| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রূপক বিধৌত সাধু
মন রে, কৃষিকাজ জানো না; এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা! রামপ্রসাদ সেন ([email protected])
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম গানটায় একটা লাইন দিন হতে দিন আসে যে কঠিন করিম দীনহীন কোন পথে যাইতাম আমাকে বেদনাহত করে। আগের দিন আহামরি ভালো ছিল না, তবে এখনকার মতো উপলব্ধি সেসময় থাকলে ভুলগুলো শুধরে নিয়ে জীবনটাকে নতুন করে সাজানো যেত। এখন যত চেষ্টাই করা হোক না কেন অতৃপ্তি মোচন কি সম্ভব? সেই বয়সও নেই।
বাবার হঠাৎ অসুস্থতার খবরে কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে ঘুরে এলাম। প্রায় দুই মাস পর ময়মনসিংহে যাওয়া। বাবার রক্তচাপ উঠানামা করেছিল আর কী। যদি কিছু হয়ে যায় সে আশঙ্কায় বাড়ি গিয়েছি। অনেকদিন ধরে বাড়ির জন্য পরাণও পুড়ছিল, নানান জটিলতায় যাওয়া হয়নি। যাহোক, ওষুধ খাওয়ানোয় বাবার অবস্থা এখন ভালোই। তবে বিলক্ষণ বুঝতে পারলাম, মনে হয় না আর বেশিদিন বাঁচবেন তিনি। ২০ বছর ধরে ডায়াবেটিস। তাঁর সমপর্যায়ের যারা ছিলেন, প্রায় সবাই লোকান্তরিত। অনেকে প্রশংসা করে বলেন, শুধু পরিচর্যায় উনি বেঁচে আছেন।
আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বাবার পরিচর্যা করতে করতে। অন্যরা তাকে নিয়ে তেমন আশা করেন না, তবে আমার ছোট বোন আর আমি চাই বাবা কমপক্ষে আরও ১০ বছর বাঁচুক। এগুলো হয়তো আবেগি ভাবনা, কিন্তু কী আর করা! সবাই তো চায় মা-বাবা আজীবন বেঁচে থাকুন।
কয়েকদিন আগে জনৈক লেখক ফেসবুকে পোস্ট করলেন, ঠিকঠাক মতো ওষুধ খেলে উনার মাসে ২২ হাজার টাকা প্রয়োজন। পোস্টটা পড়ে ভাবনায় পড়ে গিয়েছি। শরীরের ওপর যে ধকল গেছে, মনে হয় না ৪০ বছরের পর সুস্থ থাকতে পারব। যদি অসুস্থ হই, ব্যয়ভার বহন কঠিন হয়ে পড়বে। আমার বাবাও জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। সাত ভাইবোনকে বলতে গেলে খাইয়ে-পরিয়ে মানুষ করেছেন। নিজের জীবনে তো সচ্ছলতা আনতে পারেননি। এখন দিন গুণছেন মরণের। নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলতে পারলে হয়তো এখনও সুসস্থ থাকতেন।
মৃত্যু তো অবশ্যম্ভাবী সত্য-এড়ানোর সুযোগ নেই। তাও অনেকের আগে, কারও বা পরে প্রত্যাশা থাকে - যদি সবকিছু ঠিকমতো চলে/চলত, মরেও স্বস্তি মেলে/মিলত। দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হলো, আমি সেই পরে প্রত্যাশা থাকা মানুষ। জীবনের হিসেব কষতে হয় অসময়ে। গাইতে হয়, দিন গেলে আর দিন আসে না ভাটা যদি লয় যৌবন।
ছবি
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:৫৫
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আমার মা বাপের বাড়ি থেকে ১২ লাখের মতো টাকা পেয়েছিলেন; সেটা দিয়ে বাড়ি করেছেন। আমি বলেছিলাম, দরকার নেই। তারা দুজন ঠিকঠাক মতো চিকিৎসা নিক। মা আমার ভবিষ্যতের কথা ভেবেছেন। তাঁকে বোঝাতে পারিনি বাড়ির চেয়ে জমি অথবা ব্যাংক ব্যালেন্সটা আমার জন্য বেশি জরুরি ছিল।
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১৮
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: আমার মার সাড়ে সাড়ে সাত হাজার এবং বাবার আট হাজার টাকার মেডিসিন লাগে মাসে । আমাদের ঢাকায় এক টুকরো জমি ছিলো সেটা নিয়েই উহারা তাদের লাইফের important সময় এক্সপেনস করেছেন ।
এগুলো ভাবলে আমার মাথাও ঘোরে । ভেজাল খেয়ে খেয়ে সবার হেলথ সিচুয়েশন খারাপ।