrieved 22 October 2018.

5. Baofu, Peter 1962 Archived 20 February 2019 at the Wayback Machine. Encyclopedia.com.
6. Peter Baofu (2007). The Rise of Authoritarian Liberal Democracy. Cambridge Scholar Publishing. pp. 3–4.
7. Renato Cristi, Carl Schmitt and authoritarian liberalism: strong state, free economy, Cardiff : Univ. of Wales Press, 1998;
8. Michael A. Wilkinson, 'Authoritarian Liberalism as Authoritarian Constitutionalism', in Helena Alviar García, Günter Frankenberg, Authoritarian constitutionalism: comparative analysis and critique, Cheltenham, UK: Edward Elgar Publishing Limited, 2019.

9. Diamond, Larry; Plattner, Marc F.; Walker, Christopher (2016) ‘Authoritarianism Goes Global: The Challenge to Democracy’ Baltimore: Johns Hopkins University Press, Summary. Available at: https://diamond-democracy.stanford.edu/ [Last accessed 23rd January 2021]

10. রীয়াজ, আলী. ২০১৩. ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব বোঝার অক্ষমতা, প্রথম আলো, ৩১মে
11. Christopher, Rice (1990). Lenin: Portrait of a Professional Revolutionary. London: Cassell. p. 121. ISBN 978-0-304-31814-8.


To be continued.......................





মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ৮:১৮

কামাল১৮ বলেছেন: বর্তমানে আমাদের কি করা উচিত?

০৩ রা জুন, ২০২১ রাত ১০:১৮

*কালজয়ী* বলেছেন: @কামাল১৮@

সত্য অন্বেষণ করুন।

২| ১৯ শে মে, ২০২১ রাত ১১:১০

রাজীব নুর বলেছেন: কামাল১৮ বলেছেন: বর্তমানে আমাদের কি করা উচিত?

সব ধর্ম বাদ দিয়ে আমাদের মানবিক হওয়া উচিত। তবেই না পৃথিবীটা সুন্দর হবে।

০৩ রা জুন, ২০২১ রাত ১০:১৭

*কালজয়ী* বলেছেন: রাজিব নুর@
ধর্ম কি আমাদের অমানবিক হতে বলে?
ধর্ম কি মানবিকতাকে বিসর্জন দিতে বলেছে?
ধর্ম কি অসুন্দর?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.