| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশ
একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র । ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি এই মহান স্বাধীনতা । হারাতে হয়েছে ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জত। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এসেছে এই লাল সবুজ পতাকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কি পেরেছি সেই স্বাধীনতার মর্ম উপলব্ধি করতে? ? আমরা কি পেরেছি দেশকে রক্ষার জন্য একীভূত হতে??আমরা কি পেরেছি দেশের সার্থকে রক্ষার জন্য হাতে হাত মিলিয়ে , কাধে কাধ মিলিয়ে অ গ্রসর হতে??
পারিনি।
কেন পারিনি??
২০১১ সালের ৭জানুয়ারী । ভয়াবহ, নারকীয় ও ইতিহাসের কলঙ্কজনক এক দিন। ঠিক এই দিনে কাঁটাতারে ঝুলতে হয়েছিল আমার দেশের "ফেলানি খাতুনকে"। ঝুলতে হয়েছিল পুরো বাংলাদেশকে। দু এক মিনিট নয়, পাঁচ হ্যাঁ পাঁচ , পাঁচটি ঘনটা । ঝুলিয়েছিল ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী " বি এস এফ"।
মিডিয়া এই খবর প্রকাশ করার পর নড়েচড়ে বসে পূরা দেশ। তুমুল সমালোচনা শুরু হয় বাংলাদেশ তথা পুরো বিশ্বে । অলসতা কাটিয়ে মাথা তুলে দাড়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো । বিচার দাবি করা হয় দেশীয় ও দেশের বাইরের বিভিন্ন সংগঠন
থেকে। তোপের মুখে পড়ে ভারত তাদের দেশীয় কিছু মানবাধিকার সংস্থার । অবশেষে বিচার করতে বাধ্য হয় এই
বাংলাদেশি মেয়ে "ফেলানি হত্যাকাণ্ডের"। তবে বিচার নয়"খেলা"।ফেলানিকে নিয়ে না ফেলানি নয় বাংলাদেশকে নিয়ে আজব এক খেলায় মেতে উঠে ভারতের "জেনারেল সিকিউরিটি ফোরসেস কোর্ট " । ১৩ অগাস্ট কথিত বিচার শুরু করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিজস্ব "জেনারেল সিকিউরিটি ফোরসেস কোর্ট "। আশাবাদী হলাম বিচার হবে বলে। মনে করলাম যাক, ফেলানিকে ফিরে না পেলেও এবার কমপক্ষে তার হত্যাকারীদের বিচার পাব,
হয়তো বিনা বিচারে আর পার পেয়ে যাবে না ফেলানি তথা বাংলাদেশের উপর যুলমকারিরা। হয়তো কিছুটা হলেও
সান্তনা পাবে ফেলানির পরিবার । হয়তো অন্যায়ভাবে আর
পাখির মত আর গুলি করবে না আর কোন অস্রধারী। কোনও স্বাধীন দেশের ওপর আর কোন দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী উলঙ্গ
হস্তক্ষেপ করবে না। পাখির মত ছটফট করে মরতে হবে না আর কোন বাংলাদেশীকে । ন্যায় বিচারের আশায় সাক্ষ্য দিতে ভারতে গেল ফেলানির বাবা-মা। অভিযুক্ত করা হল ১৮১ নম্বর ব্যাটালিয়নের কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে ভারতীয় দণ্ডবিধির
৩০৪ ধারায় "অনিচ্ছাকৃত খুন " ও বি এস এফ আইন এর ১৪৬ ধারায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও এটাই সত্য যে, সবাইকে হতাশ করে প্রহসনের একটি রায়ের মাধ্যমে সেই অভিযুক্ত কনস্টেবল অমিয় ঘোষকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করে সেই কোর্ট । আরো একবার হলাম আমরা, সেই সাথে বঞ্চিত হল ফেলানির পরিবার তথা গোটা দেশ। ভুলন্থিত হল মানবতা আরও একবার। পদানত হল ন্যায়বিচার, মাথানত করল ন্যায়বিচার । আমরা শুনতে পেলাম সেই অট্টহাসি "জোর যার মুল্লক
তার" । ক্ষমা করো ফেলানি আমাদের। আমরা পারিনি তোমার
হত্যাকারীদের বিচার আদায় করে নিতে। পারিনি তোমার পরিবারের সেই কান্না মুছে দিতে । পারিনি তোমার মত হাজারো ফেলানির মৃত্যুকে ঠেকাতে , ক্ষমা কর, আমাদের ক্ষমা করো । আজ ধিক্কার জানাই সেই বিচার ব্যাবস্থাকে যে বিচার আমাদের ফেলানির হত্যাকারীদের মুক্ত করে দেয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় । আজ মনে হয় পুরো বাংলাদেশ আজ
অপরাধী । আজ অপরাধী মনে হয় নিজেকে, কেন পারলাম না ফেলানি হত্যাকাণ্ডের বিচার আদায় করতে?
বেচে থাকবে ফেলানি সারা জীবন আমাদের সবার মাঝে। অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, অধিকার আদায়ে হাতে হাত
মিলিয়ে চলার সাহস জোগাবে,অন্যায়ের প্রতিবাদের
জন্য একত্রীত হবার অনুপ্রেরণা দিবে যাতে আর কোন
ফেলানিকে এভাবে জীবন দিতে না হয়। রক্তে যেন রঞ্জিত
না হয় আমাদের এই প্রিয় লাল সবুজ পতাকা।
©somewhere in net ltd.